৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ১৪২০১৭
 
 ১৪/০৭/২০১৭  Posted by

কচি রেজা’র একগুচ্ছ কবিতা

এক

প্রার্থনার পর আমি অনুভব করি নিজের ভাঙা কণ্ঠস্বর। প্রার্থনা অনুমোদিত হয় ভেবে আবার হাঁটু ভেঙে বসি। মাঝে মাঝে স্ফিঙ্কসের মতো পাথর সময় আসে। এক ক্যারাভ্যান বালু দিয়ে কারা যেন বানায় আমাকে। এ বিষয়ে আমার হাসিই সবচেয়ে শুদ্ধ যন্ত্রণা।

দুই

বালিহাঁস নেমে আসছে, আমি ফুঁপিয়ে উঠে খানিকটা সন্ধ্যা ছিঁড়ে নিচ্ছি দাঁত দিয়ে! জলে হাঁস ছেড়ে ঘরে ফিরে গেছে মা! পার হয়ে শাপলা, পানি ফল আর কাচের মাঞ্জা!

সেইযে বাঁশি শুনে বেরিয়ে পড়েছিল নীরজা আর ফিরে যায়নি ভাঙা খিলানের নীচে দাঁড়ানো মেয়েটির কাছে! কত সূর্যাস্ত ঝরলো, গাল রাঙালো কত নীলকন্ঠ ফুলের আভা! তারপর, আজ বোধ হয় মৃত্যুর পঞ্চম দিন! ফিরে আসি যদি তুমি এড়িয়ে যেয়ো এক অচেনা মানুষ ভেবে! সমস্ত সম্ভাবনা পালটে এই অসুখ জন্মের উপর বিছিয়ে দিও একটি পাতা ঝরা পথ!

তিন

ব্যথার পরেইতো অর্থ হীন সংলাপ, তাইনা! যে আমি প্রতিদিন ভঙ্গিটাই বদলাতে চেয়ে হাঁটতে শুরু করি আর মোড়ের ওই ভিখিরিটার একইভাবে লেপটে বসা আমার দৃষ্টিতে যেন এক-ই প্রকার এবং একাকার! এই একাকারটিকে সপর্শ করে অনন্য ভঙ্গি দিয়ে চলতে চলতে দেখি, অনুমানের উপর যে চলাটা আমি চলেছি সে সেই দেয়াল ঘেষেই!

সুড়ঙ্গের কোথাও আলো নেই! কোথাও মহিমার যাত্রা নেই!

চার

বেদনার দিকে আমি উড়িয়েছি যত ঘুড়ি সব বিষন্ন হয়ে ঝরে গেছে! এখন শীত আসে পাতার সওয়ারে, নীড়ের কথা ভেবে মুমূর্ষু হয় পাখি! কোথাও আগুনে ঝলসে গেছে দু’টি ক্যাঙ্গারু শিশু! এইভাবে সর্বদা যেকোনো্ নিঃশ্চিহ্নতা মৃত্যুকেই প্রকাশমান করে! আমরা বেঁচে থাকি আরশিতে থর থর প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে!

পাঁচ

স্বীকার করি, সঙ্গীত শিখিনি! রোদন জমা করিনি! বোতাম ছিঁড়ে গেলে দারুচিনি গাছের কাছে শিখতে চেয়েছি নেশা! গাছেরও আছে ভুরু ভঙ্গি! বিবাহের রাতে আয়নায় এক তিলোত্তমাকে দেখি, পেশোয়াজ পরতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে বাঁকা নখ! তখন সমুদ্রে যাওয়ার ইচ্ছে হল আর যেহেতু জানলো না কেউ, কিভাবে এক পাথুরে অচেনা স্টেশনে হারিয়ে গেলাম আমি!


কচি রেজা

কচি রেজা

কচি রেজা। জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ শহরে। ছোটোবেলা থেকে দেশের বাইরে। বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাস। পড়াশোনা দেশে এবং নিউ ইয়র্কে। নব্বই দশকের উল্লেখযোগ্য কবি। জন্ম : ১০ এপ্রিল, ১৯৬৮!

প্রকাশিত বই :

কাব্যগ্রন্থ : ঠোঁটের গড়ানো রক্তে বিঁধে আছে কাঁটা [১৯৯৯]; সহস্র অব্দের প্রহর [২০০০]; দূরের বেহুলা তুমি [২০০১]; ও কষ্ট [২০০৩]; হরপ্পার মেয়ে [২০০৫]; প্রসন্ন হও, জল পূর্ণ করো তড়াগ [২০০৬]; পাশ দিয়ে যায় নাৎসির গাড়ি [২০০৭]; আমি কেবলি করেছি পাঠ বড়ু চন্ডিদাস [২০০৮]; অবিশ্বাস বেড়ালের নূপুর [২০০৯]; ভুলের এমন দেবতা স্বভাব [২০১০]; সে থাকে বুকের বাম পাশে [২০১২]; অন্ধ আয়না যাত্রা [২০১২]; মমি ও কাচের গুঞ্জন [২০১৩]; কফিনভর্তি কোলাহল [২০১৫]।

সিরিজ কবিতা : বিজিতা [২০১৪]; দুই বাংলার যৌথ কবিতা, নাকছাবির ইতিকথা [২০১২]।

ছোটগল্প : অগ্নি-সোয়ারী [২০০৪]; যে লতার নীলকন্ঠ নাম [২০০৮]

সম্পাদিত লিটলম্যাগ: কাল ভাঙ্গো ঢেউ

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E