৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ০১২০১৭
 
 ০১/০৬/২০১৭  Posted by

কবির জবানবন্দি
– মাসুদ মুস্তাফিজ

হঠাৎ মনে পড়ে গেল এই বর্ষা কিংবা বৃষ্টি নিয়ে কোনো কবিতা লিখা হয়নি আমার। অথচ লিখার রসদের কোনো কমতি ছিলো না। এইতো সেদিন আমার সামনে একশহর মানুষ বৃষ্টিতে ঝাঁঝরা হয়ে গ্যালো। সেইদিন সারা আকাশ জুড়ে ছিলো কড়া রোদ। শহরের মানুষ ছাতা ছাড়াই দুদ্দাড় বেরিয়ে পড়েছিলো রাস্তায়। আকাশ তখন মৃত্যুর মতো নীল, শুভ্রতার কাফন পরা মেঘ চুপচাপ সরে যাচ্ছিলো দক্ষিণ দিকে। আচমকা প্রবল বর্ষণে শহরের সব গৃহী মানুষকে হতবাক দেখাচ্ছিলো। তারা প্রাণপণ ছুটছিলো অপেক্ষাছাউনির দিকে। সেইখানে লটকন বিক্রেতারা উৎফুল্ল হয়ে পড়েছিল খুব। শুধু একটা বালিকা, ভাবলেশহীন বৃষ্টিতে ভিজছিলো নিভৃতে। ভিজছিলো স্কুলের মাঠ, নম্রতার ভেজানো বাসার ছাঁদ আর নিঃসঙ্গ ছাতিম গাছটা। আমি ঘরে বসে দেখছিলাম এই বিজ্ঞাপণকন্যার বৃষ্টিভেজা। আমি ভাবছিলাম যারা কখনো বৃষ্টিতে ভিজে নাই তাদেরও হয়তো গল্প থাকে, কাহিনি থাকে। তবে কেন কবি, শিল্পি আর বিজ্ঞাপণনির্মাতারা তাদের গল্প বলেনি কখনো। বৃষ্টিতে ভেজার হর্ষ বাদ দিয়ে কেন তারা বৃষ্টিতে না ভেজার বিষাদ কখনো বলে নাই। আজকে সেদিনের কথা মনে পড়াতে আমি বুঝলাম যে, “দ্য গ্রেটেস্ট স্টোরিস আর দোজ হু আর নেভার টোল্ড”
তবুও কবিতা লেখা হলো না- পারা যায়নি কবিতার সঙ্গে। কবিতার দৃশ্য যখন উধাও; দৃশ্যলোকে অধরা কবিতা উপস্থিত হয় বিশেষ ভাবনাবিলাসে। এইতো লেখার উপজিব্য, উপাদান, তথ্য আর কল্পনারসুষমার প্রকাশভঙ্গিতার ব্যাকরণ আমাকে লিখিয়ে নিচ্ছে। অথচ লিখিনি-

২.
কবিতা কখনো পরিকল্পনা করে লেখা হয় না- লিখেও না কেউ। পরিকল্পনা বা প্রেসক্রিপশন মাফিক কেউ অন্তত কবিতা রচনা করতে পারে না। এর জন্য অধিত জ্ঞান, পাঠ আর পড়াশোনার প্রস্তুতি বোধসহ কিছুটা অনিবার্য। সমস্ত পরিকল্পনা ভেঙেচুরে কবিতা আপন স্বভাবে কবিকে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নেন। কবি যখন পরিকল্পনা করে লিখতে বসেন সে কবিতা না লেখা হয়ে লেখা হয় অন্য কবিতা- এই  হলো কবিতার নেপথ্য। প্রথমে আমার ভাবনাগুলো মগজে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ছটফট করে- কিছু একটা বলতে চায়, কিন্তু তা বলতে পারে না, জানেও না!
জীবনমৃত্যুর একেবারে শেষ মুহুর্তে এসেও কবিকে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তেমনি প্রত্যেক কবিকেও প্রতিটি কাব্যসৃষ্টির পূর্বমুহূর্তে এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার কাছে দাঁড়াতে হয়। তবে হয়তো সব কবি সেই সৃজনযন্ত্রনা  থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে না, যিনি পারেন তিনি কবি কিংবা নন।
মহাজাগতিক চিন্তাকে অতিক্রম করতে পারলে নিজেকে অতিক্রম করা যেতে পারে। জ্ঞান-কল্পনার অপার রহস্যময় ভাবনার সীমা অতিক্রম করে কবিতা জ্ঞানের আনুভূমিক আপেক্ষিক স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার হলেও কবির পার্শ্বিক মূল্যবোধ, ব্যাক্তিক টানাপোড়েন, অস্তিত্বের সংকট, উৎপীড়ণে ব্যক্তিক অভিঘাত, সামাজিক কর্তব্যবোধ, সর্বোপরি বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিন্দু থেকে দার্শনিকতায় উত্তরণের যে নস্টালজিক আত্মিক বোধ- তার প্রকাশ স্থির বর্ণরেখার, চলমান শব্দে ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আনুভূমিক চিহ্নে ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে থাকে । প্রকাশ হতে থাকে কবির সৃষ্টি, কবির নির্মাণ কবির কবিতা। হয়তো কবিরাই গাছের ভাষা, পাখির ভাষা, আকাশের ভাষা, নক্ষত্র-পাহাড় এবং ফুলের ভাষা পড়তে পারে- বুঝতে পারে। তাই কবির ভাষা হয়- ‘একটি ফুল ছিঁড়তেই পৃথিবী ভেঙে চুরমার’। সময় এবং প্রকৃতির মূল্য কবিরাই নিরুপণ করতে পারেন। মাটি থেকে আকাশের দূরত্ব কিংবা শূন্যতাকে দৃশ্যমান করেন কবি হ্যাঁ-শুধু কবিই। লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’ একটা বিখ্যাত কবিতা এন্ড দ্যা লাস্ট সাপার অব ন্যাচার- তখনই দৃশ্যময় যখন তার বাস্তবতা কাব্যের ব্যঞ্জনাময় রূপক প্রত্যক্ষ। ঠিক তখনই মানুষ বাস্তবজ্ঞানে রিয়ালিটির জন্ম দেয়। এজন্য বলা হয় শিল্প মানেই একধরনের কাব্যিক ব্যজ্ঞনাময় অপার সৌন্দর্যের কবিতা। কবিতার মৃত্যু না হলে মানুষের মৃত্যু হবে কেন! আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি- পৃথিবী সৃষ্টির পর প্রথম অনুভব-চেতনবোধের প্রথম উচ্চারণটিই প্রথম কবিতা।

৩.
আমি কবিতা লিখতে চাই কিন্তু কবিকেই লিখি। একটা নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশা আমাকে সর্বক্ষণ ভাবিয়ে তোলে সারাদিনমান অস্থির হয়ে থাকি। কাব্যে আমি প্রস্তুতি গ্রহণ করি মনের যন্ত্রনা আর আনন্দবোধে সেখানে শিল্পের প্রপঞ্চে ব্যাকুল উন্মাদনার নান্দনিকশব্দের প্রেমই এক বিশেষ উপলব্ধিতে অবতীর্ণ হই। হয়ে ওঠে ভাবনার উদ্রেক যা মনের সাথে একাত্মতায় মিশে তৈরি করে এক একটি পঙ্ক্তি। মস্তিষ্কের অনুরণনে আমার সৃষ্টিশীল ক্ষমতার সামর্থে এক অন্তলীন ভাষা তৈরি করি আর আত্মমগ্ন হই। সেখানে কোনো জোড় থাকে না- চলেও না। কখনো হয়তো কোনো অনিকেত চেতনা আবিষ্টতার ভাবনায় আমাকে নিমগ্ন করে। সেটা প্রত্যেক কবির নাও হতে পারে। চিন্তার যেমন নিদির্ষ্ট সীমারেখা নেই কাব্যেরও তেমন সুনিদির্ষ্ট অর্থবাধকতা নেই- স্বাধীন আর মুক্ত অর্থে কবিতার বিশেষ স্তরে পাঠকের কাছাকাছি আসতে পারে। কবির অবিমিশ্র ধারনা পাক খেতে খেতে আর মোচর খেতে  খেতে বিভিন্ন প্রপঞ্চের সমম্বয়ে স্থির হয়- যুক্তি আর রীতির আটপৌরে ধারণা ভেঙে একটি কাঠামোয় দাঁড়ায় । আমরা শিল্পের দর্শন এবং ভাবনায় পরিসীমায় সুতীব্র আবেগের বিস্তার ঘটিয়ে তা মনের খোরাক করে নিই। কবিতা কখনো আপ-টু-ডেট হয় না- এ হলো সময়ের নিয়ামক। কবিতা স্বয়ম্ভ- এর বিরুদ্ধে যাওয়া যায় না আবার নিরুস্কুশ প্রক্ষপাতদুষ্ট নয়। আধুনিক কবিতার ফর্ম পালাবদলের রসায়ন- সময়জারিত কবিতার বোধ, চিন্তা-মনন- মেধা ও মননশীলতার প্রকাশ এ প্রক্রিয়ার উত্তরণ। কবি কবিতায় শব্দ প্রয়োগের সমবায় রচনা করেন তার প্রায়োগিক সাফল্যে পাঠকমনে হৃদয়ছোঁয়া নতুনের নতুনত্ব র্স্পশক করান। তাই এ কথা অনস্বীকার্য যে কবিতা অবশ্যই শব্দশিল্পকর্ম। আপনার মনোজগতে কে প্রবেশ করতে পারে-জীবন ও জগতের বিচিত্র রহস্য আপনাকে ভাবায়-গতিদান করে কিংবা নিজেকে অতিক্রমণের বেপরোয়া চিন্তা এক আশ্চর্য দক্ষতায় পরিণত করে। এই অপার ক্ষমতা শুধু কবিতাই আপনাকে দিতে পারে।
কবিতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের আশে-পাশে আমাদের চতুর্পার্শ্বে। মহাবিশ্বেই একটা অতি মহাকবিতা-মহাকাব্য- । নিজস্ব জীবনদর্শন কারো চালিকা শক্তির হাতে পথ হারিয়ে ফেলবে না। ককনো ভুল দর্শনে কবিতা ফাঁদেও পড়বে না। অন্ধকার আর শূন্যতায় রচিত অকবিতাগুলো অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই কবির মনোজগতের গোলক ধাঁধাঁ থেকে বেরিয়ে মানুষের সর্ম্পকে আর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবে। সেকেলে ছন্দ প্রকরণ ভেঙে প্রবহমান-নিবিচ্ছিন্ন ছন্দের আবহে পাঠকের নিকটস্থ হবে।
একজন কবির কবিতা লিখতেই একসময় ছন্দ তার অন্তরঙ্গ হয়- রিনিঝিনি দোল খায়। রিদম-তাল- বোল যেনো শরীরে খেলা করে এবং অবশেষে বেজে থাকে- এই তো ছন্দের জাদু। সত্যিকার অর্থে মানুষ কখনো ছন্দের বাইরে নয়। কবিতার যেমন আনন্দ আছে-আছে তার বিষাদও। এই আনন্দ-বিষাদ কাউকে দেখানো যায় না, বোঝানো যায় না। বিষযটি বোধ করি সমবেত উল্লাস করা যায়। আর কাঁদতে হলে নির্জনে যেতে হয়- আমি আমার কবিতায় উল্লাস করেছি তেমন কেঁদেছিও বহুবার।

৪.
চৈতন্যহীনতা কোনো নিরবতা নয় এমনকি নিঃষ্প্রাণও নয় । বরং শিল্পির মধ্যে চৈতন্যহীনতা এক ধরনের অবস্থাও তথৈবচ বটে। আমি মনে করি চৈতন্যহীনতার নেপথ্যে এক গভীর দর্শন কাজ করে। অস্তিত্বের জিজ্ঞাসার পীড়ন যখন জীবনের নিত্য সঙ্গি। এই পীড়ন যেমন ভাবিয়ে তোলে তেমনি প্রকাশের তাড়নাকে প্রকট করে; কিছু করতে চায় কিছু বলতে চায় -এটাই হয়তো প্রস্তুতি কিংবা সহবাসচেতনা। দৃশ্যমান গল্প আর কাহিনিতে স্নান করে এক অলৌকিক আশ্রয়ের অনুভূতিতে রচিত হয স্নানঅস্তিত্বের সার্থক পঙ্ক্তি যাকে কাব্যের বর্ণাঢ্যনান্দনিকতায় ভাষায় প্রকাশ ঘটে। মানুষের জীবনের আদিম রূপটিই হলো ভাবনা আর ভাবনা থেকে নেশা- নেশাই আবিষ্কারের মত্ততায় সর্বক্ষণ থাকি সে ভাবনার গভীর মনস্তাত্ত্বিক ইঙ্গিতই প্রকাশ করে কাব্যিক ফর্ম এখান থেকেই লেখার সূত্রপাত!
জীবনকে যেমন নির্দিষ্ট স্ট্রাকচারে নেয়া যায় না – বদলায় তেমনি কাব্যে স্ট্রাকচার স্বভাবে পদ পরির্বতন করে; কোনো বৈচিত্র্যপূর্ণ বাঁকের দিকে যাত্রা করে এভাবেই কবিতার ফর্মে পরিবর্তন ঘটে ।
লেখকের ধারণা পূর্বপরিকল্পিত নয়, তবে লেখকের লেখার ধারণা থাকতে পারে আর এই পরিবর্তনশীল কবিতার আলো ক্রিয়াশীল হয় অস্থির চিন্তার বিস্ময়কর ভাবনাবোধে। যেখানে কবি মনন-প্রকৃতির সমন্বয়ে সুষ্টিজগতের সারাৎসার নিয়ে নির্মাণ করেন কবিতার ক্যানভাস। শব্দে শব্দে আর বোধের নির্যাসে গড়ে ওঠে মনের চিন্তাভূবন-কবির নিজস্ব ভাবনালয়ের নিরাবেগ নিরাকার ভাষ্য-চিন্তার প্রকাশক অথবা রূপকার। জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিগুলো মিলিয়ে নিতে চায়। কবি জীবনের বিবিধ প্রপঞ্চের ডানায় ভর করে পাঠকের চিন্তার দরোজা খুলে দেয়।
শূন্যতার অন্ধকারের ভেতর আলোর সন্ধান করেন কবি। দিন ফুরিয়ে গেলে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে- এই অস্থায়মান সূর্যের রক্তিম আলো যখন মেঘের ওপর পড়ে তখন এক অবিশ্বাস্য রহস্যময় সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়- এর অবলোকন পৃথিবীর সব কবিই করতে পারেন। অতিন্দ্রিয় সন্ধ্যায় কবি অমর সৌন্দর্যকে সত্য করে তোলেন।

৫.
স্বপ্ন অপার কল্পনা একজন কবিকে বাঁচিয়ে রাখে। সৃষ্টির ভেতর স্বপ্ন আবার স্বপ্নের ভেতর সৃষ্টি যেনো কবির এক ইন্দ্রজাল যা পাঠকমাত্রই কবির অন্তরে বাঁধা থাকে সম্মোহনের শক্তি নিয়ে। কবি প্রতিদিনের নান্দনিক অভিজ্ঞতাগুলোকে গুলিয়ে নতুন চিন্তার খোরাকে পাঠকের নিয়ামক তৈরি করেন। কবির এই ইন্দ্রজালিক কল্পনা–মনষ্ককতা কাব্যমিথক্রিয়ায় যাদু-বাস্তবতায় রুপান্তিত হয়-আমরা ডাকি ম্যাজিক রিয়ালিজম বলে। সত্যিকার অর্থে ম্যাজিক রিয়ালিজম আদলে একটা সিম্বল বা মিনচিহৃ যা কবি এবং পাঠকের মধ্যে সেতু বন্ধনের অদৃশ্য সুতো।
স্বপ্ন আর অতিলৌকিক চিন্তাভাষ্যের ফ্রলো কাব্যে সজীব থাকে জীবিত থাকে এবং প্রাণ পায়-নাহলে কবিতা নিষ্প্রাণ।
দূরের মাঠ, খাঁজকাটা অবারিত প্রান্তর আবার ধূলোধূসরিত গ্রাম অন্যদিকে গ্রাম্যফুল, ঘাসফুল মাড়ানো শিশির, কচিঘাস, সোনালি ধানক্ষেত কিংবা পদ্মাপাড়ের অবারিত কাশফুল, প্রান্তিক অরণ্যে কলমির বেড়াঘেরা মাটির বাড়ি, দূরন্তর হেমন্ত মাঠ, কিছু পরজীবি সোনালুপাতা, উন্মাতাল হাওয়া, কাঁকরফাটা মাটি-পথ, অরণ্যে রোমান্টিক প্রজাপতি, সূর্যাস্তের বিকেল, গভীর রাতের পাখির ডাক, সাপ, মায়াবি জোনাকি, সাঁওতাল মেয়ে-মাতাল ফুলের গন্ধ সবই আছে- কিন্তু তুমি নেই- সেকি প্রকৃত উপজিব্য কবিতা হবে। এভাবে কবিতা হয় না  কবিতার জন্য তুমি দরকার- তুমি। মনের মানুষ-। কবিতার সাথে রীতিমতো সংসার করতে হয় আর এ সংসারের মালিক হলো মনের মানুষ, মানে প্রেম-কল্পিত মানুষ। প্রত্যেক মানুষের দুটো সংসার থাকে এক ঘর আর এক মনের ঘর- সেটাই হলো কবিতা।
নারীর প্রতি পুরুষের অথবা পুরুষের প্রতি নারীর যে দুর্বার আকর্ষণ প্রকৃতির যে অপার রহস্য-এর ভেতর কবিতা লুকিয়ে থাকে। যেমন ডিমের ভেতর কুসুম আবার ঘুটি পোকার মমির ভেতর, মৌচাকের ভেতর অন্তরিণ যে ঘর তার ভেতর কবিতার বসবাস।
ভালোবাসা বিনে কবিতা হয় নাÑনদীর বাঁকের মতো কবিতা পরির্বতন হয়,হচ্ছে। কবিতাকে অন্ধ ব্যাক্তির পথ খোঁজা- আলোর সন্ধানলাভের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কবিতায় একরকম অনিরুদ্ধ যাত্রা থাকে। কাব্যেও মহাস্রোতে নিজেকে খোঁজা। কবিতা আসলে কী- কবিতা নিয়ে অনেক কথাই বলা যায়-কিন্তু কিছুই করা যায় না। কবিতা মানে তুমি-আমি আমরা সবাই। জগতে বিপুল অন্ধকাওে নেমে আসা নক্ষত্রবিষ্টি আর মুহূর্তের মতো সুন্দর। অনন্ত সুন্দর সৃষ্টিরহস্য-
বস্তুত শিল্পির ইজম যেমন নিদির্ষ্ট নয়- তেমন কবিতার বিশ্বাস-সত্য-সুন্দর সুস্পর্ষ্ট নয়। কেননা চেতনার সাথে অস্তিত্ববাদ, পরাবাস্তবাদ, রূপকল্পবাদ, স্বপ্নবাস্তবতাবাদ এবং গড়নবাদের অবগাহন বাতাবরনে সৃষ্টি হয় কাব্যের উচ্চতর উপলব্ধি-বিশেষ ক্ষমতাসম্পন চেতনাবোধ যাকে উপলব্ধি দিয়েই উপলব্ধি করতে হয়। আমরা জানি,কবিতার ভাষা এক বিশেষ শ্রেণির ভাষা যার কোনো একাডেমিক রুপ নেই-এটা উপলব্ধির ভাষা-অনুভবের ভাষা, বোধের ভাষা। এই ভাষার কাঠামোয় কাব্যিকশিল্পমান বজায় রাখতে উপমা, উৎপ্রেক্ষা, রূপকল্পে নির্মাণে সৌন্দর্যেও রূপলাভ করে। এক টেকনিকের ভেতর কবি কবিতা সংস্থাপন করেন। আজকের গদ্যরীতি পুরোটাই টেকনিকনির্ভর। কবিতায় পরাবাস্তববাদী বিপ্লব এবং শব্দ ব্যবহারের আধুনিক কলাকৌশল কবিতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যেখানে সীমিত পরিসরে একটি কবিতা ব্যাপক অর্থ ধারণ করে এবং সেটা নির্ভর করে কবির নিজস্ব দক্ষতার ওপর।

ব্যক্তিগত উন্মাদনার আশ্রয়ে স্বপ্নময় বিশ্বাসের আমি বার বার কবিতার কাছে ফিরে আসি। ব্যাখ্যাতীতভাবে অন্তস্পোর্শের সংযুক্তির সাথে আমি কবিতার সাথে কথা বলি এবং এর প্রথম সমালোচনার দায়িত্ব পালন করি।
আমি আসলে কবিতা লিখি না। সময়লিপি রচনা করে চলেছি মাত্র। সেটা কতোটা কাব্যিক আর শিল্পিত তা বিচারে ব্যর্থ হই অতঃপর পাঠকের ঘনিষ্ঠতায় সন্নিকট করি।

ওগো আশরাফি ইহাই আমার শব্দকলি-প্রাণের কবিতা- আমার আজীবন পাঠ্য-আরাধ্য-জীবনসঙ্গী ওর অন্তরনয়নে আমি চিরকাল বন্দি…
আমার শব্দকলি-


মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ

বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু সাহিত্যকাগজ লিটলম্যাগ, সাহিত্যপত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিকে লেখে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়েছেন
লেখালেখির হাতেখড়ি স্কুল জীবনে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কাব্যচিন্তায় এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন
নিজস্ব কাব্যবাহন
১৯৬৯’র ২২ জুন দিনাজপুর বিরল উপজেলার মাধববাটি গ্রামে জন্ম
মরহুম মশিমউদ্দিন আহমেদ ও আবেদা খাতুনের পঞ্চম সন্তান
কবির আত্মজ-অনুভব, নিঝুম
পেশা শিক্ষকতা
মূলত কবিতা লেখেন কিন্তু গদ্যচর্চায় তাঁর আগ্রহ প্রবল

প্রকাশিত গ্রন্থ :
বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে (কাব্য ২০১০)
ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি (কাব্য ২০১২)
সাহিত্যচিন্তা ও বৈচিত্র্যপাঠ (প্রবন্ধ ২০১৩)
কিছু সমুদ্র কিছু বিষণ্ণতা (কাব্য ২০১৩)
জলবাতায়নে রঙঘুড়ি (কাব্য ২০১৪)
(প্রবন্ধ ২০১৪)
স্বভাব দুর্বৃতবাতাসে কুয়াশার কৃষ্ণতৃর্থ (২০১৬)
মাতালরোদে মেঘে অরণ্য (২০১৭- কোলকাতা বইমেলা)
বলো বন্ধু সম্পর্ক কীকরে হয় (প্রকাশিতব্য, দীর্ঘকাব্য)

সম্পাদনা করেছেন :
নাক্ষত্রিক, সুফিয়া কামাল সংখ্যা
অগ্নিসেতু, নজরুল সংখ্যা (যৌথ)

সম্মাননা:
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক ২০১২

যোগাযোগ:
মাসুদ মুস্তাফিজ সুমি কম্পিউটার, চারুবাবুর মোড়, দিনাজপুর, ফোন: ০১৭১৮৭১১০৬৫
masudmustafiz@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E