৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
এপ্রি ১০২০১৭
 
 ১০/০৪/২০১৭  Posted by

জিললুর রহমান অনুদিত

লিন্ডা মারিয়া বারোস এর কবিতা

লিন্ডা মারিয়া বারোস

লিন্ডা মারিয়া বারোস

লিন্ডা মারিয়া বারোস (জন্ম : রোমানিয়া ১৯৮১)

লিন্ডা মারিয়া বারোস তরুণ রোমানিয় কবিদের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। বিশিষ্টি সমালোচক আলেক্সান্দ্রু মাতেই ২০০৫ এর ৮ জানুয়ারি জিউয়া (দিবস) এর সাহিত্য সাময়িকীতে লিখেছেন, তিনি নিশ্চিত নন যে এই মুহূর্তে লিন্ডা মারিয়া বারোস ফরাসি সাহিত্যের চেয়ে রোমানিয় সাহিত্যের বেশি অংশিদার কি না।

লিন্ডা মারিয়া বারোস ১৯৮১ সালের ৬ আগস্ট জন্ম নেন বুখারেস্টে। যৌবনের স্ফুলিঙ্গ (ঝপব্জহঃবরধ ঃরহবৎবঃঁষঁর) নামে এক তরুণদের সাময়িকিতে ৭ বছর বয়সে লেখার সূচনা করেন তিনি। প্যারিসে স্কুল জীবন শুরু করে সর্বোন-এ তুলনামূলক সাহিত্যে পড়াশোনা করেন। এই সময়ে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। ২১তম জন্মদিনের মধ্যেই তিনি অনেকগুলো বই প্রকাশ করে ফেলেন। রোমানিয় থেকে ফরাসি আর ফরাসি থেকে রোমানিয়তে অনুবাদ করা ছাড়াও অনেক নাটক এবং ২টি রোমানিয় ভাষায় কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। কাব্যগ্রন্থ ২টি হলো: আলোকবর্তিকা অনেক দূরে, তাকে সজ্জামুক্ত করো (২০০১) এবং বুনো শুয়োরের মাথার সাথে কাব্য (২০০৩)।

২০০৪ সালে প্রথম তিনি সরাসরি ফরাসি ভাষায় কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন ‘চিহ্ন ও ছায়ার গ্রন্থ’ শিরোনামে, যা অতি দ্রুত পুরস্কারে ভূষিত হয়। ২০০৬ সালে তাঁর ২য় ফরাসি কাব্যগ্রন্থ ‘রেজর ব্লেডের বাড়ি’ বের হলে, ২০০৭ এর শরতে এই কাব্য সংকলন প্রিক্স এপোলিনেখ নামক ফ্রান্সের খুব সম্মনিত পুরস্কারে নন্দিত হয়। ২৬ বছর বয়সেই তিনি ৬৫ বছরের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।

তাই আজ আমরা বলতে পারি যে লিন্ডা মারিয়া বারোস নিসন্দেহে তরুণ ফরাসি কবিতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি রোমানিয় সাহিত্য ত্যাগ করেছেন। যেহেতু তিনি ২টি ভাষাতেই যাপন করছেন, তাই তিনি নিজেকে রোমানিয় থেকে ফরাসি আর ফরাসি থেকে রোমানিয়তে অনুবাদ করে চলেছেন। পুরস্কৃত গ্রন্থটিও রোমানিয় ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

আরো মজার ব্যাপার হলো জান এইচ মিযকিন এর সঙ্গে যৌথভাব তিনি বিভিন্ন ডাচ কবিকেও রোমানিয়তে অনুবাদ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন র‌্যামকো ক্যামপার্ট, আর্জেন দ্যুইনকার, জন ফেনোঘেন, গেরিট কোয়েনার, সাইব্রেন পোলেট এবং মু¯তাফা স্টিতোউ।

জিললুর রহমান অনুদিত লিন্ডা মারিয়া বারোস এর কবিতা

কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই

বয়স্করা, বেড়ে ওঠা শহুরে শিশুরা

                  তাদের পেটের ওপর হামাগুড়ি দেয়

                  পেভমেন্টের ওপর তাদের কার্ডবোর্ডের ঘরে ঢোকে

আর গৃহকোণে ইতস্তত খুঁড়তে থাকে

যেন তারা তাদের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে মাটির নিচে।

তারা ঝুলতে থাকে বন্ধ করা নালার জালিতে

(যা গভীরতার সাথে তাদের সংযোগকে শক্তিমান করে)।

দৈত্যাকার মুরগীর মতো

             তাদের ফুলের উপরে তা দিয়ে যায়, দুর্গন্ধময় . . .

শহরের বেড়ে ওঠা বয়স্ক শিশুরা তাদের পেটের ওপর হামাগুড়ি দেয়

রাস্তার ম্যানহোলে থুথু ছোঁড়ে যেন সুপেয় স্যুপের মধ্যে ছুঁড়ছে

নর্দমা ব্যবস্থাপনার দেবতা তাদের সযত্নে

                     মেঘের আড়ালে ঢেকে রাখে

                                            যেন বা দেবদূত!

ভালোবাসা ও সায়ানাইড

আমাকে ঘর থেকে ডেকো না, তোমার চিলেকোঠা থেকে,

ঘুরছে – টলায়মান চন্দ্রগ্রস্থের মতো

            তোমার কুকারের নবগুলো,

তোমাকে তোলার জন্যে একবার আর সবার জন্য

            ওভেনের গর্জানো নেকড়ে থেকে

তাদের ঘন হয়ে দাঁড়ানো ফার বৃক্ষের সাথে,

যা তোমার বাহুতে অফুরান ছড়াচ্ছে

                             রাত্রে, বিষফোঁড়ার মতো,

যখন তুমি তোমার সিগারেট তোমার মাংসের গভীরে ঠেসে ধরছো।

আমাকে ঘর থেকে ডেকো না, তোমার চিলেকোঠা থেকে,

ভেঙ্গে টুকরো হচ্ছে – টুকরো হওয়া মাতালের মতো

               বিছানার খুঁটির মধ্যিখানে,

                           দরোজায়, বুটের তলায়

তোমার টিবিয়া ও তোমার ফিবুলা হাঁড়

আমার মোবাইলে ভাঙ্গার শব্দ শুনতে পাই

যেন তুমি টুকরো হয়ে যাচ্ছো

তোমার বাবার পুরনো শিকারি রাইফেলে

তোমার পক্ষে আবার গুলি ভরা ভীষণ কষ্টের,

            তিনি তাঁর মগজ উড়িয়ে দেওয়ার পরে

                           এবং খিঁচুনির ধাক্কায় দরোজায় লাথি ছোঁড়ার কালে।

আমাকে ঘর থেকে ডেকো না, তোমার চিলেকোঠা থেকে,

আর আমি আমার হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে আনবো বুকের ভেতর থেকে

আমারই দাঁতে তাকে আমি কামড়ে ধরবো

এবং একটি উপড়ানো টুকরো লবণাক্ত করে দেবো

                                    আমার চোখের জলে

আর আমি তাকে সজোরে নিক্ষেপ করবো

যেভাবে কেউ মাইলফলককে ছুঁড়ে মারে

আর তোমার টিবিয়া তোমার ফিবুলা

                         ছোট্ট ছোট্ট টুকরো হয়ে যাবে।

আর তখন ওভেনে তা সমাহিত হবে

তোমার অ্যামোনিয়াক্রাšত ঝাঁঝাঁলো নিশ্বাস

তাকে একবার টুকরো টুকরো করবে সবার জন্যে

                            তোমার বুনো পাশবিক মাথা!

রিং রোডে

শহরতলী থেকে কেবল মেয়েরা

           বড় রাস্তায় পা ফেলে

আমি আগেই বলেছি তোমাকে

দেয়ালে ছুঁড়লে থুথু

     তার লম্বা ধারা নামে

                  স্পার্মের যেন বা।

দয়াপরবশ হয়ে তাদের করুণা করো না,

           অথবা বিরক্তির সাথে, ঘরে, তোমার চিলেকোঠায়।

তাদের আত্মার ভেতরে তুমি তো দেখতে পারো না

কেননা তার চাবি স্তনবৃন্তের মধ্যিখানে লুকানো।

শহরতলী থেকে আসা মেয়েরা

পরস্পর হাতের তালুতে মেঘ রেখে টস্ করে

         তাদের মুচকি হাসি খোলে না

ধর্ষকামীর উদারতা যেন

আবার হাইমেন দিয়ে বন্ধ করেছে যোনিমুখ!

শহরতলী থেকে আসা মেয়েরা জীবিত

            যেমন বলেছি আগে

                         ধরণীর মতো।

শব্দের প্রধান ভান্ডার

যদি তুমি না লিখো আমার নাম প্রতিটি দিবসে,

তবে, আমাদের হাতগুলো গুঁড়িয়ে যাক বাক্যের জঞ্জালে!

তোমার মুখ মোচড়ানো, যা দিয়ে উচ্চারণ করো শব্দ

শব্দের চাবুক মারা হলো

যা তোমার ও আমার মধ্যে নেকড়ের ফাঁদ পেতেছিলো!

এবং তারা যেন আর সেরে না ওঠে, যে ক্ষতগুলো তোমার

যা তুমি আমার অশ্রু ঢেলে ধুয়ে নাও

যে অশ্রু ব্যারেল ব্যারেল শহরে এসেছে!

আর তোমার মুখশ্রী যেন

চিরতরে জানালায় থেতলে গেছে

আর তুমি যদি দিনের পরে দিন আমার নাম খোদাই না করো 

তোমার ভালোবাসার জ্বালানীভরা ফ্লাস্কে

আর, হ্যাঁ, তুমি ব্যর্থ হলে, অনিদ্রায়, আমার নাম লিখতে

মিষ্টি ও সংবেদী প্রেমপত্রে, যেভাবে আমরা শুরু করেছিলাম

আমি তোমার মুখ সত্যি সত্যি বাদ্যযন্ত্রের তার দিয়ে সেলাই করে দেবো।

(স্টিফেন রোমের ২০০৮ এ ইংরেজি অনুবাদ থেকে অনুদিত)

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E