৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ২০২০১৭
 
 ২০/০৭/২০১৭  Posted by

কবিতার সাথে আমার রিলেশন
– কামরুল ইসলাম

My half-done sense does not say, someone will
come to rescue the spoiled beverage…

 

শুকনো ক্লোরোফিল সাথে উড়ে গেল পাতা
এমন দিনে তোমার চোখে জল- স্তিমিত উজ্জ্বল
টোলের গল্প বেজে ওঠে কোণাকাঞ্চিতে
যমদূত জেগে ওঠে জীবনের চেয়ে দীর্ঘ অন্ধকারে

তোমার কঙ্কালে জেগে ওঠে ন্যানোটেক
মরা গঙ্গার চর হয়ে ফিরে যায় পথিক
বিমূর্ত তৃষ্ণার দিকে স্নানঘর
ভেতরে রূপোলি ইলিশ, সমুদ্র কিংবা সীমাহীন উড়াল
রাতের সবকটি তালা ভেঙে
                            উড়ে গেছে অসমাপ্ত পাখি

মাথার ভেতরে কিছুটা অব্যক্ত লবণ, ওদিকে
কবিরাজ পাড়ার যাাত্রাদলের ভিলেন অনিমেষ পাল
ভেসে ভেসে নিদ্রাহীন শৈবাল খোঁজে
                                 দারিদ্রের তীরে
আমাদের মাংসপেশিতে বুনোহাঁসের
রক্ত-চঞ্চল গোধূলি, বাণিজ্য কোরাস

ঘুমের দুয়ারে চানখাই বিল হাসি দিয়ে চলে যাই
কে এক অনামী ভাস্কর তুরুকের তাস হাতে
ডুবে মরে ব্যাঙ-ডাকা ভোরে
আমি তার কথা ভাবি আর
মনের আঙিনায় রোপণ করি
দলছুট সমুদ্রের ঢেউ-

তোমার কৈশোর হে বালক, গাবজলে চুবানো সুতোয়
বেঁধে নাও
খসে গেলে মিশে যাবে খুনের গল্পে
হতেও পারে যে একদা খুনির পোশাকে
তুমি নক্ষত্র হবে, জ্বলে উঠবে স্রোতের নেপথ্যে
তোমার বীজতলে হলুদ বাতিরা এসে
খুলে খাবে রাতফল, তখন অরণ্য জুড়ে
উনুনের ত্রাসে জয় হবে বন্য জোনাকির-এই গান একান্তই
নিজস্ব ডাকঘরে রেখে দিই সাধনের বলে; 
কিছুটা জলঘোরে, ভাতঘুম শেষে,শেষ হয়
অনেক অদেখা শেষ আমারই মাথায়
চোর চোর খেলায়

মন আমার জেগে ওঠে বাঁশপাতার শোক সভায়
ধারণা করা হয় আমার লিনিয়েজ কানেকশন
চৌর্যবৃত্তির হেরেমখানায় নাক ডেকে ঘুমোয়
সেই ঘুমের মধ্যে ঘর ওঠে, বৌ বৌ খেলা হয়
কবিতার সাথে আমার রিলেশন সন্তর্পণে
লজ্জায়;
এর চেয়ে বেশি কিছু নয়- এই সত্য সারাদিন
পেখমহীন নাচেরও অধিক কেউটের খোলস

সাথে তার কিছু স্মৃতিবিষ; দ্বন্দ্বে ও মন্তাজে
এইতো দূরের যাত্রী দাঁড়িয়ে আছি
পথের চিত্রে-আমার নিজস্ব ক্ষমা আমারই কবরে ঘুমুতে
যাবার আগে একটু বলে নিই: এই সব পাঠের দ্রবণে
লোনলি জীবনের ঘেরে উজ্জ্বল চিংড়ির মতো যে অপেক্ষা
তার পাশে দাঁড়ায় আমার চিত্রকল্পরা ঢাল হয়ে- ওপারে
বকফুল কাঁদে পাখির রক্তে সুর বেঁধে-

একটি খবর এলো দুধকাউনের শিষের মতো
উজ্জ্বলতা নিয়ে-ঘরে ঘরে ব্যাকুল শৈশব,জাগরণ
খবরটা একটি সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির কিংবা ভাঙা চুড়ির
সম্পাদিত চোখ – দাঁড়িয়ে রইল সমুখে
খবরটা একটা খাড়ির নির্জনে পড়ে থাকা
বিপন্ন রোদের সকাল বেলাকার উচ্ছ্বাস
কিছুটা বন্য কিছুটা শিরোনামহীন- এর পথেই
দাঁড়িয়ে থাকে অনুকল্পের বীজ বাঁকে ও শূন্যে
কুনোব্যাঙের প্রার্থনার দিকে প্রাচীন বড়শি-
যদি তুমি আপন বলে ভাবো এই সুনীল সন্ধ্যা
এই ছেঁড়া-পাতার আলেখ্য, এই বাউড়ির শোক
তাহলে তুমিই আল্পনা, নীড়-ভাঙা খড়ের দ্বৈরথ

দীর্ঘ ঘুমের মতো দীর্ঘ সঙ্গমে তোমার চোখের সাবজোনে
মেলোড্রামা নাকি মেলোডিক স্রোতের কনভয়-সেই নিয়ে
ভাবতে ভাবতে আমার প্রান্তিক জল থেকে
উড়ে যায় ব্যাসার্ধ,শীতসকালের বাইনারি চোখ

স্তনময় রোদের আখ্যানে এই হাতে গোলাপের হাড়
বলো, এই ন্যারেটিভ কারো কান্নার কাছে পরাজিত কিনা
চুল্লিতে প্রাণের সখ্য ক্রমাগত নেগেশন
বোধ আমার বাউল-চরণে আঁধার ও ব্রিকোলাজ-
এসো হে হরিৎ-মৎস্য, যৌবনে তা দিয়ে যাও আর ভেতরে
শায়িত কবিকে বলো- তোমার রক্তের চন্দন মেখে
নিবিড় পাঠাগার ছুঁয়ে ভেসে যাব বানপোকার দেশে
কোনো জেনসাধকের আকড়ায় –

ঘুমের দিকে শূন্যতার পাঠশালা,বেজে যায় পাখোয়াজ
ময়দানে বিকল্প জুতোখেলা শালের পাতায়-
পিতামহের পুরনো জোব্বায় আজো কিছু ঘুম
জেগে জেগে নীল হ্ওায়ার গান শোনে আর
একটি দীর্ঘ লতার প্রান্তে বসে পান করে
মাটি ও মমতার মিশ্র উড়াল- এইসব নিয়ে আজো
আরো কত ঢিল ছুড়ি মেঘের শেমিজে-

ঘুমের অদূরে বসন্ত নামে, এ যেন
পাখি ও ফুলের রাজনীতি-এ এক কুহক বেলার কাহিনি
সদম্ভে ফেঁদে যায় সেই অন্ধ কুহকিনী
যার ছুঁড়ে দেওয়া স্বপ্নের মধ্যে আমাদের
গোপন উড়াল অনুভব করে বৃত্তের মৃদু কম্পন
যেন কোথাও কোনো আদিমতার চাতালে
চাঁদ ওঠে লাজনম্র ভায়োলিন হাতে-

আমার দৃষ্টির ওপারে হারানো উপমার দল
প্যারাবনের ঝিরঝিরে হাওয়ায় বেজে ওঠে
একটি ড্যাসের মতো সুরে কিংবা বেসুরে
তার দিকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আজ আমি
আবারো বাজাবো জীবন -যা এক পুরনো খবর
গড়িয়ে গড়িয়ে সারাবেলা উই ঢিবির পলাতক মন-

নিকোটিন চক্রের ভূতেরা রাশি মেনে
হাঁটা-চলা করছে ইদানীং
আমলকির জলে জেগে ওঠে বৃক্কের প্রেম
রসের জেলে মাছসহ মেঘ হয়ে উড়ে যায়
বনভূমির দিকে
কে এখন মেঘ চষে তুলে নেবে প্রোটিনের ঘ্রাণ?
গভীরতা মেনে যে স্প্যানিশ গিটারটা
রঙধনুর গল্পের ভেতর ঢুকে যায়
তারও তো গল্প থাকে, থাকে বৃন্দাবন?
উচ্ছিৃত লিঙ্গের অভিমান থেকে দূরে সরে যায়
মিষ্টি আলুর সবুজ ক্ষেত
জীবনের এই সরীসৃপ খোলসের নৈ:শব্দ্যে
বৃষ্টিরা কফি-মেকার হাতে এগোচ্ছে আর
মালিথা পাড়ার রঞ্জনা মেকশিফ্ট ঘরের মধ্যে
পেতে চায় আরোহী লন্ঠনের আলো-

কোথাও কোনো শূন্যপুর কাছে এসে বলে
ভরে দাও পাতাঝরা দিন নিমগ্ন স্রোতে-
পুকুরগুলো শপিংমলের নেশায়
এঁদোডোবাও উড়ছে জলে রসে
কোথায় যাব বিনম্র বিশ্বাসে?
কোনকিছুই ভরে উঠছে না ঠিকঠাক
মন ভাসে শকুনের পেটুয়া হ্ওায়ায়
চাষের আয়োজন প- হয়-

কেবলই চৈত্রদিন জানে শুধু জলের শব্দের
ওপারে কারো কুড়িয়ে পাওয়া পাতার সম্পাদনা
কেবল আভাসিত তোমার নিবাস খুলে যায়
যাব না গোপনে আর দূর মোহনায়
স্মৃতিবিষ উগরে দিয়ে যতদিন আছি এ মহল্লায়
ততদিন হাওয়ার মর্মরই কবিতার জীবনচক্র…

কোথাও কোনো শূন্যপুর উৎসব করে চৈত্র ধুলোতে
একটি কবরের খাপাচি উদ্বোধনী লাল-নীল-হলুদ
বেলুনের মতো উড়ে উড়ে শেষে
বয়ে আনে কোনো এক বিকেলের গল্প
যার ভেতর দরজায় দুটি ক্ষুদ্র চোখ
খোঁজে তার পুরনো দেশ কিংবা মানচিত্রের কার্টিলেজ
কচুরিপানার রহস্য-বাঁক আর সদ্যমৃত প্রেমের ঝাঁপি-

মনে আছে শৈশবের পাতার দুলুনি
নুনুফল হারানো কান্নার ধ্বনি আর দর্জিবাড়ির
সময় হারানো সুনসান- এসবের মধ্যে
ভ্যানগঘের চোখের পাতা থেকে জেগে ওঠে
প্রতিতুলনার নতুন ঘরবাড়ি, কিছু আসবাবও

বিচিত্র চিত্রের দিকে আটপৌরে কান্না, সবজি খেতে
নন্দনের উপনিবেশ, আমার বদলে যায় সম্ভ্রম
নিবেদন ও প্রার্থনার হাত;
কতিপয় জলরঙ সিঁড়ি দেশ হারানো গুঞ্জনে
সাধনায় নত হয়, পাগলের শিশ্ন-সম্বল প্রতিভা
ধেয়ে আসে মানতের মালে; যে বর্ষা তার রাবীন্দ্রীক
ব্যামোটা লুকিয়ে রাখে বিষহরির পালায়
সেখানে ঝরে যাওয়া বিনাশের কাহিনি
গণ-জাগরণে জাগিয়ে তোলে ফটোসেনথেসিস

এইসব সম্পর্কের অতল বেয়ে,যা আমরা জেনেও গেছি কিছুটা
তাল-তবিয়তে শুরু হয় প্যাশনের ঘোর
যবের ছাতুর দিকে তাকিয়ে আজো জীবনের হাইপারবোল
প্রাণময় কেতাব চষে মাছের আঁশে-
আমাদের চোখের অদূরে নৃপতির ছায়া আজও সুর্যোদয়
তার মধ্যে ঘাসবেলাকার শোবিজ ,ত্রাণ-শিবিরের উৎপাত
আর শব্দের অবাধ্য কুণ্ডলী বেয়ে এইতো বিহ্বল নাবিক
কবিতার সাথে কতদিন জুডো আর কারাতির লীলা
ভরে তুলি রণনীতি-রণকৌশলে মিউজের নন্দনবাড়ি-

 


কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলাম

জন্ম : ১ নভেম্বর ১৯৬৪ , কুষ্টিয়ার ফিলিপ নগর গ্রামে
পেশা: সরকারি কলেজে অধ্যাপনা, বর্তমানে রাজশাহী
সরকারি সিটি কলেজে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : দ্বিধান্বিত সুখে আছি যমজ পিরিতে (১৯৯৯)
ঘাসবেলাকার কথা (২০০১)
যৌথ খামারের গালগল্প (২০০৬)
সেইসব ঝড়ের মন্দিরা (২০০৮)
চারদিকে শব্দের লীলা (২০১০)
অবগাহণের নতুন কৌশল (২০১১)
মন্ত্রপড়া সুতোর দিকে হাওয়া (২০১৪)
দীর্ঘশ্বাসের সারগাম (২০১৬)
বিহঙ্গখচিত লন্ঠন (২০১৭)

প্রবন্ধ:
কবিতার বিনির্মাণ ও অন্যান্য (২০০৯)
রবীন্দ্রনাথ: বিচিত্রের দূত (২০১৩)
কবিতার স্বদেশ ও বিশ্ব (২০১৫)
Edited Book :
Green Fogs: A Collection of Contemporary Bangla Poetry (2017)

e-mail : kamrulislam1964@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E