৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২০২০১৬
 
 ২০/১০/২০১৬  Posted by
কবি খালেদ রাহী

কবি খালেদ রাহী

কবি পরিচিতি

খালেদ রাহী। জন্মঃ ১৫ই নভেম্বর, ১৯৮২; ফেনী। শিক্ষাঃ প্রকৃতির স্কুলে। পেশাঃ শিক্ষকতা। নেশাঃ মানুষের প্রেমে পড়া।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ মনুষ্য চাষে ব্যস্ত আছি (২০১২); কিছু দুঃখ ব্যাক্তিগত (২০১৪); শুদ্ধ কামের কবিতা (২০১৪); হুহু বিরহ (প্রকাশিতব্য, ২০১৭ বইমেলা)।

খালেদ রাহী’র কবিতা ভাবনা

কবিতা যাপিত জীবনেরই বয়ান। বসন্ত আসেনি এখনো সন্ত ই ভবিষ্যত। কবিকে কবিতার জন্য ছাড়তে হয় গার্হস্থ্য জীবন। আমি গার্হস্থ্য জীবন ছাড়িনি। তবুও মনে হয় ‘এই গৃহ, এই সন্ন্যাস।’ কবিতা লিখে যাচ্ছি নাকি জীবন লিখে যাচ্ছি? বোধহয় কোনটা না। লিখে যাচ্ছি, লিখেই যাচ্ছি সময়। কবি তো সময় পাঠেই থাকে। সময়কে ধরতে পারলে কবিতাকে ধরা যায়। আধুনিকতা  কবিতায় যে স্লোগান তাতো সময়েরই বয়ান। আমি কি আমার কবিতায় সময়কে ধরতে পারছি? তবুও বৃথা চেষ্টা করে যাওয়া। কবিতায় কত মুনির কত চিন্তা। শ্রী অরবিন্দ্র বলেছেন, ‘আধুনিক কবিতা ভাব ছেড়ে কল্পনা মুখী।’ ভাবের বড্ড অভাব। জীবনের করাতকলে ফালি ফালি কাটা পড়ছি। ফলে আমার কবিতা এক একটা রক্তের ফোঁটা- যা আকাল আর দুঃসময়কে বহন করে। কল্পনা শব্দটি বড় জটিল। নিশ্চিত জীবন ফেলেই কল্পনা। অনিশ্চিত জীবন বহন করে যাচ্ছি। ফলে কবিতাকে সাগুদানা খেতে দিতে পারি না, খেতে দিই শ্রম ঘাম। এটুকুই কবিতার কাছে ঋণ। এটুকুর জন্য প্রতিনিয়ত সন্ত। আবারো বলি আমার কাছে কবিতা ‘এই গৃহ, এই সন্নাস।’

খালেদ রাহী’র কবিতা


জীবন

জীবনকে কিছু দিই আর না দিই
স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ দিয়েছি

জীবন কথা কয়
মুখের উপর বলে দেয় মিত্থুক।

আমি অস্বীকার করছিনা
তুমি আমাকে দিয়েছ লখাইয়ের
বাসর ঘরের ফুটো

অবশ্য লিখিবো  বিষ মৃত্যু।


মায়া

জীবনের জন্য আমি এক কৌটা বিষ কিনেছি
পাজি প্রেম বোতলটি ভেঙে দিলো

আত্মার  গহীন থেকে উঠে এলো মায়া মায়া।


মাতালের ভাবনা

ও সূর্য; ডিমের কুসুম
তেলে ভাজা ডিম পরোটা
ক্ষুধা তো মিটে না
থালায় নেই ভাত
বাড়ে রাত; শুঁড়িখানায়
মাতালের হাসি
কবিতা ভাতের থালা নয়;
আত্মহত্যার দড়ি।


বাবা

আমাদের টাকা গাছের মৃত্যু হলে আমরা
শোকে থাকি …একদিন, সাতদিন, চল্লিশদিন।
আমাদের শোক শেষে অভাবেরা বেড়াতে আসে।
এক ফুটো, দশ ফুটো-সংসারে এতো এতো ফুটো;
এতোদিন আমাদের টাকা গাছ ছিলো ফুটোর কারিগর।

আমাদের টাকা গাছের মৃত্যু হলে
আমরা হাড়ি কাঠের অভাব টের পাই
অথচ টাকা গাছ যখন ছিলো তখনো আমরা
শোকে ছিলাম-কবে ঘরখানা ফাঁকা হবে-কবে!


ব্যর্থতা

এখনো ভালোবাসা
চারবর্ণ শেখা হলো না
আর মালা গাঁথা…

দূরসন্ধির ধূরসন্ধি কস্মিনকালেও শিখিনি
ফলে, সকালের হাত  ফসকে যায় বিকেলে।

এখনো ভালোবাসা
কুয়াশা নগর; হিম, সর্দি, কাশি
আর ভালো থাকা…

আমার  হাতে কারো হাত থাকে না।
আর ভালোবাসা
সেতো শুশ্রুষার জল

যেহাতে কারো হাত থাকেনা
সে হাতে জল থাকবে?


বোধ

পৃথিবী সাদা পৃষ্ঠা
অক্ষর নেই; নারী
উরু-ঢল
উধাও।

পৃথিবী
জন্মের কালিতে ভরপুর
মৃত্যুর ইরেজারে ফাঁকা

পৃথিবী সাদা পৃষ্ঠা।
তুমি নেই
আমি নেই
অংহকার উধাও।


শেখা

মানুষ শখ করে বিড়াল পোষে
কুকুর পোষে
আমি কেবল মানুষ পোষলাম।

মানুষের কাছে শিখেছি জলের ভাষা
নদীর ভাঙন
এই যে চোখে জল, ভাঙা বুক
এসব ইতিহাস জানে মানুষ।

বিড়াল পোষ-বিছানায়
কুকুর পোষ-পাশে
মানুষ কেবল দুরে সরে যায়
মানুষের সম্পর্কে কোন দিগন্ত নেই।


আগুন

সূর্য একটা প্রজ্জলিত উনুন
মা গেছে শ্মশানে
আগুন আগুন;

বেলা বাড়ে
বাচ্ছাদের পেটে ক্ষুধা

আমাকেও ডাকে জীবনের উনুন।


কানা গলির ভাবনা

ভোরপোষা
মানুষ পেলে ক্ষতের কাছে নত হবো
শত রাত্রি

রাত পোষা
মানুষ হাটে কানাগলিতে
নগ্ন হও
ক্ষতের ভিতর ক্ষত বাড়ে।

রাত জেগে মুখস্ত করি
চন্দ্রমুখীর জীবন।

১০
দুঃখ

কর্তন রেখা বরাবর ভাগ্যরেখা হেঁটে গেলে
কাটাতো পড়বেই

দুঃখ সেখানে নয়
আলু কাটা আপেল কাটা হয়ে
তোমার পাতে উঠিনি
দুঃখ সেখানে।

১১
জখম

রক্তজবা ভোরে হলুদ পাতার মতো
জখম বসে থাকে
জখম তুমি কি করো?

ভোর সিড়ি ভাঙছে সময়ের
পুকুরে সাঁতার কাটছে রাঁজহাসের ডানা

সুখি ভোরে
জখম তুমি বসে আছো কেন?

১২
অসহ্য

দুঃখ আমার গোহালের গরু
তাকে খড় বিছালি খেতে দিই
আর হাম্বা হাম্বা ডাক শুনি
অসহ্য!

দুঃখের জন্য ভুষি খৈল কিনিবো
এবার সে খাবে আর ঘুমাবে।

খড় বিছালিও ফুরিয়েছে
হাম্বা হাম্বা ডাক মগজে;
অসহ্য!

১৩
কবি

একটা মাতাল কুকুর আরেক একটা  হাটুভাঙা রাত
মধ্যখানে কবি। ভোর আসবে
নক্ষত্র শুনলো ন; কুকুরও না
হাটুভাঙা রাত বুক ভাঙতে ভাঙতে অনেক দূর…

কিছুক্ষণ পর ভোর
পাখি  শুনলো না; কুকুরও না
তবু কবি বলে গেলো
সামনে ভোর।

১৪
ম্যাসেজ নো ম্যাসেজ

একদেশে এক রাণী ছিলো
একদা রাণীর নাকে এলো মাছের গন্ধ
পাহারাদার গন্ধ পায় না; ভূত্য গন্ধ পায় না

এলো এক জেলে
এলো মাছের টুরকি
রাণী এখন গন্ধ পায় না

জেলে আছে
মাছ আছে
তবু রাণীর গন্ধ লাগে না?

১৫
রাত্রি

রাত্রি  টিকটিকির দীঘল ঘুম
রাত্রি  আরশোলার ভোঁ দৌড়
রাত্রি  ঘড়ির কাঁটা ভোরের দিকে
রাত্রি  আমি কেবল তোমার ভেতর

তুমি এক রহস্যের নগর।

১৬
জীবন

জীবন সমুদ্র সবার কাছে সমান গভীর
ফলে আমি কি করে বলব তুমি পাকা মাঝি
আমি তো আমার হৃদয়ের গভীরতা মাপিনি

জীবন সমুদ্রের গভীরতা মাপার আগে
হৃদয়ের গভীরতা জানা জরুরী

জীবন হচ্ছে বটফল বাদুড়
আর বাদুড়ের মল ঘিরে
শুয়োপোকা।

১৭
সম্পর্ক

কাঠ
আর
কুঠারের
সম্পর্ক সূত্র
জেনেই
এক জীবন।

১৮
আপসোস

শুধু মানুষের  নয়
বৃক্ষেরও আপসোস থাকে
জন্মালাম যদি
সুন্দরবনে কেন
জন্মালাম না।

১৯
অকৃতজ্ঞ

বৃক্ষ কুঠারকে দিলো বাটের জন্য কাঠ…
পথিক মুক্ত করে দিলো বন্দী বাঘকে…
প্রেমিক প্রেমিকার হাতে তুলে দিলো মায়ের হৃদপিন্ড…

ইদানিং তোমাকে দেখলে অকৃতজ্ঞ অকৃতজ্ঞ লাগে।

২০
ঈশ্বর

ঈশ্বর বুড়ো বদমাশ
পুজোর শব্দের জন্যে
কান খাড়া করে রাখে।

ওপাড়ার ঝন্টু-মন্টু
মালতীকে ধর্ষণ করেছে
বুড়ো সাধন বলে গেছে
পুজো বন্ধ।

রোদেলা আকাশে কালো মেঘ, অন্ধকার।

ঈশ্বর মালতীর শীৎকারের ,শব্দে
তুমিও কি মজা লুটিয়াছো?

২১
সীমান্তের চিঠি

শীতঘুম
ভাত ঘুম
ঘুমধুম
কাটাতারে হুলস্থুল

গুলি… গুলি
কে মরে?

কাঁটাতারে শীত নামে
মা কেমন আছো?

শীতঘুম
ভাত ঘুম
ঘুমধুম
তুমি আমি
কাঁটাতারের এপার-ওপার

মা আমি ভালো নেই।

২২
কান্না

বরফ-যেতে যেতে পাথর
আদম আর ঈভের উপাখ্যান মিথ্যে
প্রণয় বলে কিছু নেই
স্বার্থ পাগলা কুকুর আমাদের মনের ভিটায়

কান্নার  ভগ্নাংশ কন্ঠে লেগে থাকে
অট্টহাসি কেবলি শুনা যায়
তোমার দালানে

তুমি এক ইতিহাস
তোমার জন্য নিষ্ঠুর শব্দটি…

২৩
ক্ষয়কাল

ক্ষয়কাল
শ্লেটে চকের  মতো ক্ষয়ে যাচ্ছি
তুমি ছিলে
পেন্সিলের মাথা কেটে কেটে
চলেছি কিছুদিন

তুমি নেই
বেঁচে থাকা জবাই করা
পশুর গোঙানি।

২৪
ভোর

আমি
আমাকে
খুন
করলাম

আর রাত্রির
কান্না শুনলাম
ভোর ভোর

মৃত্যুর দিকে যেতে যেতে
ভোরকে বলি
আই লাভ ইউ

২৫
মায়া টানের ঘুঘুরা

একটা ঘুঘু
ভালোবাসা ছড়ানো উঠানে
তাড়াবে না

একটা ঘুঘু
দশটা ঘুঘু

মায়াটানের ঘুঘুরা
তুমি ভক্ত
দোহাই তাড়াবে না।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E