৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২০২০১৬
 
 ২০/১০/২০১৬  Posted by
কবি কালী রঞ্জন বর্মণ

কবি কালী রঞ্জন বর্মণ

কবি পরিচিতি

কালী রঞ্জন বর্মণ। ৪ জুলাই ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার অযোধ্যাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- শশিকুমার বর্মণ, মাতা- হিরি বালা দেবী দুজনেই প্রয়াত। স্কুলে অধ্যয়নকালে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে বি.এ এবং এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথম জীবনে কলেজে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তী পেশাগত জীবনে সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গেছেন। বর্তমানে তিনি সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। লেখালেখির শুরু ১৯৬৭ সালে স্কুল পড়ুয়া অবস্থায়।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ ‘আজীবন কাছের মানুষ’, ‘জলযাতনায় জাগে সঞ্জীবন ঢেউ’, ‘আহত ট্রেনের হুইসেল’, ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’ (২০১৬)।

 

কালী রঞ্জন বর্মণ -এর কবিতাভাবনা

কবিতা আমার অধরা প্রেম; সারাজীবন স্বপ্নের পিছনে ছুটে চলার সঞ্জীবনী সুধা। আমৃত্যু আমি এই কবিতার মধ্যেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি।

 

কালী রঞ্জন বর্মণ -এর কবিতা


আজীবন কাছের মানুষ

আজীবন আমি শুধু বাবাকেই দেখেছি
যে আমার সবচাইতে কাছের মানুষ
একান্ত আপনজন।
ইদানীং বলিষ্ঠ বাবার চেহারা বড়ো ন্যুব্জ হয়ে গেছে
মনে হয় দুর্ভিক্ষের দুঃখিনী বাংলাদেশ।

বাবার চোখে আমি অনেকদিন আগুন দেখেছি
আলো এবং বয়ে যাওয়া মেঘনার জল
কাকের ধারালো নখে চৌচির অসম্ভব রক্ত গোলাপ।

আজকাল তার ঘূর্ণিত ঘোলাটে চোখ
দারুণ শীতল
মনে হয় শালিকের হলুদ ঠ্যাং হেঁটে হেঁটে
পার হয়ে গেছে।
আমার বাবার মুখ
অনাদি এ বাংলার দুর্দিনের রক্তাক্ত ম্যাপ।
ষড়ঋতুর তোলপাড়, বয়সের বলিরেখায়
রক্ত ঘাম ক্লান্তির আজন্ম স্বচ্ছ ইতিহাস।

আমার বাবার বুক
আদিগন্ত বাংলার বিবাগী প্রাণের দেউল
অসংখ্য অনাহারী মানুষের অশান্ত জনপদ
দুঃখ আর অভাবী অক্ষর দীপ্রকম্প ছুটে যাওয়া
মনে হয় দ্রুতগামী ‘একতা এক্সপ্রেস’।

আমার বাবার পিঠ যেন
চৈত্রের পুড়ে যাওয়া দুর্দান্ত ফসলের মাঠ।
প্রতি দুরন্ত দুপুরে রৌদ্রময় বাবার ক্লান্তমুখ
দেহময় কাক্সিক্ষত ফসলের সজীব গন্ধেভরা ঘাম
পেট যেন ফারাক্কা, লাঞ্ছিত পদ্মার পড়ে থাকা খাল।
বিধ্বস্ত অবয়ব; ঝুকে পড়া মমতার বিপন্ন শরীর
মুহূর্তেই নিবিড় নৈকট্যে যেন মূর্ত বাংলাদেশ।

তার বিপন্ন মুখ হঠাৎ রংপুর রেল স্টেশনে
প্লাটফরমে পড়ে থাকা অনাহারী জীবন্ত লাশ
কোন আন্তর্জাতিক দৈনিকের চমৎকার জরুরি জার্নাল।

আমার পিতার অন্তহীন বেদনার বর্ণিল আগুন
আমায় আরও নিবিড় কাছে টেনে নেয়
আমার আজন্ম-উন্মীল চোখ দিয়ে আমি
জন্মদাতার প্রাণান্ত জীবন দেখি
তার অবাধ সোহাগী বুকে অবাধ্য মাথা রাখি
মুখ রাখি;
বাবার বুকে মুখ দিলেই এখনো আমি তাই
মায়ের আঁতুর ঘরের কি এক প্রকট গন্ধে ভরে যাই!

 


পতন

আমি অতি দ্রুত নেমে যাচ্ছি গভীর গরলে।
আমার পিতার সাবেকী স্বভাব থেকে –
ছ হাজার বছর আগের মিশরীয় কৃষি সভ্যতার
যিনি ছিলেন কালপুরুষ – আজ তিনি আদিম পুরুষ!
গায়ে তার সেবাদাসের নামাবলি, আঙুলে
লাঙলের কর্ষিত কড়া-বুকে বুনো গন্ধ।
তার জারিত স্বভাবের অনিবার্য গুণাগুণ থেকে
অভিব্যক্তির জটিল নিয়মে আমি
অতি দ্রুত নেমে যাচ্ছি।

একবার প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খানকে দেখার জন্য
রংপুর কালেক্টরেট মাঠে লাখো জনতার ভিড় জমেছিল।
চারদিক তুমুল হৈচৈ – ‘বাঙাল হুজুগ’
যেতে দেয়নি বলে কৈশোরের কোমল আবেগে
খুব কেঁদেছিলাম;
মা বলেছিলেন – ‘যাসনে বাছা, ভিড়ে পিষে মরে যাবি।
মা সেদিন স্নেহের আঁচলে আমায় বেঁধে রাখলেন।

আজ আমি মায়ের মাথার দিব্যি সভয় বারণ
স্নেহের আঁচল ছিঁড়ে অতি দ্রুত নেমে যাচ্ছি
নেমে যাচ্ছি অজ্ঞাত কালের করালে।

রজনী পণ্ডিতের নীতি শিক্ষার পাঠশালায়
সৎ মানুষের মডেল হওয়ার তুখোড় মহড়া
বিদ্যাসাগরী মগজি বিদ্যার ধোলাই
নিকিতার আদর্শ প্রেমের পবিত্রতাসহ সবকিছু
নিরাপস নাস্তিকতায় বেমালুম ভুলে গেছি
দু’পায়ে মাড়িয়ে গেছি সততার ফুলের সড়ক;
ছিঁড়েছি নাড়ির টান – পিছনের মায়াবী বন্ধন
বুকে সৃষ্টির আদিম আগুন – চোখে আরক্ত নেশা নিয়ে
আমি অতি দ্রুত নেমে যাচ্ছি
নেমে যাচ্ছি অনিবার্য ভয়াবহ সভ্যতার আমূল পতনে।

দু’কাঁধে ঝুলছে আমার পরাশক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দুই
পকেটভর্তি নিউট্রন বোমা, মাথায় নক্ষত্রের ঝাঁঝালো
হেলমেট। পায়ে সপ্তসিন্ধু পাড়ি দেয়ার অলৌকিক
পাদুকা পরে
আমি নেমে যাচ্ছি অতি দ্রুত – অতি দ্রুত
নেমে যাচ্ছি
নেমে যাচ্ছি
নেমে যাচ্ছি …

 


বোদলেয়ারি নরকের সুখ

অথচ কেন এমন হয়!
তোমার প্রপঞ্চ অবস্থিত আমার অস্তিত্ব ঘিরে
শুধু এক শান্ত বিষণ্ণতায় খেলা করে।
তোমার নিষ্ক্রিয় স্বপ্নের মায়াজালে
আমার বিপন্ন অস্থিরতা কেবলই তোমার
অনিন্দিত নরকের দ্বারপ্রান্তে মাথা খুঁড়ে মরে
তবু তো সে পায় না খুঁজে পথ!

তাহলে কি অলৌকিক ঈশ্বরের মতো
তোমার বন্দনা গীতেই কেটে যাবে
শূন্যগর্ভ জীবনের সার – নাকি অন্ধকার
বোদলেয়ারি নরকের পাতকী উল্লাসে
মিলবে কোন অলৌকিক সুখের মহিমা …

 


আর কত নতজানু হবো

আর কত নতজানু হবো!
আর কত চরণে চুমু খাব, নতজানু হবো?

অন্ধকার ভয়াল থাবার তলে হাঁটু গেড়ে
মহাস্তুতি, অনিকেত মধুর প্রলাপে উচ্ছ্বাসিত হবো
আর কত কুর্ণিশে আনত দেহ-অনুগত হবো?
ছাগলে মুড়ানো গাছের সমান্তরালে
নিজেরে মানিয়ে নিতে কত খাটো হবো!

মেরুদণ্ডের তাবৎ কশেরুকা আর মজ্জা দ্রবীভূত হয়ে
দেহের উচ্চতা কমতে কমতে অভিব্যক্তির অদ্ভুত নিয়মে
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা সঙ্কুচিত দীঘল শরীর
নিঃসারিত লালা ও রক্তে বিকৃত মুখের ভূগোল;
মরুপ্রাণী উটপাখির মতো মাটিতে মুখ গুঁজে
‘মুখবোজা’ সহ্যশক্তির আর কত সীমানা বাড়ানো!
ছাপোষা মধ্যবিত্তের দায়বদ্ধতার দোহাই পেড়ে
আর কত নিজেকে লুকাবো?

ব্যভিচারী লিপ্সার আগুনে পুড়ে
সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা; আর কত করুণা কুড়ানো?

বিদেশী বেনিয়া শাসন শোষণ
সহস্র অব্দের সীমাহীন লাঞ্ছনা
ভোগে উন্মত্ততায় উড়ে আসা ঝড়ের তাণ্ডব
বিপর্যস্ত শান্ত জনপদে পর্যুদস্ত পৌরুষের লাজনম্র বিপন্নতা।
ঐহিক দৃষ্টির স্বচ্ছতাকে উদাসীন অবগুণ্ঠনে করেছে আড়াল।

শ্বাপদ-সংকুল বনভূমি থেকে নাগরিক জনপদ
মৃত্যু আর প্রতিবাদ পীড়নে পেরিয়ে আসা  পথের অর্জন
সচেতন সংগ্রাম লেলিহান রক্তের দোহাই
এই নিরীহ রক্তের স্বভাব থেকে আমায় মুক্তি দাও প্রভু!

আমার দ্রবীভূত কশেরুকা খাড়া কঙ্কাল
শালপ্রাংশু দণ্ডের অবয়বে দাঁড়িয়েছে দৃঢ়;
আমি প্রফুল্ল চাকী, রফিক জব্বার
অবনত না হওয়া তারুণ্য!
আমি তীতুমীরের বাঁশের কেল্লা
থরকম্প রক্তের উত্তাপে মৃত্যু আলিঙ্গন।

আমি একাত্তুরের বিশাল পাথার
ক্রমাগত রক্ত আর লাশের উপর দাঁড়িয়ে
শ্বাসরুদ্ধ সময়ের গহ্বরে আমরণ যুদ্ধরত
শহিদের প্রবহমান রক্তের ধারা।

আমার স্ফীত বক্ষের উদারতা কোনো দুর্বলতা নয়
ত্যাগের তিয়াসে নির্ভয় মৃত্যু আর রক্তের শাসনে
আজানু পশ্চাৎ মেরু জমে জমে শক্ত পাথর
কি করে সে নতজানু হবে?
আমি কেন নতজানু হবো!

 


উদ্বাস্তু

পরিত্যক্ত বাস্তুভিটায় নিঃসঙ্গ নারকেল গাছ
যে গেছে সে ফিরে আর আসবে না বলে
প্রতীক্ষার হাহাকারে একাকী নীরবে কাঁদে।

নিজভূমে পরবাসী জীবনের পরিহাস
পথহীন পথের ভ্রান্তি খুঁজে
নিরুপায় আজও বসে আছে
যদি ফিরে আসে ….

ফিরে আসে নিঝুম রাত্রি ঝোড়ো হাওয়া
ওলট পালট করা ইতিহাস
ফিরে আসে অক্টোপাসের বাহু
ছলনার সুরাপাত্রে লালসার সর্বগ্রাহী ক্ষুধা।

স্মৃতিরাও ছলনা করে
দিনরাত্রি পার্থক্য ভুলে যায় ইচ্ছাকৃত অবহেলায়
স্বার্থবুদ্ধি পরিণামের পরম আস্থায়
চাতুর্যের বোনা জালে জীবনের স্বপ্ন দেখায়।

শূন্য আকাশে ঊর্ণা মেঘের সপ্তর্পিত ওড়াউড়ি
সন্ত্রস্ত পাখিদের কুলায় ফেরার অন্তিম কলরব
অস্তিত্বের সিঁড়ি ভেঙে তমসার এই তটরেখা
মেধাবী আলোয়
কে ঘুচাবে বেদনার এই বিপন্নতা।

 


নিমেষে নিযুত প্রাণ

দুহাঁটুর মাঝে মাথা গুঁজে
দুর্ভাবনার নতমুখ
পক্ককেশ বৃদ্ধ এক বসে আছে
ঘরের দাওয়ায়।

ফিচ্ করে বিষ্ঠা ছেড়ে
নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি ঝেড়ে
হাঁস দুটি হেলে দুলে নেমে যায়
এঁদো পুকুরের জলে।

ধূমাওঠা সেদ্ধে ধানের হাঁড়ি
চুলা থেকে নামাতে নামাতে
অশ্রুসিক্ত মায়ের বিলাপ …
খোকার সাথে আর বুঝি দেখাই হবে না …

আকাশে অকস্মাৎ মেঘের ডমরু!
বিকট শব্দে ছত্রখান চকচকে বিলের জলে
আহার বিহার তো যুথবদ্ধ পাখিদের
দিবসের শেষ আয়োজন

শকুনের চঞ্চুতে উঠে আসা
নিহত শিশুর রক্তাক্ত নাভি
হায়েনার উন্মত্ত হাসিতে
গলিত লাভার মতো রক্তপ্রপাত;
ব্যভিচার পুড়ে যাওয়া নারীর আর্তচিৎকার
অন্ধকারে জ্বলে যায় বেদনার বিরুদ্ধ বসতি।

দুরাভাসে বিদ্যুৎ চমক!
প্রবীণ বৃক্ষের উপর ঠাঠা ফেলে চলে যায় মেঘ।
নিস্তব্ধ দীঘিজলে প্রতিবিম্বে পরমায়ু ঘোর
ক্ষুব্দ হাওয়ার কাছে বৃদ্ধ জেনে নেয়
আজকের যুদ্ধের খবর।

 


স্বপ্ন

অধরের কাছে অমৃত থরোথরো
অধরাই রয়ে গেলে তুমি অনাদি আকাশ!
বাহুর বন্ধন থেকে সরে গেছ দূরে
সেই কবে …
এখন তার হিসাব মেলানো ভার।

স্বপ্ন জয়ের যাতনা ক্ষয়ে নিভে গেছে
শেষ দীপাবলি, প্রতীক্ষার পরাকাষ্ঠা
ঝুলে আছে শূন্য দেয়ালে।

আমি এখন দেখেও দেখি না করতলরেখা।

তাহলে কি অনুক্ষণ নিজেকে আড়াল করে
শূন্য মার্গে খুঁজেছি দেবতা আরাধনা!
স্পর্শের অতীত কিছু মেলেনি দু’হাতে
দেহাতীত ভালোবাসার অতৃপ্ত আকুতি
তাই বুঝি ফিরে আসে স্বপ্নভুবনে
অনুক্ষণ দুঃখ-জাগানিয়া স্মৃতি।

এপার ওপার ব্যপ্ত ব্যবধানে
সেই যাওয়া মগ্নতায় পুনঃ ফিরে আসা;
অতীত সে তো মৃত নয় স্বপ্ন হয়ে বাঁচে
জীবন সে তো ফিরে আসে জীবনেরই কাছে।

 


বীরাঙ্গনা

খান কয়েক ভাঙা কাচের চুড়ি
রক্তমাখা ছেঁড়া ব্লাউজ…
পড়ে আছে বিস্তীর্ণ ঘাসে
আদিগন্ত আমার স্বদেশে।

আমরা তাঁদের আড়াল করেছি অশ্রুজলে।
অবহেলার আগুনে পোড়ে ছিন্ন ভিন্ন পাতা
অপমানে নতশির অজেয় পৌরুষ, বীরত্ব গাঁথা।

 


দোতলার ছাদে উর্বশী

দোতলার ছাদে তুমি মেলে দিচ্ছ ভেজা কাপড়
সদ্যস্নাত রমণীয় অঙ্গে তোমার সূর্যের উত্তাপ
তোমার দেহের ঘাম, স্বেদ মিশ্রিত অঙ্গের বসন
অন্তর্বাস শুষে নিচ্ছে রক্তচোষা রোদ এবং
তোমাকেও সাতটি রঙের শুঁড় দিয়ে আরাধ্য দেবতা।

ছাদের কার্নিশে তুমি মেলে দিয়ে এলোচুল
সূর্যের আলোয় মাখা গাঢ় কৃষ্ণ মেঘমালা
উড়ে যাচ্ছে উজ্জয়িনীপুরে…
পাশের জানালা থেকে অন্তরীক্ষে ওড়ে এক
সাহসী যুবক সৌন্দর্যের ধারাপাত অবিরাম আয়ত্ত প্রয়াসে।

অঘ্রানের নরোম রোদে পিছন হেলে এলোচুলে নাড়ছ মাথা
সূর্যের সমান্তরালে ঊর্ধ্ব আকাশে ঠেকে আছে বুক
স্বর্গভ্রষ্টা উর্বশীর অঙ্গের আগুনে আমোদিত
রোদেলা হাওয়ায় ভেসে আসছে সুগন্ধি আমনের ঘ্রাণ,
আমি হাঁড়িতে উথলানো ভাতের গন্ধ পাচ্ছি।

 

১০
ক্ষমাহীন নিঃসঙ্গ আগস্ট

পানা ভাটফুলে গন্ধমাখা কান্ত জ্যোতির্ময়
সারাঅঙ্গে মানচিত্র শোভিত এক দিব্যপুরুষ
বক্ষ তার বাংলাদেশের বিশাল হৃদয়
ছায়াঢাকা বট, মধ্যরাতে অগ্নি ধাঁ ধাঁ
জল ছলছল গহীন আকাশ;
হেমন্তের আদিগন্ত গরবিনী মাঠ
দুর্দিনের বসন্ত বাতাসে লেলিহান সাধ
বাবার উঠোনে সোনামুখি রোদ, স্বাধীনতা…

চিরঞ্জীব তিনি যুদ্ধজমিনে মুমূর্ষু মুক্তি সেনার
প্রতীক্ষার প্রিয় মুখ; বুকের রক্তে অঝোর তুফান
বজ্রনির্ঘোষে বিমুক্তবাণী বহতা নদীর মতো
ব-দ্বীপের শিরায় শিরায় উল্লসিত আলো।

অযুত বৃক্ষের ছায়া যুথবদ্ধ এক অঙ্গীকারে
ভেদবুদ্ধি ঊঁকি মারে নিষ্ফল আক্রোশে
মমতার নষ্ট নীড়ে বেড়ে ওঠা পুষ্ট শকুন শাবক
অমাবশ্যায় চাঁদ হয়ে জেগে ওঠে পাপিষ্ঠ ঘাতক।

শত্রুর বীভৎস ছায়া ক্ষমায় আর্দ্র
স্নেহরসে কম্পিত হন্তারকের রক্তাক্ত হাত
সহস্র অব্দের বাঁধা অমেয় সঞ্চয়
ভেঙে যায় যাতনা জল জননী জঠরে।

এত নিষ্ঠুরতা কেউ কখনো দেখেনি
পিতৃহত্যা, পাপ, ক্ষমাহীন দুর্গম আঁধার
উদ্গীরণে উঠে আসা উষ্ণ লাভার মিছিলে
অবিনাশী অযুত রক্ত ভেসে যায় ফুলেশ্বরী জলে।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E