৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সেপ্টে ০৭২০১৭
 
 ০৭/০৯/২০১৭  Posted by

কবিতার ঘরগেরস্তি : কিছুটা সামান্যকরণের ধারাপাত
– কামরুল ইসলাম

 

সেই সব সুনিবিড় উদ্বোধনে ‘আছে আছে আছে’ এই বোধির ভিতরে
চলেছে নক্ষত্র, রাত্রি, সিন্ধু, রীতি, মানুষের বিষয় হৃদয়;
জয় অস্তসূর্য, জয়, অলখ অরুণোদয়, জয়।
                           (জীবনানন্দ দাশ: সময়ের কাছে)

কবিতা কখন হয়ে ওঠে, আদৌ হয়ে ওঠে কিনা, কতটুকু হয়ে ওঠে, কিভাবে হয়ে ওঠে – এসবের মধ্যে কবির সচেতন প্রয়াস কতটুকু, কতটুকু কবি নিজেও বোঝেন না – এ নিয়ে বিতর্ক ও ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে যেটুকু সত্য তা হলো, কবিকে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্যে জেগে থাকতে হয়। ইতিহাসের সুদীর্ঘ সড়কে, বিশ্বাসে-অবিশ্বাসে, সংস্কারে কিংবা কুসংস্কারে, ধর্মে কিংবা অধর্মে, যুদ্ধে কিংবা শান্তিতে কবিকে খুঁজতে হয় কবিতার জলাহার। কবি তার অজস্র মৃত্যুর মধ্যে নিজেকে হারিয়ে হারিয়ে খুঁজে পান, কখনো কখনো তিনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নক্ষত্র হয়ে ওঠেন আবার কখনো কখনো তিনি নিবিড় মৃত্যুর গহনে হারিয়ে যান চিরতরে- সে ইতিহাসও আমাদের অজানা নয়। কবি তার আলম্ব অহংকার নিয়ে, আত্মদহনের শীৎকারে, অনাবিল মরণের ঘায়ে কবিতার কাছাকাছি যেতে পারেন। কবির ভেতরের জ্বলন্ত সমুদ্র শুষে নেয় তার মৌলিক অধিকার, জেগে ওঠে প্রবালখচিত দ্বীপ, এই দ্বীপের অনাবিল সৌন্দর্যে খুঁজে পাওয়া যাবে কবির বিহঙ্গসত্তার গান। কবির ভেতরের জ্বলন্ত সমুদ্র পৃথিবীর অনেক কিছুকেই গ্রাস করে ফেলে, সে সর্বভুক। পরিশেষে সে গ্রাস করে কবিকে এবং একই সাথে ঘটে কবির পুনর্জন্মও। কবিতার সমুদ্র থাকে ভাষার ঢেউ-এ আকীর্ণ। কবি মাত্রই একই সাথে ভাষার কাছে প্রভু ও দাস।

ভাষার অহংকারই কবিতার মৌলিকতাকে জাগিয়ে তোলে। যুগ পরম্পরায় ভাষাই বহন করে চলে যুগ-মানসের নৃতাত্তিক-ঐতিহাসিক প্রপঞ্চ। ভাষার অন্ধকারেই লুকিয়ে থাকে রক্তাক্ত সময়গুলোর অঙ্গীকার ও আলো। ভাষার ভিন্নতাই কোনো কবিকে স্বতন্ত্র করে তোলে। তবে মনে রাখতে হবে, ভাষাই কবিতা নয়। একজন কবির কাজ হলো ‘টু এমপ্লয় ল্যাংগুয়েজ টু কনজিয়র আপ দ্য গডস দ্যাট কন্ট্রোল আওয়ার বিয়িং’ । কবির সত্তার গহিনে খেলা করে ভাষা, কবিকে তা খুঁজে নিতে হয়। যে কবি সত্তার বিপুল আঁধারে কোনো কিছু খুঁজে পায় না, সে কখনো বড় মাপের কবি হতে পারে না। আধুনিক মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সে তার ভেতরের অমিত শক্তিকে জানতে চায় না। কবির ভেতরে কবির যে নিজস্ব ঈশ্বর বাস করে তাকে জাগাতে না পারলে কবিতা অর্থহীন হয়ে পড়তে বাধ্য। ভাষার আছে অলৌকিক গুণ। ভাষাই মন্ত্র, এই মন্ত্রই কবিকে সাহায্য করে বৃহত্তর পাঠকের হৃদয় জয় করতে। ভাষাই সর্বোপরি এক সৌন্দর্য-শৌধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে কবিতার অঙ্গে রেখে যায় চিরকালীন মৌলিক স্বাক্ষর। কবিতা যে উদ্দেশ্যেই লেখা হোক না কেন, তার সৌন্দর্যকে বাদ দিয়ে তার কোনো ব্যাখ্যা চলে না। মাকর্সবাদী নন্দনতাত্ত্বিকদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন, যা কিছূ ভালো লাগে তাই-ই সুন্দর কিংবা যা কিছু মানুষের মঙ্গলের জন্য অথবা ভালো কিছুর ইঙ্গিত করে তাই-ই সুন্দর। কিটস বলেছিলেন, ‘উইথ আ গ্রেট পোয়েট দ্য সেন্স অব বিউটি ওভারকামস এভরি আদার কনসিডারেশন, অর রাদার অব্লিটারেটস অল কনসিডারেশনস’ যে বিষয় নিয়েই কবিতা লেখা হোক না কেন, এই বোধ থেকে সরে দাঁড়াবার কোনো উপায় প্রকৃত কবির থাকে না।

এই আধুনিক কিংবা আধুনিক-উত্তর সময়েও আমরা এই সৌন্দর্য় চেতনার উঠোন থেকে সরে আসতে পারবো না। বলা যেতে পারে ভাষাই সৌন্দর্য, সৌন্দর্যই ভাষা। ভাষার অবক্ষয়িত অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি দরকার ভাষার প্রগতি ও গণতান্ত্রিক প্রসারণ। ভাষা কালে কালেই বদলায়, কিন্তু ভাষার অন্তর্বয়নে থেকে যায় সেইসব কালের ধুলো, অসংখ্য মনি-মুক্তো যার মূল্যও নিতান্তই কম নয়। ভাষা বিকশিত হয় কিংবা বলা যায় ভাষার বিদ্রোহটা ফুটে ওঠে সাহিত্যে – ফিকশন কিংবা কবিতায়। নিয়ম ভেঙে কবিতায় শব্দ তার আসন গেড়ে বসে এবং ভাষার দিগন্তে বেয়ে ধেয়ে আসে নতুন দিনের হাওয়া। কবিতায় প্রথা ভেঙে এই যে ভাষার খেলা, সেখানেও কিন্তু কোনো-না-কোনো শৃঙ্খলা রয়েছে এবং সেই শৃঙ্খলার দায়বদ্ধতা কবিকেই বহন করতে হয়। তাই আজকের কবিতায় যখন আমরা সাধু ও চলিতের মিশ্রণ দেখি আমরা তাতে মোটেও বিস্মিত হয় না। কবি ব্যাকরণ মেনে চলতে অপারগ। কবিরা যুগে যুগে তাদের কবিতার ভাষায় রেখে যান এমন কিছু নতুন বিষয় বা চিহ্ন, যা ভাষাতাত্ত্বিকরা কিংবা ব্যাকরণবিদরা আবিষ্কার করেন এবং তাকে একটি সিদ্ধ নিয়মে দাঁড় করান। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বলেছেন, ‘আমি যে ব্যাকরণের কথা বলিতেছি, তাহার উদ্দেশ্য নিয়ম রচনা নহে; নিয়ম প্রণয়ন নহে; নিয়ম আবিষ্কার। ভাষার মধ্যে অজ্ঞাত অপরিচিত নিয়ম বর্তমান আছে ; সেই নিয়ম খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। নিয়ম সকল ভাষাতেই আছে।… কেননা অনিয়ত, শৃঙ্খলারহিত ভাষা চিন্তার অগোচর।… নিয়ম সাহিত্যের ভাষাতেও আছে, লৌকিক ভাষাতেও আছে। কথাবার্তার ভাষা অনেকটা বন্ধন বলিয়া বোধ হয়, কিন্তু বস্তুতই কি তাহা শৃঙ্খলাবর্জিত? অসম্ভব।… কিন্তু ভুতাত্ত্বিকেরা বর্তমান কালের নিয়ম আবিষ্কার করেন বলিয়া ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের রোধ হয় না। ভাষার পক্ষেও সেই একই কথা। পাণিনি ব্যাকরণ রচনা করিয়া সংস্কৃত ভাষার পরিবর্তন রোধ করিতে পারেন নাই।’

কবিতার ভাষা হবে সার্বজনীন। সকল ধর্মের মতের জাতির গোষ্ঠীর ওপরে উঠে ভাষা এমন একটি আকার ধারণ করবে, যা এক দেশের হয়েও হয়ে উঠবে অন্য দেশের। অন্যদিকে পাঠককেও এইসব জাতি-ধর্ম-বর্ণের বেড়া ডিঙাতে হবে। ‘সিগনিফাইয়ার’ এবং সিগনিফাইড’-এর সমন্বয় ‘কমিউনিকেশন’, ভাষা এই কমিউনিকশনের একটি মাধ্যম। কবিতায় কবি তার ঐন্দ্রজালিক শব্দক্রীড়ায় ভাষার আয়োজনকে প্রতিনিয়ত প্রসারিত করছেন এবং সংযোগ প্রক্রিয়াকে ইউনিভার্সালাইড করছেন।

কথাবার্তার ভাষাকে কবিতায় প্রয়োগ কোনো দোষের নয়। বরং লক্ষ করলে বোঝা যাবে কথাবার্তার ভাষায়ও একটি শৃঙ্খলা আছে এবং তার আছে প্রাকৃত শক্তি, সেই শক্তিকে কবিতায় কাজে লাগাতে পারলে কবিতার ভাষা আরো সক্রিয় ও বেগবতী হবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে এ কাজটি একটু সাবধানে করাই ভালো এবং যে জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহার করা হবে সেই জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অভিঘাতগুলোর পরিচয় জানা একান্ত প্রয়োজন।

ভাষার গতি অপ্রতিরোধ্য। ব্যাকরণ সীমিত। ব্যাকরণের কাজ হলো সাহিত্যকে অনুসরণ করা। সে ক্রমাগত বদলাতে থাকে। যে কারণে ভাষা শেখার ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে যে, ‘গ্রামার শুড বি ব্যাক’।

কবি ব্যাকরণ থেকে যাত্রা শুরু করে অতিক্রম করবেন ব্যাকরণ। যে কবি সেই অতিক্রমণে অপারগ, সে নিশ্চিত করে একজন মাইনর পোয়েট। এদেশে সাম্প্রতিককালের অল্প কিছু কবি শুধু ক্রিয়াপদটাকে বাঁকা করে ‘বইলা’ উত্তরাধুনিক কবি ‘সাইজা’ গেছেন। আসলে দু-একটি ক্রিয়াপদকে এভাবে উপস্থাপন করাই কিন্তু কোনা ভাষাকে ডমিনেট করা নয়। আমরা আগেই বলেছি কথ্যভাষার ব্যবহার নিশ্চিতভাবে কোনো কাব্যভাষাকে উন্নীত পর্যায়ে নিয়ে যায়, কিন্তু সেই কথ্যভাষার মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়ে তাকে সুপারফিসিয়ালি ব্যবহার করার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই, বরং সেটি একটি হাস্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় – যেটা আমাদের সেইসব কবির ক্ষেত্রে হয়েছে বলে আমি মনে করি। সেজন্য এটা বলা জরুরি যে ,কথাবার্তার ভাষা যারা কবিতায় ব্যবহার করবেন তাদেরকে অবশ্যই তা করতে হবে গবেষণা করে কিংবা ভেবে-চিন্তে। ভাষা মানেই তো কবিতা নয়, ভাষা কবিতা প্রকাশের মাধ্যম মাত্র। সে কারণে ভাষা নিয়ে এই ধরনের গবেষণার ফলে যেন তা এরকম না হয়ে যায় যে, তা কেবল ভাষা নিয়েই গবেষণা হয়েছে, হারিয়ে গেছে কবিতা। কবিতা তখনই সার্থক হয় যখন ভাষা নিয়ে এই গবেষণা এবং কবির কাব্যিক প্রত্যয়গুলো সমন্বিতভাবে এগোতে থাকে এবং কবিতার বিষয়টি সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কবিতা ভাবনাকে ডমিনেট করবে। কবিতা লেখার কাজে গণিতেরও ভূমিকা রয়েছে, এখানেও রয়েছে হিসাব-নিকাশ। সুতরাং এই কাজটিকে যারা তুচ্ছ ভাববেন, আর যাই হোক, তাদের কবিতা লেখার কাজে আসা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি।

অনেক শিক্ষিত মানুষই (পরীক্ষায় পাশের জন্য ছাড়া) জীবনে কখনোই কবিতা পড়ে নি। বেঁচে থাকার জন্য তাদের সবই আছে, শুধু কবিতা নেই – তাতে কি তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়নি। বেঁচে থাকার জন্য কবিতার কতটুকু প্রয়োজন – এ নিয়ে কেউ কখনো কোনো গবেষণা করেছে বলে আমার জানা নেই। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, পৃথিবী নামক এই গ্রহে যদি কোনোদিন কেউই কবিতা না লিখতো, তাহলে কী হতো। কবিতার কি আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? এসব ভাবনা মাঝে মাঝে আমাকে আঁকড়ে ধরে। সাম্প্রতিককালের অনেক কবিতার জীবন-বিমুখীনতা, কিংবা কবিতার পাথর-সদৃশ নিরানন্দ ভার, নিরীক্ষার নামে উদ্ভট জার্গন, আত্মতার সুড়ঙ্গে রক্তাক্ত মাতলামি ইত্যাদি দেখে সত্যি সত্যি মনে হয়, এসবের কী প্রয়োজন! এরা ভুলে যান ‘পোয়েট্রি ইজ দ্য অ্যাফেয়ার অব স্যানেটি’ অথবা কবিতা লেখা একটা পবিত্র কাজ।

কবিতা দর্শন নয়। তবে কবিতার থাকতে হবে দার্শনিক প্রত্যয়। কবিতা জীবনের কতখানি – সে বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। তবে সেদিকে না গিয়ে এটুকু অন্তত বলার থাকে যে, কবিতাহীন জীবনে যেটুকু বাকী থাকে, সেটুকুর জন্যও জীবন হয়ে পড়তে পারে স্থবির ও শূন্য। অপার আনন্দের আধার এই যে কবিতা যা একজন হোমো স্যাপিয়েন্স কখনোই পড়লো না, সে বঞ্চিত হলো সেই আনন্দ থেকে। আসলে এই আনন্দই মুক্তি। তাহলে তো সেই উচ্চারণ আবারও করতেই হয় : ‘যে কবিতা পড়তে জানে না সে আজন্ম কৃতদাস থেকে যাবে।’

‘পোয়েট্রি বিগিনস ইন থট অ্যান্ড এন্ডস ইন ডিলাইট’ রবার্ট ফ্রস্ট-এর এ কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কবিতার সঙ্গে আনন্দের একটি সম্পর্ক রয়েছে এবং এই আনন্দ একটি আবিষ্কারের আনন্দ, এই আনন্দের মধ্যে লুকিয়ে থাকে জীবনের অনন্ত সম্ভাবনা। কবিতা বোঝার আগে কমিউনিকেট করবে এটুকুতে সন্তুষ্ট নন ফিলিপ লারকিন। তিনি বলছেন : ‘পোয়েট্রি শুড বোথ কমিউনিকেট অ্যান্ড গিভ প্লেজার টু দ্য রিডার।’ তিনি বিশ শতকের আধুনিক পেইন্টিং ও কবিতা আন্দোলনের পাঠক-বিমুখ পরিণতির কঠোর সমালোচক ছিলেন। তার মতে, এই শিল্পী-কবিরা পরিকল্পিতভাবে জটিল করে ফেলছে তাদের সৃষ্টিকর্ম যা বৃহত্তর পাঠককে দূরে সরিয়ে দিয়ে গুটিকয় ‘অ্যাকাডেমিকস’ এবং ‘প্রোফেশনালস’দের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ছে। তিনি কবিতার ক্ষেত্রে ‘প্লেজার গিভিং’ এর ওপর জোর দিয়েছেন এবং বিশ্বাস এনেছেন এই মতে যে ‘পোয়েট্রি মাস্ট রিগেইন আ ওয়াইড অডিয়েন্স অ্যান্ড দ্যাট অ্যাট বটোম পোয়েট্রি, লাইক অল আর্ট, ইজ ইনএক্সট্রিকেব্লি বাউন্ড আপ উইথ গিভিং প্লেজার, অ্যান্ড ইফ আ পোয়েট লুজেজ হিজ প্লেজার-সিকিং অডিয়েন্স হি হ্যাজ লস্ট দ্য ওনলি অডিয়েন্স ওয়ার্থ হ্যাভিং।’ কবিতা তখনই সত্য হয়ে দাঁড়ায় যখন কোনো কবি যা লিখেন তা আসে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। এজন্যই লারকিন বলেছেন: ‘পোয়েট্রি ইজ আ ওয়ে অব বিয়িং অনেস্ট।’ আর এই ‘অনেস্টি’ যাদের নেই, তারা প্রকৃত কবি নয়।

এ ক্ষেত্রে আমরা এ.সি. ব্র্যাডলি-র ‘অক্সফোর্ড লেকচারস অন পোয়েট্রি’র একটি লেখা থেকে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারি। প্রকৃত কবিতাকে তিনি এভাবে তুলে ধরেছেন : ‘উই মে সে দ্যাট অ্যান অ্যাকচুয়েল পোয়েম ইজ দ্য সাকসেশন অব এক্সপেরিয়েন্সেস – সাউন্ডস, ইমেজেজ, থটস, ইমোশনস – থ্রো হুইচ উই পাস হোয়েন উই আর রিডিং অ্যাজ উই ক্যান।’ সত্যিকারের কবিতা লেখা তখনই সম্ভব যখন কোনো কবি বিশ্বচেতনাকে অন্তরে ধারণ করতে সমর্থ। কবিতার আসমুদ্রহিমাচলকে স্পর্শ করা কোনো ডোমিস্টিকেটড মানুষের কাজ নয়। সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক বিশ্বের হাওয়ায় যে কবি অসহায়, সে বিশ্বনন্দিত কবিতা লিখতে অপারগ। কবিতা আসলে ঝিনুক-হৃদয়ের গান; কষ্টের কোরকে যার জন্ম। সমস্ত জীবন দিয়ে শুষে নিতে হয় কবিতার রক্তমাংসমেদ।

* চলবে…


কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম
জন্ম : ১ নভেম্বর ১৯৬৪ , কুষ্টিয়ার ফিলিপ নগর গ্রামে
পেশা: সরকারি কলেজে অধ্যাপনা, বর্তমানে রাজশাহী
সরকারি সিটি কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : দ্বিধান্বিত সুখে আছি যমজ পিরিতে ( ১৯৯৯ )
ঘাসবেলাকার কথা ( ২০০১)
যৌথ খামারের গালগল্প ( ২০০৬ )
সেইসব ঝড়ের মন্দিরা (২০০৮ )
চারদিকে শব্দের লীলা ( ২০১০ )
অবগাহণের নতুন কৌশল(২০১১)
মন্ত্রপড়া সুতোর দিকে হাওয়া(২০১৪)
দীর্ঘশ্বাসের সারগাম(২০১৬)
বিহঙ্গখচিত লন্ঠন (২০১৭)

প্রবন্ধ:
কবিতার বিনির্মাণ ও অন্যান্য (২০০৯)
রবীন্দ্রনাথ: বিচিত্রের দূত(২০১৩)
কবিতার স্বদেশ ও বিশ্ব(২০১৫)
Edited Book :
Green Fogs: A Collection of Contemporary Bangla Poetry ( 2017 )

e-mail : kamrulislam1964@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E