৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১৬২০১৬
 
 ১৬/১১/২০১৬  Posted by
গিরীশ গৈরিক

গিরীশ গৈরিক

কবি পরিচিতি
গিরীশ গৈরিক। জন্মঃ ১৫ই আগস্ট, ১৯৮৭, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ। মূলত কবি। তিনি কবিতার পাশাপাশি কাব্যবিষয়ক প্রবন্ধ ও কবিতা অনুবাদ করে থাকেন। শিক্ষাঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। পেশাঃ সাংবাদিকতা। তিনি স্কুল জীবন পার করেই তার নিজ গ্রামে গড়ে তুলেন ‘গীতাঞ্জলি সাহিত্য পরিষদ’।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা’ (২০১৬)।

গিরীশ গৈরিক -এর কবিতা-ভাবনা

কাব্যবোধ

আমি কাগজ কলমে কবিতা লিখি। যখন কবিতা লিখি তখন কাগজকে মনে করি আমার হৃৎপিণ্ড আর কলমকে মনে করি ছুরি। তাই আমি হৃৎপিণ্ডকে রক্তাত করে কবিতা লিখি। সেই কারণ বশত আমার প্রতিটি কবিতা- আমার জীবনেরই অংশ। অথচ আমার জীবন থেকে কবিতা অনেক বড়। সে জন্য কবিতা আমার থেকে অনেক দূরে-দূরে বসবাস করে। যদিও আমি তাকে প্রাণপনে কাছে পেতে চাই।
মাটির অনেক গভীরের জল যেমন সুপেয়। তেমনি করে জীবনের অনেক গভীরতম বোধই- আমার কাছে কবিতা। তাই আমি কবিতার মাধ্যমে নিজেকে খনন করি। গর্ভবতী নারীর মতো পুলক অনুভব করি, দুঃখ অনুভব করি।
আমার কৃষক পিতা যেমন লাঙলের মুঠোটা শক্ত করে ধরে  শস্যক্ষেত্র তেরি করে ফসল ফলায়। আমিও তেমনি করে কলম হাতে কবিতার শস্যক্ষেত্র চাষ করি। তবুও মনে হয়- আমার কলমের কালির কী এমন সাধ্য আছে, যা- পিতার গায়ের ঘামের তুল্য হয়। তাই আমার কবিতা প্রতিতুলনাহীন আজন্ম ক্ষুধার্ত।
আমার গৃহিণী মা যেমন ধানের মলম শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়ে এবং সেই ঘুমলি অবস্থায় পিতাকে একান্ত কাছে আসার সুযোগ করে দেয়। আমার কাছে কবিতা আনেকটা তাই, যা- ঘুমন্ত অথচ কামহীন নয়।
কোনো কোনো শিশুর জন্মের পূর্বে তার নাম রাখ হয়। আমার কাব্যবোধ তাই নয় কী? হয়তোবা তাই! অথচ আমার কোনো কবিতার মা বাপ নাই এবং নাই কোনো মৌলিক জন্মবীজ। কারণ আমি জীবনের নামতা পাঠে জেনেছি- শিল্পসাহিত্যে মৌলিক বলতে কিছু নাই, এমনকি নাই কোনো মৌলিক কবি কিংবা জ্ঞান। বস্তুত সকল জ্ঞান কিংবা কবিতা আমরা বস্তুজগৎ ও প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করি মাত্র। সেই অর্থে আমি একজন কবিতা সংগ্রহকারী; প্রকৃত প্রস্তাবে নই কোনো কবি।

 

গিরীশ গৈরিক -এর কবিতা


মা সিরিজ – ২৬

হেমন্তের সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি-
মাকড়সার জালে ধরা পড়েছে ভোরের শিশিরবিন্দু,
এ যেন আমার মায়ের অশ্রুবিন্দু- মাকড়সা জালে।

প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর মাঝে লুকিয়ে আছে- এক একটি সূর্য
আমি এতগুলো সূর্য- একসঙ্গে কখনো দেখিনি।
অথচ হেমন্তের অশ্রুবিন্দু কেন যে বোঝে না?
যাকে সে বুকে ধারণ করে- সেই তাকে শুষে নেবে।

হায় সূর্য- যে তোমাকে বুকে ধারণ করে।
তুমি তাকেই শুষে নেও।


মা সিরিজ – ২৭

সূর্য নিভে গেলে-
পৃথিবীর সকলেই অন্ধ হয়ে যাবে।
তাই সূর্যকে বলা হয় বোধের তৃতীয়চোখ।
এরূপ বোধের তৃতীয়চোখ আমার মায়ের আছে।
তাই আমি অন্ধের সন্তান- নাম আমার অন্ধকার।
কেউ কেউ আমাকে কবর বলে
যদিও আমার মা সোহাগ করে নাম দিয়েছে মৃত্যু।

আমি মারা গেলে অর্থাৎ মৃত্যু মারা গেলে
পৃথিবীর সকলেই পাবে বোধের তৃতীয়চোখ।
আর সূর্যের রঙ হবে অন্ধকার।


মা সিরিজ – ২৮

আমার মায়ের চোখে একটি রেলস্টেশন ঘুমিয়ে থাকে
মা। চোখ খুলে যে দিকে তাকায়- রেলগাড়িগুলো সে দিকে ধাবিত হয়
আবার সন্ধ্যা হলে পাখির মতো- মায়ের চোক্ষুনীড়ে রেলগাড়িগুলো ফিরে আসে।

মা যখন কাঁদে- তখন রেলগাড়িগুলো বন্যায় ডুবে যায়।
গতবছর তো মা আমার বর্ষার আকাশ হলো
আর রেলগাড়িগুলো অবিরত ডুবে যেতে লাগল
অথচ! আমি মায়ের একমাত্র হাবাগোবা রেলগাড়ি।


মা সিরিজ – ২৯

কোনো প্রশ্ন না করইে
আমার স্মৃতি হেঁটে যাচ্ছে- মায়ের আঁচল ছায়ায়।
আমার পাশে হাজারও মানুষ
তবুও মা। আমি যে তোমাকে ছাড়া কত নিঃসঙ্গ কতটা অসহায়
তা ওরা কেউ জানে না।

প্রিয়তমা। তুমি আমায় একখিলি আড়াল দাও
আমি মায়ের ছায়ায় লুকাবো।
তোমার চিবুকের নিচে আমি এক ক্লান্ত ট্রেন
আমাকে গ্রামে ফিরে যাবার গ্রিন সিগনাল দাও।

মায়ের ভালোবাসার সবটুকু সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছি
আমাকে আবার মায়ের কাছে যেতে দাও
কথা দিলাম। মায়ের ভালোবাসা হৃদয়ে রিচার্জ করে
ফিরে আসবো তোমার দ্বারে।


মা সিরিজ – ৩০

আমার ঠাকুরমা অশ্রুবন্ধ্যা ছিলেন
লোকমুখে জানা যায় তিনি তার স্বামীর মৃত্যুতেও কাঁদেননি।
যেদিন তার শতবছর পূর্ণ হবে
সেইদিনই তিনি ঘোষণা দিলেন- স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করবেন
এবং তিনি আমাকে দায়িত্ব দিলেন- তার ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করতে।
এটা নাকি তার আজন্মের সখ
মৃত্যুর আগে তার নিজের কবর ও ডেথ সার্টিফিকেট দেখে যাওয়া।

তার স্বেচ্ছামৃত্যুর সন্ধ্যায়- আমার মা যখন হাউমাউ করে কাঁদছিলেন
ঠাকুরমা তখন মা ডেকে জানালেন
                        তার অশ্রুবন্ধ্যার গোপন রহস্য।

অতঃপর পর আমি জেনেছি- মায়ের অশ্রুলিপি থেকে
আসলে ঠাকুরমার কোনো অশ্রুগ্রন্থি ছিল না।


মা সিরিজ – ৩১

মায়ের চোখের জলের দাগ বড় হতে হতে
খাল হয়ে- নদী হয়ে- সমুদ্রে মিশে গেছে।
সেই থেকে চোখের জলে লবণাক্ত হলো সমুদ্রের জল।

এখন মা তার হৃদয়ের ক্ষততে বোরোলীন লাগায়
ক্ষত যতো পুরোনো হয় ব্যথা ততো দূরে সরে যায়।
এভাবে আমি অনন্তকাল অন্তরীণ হয়ে আছি
সমুদ্রের জল হয়ে, বোরোলীন হয়ে- মায়ের হৃদয়ে।


মা সিরিজ – ৩২

লোক মুখে শোনা যায়-
জেলখানার কয়েদিদের নাকি দ্রুত চুল পাকে।
অথচ! আমার মায়ের চুল একসপ্তাহে পেকে গিয়েছিলো
কেননা আমি গভীর অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে শুয়েছিলাম।

এই হেতু আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারি না।
অবশেষে- মা একদিন আমায় বুঝিয়ে বললেন :
‘তুমি কখনো তোমার জুতার চেয়ে বড় হতে চাইয়ো না’
আমি বুঝলাম যার জুতা যতবড়- সে ততোধিক লম্বা।
সেই থেকে আমি আর আমার মায়ের সম্মুখে জুতা পড়ি না
যেহেতু আমার মায়ের জুতা- আমার জুতার চেয়ে ছোট।
থুক্কু। মা হলো মসজিদ। তাই মসজিদে জুতা প্রবেশ নিষেধ।


মা সিরিজ – ৩৩

মা। তোমার গোপনকথা আমার সাথে শশ্মানে যাবে
শশ্মানের আগুনে- আমার মৃতদেহের সাথে ছাই হবে
তোমার গোপন কথা।
তবু আমি কেউকে বলবো না, যা তুমি বলেছিলে-
আমি যখন তোমার অষ্টমগর্ভে ছিলাম।

তুমি বৃষ্টিস্নাত এক গভীর জোছনায় কেঁদে কেঁদে-
সেই গোপন কথা বলেছিলে।
যে কথা তুমি আমার পিতা কিংবা তোমার পিতাকে বলনি।
তুমি বলেছিলে আমাকে-
কেননা তুমিই আমাকে একমাত্র সত্যনিষ্ঠ বীর মনে করেছিলে।
যেমন করুক্ষেত্র যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলো- সুভ্রদার গর্ভজাত অভিমন্যুকে
যে অভিমন্যু চক্রব্যুহ ভেদ করে পিতৃকুল রক্ষা করে।

আমি জানি- তুমি ওই বৃষ্টিস্নাত জোছনায় কেন কেঁদেছিলে।
কারণ তুমি চেয়েছিলে-
তোমার সমস্ত কান্নার রঙ বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাক।
কারণ তুমি চেয়েছিলে-
মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিত তোমার সেই কিশরী দেহের দাহ
বৃষ্টির জলে ধুয়ে পবিত্র হোক।
কারণ তুমি চেয়েছিলে-
তোমার ধর্ষক ভণ্ড মাওলনার বিচার হোক।


মা সিরিজ – ৩৪

হঠাৎ গভীর রাতে ফোন এলো
ফোনের ওপাশ থেকে মা জানালো :
তার মনের মাঝে সাপ ঢুকেছে
আর সে অবিরত ছোবল মারছে রক্তের ভেতর।
তাই আমাকে ভোর হলেই রওনা দিতে হবে।

আমি ভোর নয়- সঙ্গে সঙ্গেই রওনা দিলাম
কোথাও কোনো বাস নেই, শুধু রাস্তা ভরা আতঙ্ক।
আমি সেই আতঙ্ক মাথায় নিয়ে পদ্মার ঘাটে এলাম
পদ্মা যদি দামুদর নদী হতো, তাহলে আমি হতাম বিদ্যাসাগর।

অতপর আমি যখন সূর্য পৌঁছাবার আগেই বাড়ি ফিরে এলাম
মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনে বলল : তুই চলে এলি খোকা।
হায়! জননী- তোমরা সন্তানের পায়ের শব্দও টের পাওয়।

তারপর কুশল শেষে মা আমাকে পথরচোখে বলল :
                          চল খোকা আমরা এদেশ ছেড়ে পালাই।
আমি বললাম : কেন- মা?
মা তার মুখটা কালবৈশাখী মেঘের মতো করে জানালো :
সে না-কি প্রতিরাতে স্বপ্নঘরে দ্যাখে-
                               এদেশ মুসলমানের। মানুষের নয়।
তাই তার ঘুমানের চৌকিটাকে শবযাত্রার পালকি করে
নিয়ে যাওয়া হয় কাঁটাতারের ওপাড়ে।
আর শবপালকির সামনে থাকে- প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি
পিছনে থাকে স্বরাষ্ট্র ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আমি বিনীত হয়ে মাকে বললাম : কাঁটাতারের ওপাড়ের দেশ তো-
                                            হিন্দুদের। মানুষের নয়।

তখন মা শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।
আসলে মা জানে না- যে সকল মানুষের তৃতীয়চোখ আছে
                                          তাদের কোনো দেশ নেই।

১০
মা সিরিজ – ৩৫

আমার ও মায়ের মাঝে অভিমান জমে জমে
পাহাড় হয়ে গেছে।
তাই মা- প্রতিভোরে আয়নার মাঝে
নিজেকে দেখে অভিমান ভুলে থাকে।
হয়তোবা মা জানে না-
আয়না, সূর্যের দিকে মুখ করে তাকালে
নিজেই সূর্য হয়ে যায়।
তবে মা এ কথা অবশ্যই জানে-
আমি হারিয়ে গেলে
পাশের বাড়ির মেয়েটিও হারিয়ে যাবে।

১১
মা সিরিজ – ৮০

আমার মা এক মৃম্ময়ীবৃক্ষ
তার জীবিত শরীর জুড়ে উঁইপোকার বসবাস।
আমি সেই বৃক্ষে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে গেঁথে আছি
আর টের পাচ্ছি- বিষাক্ত কামড়ের জ্বালা।
অথচ! উঁইপোকারা জানে না-
আমাদের কাঠ থেকে তৈরি হবে ম্যাচবাক্সের কাঠি।

১২
মা সিরিজ – ৮১

এখনো মানুষ অন্ধকারে ঘুমাতে ভালোবাসে
অন্ধকার ঘুমে অবসাদ কেটে গেলে- খুঁজে পায় আলোর স্বাদ।
স্বপ্ন দিয়ে চোখ ধুয়ে আকাশের আলোতে তাকিয়ে দেখি-
ব্যাধের মতো ব্যথা গেঁথে আছে আকাশের গায়
আর সেই আকাশে কাঁশফুল হয়ে দোল খায়-
                                     মায়ের বেদনাশাড়ি।
শাড়ি থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ে বেদনার জল।

১৩
মা সিরিজ – ৮২

মানুষের অন্তরের জ্বালা চোখের জল হয়ে বের হয়
এরূপ অসংখ্য অন্তর জ্বালা বুকের ভেতরে রেখে-
                                      আমার মা হাসে।
মায়ের এই হাসি যেন- শিশুদের মতো অশ্রুহীন একশোদিন।
এভাবেই মায়ের বুকের ভেতর জন্ম হয় অগ্নিগর্ভ
তাই- নারীরা ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যায়
তবুও বলে যায়- ভালোবাসার বাণী।

১৪
মা সিরিজ – ৮৩

আমার মৃত্যু হলে- মায়ের মৃতদেহে
একবার জীবিত হতে চাই।
মায়ের মৃতদেহের অন্ধকারে- জোনাক আলো জ্বেলে
পাঠ করে নিতে চাই- তার সুখ ও দুঃখের খবর।
কিংবা তিনি কতটা কষ্টে পৃথিবীতে এসেছিলেন
আবার কতটা কষ্টে পৃথিবী ছেড়ে গেলেনে
জীবিত থাকতে আমি এসবের কিছুই বুঝিনি।

হে ঈশ্বর তুমি আরেকবার নতজানু হয়
মায়ের পায়ের নিচে
যেন তোমাকে দেখতে আমার মতো অন্ধভিখারী মনে হয়।

১৫
মা সিরিজ – ৮৪

গভীর সমুদ্রের যাত্রা পথে
কোনো এক নাবিক দূরবীনে চোখ রেখে দ্যাখে-
তার প্রিয়তম জননী উঁকুনবাছা খেলছে
আর উঁকুনগুলো প্রাণপনে লুকাচ্ছে চলের বনে।

তারপর সে বুঝল- মনের পাখি বনে উড়ে গেলে
পাখি জননীর জন্মছায়া দূরে সরে যায়।

১৬
মা সিরিজ – ৮৫

আমার দু’টি ঘড়ি আছে- একটি মৃত আরেকটি জীবিত
জীবিত ঘড়িটি মৃত ঘড়িটিকে বোবা কালা অন্ধ পঙ্গু
                                        বলে গালি দেয়।
তবুও মৃত ঘড়িটি- সময়ের অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকে।

একদিন জীবিত ঘড়িটির একটি কাঁটা ভেঙে গেলো
তখন আমার মা- মৃত ঘড়ির একটি কাঁটা-
জীবিত ঘড়িতে লাগিয়ে তার পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি দিলো।
আবার একদিন জীবিত ঘড়ির ব্যাটারি নিঃশেষ হয়ে পড়লো
তখনও আমার মা মৃত ঘড়ির ব্যাটারি- জীবিত ঘড়িতে লাগিয়ে
                                   পুনরায় তাকে জীবন দিলো।

এভাবে আমার মা- অন্ধ বোবা কালা পঙ্গু সময়কে-
শুশ্রুষা দিয়ে থাকেন, অবহেলার বিপরীতে।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E