৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ৩০২০১৭
 
 ৩০/০৭/২০১৭  Posted by

এমরান কবির-এর কবিতাভাবনা

দাঁড়িয়ে থাকি সুসহায়

মাঝে মাঝে মনে হয়, এইসব মিলিত অক্ষরের কোনো অর্থ নেই। তাহলে কোন অভিঘাতে লিখেছিলাম এইসব কলরব! আবেগ-বিদ্ধ করে কে আমাকে লিখিয়ে নিয়েছিল এইসব চরণ! কে আমাকে সংযত করেছিল যুক্তির শৃঙ্খলে! কে আমাকে সংহত করেছিল গতি বিনির্মাণে! কে আমাকে নিবিষ্ট করেছিল শব্দের পরিমিত ব্যবহারে!
তখন, একবার মনে হয় আমি লিখেছি এইসব; তখন, আরেকবার মনে হয় আমি লিখিনি এইসব।
কিন্তু অস্বীকার করলেই কি সব দায় শেষ হয়ে যায়? যায় না।
যায় না বলেই তো সব কিছু অস্বীকারও করতে পারি না। তথাপি সূর্য সরে সরে যায়। আমি মুছে ফেলতে চাই কালো কালো অক্ষর। তাও পারি না। তারা জ্যান্ত হয়ে যায়। হাত দিতেই সরে সরে যায় তারা। কপট রাগ দেখায়, ‘আমরা তোমার কেউ না!’
আমি বলি, ‘আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি। আমি তোমাদের ধ্বংস করব।’
তারা বলে, ‘পারবে না।’
আমি বলি,‘ কেন?’
তারা বলে,‘ অক্ষর জন্মের আগেই জন্মেছে অক্ষর-আশ্রিত নিহিতার্থ। তুমি তার অনিচ্ছুক দাশ।’
আমি তখন কোনো কথা খুঁজে পাই না। আমি তখন খেই হারিয়ে ফেলি। তখন আবার ভাবি, আমিই কি লিখেছি এইসব! আমি লিখি নাই!
অক্ষর তো অনেক কিছু। চিহ্ন, আঘাত, বৃক্ষ, বিশ্বাস। আরও কত কিছু। এবং মায়াও।
অভিমান এসে যায়। মনে হয়, আমি যাদের বিন্যস্ত করলাম তারা আমাকে ভালোবাসতে জানে না। কিন্তু অমি তো অক্ষরকে ভালোবেসেছি! আজ অক্ষর আমাকে আঘাত করে সুখ পাচ্ছে! পাক।
ওই তো অক্ষর তৈরি করছে মায়া। ওই তো অক্ষর তৈরি করছে কুহক। ওই তো অক্ষর থেকে ভেসে এলো কুহরণ। কে বলে অক্ষর আঘাত দিয়ে সুখ পায়!
ওই তো অক্ষর তৈরি করছে বিভ্রম। ওইতো অক্ষর তেরি করছে কল্প। ওই তো অক্ষর তৈরি করছে চিত্র। এগুলোকে ঘিরে ধরছে কতিপয় সংবেদি মানুষ।
তখন অক্ষর থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি তাদের বিনিময়। তখন দাঁড়িয়ে থাকি সুসহায়।

এমরান কবির-এর কবিতা

পাখি তবু উড়ে যায়

পাখি তবু উড়ে যায় কিসের আশায়

                                      শূন্যে শূন্যে

মগ্ন পাখায়    ভগ্ন বাবুই    স্বপ্নে বোনা    ঢেউ

মৌন জলে   কাদার তলে  যুদ্ধে যাওয়া   কেউ

শহর কাঁপে   নিম্ন তাপে   হেসে ওঠে     ডানা

কুয়াশা যায়   মৃদু পায়     তীক্ষ্ণ স্বরে    মানা

মন পবনের শূন্যতা       বাষ্প কথার বন্যতা

                রাত্রি জাগায় বিলে

পাঁজর খোলে ব্যগ্রতা      ঘাস ফুলের ওই মৌনতা

                এসেছি সবাই মিলে

গুলির শব্দে বুক ভেঙে যায়। আকাশ বলে, এসো, বৃক্ষ না থাক, বিল না থাক, আছে শূন্য ভরা অথৈ অলঙ্কার

পাখি তবু চলে যায় নিরাশায়

                               শুন্যে শুন্যে

তবু তুমি দুঃখ করে বলে যাও, এরা নষ্ট হয়ে যায়। প্রভু এরা নষ্ট হয়ে যায়! নগ্ন টিলায় তন্দ্রার মেঘ। ও মেঘ, কবে তোমার বাসর হবে মৌসুমীর সাথে! আমাদের কোনো আতিথেয়তা নেই। তোমাদের মিলনে যে বৃষ্টি-কুমারী আসবে- তার জন্য রেখে দেব তৃণভেজা সূর্যাস্ত। বলে সে, সে এক পাখি-কুমারী।  তখন বৃক্ষশয্যা থেকে উঠে আসেন অপেক্ষমাণ বিলুপ্ত বাতাস

শিথিল খোলস    শূন্য কলস    শিলততমা      চিরুনি

শরীর ছুঁয়ে       কোমল গ্রীবা   রিমঝিমাঝিম   তরুণী

প্রহর জুড়ে তপ্ত নেশা           শরীর ধরে ব্যাগ্র আশা

               বন্ধুরা আজ খাদ্য তালিকায়

নীল সীমানার হাতে             রক্ষী পুরুষের রাতে

               বহমান হাত কত যে বদলায়

পাখি তবু উড়ে যায় উষ্ণতায় শূন্যে শূন্যে

লজ্জার বাঁকে হেরে যায় সকল বন্দুক বিলাস। তখন যৌন বিলাসীর আদিম আবদার, দাও না এনে প্লিজ পালকের অলঙ্কার!

পালক খুলে    ওষ্ঠ মুলে    নরম মাংস    চুমি

রৌদ্র মাঝে     কষ্ট সাঁঝে  সূর্য সাথী      তুমি

তপ্ত বায়ু       স্বল্প আয়ু    আর রব না   কল্পে

নদীর নীড়ে    তীব্র তীরে   গুপ্ত কণার    গল্পে


এমরান কবির

এমরান কবির

এমরান কবির। জন্মেছেন ০৫ এপ্রিল, ১৯৭৯, বগুড়ার কৃষ্ণপুরে। সার্টিফিকেটে লেখা ০৯ নভেম্বর, ১৯৮০। পিতা হাফেজ আশরাফ আলী, মাতা মিসেস ছফুরা খাতুন। পড়াশুনা করেছেন রসায়ন শাস্ত্র এবং মার্কেটিং-এ। অধুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজ-এ সাব-এডিটর হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ। এখন একটি অসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন। সম্পাদনা করেছেন ছোটকাগজ থার্ডম্যাগ, সেন্ট্রাল জেল, পরিধি।
প্রকাশিত গ্রন্থ- কী সুন্দর মিথ্যাগুলো (কাব্যগ্রন্থ, ২০১১)
নিদ্রাগহন মহাশূন্যে (গল্পগ্রন্থ, ২০১২)
পালকভরা সূর্যাস্ত (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৩)
আমি লিখেছি এইসব, আমি লিখি নাই (গদ্যগ্রন্থ, ২০১৪)
নীল বোতাম ( উপন্যাস, ২০১৬)
পেয়েছেন জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার, ২০১০; পাঠকপণ্য পাঠশালা সম্মাননা, ২০১২।

উড়োসংযোগ- +৮৮০১৭১২৬৪৫১৪৯

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E