৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৩২০১৭
 
 ০৩/০১/২০১৭  Posted by
কাজল সেন

কাজল সেন

কাজল সেন -এর একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


আজ এই নীল ছায়ামেঘে

লোকালয় ছাড়িয়ে মানুষের ঢল আজ এই নীল ছায়ামেঘে। তখন ছিল ছুটির দিন,  লাল নীল ঘুড়ি উড়িয়ে ভোঁ-কাট্টার দিন। বেনিয়মে কত লুডোই যে খেলে গেল  ধারাপাতের লাটাই! একটা সাইরেন বেজেছিল উড়ুক্কু জাহাজে। একটা দুটো পায়ে হাউই সেঁধিয়েছিল প্রসাধনী বুকে। ওপরে আকাশ তার ওপরে মেঘ, তবু বৃষ্টি ছিল না কোনো রেনিডে’র মতো।

আজ এই নীল ছায়ামেঘে একে একে ডিম খুলে সাজানো হচ্ছে পাখিপ্রদর্শনী। উলকাঁটা থেকে নেমে আসছে সবরকম মুখ। যারা চুমু খেতে ভালোবাসে, চিবুকে তর্জনী ঠেকিয়ে তারা ভাবছে চিবুকভাবনা। মিষ্টি দিয়ে কী হয়, বরং টক ভালো পান্তা ফুরোলে। একটা জিত জিতে আর একটা জিতের জন্য কে না চায় ধান দুর্বাঘাস!

কোথায় যে যায় নদী আর কোথায় যে যায় অর্জিত সোনাদানা! তবু সব পারুল বকুল আজ এই নীল ছায়ামেঘে মাপে নদীর নাব্যতা।


অ্যাপ্রনের সাদা উচ্চতায়

টেবিল থেকে নেমে চেয়ার, চেয়ার থেকে নেমে কোথায় যেতে চাও তুমি! দইভাতের স্মৃতিচারণায় যেভাবে এখনও উঠে আসে অম্লভাব! যেভাবে ব্যবহার করলে বাতাস  ফুরফুরে, শেয়ারবাজারে তেজীভাব! মধ্যাহ্নভোজের দুপুরে যেভাবে উঠে আসে খোবলানো জল আর নির্বাচনী আঁতাত! একটা মাখন, তার হাজার অনুশাসন। কেতাদুরস্ত বাঁজা পুরুষের গড়পড়তা রাত। আর এই ভরসন্ধ্যায় যে নীলের প্রবাহ, কোথায় রাখবে তার আগাপাস্তালা! রী রী শীৎকারে পাট পাট হয়ে যায় বিদ্যাপতি  মার্গ।

এই যদি হয় তোমার ডানহাত, আমি বাঁহাত রাখি জাতীয় সড়কে। খাড়া রোদ্দুর আর তার গয়নাস্রোত এখনও সোজা হাতে সহজেই বাজে। তুমি যেভাবেই বলো না কেন, ওজনের ঘোড়া, পর্যটন মাঠ আর সম্ভাব্য যত কৃষি, সব আমাদেরই হাতে। দুধের  উচ্চতায় এভাবেও জমে দুধ অ্যাপ্রনের সাদা উচ্চতায়।


ইউক্যালিপটাস মেয়ে   
 
অনেক পুরুষসঙ্গের পর তুমি ইউক্যালিপটাস হলে। আমরা যারা নারীসঙ্গে তেমন পটু নই, নিতান্তই এলেবেলে, ভালো থাকার ভান করে কেটে যায় দিন, কী আর বলব সেইসব সাতকাহন, বলেই বা কী লাভ বলো! বরং তোমাকে আড়াল থেকে দেখি, ঈর্ষা করি, চোখ মারি, আত্মমৈথুনে ব্যয় করি আবেগ ও বিবেক।

তোমাকে নিয়ে আমাদের এইসব ভাবনা, খুশির ভাবনা, নষ্টনীড়ে খুশি হয় মন।  সকালে বৃষ্টি হলে ভাবি বিকেলেও বৃষ্টি হবে খুব। চোটবিলাসের আন্টুল হারানোর দুঃখ হয়তো খানিক হারানো যাবে বৃষ্টির জলে।

তাহলে বলো কে ভাববে সেইসব ভালো ভালো মেয়েদের কথা! যে মেয়ে ভালো তাকে নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই কারও।

আমরা শুধু ভাবি ইউক্যালিপটাস মেয়ে, শুধু তোমারই কথা। অনেক পুরুষসঙ্গের পর তুমি ইউক্যালিপটাস হলে। বৃষ্টির প্রথম ছাঁট মাথায় তুলে নিয়ে নারীসঙ্গে অপটু আমাদের দুনিয়া দেখালে।


অনেকটা সাদা আলোর সুখ   

ভালো থাকার ভাবনা নিয়েই সবাই এখন ভালো থাকতে চায়। সাধারণ মান থেকে নির্ধারিত মান, কেউ কেউ উচ্চতর মানের কথাও বলে। অনেকটা হলুদ মেখে কেউ তো বলতেই পারে, আরও হোক টনটনে হলুদের চাষ! বেলা ছোট হয়ে এলে হয়তো এমনই হয়, এমনই কিছু ঘটে! সাদা কামিজের রঙ ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে পেয়ারা পাতায়।

ছোট মুখে বড় কথা এ আর এমন কিছু বড় কথা নয়। বড় মুখে ছোট কথায় বরং খাটো হচ্ছে বাঁধা তাপমান। নিজস্ব বাগানে যার আছে কোনো ফলিত চাষের আবাদ, সাদামাটা সম্পর্ক নিয়ে যারা আছে গার্হস্থ্য রন্ধনশালায়, একটা গোটা রাত তাহলে তাদের দিতে পারে অনেকটা সাদা আলোর সুখ!

সময়ের কথা যদি ওঠে, অসময়ের কথাও কিছু এসে যায়। অসময়ে কেউ এলে তাকেও বসতে দিতে হয় পরিপাটি বিছানায়। অনেক দূর থেকে দেখা দূরের রাস্তা কোথাও কী পৌঁছায়! কত মনোরম দিনের কথা, কত মনোময় প্রেম ও পরিস্রুত জল, সব অপব্যয় মাথায় নিয়ে ব্যয় মঞ্জুর হয় কী না হয়!


আজকের এই রঙের খেলায়

আজকের এই রঙের খেলায় তোমাকেই সাজাই আমার রঙের পাটরানী। এখনও পূবের ময়দানে কিছু উল্লসিত রোদ, সবুজের অঢেল জটলায় পাতাদের চৌকস জড়াজড়ি। আকাশের ওপর আকাশে এ কোন্‌ রঙিন সভ্যতার সাঁঝবাতি আলো!

জানি তুমি আকাশ ছুঁয়েছ বহুদিন। বাতাসে রেখেছ কিছু সময়ের ছাপ। প্রাক্‌ বর্ষায় ভিজেছ তুমি শান্ত আয়োজনে। দল্মার সাহসী উদ্যানে যেখানে রেখেছে পা কোনো তেজী বাইসন, আমি জানি, জলের উচ্চতা ছুঁয়ে সেখানেই তোমার সব জন্মদিনের উপহার।

মনখারাপের কথায় কখনও বা কেউ ভেবে বসে কারও কারও খারাপ মনের কথাও। লাঙলের নির্জন উপত্যকায় চল্‌কে ওঠে সীতার বুকের সীতাহার। এই যেমন গৃহস্থালির চেনা পথে অচেনা কোনো চিলেকোঠার বাহারী আনবাড়ি। ক্যানভাস ছুঁয়ে নেমে আসা রঙ কোথায় যে হারায় তার শেখা সহবত!

আমি তো কবেই ক্লোরোফিলে ঢেকেছি আমার সব আনাচ কানাচ। তুমি না হয় আজ খুঁজে নিলে তোমার ইচ্ছে মতো টেক্কার লাল! প্রতিটি গানের শেষে যখন উদ্দাম হাতের বাজনায় জেগে ওঠে সাতভাই চম্পার গান, রঙের খেলায় তখন আরও কত যে রঙ পারুলবোনের চোখে! আর কত যে স্বপ্ন তার, একদিন আসবেই রাজার কুমার!  


পাঞ্চালী একা

ব্যাপারটা অন্য রকমই হতো, যদি তৃতীয় ঊরু ভঙ্গ হতো স্বয়ং যুধিষ্ঠিরের আর পটীয়সী পাঞ্চালীর রম্য অন্ন ব্যাঞ্জনে তুষ্ট হতেন দুর্যোধন।

আসলে যাবতীয় দৈনিক কবিতাপত্র ও রক্ষিত আইন এবং দূরত্ব যথাযথ হলে প্রাচীন হস্তিনাপুরের কোনো সাধারণ মাপের আয়তক্ষেত্র থেকেও হয়তো আজও খুঁজে পাওয়া যাবে অর্জুনের নৈর্ব্যক্তিক নিষ্প্রাণ গান্ডীব! আর পদাতিক অশ্বারোহী গজারোহী রথী মহারথীদের স্ত্রী ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে যাবতীয় অশ্বমেধ ও রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন!

কতটা বৃষ্টিপাত আর শীতলপাটি ছেড়ে তুমি আছ নৈঋতের বিরানা মল্লভূমিতে আজও!
বিস্ফারিত জরায়ুতে এ কোন্‌ অচেনা তবে অভিমন্যুপ্রাণ! যতটা গেছো চলে সেখানেই  তুমি এক নতুন নির্মাণ।   

মহাপ্রস্থানের পথে একে একে ডুবে গেছে মহামান্য ভাইদের সব বাক্যালাপ। শুধু তুমি পাঞ্চালী একা, পান্ডবের বারবধূ, দীর্ঘ উন্মুক্ত কেশরাশি তোমার নিঃশেষিত হলো না আজও। চাহিদা ও যোগানের রসসিক্ত সূক্ষ্মতম খেলায় বস্ত্রাঞ্চলের যে বড়ই নিদারুণ টান!   

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E