৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ২৪২০১৭
 
 ২৪/০৭/২০১৭  Posted by

ফেরদৌস মাহমুদ
জোড়া চোখের প্রতিকৃতি
………………….

তবু, শোনো– কখনই একা নই আমি এই অলৌকিক
ঘাস-ফুল-নদী-গ্রাম-শহরভর্তি ডিমের মধ্যে;
প্রচুর আনন্দ করছে হাঁটাহাঁটি আমার আত্মমুগ্ধ ঘরের ভেতর;
একগুচ্ছ ফুল খুঁজছে পরাগায়নের জন্য প্রজাপতি
কবর থেকে শেয়ালের সাথে বেরিয়ে আসছে
পুলিশ আর চন্দ্রজ্যোৎস্না একত্রে পাশাপাশি।
অথচ, আজ আমাদের পথ হাঁটা নিষিদ্ধ। পৃথিবীর মানচিত্রে
চুল উড়িয়ে দিয়ে সাপের মৈথুন ভঙ্গের মতো সূর্যকে
ডাকা নিষেধ। তবে-

মানব না। কুয়াশা মুখে মেখে বৃষ্টিতে হাঁটাহাঁটির বিরুদ্ধতা
আমি মানি না। সকাল বেয়ে রৌদ্র ছুঁয়ে মাথা থেকে পা অবধি
নিজের অনুভবকে নিয়ে গেছি টেনে দুপুরের খাবারের দিকে।
গাড়ি নিয়ে নিয়েছে স্টার্ট। অন্ধ হয়েও খুঁজছি ড্রাইভিং লাইসেন্স
অন্ধকারকে কেবল নদীর কিনারে নেওয়ার জন্য।
তোমাদের নিশ্বাসের স্পর্শে ফেটে যাচ্ছে ধ্যানমগ্ন মুখশ্রী আমার।
আমি
ভিখিরিদের সাথে বসেছি জুয়া খেলতে। আমার টবের দুর্বল উদ্ভিদটির
কব্জিতে সুঁই ঢুকিয়ে লাগিয়ে দিচ্ছে কেউ অপ্রত্যাশিত স্যালাইন…

স্যালাইন!

প্রতিটি ভাবনার সঙ্গে জড়িত হচ্ছে আত্মপ্রশ্ন, আত্মবিষাদ;
পাগল বোনটি আগুনআঁচল বিছিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে স্তন
সারারাত জেগে জেগে বোনটি গুনেছিল আকাশের উজ্জ্বলতা।
ময়লা এক শ্যাওলামাখা দালানকে জড়িয়ে ধরে দেখেছি আমি
ঈদের চাঁদের মতো সরু বালকটিকে দেখছে না কেউ!
কমলালেবু মহান রোগীদের পাহাড়-কোমল দেহ খসিয়ে ফেলে
স্ব-মানসকূপে ঢালছে জল-বৃক্ষের ছায়া;
মাটির পাত্রে নেমে আসা দুপুরের মুখ খোলা উদাসীনতা
উঠে যাচ্ছে বালুর তৈরি ছাত্রের বিছনায়।

চীন সাগরের উন্মাদ ডুবুরি আমি, আরবের তেলখনি থেকে
মুঠো ভরে আনি সোনার ময়লা। প্রাণকে ব্যাধি ভেবে
মরণের সাথে নিজেকে ওড়াই এভারেস্টের শীতল কান্নায়।
বনে ওড়ে মন-মনান্তের পাখি, তিল হয়ে যায় তাল
মেঘ করে গর্জন : জুতো…জুতো…জুতো…
ফুলকন্যা চাদকন্যা জলকন্যা নখ ফাঁক করে নখের ময়লায়
পুঁতে ফেলে তার শিকড়। মহামানুষের কঙ্কাল ডালে ডালে
মাংস মেখে চায় বাড়াতে নিজস্ব ছায়া।

আমি উড়তে চেয়ে আকাশে হাত বাড়াতেই ডুবে যাই
হৃদয়ের রুপালি রূপ মাখা অচেনা চোরাবালিতে।
বুড়িগঙ্গার পেটে জাল ফেলতেই উঠে আসে চাঁদের কলঙ্কিত লোহা
মনে পড়ে যায়, মরুমাঠে যে উটটির পিঠে চড়েছিলাম ওটা ছিল
একটি কুকুর। অথচ, যে কুকুরটিকে ভয় পেয়েছিলাম ওটা একটা বাছুর।
তাহলে, সমস্তই দূরদৃষ্টির রেখায় ঘাস-ফুল-নদী পেরিয়ে একা একা
একাকীত্বের দৃষ্টি বিভ্রম!

মাড়ি থেকে দাঁত খুলে নিয়ে খুচরো পয়সার মতো গুনছি
নিজেই নিজের রক্তের দাগ।

ভাবি, কোথায় হবে স্থান আমার
কোথায়
নদীতে না সমুদ্রে…:

টাকা ভাঙাতে গিয়ে
পা ভেঙে গেল
পকেট থেকে বেরোয়
এক বছরের আয়ু…

কাঠ কাটতে গিয়ে
আঙুল পড়ে গেল
পকেট থেকে বেরোয়
এক বছরের আয়ু…

নারীর চোখের জল মুছতে গিয়ে
এক চোখ অন্ধকার হলো
পকেট থেকে বেরোয়
এক বছরের আয়ু…

নক্ষত্রের গান শুনতে গিয়ে
এক কান বধির হলো
পকেট থেকে বেরোয়
এক বছরের আয়ু…

রাস্তা পেরুতে গিয়ে
গাড়ির তলায় শীতল প্রাণ
জীবন থেকে বেরোয়
আশীর্বাদ
দীর্ঘায়ুর…

কোথায় হবে স্থান
পাতালে না সমুদ্রে
কোথায়, কোন্
জিহবার তালুতে

 


ফেরদৌস মাহমুদ

ফেরদৌস মাহমুদ

ফেরদৌস মাহমুদ। জন্ম: ২৩ অক্টোবর, ১৯৭৭। চরডিক্রি, মুলাদী, বরিশাল [নানা বাড়ি]। শিক্ষা: স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান। পেশা: সাংবাদিকতা।
কাব্যগ্রন্থঃ সাতশো ট্রেন এক যাত্রী (২০০৬), নীল পাগলীর শিস (২০০৯), ছাতিম গাছের গান (২০১২), আগন্তুকের পাঠশালা (২০১৬)।
জীবনীগ্রন্থঃ সত্যজিৎ রায় (২০০৯)।
ছোটদের বইঃ সন্ধ্যা তারার ঝি (ছড়া-কবিতা, ২০১৬)।
ইতিহাসঃ বিশ্বযুদ্ধ (২০১৬)।
ferdous.mahmud77@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E