৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ৩১২০১৬
 
 ৩১/১২/২০১৬  Posted by
কচি রেজা

কচি রেজা

কচি রেজা’র ১০টি কবিতা


তেচোক মাছ

একবার সাঁতরালো মাছ এক-ই জলে একান্ত বিশ্বাসে
দূরত্ব মাপতে অস্ত গেল সারি সারি আঙুল
আমি তার নিঃশ্বাস , সাবলীল সাঁতার, উজ্জ্বল কাঁধ
নোনতা চিবুকে হাত রেখে
 
মূর্ছিত ভঙ্গিতে ঢুকে যাই অপূর্ব জামার বোতামে


সংসার আসে না

আমাকে বারান্দায় শুতে দাও
বারান্দার পরেই তুমি আমাকে আকাশের ঠিকানা দাও
অচল মানুষ মেঘ, চিল আর কাটা ঘুড়ির
ভেসে যাওয়া দেখে
থালা-বাটি, চায়ের ঘ্রাণ, মেয়েটির স্নান
ঘরের ভেতর কারো চুল, রান্না অথবা অভিমান
ছাদের শীতার্ত  আপেলগুলো
আবর্জনার মতো নিঃশ্বাস
উলুধ্বনির মতো
কেউ ঘুম থেকে উঠে পরিস্কার করছে পুনর্জন্ম
পিঠে অপেক্ষা
আমি মশারি থেকে বেরিয়ে এসেছি,
আমার সংসার আসে না


মাশরুম

আমার প্রত্যাবর্তনের পথে মহুয়া ফোটেনি কোনও দিন
হলুদ মথ তাই কাঠের বেঞ্চিতে নয় আটকে থাকে জানালার ব্রাকেটে
আবহাওয়ার বিরুদ্ধে এবার তাই  ধীরে ধীরে কুড়াচ্ছি মাশরুম


নেশা

ওই যে গেলাসভর্তি বরফ তাকে তুমি শীতকাল বলো
যে কারণে আমার কিছু যন্ত্রপাতি কিনি
আয়নায় মুখ দেখে বুঝি বলগা হরিণের মত নিবিষ্ট ঘা কেনো মানুষের চোখে
অতি অনিদ্রায় কেবল চোখ নয়
নুড়িখণ্ড হয়ে শয্যায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে ভুল বোঝার মুদ্রাও
এই খনিজ শয্যায় আমাকে শিখতে হয় অনিদ্রা  
মৃত্যু ছাড়া আমার তো অন্য কোনও নেশাও নেই


অনুবাদ

ধরো, অন্ধও একদিন অনুবাদ করলো চোখ
যে ঘুম নির্দেশ করলো সার্কাসের মেয়ের অলৌকিক দড়ি বেয়ে সে
যেন শূন্যতায় পৌঁছে যাওয়া কসরত
আমি অন্ধের চেয়ে অধিক আজ শুনতে পাচ্ছি তিমির কান্না  
অবিশ্বাস করে করে ভেঙ্গে যাচ্ছি হে ভূমিপুত্র
বিষণ্ণ ঠোঁটের দূরত্ব আজ সাত হাজার মাইল


পা

পায়ের কথা শুনিনা বলে কুকুর হয়ে তোমার সামনে দাঁড়াই! তুমি আমাকে আরেকটু যন্ত্রণা দিয়ে আমার রক্ত দেখো! জিহ্বার ঘা আর  দেখো হঠাৎ জ্যোৎস্নায় ঠান্ডা বালিতে আঁচড়!  তবু দিক ভুলে না গিয়ে ধীরে ধীরে আমাকে আমার পল্লীতে ফিরিয়ে আনে পা! লম্বা ঘুমের জামা পরে শয্যায় একটি স্বপ্নের ভিতর শিশুর গা ছুঁয়ে শুয়ে  থাকি!


পাথর ও প্রার্থনা

প্রার্থনার পর আমি অনুভব করি নিজের ভাঙা কন্ঠস্বর। প্রার্থনা অনুমোদিত হয় ভেবে আবার হাঁটু ভেঙে বসি। মাঝে মাঝ স্ফিঙ্কসের মতো পাথর সময় আসে। এক ক্যারাভ্যান বালু দিয়ে কারা যেন বানায় আমাকেও। এ-বিষয়ে আমার হাসি-ই সবচেয়ে শুদ্ধ যন্ত্রণা ।


মৃত্যু গন্ধ উঠেছে বিকেল বেলার গা থেকে

সামনের নাগকেশর গাছের পাতায় সন্ধ্যার ছায়া পড়েছে লম্বা হয়ে
হাত বাড়িয়ে ছিঁড়ে আনা যাবে ছায়াটিকে
যদিও খোঁপা বাঁধার ফলে একরাশ লাবণ্য ছুঁয়েছিল মুখ
জোনাক হয়ে জ্বলেছিল পাথর
এখন বোতলের ভেতর থেকে বিকেল দেখি, নাগ কেশরের গায়ে সন্ধ্যার ছায়া দেখি
ভালোবাসা থেকে মৃত্যু গন্ধ শুঁকি
কবে এমন পুরানো পৃথিবীর মত হয়ে উঠেছিলে তুমি
আমি মচ মচ শব্দ করে য়াঙুলে ভেঙে ফেলেছি তোমাকে


দুঃখভিতু

ছায়া পুড়ে গেলে আমি কুড়িয়ে রাখি ছায়ার হাড়
আঠারোর ডিম
একত্র করি তেতো আঙুলে
খাঁচা খুলে চলে গেছে যে পূর্বতন তার জন্যও
জুড়ে যাচ্ছি অবিমৃষ্যকারিতা
চশমার কাচে যে ঝাপসা–এ সন্তাপ মুছতে হয় আমারই
জানতে ইচ্ছে হয়, শরীর লেপ্টে থাকা কষ্ট, এই চেপে যাওয়া
এক দুঃখভিতুর ধৈর্য–

১০
হরিণের ঘ্রাণ

প্রথম সন্তান ভাসিয়ে দেবার পর প্রত্যেক শীতে আমি গাছে পিঠ পাতি
রোদ চুলের ব্রাশ ছুঁয়ে ওপাশের এসবেস্টাসের চালে
টুন টুনি লেখে
অনেকদূরের হাত কুড়াতে থাকে গতবছরের পাতা
কোথাও চোখ কামড়ালে মনে হয় আঙুলে হরিণের ঘ্রাণ
এতসব শোকের ভিতর দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হবার কান্নায়
আমি চমকে যাই
শ্যামলারঙের চোখ, কতবার হরিণ দেখতে চেয়ে
অনুসরন করে এসেছে সাদাতুষার, চেয়েছে উপনিষদের
কোথাও নেই এমন হরিণ
চৈনিক প্রবাদের মতো মেঘ, সেখানে ও বিশেষ খেলা
তুমি এমন আচ্ছন্ন মেখে থাকো ক্যানো? একটা জীবন
আধপাতা ভর্তি জল
আয়নায় এমন অন্ধকার ছিল না যে লুকিয়ে খেলব।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E