৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
আগ ২৪২০১৭
 
 ২৪/০৮/২০১৭  Posted by

কবিতার রঙরক্ত, নিমগ্ন করতল
– কামরুল ইসলাম

আমরা জানি যে ভাষা ও কবিতা প্রায়ই একই বয়সের এবং একে অপরের পরিপূরকও বটে। ভাষা কবিতার মধ্যে বেড়ে ওঠে, পুষ্টি পায়, গতিশীল হয়, ডানা মেলে উড়তে শেখে। আবার কবিতাও ভাষারই খেলা, ভাষাই তৈরি করে কবিতার অস্থি-মজ্জা, অনন্ত সারাৎসার। যে কোনো শিল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ই কবিতা, যাকিছু মনুষ্যসৃষ্ট নয় তারও রয়েছে কবিতা। আকাশ-নদী-পাহাড়-চাঁদ কিংবা প্রকৃতিরও রয়েছে কবিতা – সে কবিতা আমরা পাঠ করি – কবিতার রহস্য লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির নানামুখী বৈচিত্র্যে।
কবিতা ছাড়া ভাষা প্রাণহীন; শুধু ভাষাই নয়, যে ইতিহাস, যে দর্শনে কবিতা নেই সেই ইতিহাস কিংবা দর্শন পাঠের অযোগ্য। কবিতার স্পর্শ ছাড়া কোনো কিছুই প্রাণপ্রবাহে উন্মুখর হয় না। ‘If poetry vanished, language would be dead.’ যেমনটি বলেছেন কানাডিয়ান কবি ও ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড। তিনি আরো বলেছেন, কবিতাই ভাষার প্রাণ। আমরা জানি যে, পৃথিবীর বিখ্যাত ফিকশন লেখকদের অনেকেই প্রাথমিক জীবনে কবিতাচর্চা করেছেন। ভাষাকে একটি উপযুক্ত পর্যয়ে উন্নীত করতে ভাষাশিল্পীকে নিরন্তর যে সাধনায় অন্বিষ্ট থাকতে হয়, তার মধ্যে একটি হলো কবিতা। কবিতায় শব্দকে নানা রকম ভাবে-ভঙ্গিতে-আবেগে ব্যবহার করে তার মূল্য নির্ধারণ করা যায়। জয়েস-ফকনার-গোল্ডিং-আচেবে থেকে শুরু করে একালের অনেক ফিকশন লেখককে আমরা কবিতাচর্চায়ও সিরিয়াস হতে দেখেছি। আমরা গুন্টার গ্রাসের কথাই যদি ধরি তাহলে দেখবো তার ফিকশনের চেয়ে কবিতার শিল্পমান কোনো অংশেই কম নয়। আবার নাটকের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি অনেক নাট্যকারই কবিতা লেখার মাধ্যমে নতুন ভাষার সন্ধান করেছেন। শেক্সপিয়র থেকে শুরু করে আফ্রিকান-আমিরিকান কবি ইমামু আমিরি বরাকা পর্যন্ত কবিতার ভাষায় নাট্যকলার ভীত গড়েছেন। শেক্সপিয়রের সলিলকি তাই কবিতার মূল্য পায় – উৎকৃষ্ট কবিতার ছায়া ঘেরা সেইসব ডায়ালগ আমাদের বোধের গভীরে পৌঁছে, স্পর্শ করে আমাদের নান্দনিক অনুভূতির জানালা। আবার নাইজেরিয়ান নোবেল বিজয়ী নাট্যকার ওলে সোয়িঙ্কা উঁচুমানের কবিও বটে। তার প্রত্যেকটি নাটকই এক-একটি উঁচুমানের কবিতা। আবার মার্গারেট অ্যাটউড কবি হয়েও উঁচুমানের ঔপন্যাসিক। তিনি উপন্যাসের মধ্যেও কবিতার সান্নিধ্য খোঁজেন। সুতরাং, এ কথা আমাদের মেনে নিতেই হয় যে, কবিতার শীর্ষচূড়া স্পর্শ ছাড়া কোনোকিছুই উত্তীর্ণ শিল্প হতে পারে না।
কোনো বিশেষ ভাষার দিগন্ত বেয়ে যে কবিতা হয়ে ওঠে, সেই ভাষায়ই তার আপন ঘর হয়ে দাঁড়ায় না, তা স্পর্শ করে অন্য ভাষা-ভাষী মানুষকেও – সে হিসেবে কবিতা বা অন্য যে কোনো শিল্পমাধ্যমেরই একটি সার্বজনীন দিক রয়েছে। যে কারণে আমরা আপন ভাবি শেক্সপিয়রকে, চিনুয়া অচেবে কিংবা ওকোট পি’বিটেককেও পর ভাবি না; রিতা ডাব, টনি মরিসন কিংবা পিটার হ্যান্ডকেও আমাদের সহজে আপন হয়ে ওঠে। যে কারণে হয়ত এজরা পাউন্ড উত্তীর্ণ শিল্প-সাহিত্যকে সব মানুষের সম্পদ বলতে চেয়েছেন।

০২.
কোনো জাতির অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখে সেই জাতির কবিতা বা সাহিত্য। এজরা পাউন্ড বলেছেন, ‘If a nation’s literature declines, the nation atrophies and decays.’ আমেরিকা কিংবা পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোতে আর যা-ই হোক লেখকের স্বাধীনতার ব্যাপারটিতে খুব সহজে হস্তক্ষেপ করা হয় না। লেখককে তার পূর্ণ বিকাশের সুবিধা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এমনকি লেখক যদি প্রতিষ্ঠানবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রের অনেক বিধিনিষেধ বা কার্যকলাপের সাথে বিরোধমত পোষণ করেন তখনও। যে কারণে স্বয়ং আমেরিকায় বসে নোয়াম চমস্কি কিংবা এডওয়াড সাঈদ প্রমুখ সাম্রাজ্যবাদের নানা আত্মপরায়ণ প্রতারণামূলক কর্মকান্ড নিয়ে সোচ্চার হওয়া সত্তে¡ও সে-দেশের সরকারকে এইসব লেখকের ওপর জবরদস্তি কিংবা খবরদারি করতে দেখা যায় নি। লেখকের স্বাধীনতা খর্ব করার অর্থ হলো সেই জাতিকেই খর্ব করা, সেই জাতিকে নৈতিকভাবে ধ্বংস করা।
কবিতা তখনই উৎরে যায় যখন তা প্রভাবসঞ্চারী হয়, যখন তা আমাদের প্রাণিত করে, নির্মল আনন্দে যেমন ভরে দেয়, তেমনি জীবনের অনেক অদেখা-অজানা জগতের মুখচ্ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরে আর আমরা সেই রহস্যের অবগুণ্ঠন উন্মোচনে মরিয়া হয়ে উঠি। তবে সব কবিতাই যে তা করে এমনটি বলা যাবে না। কবিতার একটি তাৎক্ষণিক মূল্যও আছে – সেই কবিতাটি হয়ত মানুষ প্রয়োজন শেষে ফেলে দেবে,তথাপি সেই যে সামান্য সময় জীবন পেয়ে সে সবকিছু তছনছ করে দিল সমাজ-ভূমি-জল-স্থল, সেই অঙ্গার টুকুওতো একেবারে কম নয়। যে কারণে জগতে কোনো কিছুই ফেলনা নয়। আমি মনে করি পৃথিবীতে মাইনর কবিদেরও প্রয়োজন আছে, মাইনর কবিরা থাকে বলেই মেজর কবিদের চেনা যায় এবং মাইনর কবিরাই মেজর কবিদের তৈরি করে কখনো কখনো। জীবনানন্দের কথাকে তাই উল্টো করেও বলা যেতে পারে-‘যারা লিখতে পারে সকলেই কবি; সে কবি কেননা সে লিখতে পারে, সে লেখা যে-কদিনই বাঁচুক না কেন।
কবিতার এমন কী ক্ষমতা যে সে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠবে? আবার ক্ষমতা যে নেই তা-ই বা বলি কী করে। তাহলে যুগে যুগে কেন সক্রেটিস, লোরকা, বেঞ্জামিন মলয়েসিদের স্বৈরাচারের হাতে প্রাণ দিতে হয়, কেনই বা রাশিয়া-চীন-আলজেরিয়া থেকে কবি-সাহিত্যিকদের আমেরিকা, ফ্রান্স কিংবা অন্যদেশে আশ্রয় নিতে হয়। আছে, কবিতা বা শিল্প-সাহিত্যেরও ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা নগদ মূল্যে বোঝা যায় না, তার অন্তর্মূল্য আছে – আছে এক অদৃশ্য প্রলয়ংকারী শক্তি যা যুগে যুগে শিক্ষিত স্বৈরাচারী শাসকেরা হাড়ে হাড়েই টের পেয়েছে। এড্রিয়েন রিচ যেমনটি বলেছেন, ‘A poem can not free us from the struggle for existence, but it can uncover desires and appetites buried under the accumulating emergencies of our lives, the fabricated wants and needs we have had urged upon us, have accepted as our own.’ সুতরাং কবিতা যেটি করে তা খালি চোখে দেখা যায় না ঠিকই তবে তার কাজটি যে অনেক বড়ো ও সুদূরপ্রসারি তা সহজেই অনুমেয়।
কবিতা বা কোনো শিল্পই শূন্য থেকে হয় না। একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর বা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের একই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা মানুষের সুখ-দুঃখের ইতিহাসই শিল্পে-সাহিত্যে উঠে আসে যা হয়ে যায় শেষে সার্বজনীন, যা ভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর বা দেশের মানুষকেও আন্দোলিত করে; কারণ মানুষের কিছু কিছু বোধ-ইচ্ছা-চাওয়া-পাওয়া সর্বক্ষেত্রেই একই এবং একই মাপে পরিমাপিত।
এজরা পাউন্ডের মতে, ‘literature does not exist in a vacuum. Writers as such have a definite social Function exactly proportionated to their ability as writers.’ এবং সেই ক্ষেত্রে আজকে এটি একটি মিমাংসিত প্রশ্ন: শিল্প আসলে শিল্পের জন্য না জীবনের জন্য। শিল্পের জন্য যে শিল্প সে শিল্পেও রয়েছে জীবন – জীবন বাদে কোনো শিল্প কোনো ইতিহাস, কোনো দর্শন কিংবা কোনো বিজ্ঞান বা নৃতত্ত¡ কোনো কিছুই সম্ভব নয়। যেভাবে চরম হতাশাবাদী, নান্তিক শিল্পীর মধ্যেও দানা বেঁধে থাকে আশা বা আস্তিকতার মৌল উপাদানসমূহ, তেমনি কলাকৈবল্যবাদীদের মধ্যেও থাকে জীবনের অন্যরকম ফল্গুধারা, যা খুঁজে নিতে হয় একটু কষ্ট স্বীকার করে।

০৩.
সব কবিতা আলোকসঞ্চারী হয় না। একটি ভালো কবিতা লেখার জন্য কবিকে অনেক অকবিতাও লিখতে হয়। জীবনানন্দ দাশ বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। তাকে নোবেল-লরিয়েট কবিদের সাথে মেশানো যায়। তিনি বাংলা কবিতার ঐতিহ্যকে ধারণ করেই আলাদা হয়েছেন,লিখেছেন নতুন কবিতা। তার কবিতা প্রাথমিকভাবে মূল্যায়িত না হলেও পরবর্তীতে সবার মধ্যে এ বোধ জেগেছে যে, তিনি রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা কবিতার প্রধান কবিব্যক্তিত্ব, যার কবিতা শুধু প্রভাবসঞ্চারীই নয়, এর সুরও এক মোহময় আলোক-সম্পাতে আমাদের কাব্যপিপাসু মনকে তছনছ করে দেয়।
জীবনানন্দ-উত্তর বাংলা কবিতায় যারা জীবনানন্দের প্রভাব কাটিয়ে আলাদা সুর ও স্বরে কবিতা লিখেছেন তাদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, শামসুর রাহমান, শঙ্খ ঘোষ, আলোক রঞ্জন দাশগুপ্ত, আল মাহমুদ এবং উৎপল কুমার বসুর নাম করা যেতে পারে। অনেকেই যখন জীবনানন্দের ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন সে-সময়ে, এই কবিরা জীবনানন্দ-চর্চা করেছেন এবং নিজ নিজ প্রতিভার প্রাখর্যে নতুন নতুন পথের সন্ধান করেছেন এবং কবিতাও লিখেছেনÑ তাদের আলাদাভাবে চেনা যায়। তবে এদের মধ্যে উৎপল কুমরা বসু একটি পৃথক রাস্তায় হেঁটেছেন। তাকে জীবনানন্দ-উত্তর বাংলা কবিতার প্রধানতম স্বর বললে বোধ করি তাতে কোনো অত্যুক্তি হবে না। ৫০-এর কবিদের মধ্যে তিনিই সবার্ধিক সক্রিয় এবং সা¤প্রতিক; আজকের যে তরুণরা কবিতা লিখছেন তাদের সাথে তাকে মেশানো যায়। ফলে তরুণ কবিদের কাছে আজকে তিনি বেশি প্রাসঙ্গিক সঙ্গতকারণেই। তার কবিতায় দেখা যায় দূর সময়ের ইঙ্গিত এবং জীবনানন্দের ইতিহাস- চেতনার উত্তরাধিকার। তিনি যে একক কাব্যসত্তায় আচ্ছন্ন হয়ে ছিলেন, তা তার স্বতন্ত্র কবি-পরিচয়কে চিহ্নিত করলেও এখনো একথা বলার সময় আসেনি যে তিনি জীবনানন্দের মতো সর্বপ্লাবী প্রভাবসঞ্চারী জনপ্রিয় কবি। তিনি পাঠকদের বোঝার জগত থেকে অনেক দূর দিয়ে হেঁটেছেন কিংবা অগ্রসর চিন্তার প্রক্ষেপণে তা হয়ে উঠেছে দূর্বোধ্য – ভাবীকালে হয়ত এই দুর্বোধ্যতা কেটে যাবে এবং তিনি পাঠকপ্রিয়তাও হয়ত পাবেন।
দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে আধুনিক শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞান- প্রযুক্তি-দর্শনমন্ডিত জগতের আলোছায়ায় উর্বর তার মস্তিষ্ক থেকে যে শব্দ, যে চিত্রকল্প এবং যে নতুন বাণীর সম্পাত ঘটেছে, তা আপাত কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকলেও সময় একদিন আসবে যেদিন কেটে যাবে এই কুয়াশা এবং তিনি হয়ত জীবনানন্দের মতো বিপুল-বিস্তারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন। তবে সেই শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি, যদিও জয় গোস্বামী বলছেন: ‘এই কবি তার সময় থেকে এগিয়ে রয়েছেন। দূরে আমরা দেখতে পাচ্ছি তার উড়ন্ত রূপোলী কেশরেখা। এই মুহূর্তে উৎপলের কবিতার তুল্য সংকেত-শক্তি, দূরগামী অর্থক্ষেপন, বহুস্তর অনুষঙ্গ প্রয়োগ বাংলা কবিতায় আর নেই। আমরা পাঠকরা কেবল তাকে সবিনয়ে অনুসরণ করতে পারি।’ ( দেশ, ফেব্রয়ারি ২০০৫)।

০৪.
কবিতা এখন টেক্সট। এখানে সহজ-সরল ভাষ্যের কোনো বালাই নেই। আছে জটিলতা, বৈপরীত্য, নির্মাণ-বিনির্মাণ কিংবা ঔদ্ধত্যে উৎরে যাওয়া সময়ের নানা চিহ্ন, সংকেত ও দুর্ভেদ্য খড়কুটো, অনিঃশেষ অভিলাষ – এই সব। তবে যে-কথা ভাবতে হবে তা হলো, বিশাল ঐতিহ্যস্রোতের বিচিত্র বর্ণবিভায় কে কতটা স্বতন্ত্র ও প্রোজ্জ্বল,সে দিয়েই তাকে ধরে রাখবে কাল মহাকাল। তবে কবিতার ঐতিহ্যবিচ্যুতি কবিতাকে পঙ্গু করে রাখে। উদ্দেশ্যহীন স্বপ্নহীন শব্দপ্রপাতই যে কবিতা সে হীন প্রচেষ্টায় যারা অভিনব প্লাস্টিক কবিতা নির্মাণে ব্যয় করছেন সময়, তাদেরকে তাকাতে বলি আন্দালুসিয়ান যুবক লোরকার দিকে। কবিতা রচিত হয় ভাষায় এবং আমরা আলোচনার প্রারম্ভেই ভাষার কথা বলেছি। দেরিদা থেকে আমরা জানি ভাষা সেই সীমাহীন বেলাভূমি যেখানে বারবার সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে আর রেখে যায় অনেক চিহ্ন, শঙ্খ-শামুক ও অনেক কিছু। ঐতিহ্য ও প্রাচীনপ্রতেœর রেখাচিহ্ন ভাষায় সংস্থিতি পায় কবিতার মাধ্যমে এবং কবিতা-ই সেই বেলাভূমে রেখে যায় অনেক চিহ্ন ও মণি-মুক্তো,যা ভাষার দিগন্তকে আরো বিস্তৃত করে, এগিয়ে যায় তার অনন্ত যাত্রায়। তাই শেমাস হিনি যখন বলেন, ‘Poetry as divination; poetry as the revelation of the self to the self, as restoration of the culture to itself; poems as elements of continuity of aura and authenticity of archaeological finds, where the buried shard has an importance that is not obliterated by the buried city; poetry as a dig, a dig for finds that end up being plants.’ আমরা বুঝে ফেলি কবিতা শুধু শব্দ নয়, শব্দের সংসার নয় – এক বিস্তৃত বিস্তৃর্ণ প্রান্তরের আবিষ্কার, অতীতের হাড়-গোড়ের সন্ধানে খুঁড়তে থাকা অনেক অজানা প্রান্তর।
ক্যারিবীয় কবি ডেরেক ওয়ালকট কবিতা লেখাকে প্রার্থনার সাথে তুলনা করেছেন। কবি শঙ্খ ঘোষ শোনা যায় অনেকটা অজু করেই কবিতা লিখতে বসেন। আবার কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ড্রাংক অবস্থায়ও কবিতা লিখেছেন এবং আমাদের আজিজ মার্কেটের একালের বেশকিছু কবি শোনা যায় নেশার ঘোরে কবিতা লিখতে পছন্দ করেন। কে কীভাবে কবিতা লিখবেন এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তবে একথা মানতেই হবে যে, কবিতা লেখার কাজটি নিতান্তই একটি পবিত্র ভোকেশন এবং শ্রমসাধ্য ব্যাপার। শঙ্খ ঘোষের ছন্দের বারান্দা থেকে জানা যায় জীবনানন্দ দাশ একটি কবিতাকে কত কাটাকুটি করতেন। যা হোক, হয়ে ওঠার জন্য কবিতা কবিকে যে স্বস্তি দেয় না, পুনঃপুনঃ পাঠে তা কবির বুঝতে অসুবিধা হয় না।

০৫.
বাংলাদেশের একালের তরুণ কবিদের মধ্যে দুটো ধারায় কবিতাচর্চা চলছে। একটি ধারায় দেখা যায় নিজস্ব ইতিহাস-ইতিহ্যের আলোকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে কবিতাচর্চা এবং অন্য একটি ধারায় দেখা যায় পারসোনালিটি কাল্ট-এর মহোৎসব। এই ধারার কবিরা কেউ উৎপল কেউ বিনয় বা শক্তি, কেউ বা রণজিৎ দাশ কেউ বা মৃদুল, আবার কেউ বা জয় গোস্বামীকে আইকন মেনে কবিতা লিখছেন এবং আজিজ মার্কেটের আড্ডায় এদের গল্পই বেশি শোনা যায়। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের সা¤প্রতিক কবিতা নিয়ে এসব কবিদের মাথা ঘামাতে দেখা যায় না খুব বেশি। প্রথম ধারার কবিরাই বাংলা কবিতার মূলধারার সার্থক উত্তরাধিকার, মধ্য আশি এবং নব্বইয়ের এই কবিরা কেউ সরবে কেউ নিরবে জীবনানন্দ-উত্তর এবং পঞ্চাশোত্তর বাংলা কবিতায় নতুন দিগন্তের সন্ধানে ব্যাপৃত রয়েছেন এবং বলতে দ্বিধা নেই ,এ সময়ের অল্পকিছু কবির মধ্যে স্বতন্ত্র স্বর ও সুর ভেসে উঠছে, তারা লিখছেন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কবিতা সম্পূর্ণ নিজস্ব ঢঙ্গে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বেশকিছু কবি অহেতু শব্দাচারে একধরনের চমক সৃষ্টির মাধ্যমে কবিতা নামের যে জিনিস সৃষ্টি করছেন, তা আমাদের ভাবিত করে বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে। কবিতার নান্দনিক ভুবনে এইসব দুর্জনদের বেমানান উপস্থিতি ও আস্ফালন বাংলা কবিতার স্বতঃশ্চল প্রবাহকে যে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্থ করছে – এ রকম ভাবনা আসতেই পারে।
পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তের কবিতা-সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে পড়তে বা জানতে কোনো সংস্কার থাকতে হবে – এটা কেউই মানবে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের লিখতে হবে বাংলাদেশের কবিতা, যে দেশের মানুষ ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে এবং নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৭১-এর মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং দেশকে স্বাধীন করে পরবর্তীতেও সামরিক-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে এবং এখনও অসা¤প্রদায়িক বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে লড়াই-এ অবতীর্ণ, সেই দেশের মানুষের কবিতা লিখতে হলে আপন ঐতিহ্য ও সংগ্রামী জীবনের ইতিহাসকে বাদ দিলে চলবে না। পশ্চিমবঙ্গকে আজকে বাংলাদেশের মতো করে ভাবলে ভুল করা হবে। শুধু ভাষা এক হলে (ভাষাও অনেকখানি আলাদা হয়ে গেছে) চলে না, জীবনবোধ ও সাংস্কৃতিক প্রত্যয় এবং বেঁচে থাকার যে সংগ্রামী ইতিহাস তা আমাদের থেকে তাদেরটা আজকে আলাদা এবং এটিই বাস্তবতা। সুতরাং, তাদের কবিতা বা সাহিত্য আমরা অবশ্যই পড়বো যেমন আমরা পড়বো নেরুদা কিংবা লোরকা বা গাব্রিয়েল ওকারা। একথা ঠিক যে, শুধু ভাষার কারণে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তের কবিতার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের কবিতা বা অন্যকিছু আমাদের বেশি টানে। তবে লক্ষ করলে বোঝা যাবে, বাংলাদেশের কবিতার মূল ঐতিহ্যের সাথে তাদের কবিতার ঐতিহ্যগত একটি পার্থক্য রয়ে গেছে, যদিও কবিতা কিংবা শিল্প-সাহিত্যের সর্বজনীন আবেদনকে আমরা অস্বীকার করছি না।
এখানে উল্লেখ্য , অনেককাল আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এপার বাংলা ওপার বাংলা কবিতা উৎসব হয়। দুই বাংলার কবিদের কবিতা পাঠ শেষ হলে শেষদিন রাতে আমরা মাদার বক্স হলে মুক্ত আলোচনায় বসি। তাদের (ওপার বাংলার কবিদের) অভিযোগ ছিল এপার বাংলা কবিতার যে সংগ্রামী চেতনা সেটি কবিতাকে অনেকখানি হালকা করে ফেলছে। তখন গণতন্ত্রের জন্য আমরা সামরিক-স্বৈরাচারের বিরদ্ধে লড়াই করছি। ছাত্র-শিক্ষক-সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষই আন্দোলনের সারিতে। এই বাস্তবতায় অন্যরকম কবিতা লেখা সম্ভব কিনা – প্রশ্ন করা হলে তারা আর কোনো উত্তর দেয় নি। সংগ্রামী চেতনার সাঙাতেও পৃথিবীতে অনেক মহৎ কবিতার সৃষ্টি হয়েছে, কবিতা এমনই একটি শিল্পমাধ্যম যা সবকিছুকেই ধারণ করে হয়ে উঠতে পারে। নেরুদা, লোরকা কিংবা আজকের ইমামু আমিরি বরাকার অনেক কবিতায়ই সংগ্রামী চেতনার আবহ লক্ষণীয়, যা মনে রাখতে হবে তা হলো, কবিতাকে কবিতা হয়ে উঠতে হবে। একজন প্রকৃত কবির পক্ষেই কেবল সম্ভব যেকোনো অনুষঙ্গকে কবিতার বিষয়বস্তু করা। পৃথিবীর মহৎ কবিতা সে যে প্রান্তেরই হোক না কেন, তা আমরা পড়বো, আলোচনা করবো তার রসও আস্বাদন করবো, প্রভাবিত হবো; তবে মনে রাখতে হবে, আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমার মাটি-জল-সংগ্রাম-শেকড়-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের প্রাত্যাহিকতায় গড়ে উঠবে আমার কবিতা, আমার সাহিত্য-শিল্প বা অন্যকিছু।

০৬.
শুধু কবিতার জন্য কবিতা হলে সে কবিতার কোনো প্রয়োজন নেই। কবিতা অবশ্যই নাড়া দেবে রাষ্ট্রকে কিংবা বিশ্ববিবেক কিংবা স্বৈরাচারকে। চেশোয়াব মিউশ বলেছেন, ‘কাকে বলে কবিতা যদি তা না বাঁচায় দেশ কিংবা মানুষ।’ তাই দেশ ও মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে কবিরা যুগে যুগেই স্বৈরশাসক কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের কাছে শত্রু হয়ে উঠেছে এবং পৃথিবীর অনেক মহৎ কবিকেই জীবন দিতে হয়েছে কবিতায় সত্যকথনের দায়ে। লোরকাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল সত্য উচ্চারণের জন্য। আমেরিকান বিট কবিদের অন্যতম অ্যালেন গিনসবার্গ যিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় লিখেছিলেন ‘সেপ্টেম্বর অন যেসোর রোড’, পছন্দ করতেন না তন্দ্রাচ্ছন্ন, ভ্যাজভ্যাজে, গুটিসুটি মার্কা কবিতা। তিনি চাইতেন ডানাখোলা কবিতা, যে কবিতার ডানার ঝাপটায় ভেঙে যাবে সমাজ বা রাষ্ট্রের ম্যাজম্যাজে ভাব। আবার এক শ্রেণীর লোক আছে যারা না বুঝেই কবিতা সম্বন্ধে বাজে কথা উচ্চারণ করেন। অ্যালেন গিনসবার্গ এই ধরনের এ্যাকাডেমিশিয়ান কিংবা ব্যক্তিদের সম্বন্ধে বলেছেন: ‘Poetry has been attacked by an ignorant & frightened bunch of bores who do not understand poetry how its made & the trouble with these creeps is they wouldn’t know poetry if it came up and buggered them at broad daylight.’ (Notes for Howl and other poems) কবিতার থাকতে হবে গতি ও দৃষ্টি। কবিতা জাতীয়ভাবে লেখা হলেও তার মৌলিক কিছু গুণের কারণে তা আন্তর্জাতিক হয়ে যায়। আবার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও কবিতা লিখিত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে অবশ্য কবিকে কসমোপলিটান বোধের অধিকারী হতে হয়।
শিল্প যেকোনোভাবেই জীবনের জয়গান, মুক্তি-অন্বেষী, তা যতই হতাশা ও কষ্টবোধ থেকে, দ্রোহ-নাস্তি কিংবা অমঙ্গলবোধ বা অসুস্থ-বিকার মানসিকতাপ্রসূত হোক না কেন। চরম হতাশাবাদীদের মধ্যেও যে আশাবাদের বীজ লুকিয়ে থাকে, এ ব্যাপারটি অনেক নকল আশাবাদীদের চোখে পড়ে না। এ ব্যাপারে আলবেয়ার কাম্যু ‘দ্য রিবেল’-এ স্পষ্ট করেই বলেছেন: ‘There is no such thing as a nihilistic work of art, or sick art; even if it describes nostalgia, despair, frustration, it still creates a form of salvation.’
আমরা আগেই বলেছি সংস্কৃতি বা শিল্প কোনো ভূগোলে আটকে থাকে না, এটা কারো ব্যক্তিগত সম্পদও নয়। গতিশীল সংস্কৃতি, শিল্প বা কবিতা পুরো মানবজাতিরই সম্পদ। তাই পৃথিবীর দূরতম প্রান্তের একজন কবিও এই বাংলাদেশের একজন কবিকে আলোড়িত করতে পারে, তার দৃষ্টির মায়োপিক জরাগ্রস্ততা দূর করতে পারে। দিতে পারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা এক স্বর্গীয় অবলোকন, যা থেকে নতুন সৃষ্টির পথও খুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমেরিকান কবি ফিলিপ লেভিনের প্রথম লোরকা পাঠের অভিজ্ঞতার ব্যাপারটি ভাবা যেতে পারে। একদিন তিনি লোরকাকে শুধু ‘জিপসি পোয়েমস’-এর কবি কিংবা কিছু সুন্দর, চমকপ্রদ কবিতার লেখক হিসেবে মনে করতেন, যার গুরুত্ব তার কাছে সামান্যই ছিল। তিনি বলছেন: ‘But now one Saturday afternoon became a miracle as I stood in the stacks of the Wayne university library, my hands trembling, and read my life in his words. How had this young Andalusian, later murdered by his countrymen, come to understand my life, how had he mastered the language of my rage? This poet of grace and deep song had somehow caught my emotions in a way I never had, and suddenly he opened a door for me to a way of speaking about my life.’ পরে তিনি বলেছেন, তার কবিতা না পড়লে আমি আমার অনেক ভালো কবিতাই লিখতে পারতাম না। সুতরাং অনুপ্রেরণা যে কোনো জায়গা থেকেই আসতে পারে, যে কোনো প্রান্তের কবিতা বা শিল্প খুলে দিতে পারে দৃষ্টির জড়তা এবং নিয়ে যেতে পারে বিশ্বজগতের সেই উন্মুক্ত প্রান্তরে, যেখান থেকে দেখা যেতে পারে বিশ্বমানবের মহামিলনের চিরন্তন সাঁকোটি। শিল্প-সাহিত্যের উদ্দিষ্ট জায়গা তো সেটিই। তবে একথা মনে রাখতে হবে যে, সৃষ্টিহীন অনুকরণ একজন শিল্পীর জন্য সময়ের অপচয় মাত্র। এ ধরনের অনুকরণ মূল্যহীন ও মূঢ়তার নামান্তর। এ প্রসংগে হেগেলের একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য: ‘Man should be prouder of having invented the hammer and nail than of having created masterpieces of imitation.’

০৭.
কবিতা কখনো হাতিয়ার হয়ে যায়; হয়ত তখন তার কবিতামূল্য অনেকখানিই কমে যায়, তথাপি তার তাৎক্ষণিক মূল্যেই তাকে কাছে টেনে নিতে হয়। নজরুল, সুকান্ত কিংবা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনেক কবিতার ক্ষেত্রেই এ কথা খাটে। এমন কি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে বাংলাদেশের অনেক কবিই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবতী করার লক্ষ্যে অনেক কবিতাই লিখেছেন সেগুলোকে উঁচুনাকের শিল্পতাত্তি¡করা যেভাবেই দেখুন না কেন, এসব কবিতার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। এসবের মধ্যেও রয়েছে ‘a form of salvation’ মিরোশ্লাভ হোলুব যখন বলেন, ‘ কবিতাই শৃঙ্খলা সৃষ্টির শেষ চেষ্টা, বিশৃঙ্খলা যখন অসহনীয়’ তখন কবিতার সম্যক গুরুত্বের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।
কবিতা বা কোনো শিল্পমাধ্যম নিয়ে যথেচ্ছ আলোচনা সম্ভব, কিন্তু এসবের যোগ্য প্রমূর্তকরণের কাজটি নিতান্তই কঠিন। এতসব আলোচনা শেষেও বলা হয়নি কবিতা কী ও কেন, এবং এটা বলাও মুশকিল; শুধু শঙ্খ ঘোষের মতো এটুকু বলা যায় কবিতা কী নয়? কবিতা যখন কোনো জাতির সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে তখন কেবল আকাশে বাতাসে দেখা যাবে প্রজাপতি ও রোদ্রের খেলা, গোরস্থানের পাশের পথের কোনো আঁধারে কোনো শেমাস হিনিকেও দেখা যাবে মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে কবিতা পড়ছেন। কবিতাকে হতে হবে কবিতা – কোনো জাতির পূর্ণ অবয়ব এবং কবিতার নিরালম্ব স্রোতে দেখা যাবে জাতীয় ও বৈশ্বিক মঙ্গলময়তার স্বপ্নপ্রদীপ, জ্বলে জ্বলে এগোচ্ছে সূর্যোদয়ের দিকে। সেই অধরা সুন্দরকে ধরার জন্য যারা শহীদ হতে চান কেবল তাদের পক্ষেই প্রকৃত কবিতা লেখা সম্ভব। প্রকৃত কবিতা বাস করে সুনিপুণ বোধের অঙ্গার কিংবা পুষ্পশোভিত দহনে – একথা সবারই মনে রাখা দরকার।

 


কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম

জন্ম : ১ নভেম্বর ১৯৬৪ , কুষ্টিয়ার ফিলিপ নগর গ্রামে
পেশা: সরকারি কলেজে অধ্যাপনা, বর্তমানে রাজশাহী
সরকারি সিটি কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : দ্বিধান্বিত সুখে আছি যমজ পিরিতে (১৯৯৯)
ঘাসবেলাকার কথা (২০০১)
যৌথ খামারের গালগল্প (২০০৬)
সেইসব ঝড়ের মন্দিরা (২০০৮)
চারদিকে শব্দের লীলা (২০১০)
অবগাহণের নতুন কৌশল (২০১১)
মন্ত্রপড়া সুতোর দিকে হাওয়া (২০১৪)
দীর্ঘশ্বাসের সারগাম (২০১৬)
বিহঙ্গখচিত লন্ঠন (২০১৭)

প্রবন্ধ:
কবিতার বিনির্মাণ ও অন্যান্য (২০০৯)
রবীন্দ্রনাথ: বিচিত্রের দূত (২০১৩)
কবিতার স্বদেশ ও বিশ্ব (২০১৫)
Edited Book :
Green Fogs: A Collection of Contemporary Bangla Poetry (2017)

e-mail : kamrulislam1964@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E