৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
আগ ০৮২০১৭
 
 ০৮/০৮/২০১৭  Posted by

দ্রাবিড় সৈকত-এর ‘কুত্রাপি’

(‘কুত্রাপি’ কবিতার একধরনের ছন্দপ্রস্তাবনা। অন্তমিল, আদ্যমিল, অনুপ্রাস, ভাবগত-ধ্বনিগত সমন্বয়, বৈপরীত্য, আদি-অন্ত-মধ্য ছন্দ, যমক, উৎপ্রেক্ষার ভেতর দিয়ে ছন্দহীনতায় গা ভাসিয়ে আবার শৃঙ্খলায় ফিরে আসা। ছন্দের নিয়মহীনতার এই নবতর নিয়মকেই কুত্রাপি হিসেবে আখ্যায়িত করছি…) – দ্রাবিড় সৈকত

৪০২
বিড়ালের ভাগ্যেই যদি ছিঁড়ে যায় শিকা
চিকা মারা দেয়ালে তার গুণগান ঝোলে
ঠিকা কাজের লোক
নিকাবাজের চোখ
শোক নয় শশুরালয়ের মতো সবকিছু দেখে
সুনসান
নুন আন্তেই যার পান্তায় শিকড় বিকারের বালা
চুন তার বাহুল্য বিলসা বিলাপ
গিলাফ ধরিয়া কাঁদো কুঁড়ে এঁদোডোবা
পুঁজির পাহাড়ে পিতা পেঁয়াজের খোসাটিও বোবা-ভুখা-কালা

৪০১
শেষ অবধি আমরা চেয়েছি একটি হাসিমুখ
কেশ অবধি সুগন্ধি মাখা
বন্দি থাকা বাসনার বৃন্তহীন বিকারে
আকারে প্রকারে যেমত করাঘাত করুণ ফুটেছে
অন্তহীন জাঙ্গুলে সুর সুরা
সন্ত-জিন আঙ্গুলে ঝুরঝুরা
অধিকারে অপেক্ষমাণ রেখে প্রভুত কয়লায় তার হীরা
জিরজিরা
জ্বালাতনে আলুথালু লেশও যদি থাকে তার বাসিমুখ

৪০০
আসব কি? অনুমতি তুলাদণ্ডে রাখো
চুলা খণ্ড হলেও জ্বলে উত্তাপ
ধুলা ভাণ্ডে রাখার দীর্ঘ করতল অহরহ
কহ আঙুল বোলাতে হবে না
খোলাতো কবে না কিছু যত ভাজো খই
আজো বই পড়া লাগে শুনি
কাজও সই ত্বরা জাগে গুনি
গ্রন্থাগারের গোঙানি গাদাগাদা সমাধিস্তম্ভ এপিটাফ
মাফ করে দিও ভুলেই ঢুকেছি স্নায়ুবৈকল্যের চাপ

৩৯৯
নৃত্যরতা দিন চলে যায়
ভৃত্য কথা উদ্বেগাকুল শৃংখল শতরঞ্জি
পঞ্জিকাবর্ষ থেকে যারা মন্থর গতিতে নামে
তারা অন্তর চোখে বোনে
শোকে গোণে হরিৎ আচ্ছাদন
সাচ্চা জনতার পাঁজরায় ক্লান্তির পরিক্রম
জরি ভ্রম হলেও করে ঝকমক
যমক বিভাস নীল-সাদা
ঠমক নিবাস বিল-কাদা
হাদা বলে বলে প্রান্তিক প্রেষণায় নেই ন্যায়বোধ মনুগঞ্জি

৩৯৮
নিয়ে রচনা লিখেছো নদী পাড়ে বাড়ি
যদি তারে গাড়ি কিনে দাও
বদি চারে চার, ছমছম ছটকানি
ঘটখানি ঝুলিয়ে দিয়ে পাখিদের পাছা মারা শেষ
রেশ আছে নদীতীর ভাঙে নাই মর্মরিত মেঘ
আবেগ অঘোরে কাটে
যা বেগ বেগোড়ে হাঁটে
যদি ভীড় ভেঙে যায় এলোচুল কিশোরী হৃদয়
সদয় সুধীজন রচনা লম্বা হলেও এই নির্জনে তারে চিনে নাও

৩৯৭
নারী
শাড়ীপড়া চিত্র কেন ভাসে?
আসে না আকলের দীপ্তি ও দারুণ সুবাস
ঝাড়ুন এমন মন্ত্রভুক্তি
নাড়ুন কেমন যন্ত্রচুক্তি
লাশে
উল্লাসে উৎপাত রেখে যাওয়া কুৎসিত কথা
ভূত শীতকালে চেপে ধরে গরমে শিং দিয়ে নাড়া দেয় শুনেছি
বুনেছি নতুন যাপনের রীতি, আপনাকে দিতে পারি?

৩৯৬
অসংকোচে অসত্য বলতে পারো?
চলতে কারো লাঠিয়াল লীলাখেলা শিকড় সমেত
ভাটিয়ালি তিলকে জমা জল
ক্ষমা স্থলের ধুলা
ও মা! কলের মুলা দেখি বাজারে দেখাচ্ছে দাঁত
অজাতেরো জাত লাজবতী
নাজাতেরো হাত কাজ রতিকলায় হয় সিদ্ধ
বাটি জোড়াতালি দিয়ে কতখানি চালানো বা যাবে
পাবে যত তথ্য ও তেলাকুচা তার সাথে সাঁতারের থাকেনা প্রভেদ

৩৯৫
প্রত্ন সম্মতির উদ্বেগে পাকা ফল
বাঁকা নল থেকে তৃষ্ণায় তৃণকূলে বিতাড়িত
যত্ন দম যতির কিছু করো
ব্রতীর বিপরীতে বর্ষীয়ানের যত উত্তাপ অযাচিত
বড়শি টানের সাক্ষাত ইতিহাস তাঁতকলে বোনা সুতি
প্রসূতিগৃহে ব্ল্যাকহোলের আশকারায়
ভাড়ায় খেটেছে অপার উচ্চারণ
ধন দৌলত নয়
পন বদৌলতে এই ভুলোমন রসনায় অনাত্মীয় তাড়িত

৩৯৪
অভিষিক্ত ওয়াক্তে ঢেউয়ের তালে তর্কিত সভ্যজনা
ভজনায় তিনি নথিভুক্ত রাবীন্দ্রীক
ক’জনায় এমন পারে
দু’জনায় কি মন ঘাড়ে তুলে হাঁটে
ঝুলে নাটে নাটেরগুরু নাব্যতা মহাজন
ওজন অবিনশ্বর অচঞ্চল ময়দানে
কয় দানে হবে চাল শেষ
কয় কানে তবে ঝাল বেশ করে দিবি সম্মতির
পীর আওলিয়াদের পদধুলি নিবি লঘিষ্ঠ নিঃস্ব পথিক

৩৯১
বৈকল্য শব্দেই কিছু কল বিকল পড়ে থাকে
ধকল সামলে ওঠা মহাপ্রাণে
সকল বঞ্চনা বোধ
নকল গঞ্জনা রোদ পোহাতে আসে পুরো পরিবার
বুড়ো মরিবার পরে যত ভাগ হয়
রাগ হয় তারচেয়ে বেশি
বার চেয়ে থাকার কিছু আবাহনী মঙ্গল
জঙলায় জনপদ শোঁকে
লোকে তার মর্ম বোঝে না মুখ ভ্যাঙচায় রাগ হয়

৩৯০
নীৎসেকে নাগর বলো নাৎসীর
জিতছে কে
জোচ্চুরি শব্দটা জুৎমতো বীক্ষায়
ঠিক খায় দৌলতে তাড়ণায় অদ্ভুদ দর্শনে
কর্ষণে কদাকার মুখে নয় মন্তরে উদ্বেল ঝর্ণা
বদাকার কিম্ভুত তত্ত্ব ও সূত্রে ও মূত্রে
পুত্রের মুখ-মাথা-স্নায়ুকোষ
দোষ মাখা বৌদ্ধিক
চৌদিকে ব্যাখ্যার বাড়িঘর বৌ পোলা নাতনীর

৩৮৯
চূড়ান্ত নিষ্পত্তি যাদের কামনায় টাল
বেসামাল ইতিহাসে তার শৈল সঞ্চীয়মান
বেঁচা আল আবার বিক্রিত বিন্যাস রসিকতা
বসি কথা বলি করুণার
অসি যথা কলি ফোটানোর করে উৎপাত
হাত নেই তার আয়নায় দেখেনি কাতর পথজ্বর
মত ফরফর করা প্রজাপতি বাতিদান
জাতি দান রেডিক্যাল মনোভাবে গৃহস্বামী দুধভাত

৩৮৮
অযৌক্তিকতার সীমাগুলো পূর্বনির্ধারিত
স্ফীত হয়ে কখনো হয় ঢোল ঢেঁশকেল(ঢেঁকি)
বেশ ফ্যালফ্যাল করে তাকায়
ঝাঁকায় যতখানি জ্যামিতিক
শিকের বহুরূপী ব্যবহার নিউট্রাল
ঝাল খাওয়া অপরের জিহ্বায় পরোজীবী
দিবি ও নিবি এমন সমাকর্ষী আত্মাভিমানের বিভা
চিবায়ে ফেলেছো যারা যাজ্ঞিক
দাগ দিক ভুলে তারা বিবর্তিত স্থানাংকে বুদ্ধিজীবী

৩৮৭
রাইজোম সময়ের চাবি
ভাবি এমন কি হবে কোনকালে শূন্য চৈতন্যোদয়
সদয় কিছু প্রসারিত লবনের তৃষ্ণায়
যবন ভাবনা আছে বাড়ির বামুন
ক বন ম্যানগ্রোভ পৃথিবীর
দেন লোভ কিছু লোকালয়ে সাদা কবুতর
কাদা পায়রার পায়ে থাক
নাক ডুবিয়ে বসো বিকেন্দ্রিকতায় বিকিরণ
ঝনঝনে পয়সার দিন ফুরিয়েছে
হারিয়ে গেছে নিভৃতি পুরাতন ভরসার মৃগনাভি

৩৮৬
হালকা ঠাণ্ডা পড়েছে
পাণ্ডারা পকেট সেলাই করে প্রস্তুত
বস্তুত সবকালই পানের পানীয়’র পরিধেয়
মরি কেহ শুকিয়ে গলার ভাজ
তরী দেহ লুকিয়ে চলার কাজ
সমঝোতা জানে
কম স্রোতা নদীর গোপনীয়তায় ক্যারাভান
বেড়া জান দিয়ে দেয়ার মেরুদণ্ডে
খণ্ড খণ্ড ফটকাবাজির অন্ধকার পাপ ব্যবধান

৩৮৫
অপরিসর মনকে মাঠে আনো
কাটে কেনো ক্ষুদ্রতা জোয়ারের চাঁদে?
অবাধে অনুযোগ আস্ফালন লুফে নিয়েছো
দিয়েছো মনোযোগ?
রোগ আছে প্রতিকারও লৌকিক বেদ
স্বেদ বিন্দুতে থাকে জেনেটিক ছিপি ছাপ্পড়
মাফ কর্ মানবের কুল
বাপ তর্ দানবে বকুল
খোঁজে বাজীকর বিনিয়োগে খোশআমদেদ

৩৮৪
নিচ্ছে না কিছুই সে খালি হাত
ইচ্ছে না থাকলে এতো একরোখা আলো
দেখ রোখা যায় কিনা
শেখ বোকা চায় কিনা গিলতে শহর
এক চিলতে চাঙ্গাড়ি আড়ালের আটকপালিয়া
পালিয়া কুহেলিকা সহচর স্মৃতিবাহী
নীতিবাহী নয় বলে সমাজের
নমাজের ভাবে নিশ্চিতি
গীতি ও গরিমায় একপথে থাকা তার প্রত্যূষ বিচ্যুতি

৩৮৩
চিপকানো খাতায় ময়ুরের পালকের যে রূপ
জিব টানো তার দেখো হোমিওপ্যাথিক ঢং
তুমিও প্যাথেটিক চেহারায়
এ পাড়ায় ঘোর
ছিপ টানো পাতাকাঠি ডুবে গেলে
মাথা বাটি করে যতখানি বাঁচিয়ছো
নাচিয়েছো নৃত্যকলায়
বলায় মধুর মিঠা
চলায় কদুর পিঠা মুশকিল চিনে নেয়া ইশারায়

৩৮২
তোর শোধবোধ কিছু নেই বর্বর
হরবর করে সব বলে যাস
জলে ঘাস আছে খেয়ে নিলে বলদের মতো পাবি বল
আকল আলুলায়িত রেখে আকাশে আছাড় খাওয়া ভাব
বাকলের নিচে দেখ্ সুতাকৃমি বাসা বেঁধে আছে
ফেদে আছে আচকান পোষাকি বাহার
যাহার যেমন ভুড়ি সুরসুরি তেমনি তারে দিতে হয়
খল চিন্তারও তার থাকে তার তার ছিড়ে গেলে
ভিড়ে গেলে অকারণ অতিরোগ
ক্ষতি ভোগ বেফাঁস বেয়াদবে করে রাতভর

৩৮১
এই যে তোমরা সাত জন মানুষ বন্ধু অভিহিত
ভোমরা গুপ্ত ক্রোধ সুপ্তিতে রেখে
রোদ এলেই ছায়াতল
মায়া ছল করে দেখাও ভেতরে চেয়ার জানো?
কে আর এমন কথা ভাবে অবসর ধোঁয়া
খোয়া গেছে পুরনো পয়সার মতো
অচল তারের ভাষা
আঁচল পাড়ের চাষা
পাশার দান বলে চালিয়ে দিয়েছে মাকালের দুরন্ত ফল

৩৮০
বিস্ময় বিকল হলে মানুষ মরে যায়
ছয়নয় ভদ্রতাবশে গোণে
আর্দ্রতা নেই উষ্ণতা বলতে বোঝে গরম লিকার
প্রতিকার একলা ভূত সম্ভুত খুটি
রুটি চিবাতে পারে স্বাদু খাবারে আছে লোভ
ছুটি নিবাতে পারে দাদু বাবারে পাছে ক্ষোভ
কুপিত হয়ে বঞ্চিত করে
এমন ডরেই তার হয়নি দাফন-দাহন
বাহন পায়ের সাথে বাঁধা
সাদা রঙহীন অথচ তার চোখ গুড়া রঙে ভরে যায়

 


দ্রাবিড় সৈকত

দ্রাবিড় সৈকত

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E