৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৫২০১৭
 
 ০৫/০১/২০১৭  Posted by

বিশ্বজিৎ দাস -এর “ইন্দ্রিয়গুচ্ছ”

ঠোঁট

ঠোঁটের চামড়া অসুখী হলে ঝরে পড়ে। দাঁত এইসময় নিজের মধ্যে আঁতাত গড়ে তুলে বর্ণময় রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়ে। ওর যে বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করার কথা ছিল, তা ভুলে গিয়ে হারিয়ে যায় নিজেরই সংক্ষেপে…

ভাগ হয়ে যাওয়া ওষ্ট ও অধরের ফাঁকে কত হিসেব, কত না পাওয়া, কত ভুলভুলাইয়া;ঘড়ির অনিয়মকে স্বীকৃতি দেয়। এইসব ভেবে একদিন অ্যাসিড পোড়া মেয়েটির বিমূর্ত হাসি, আমাকে ভয়ঙ্কর রকমের চমকে ছিল…মাটির কলসি খুব সহজেই সত্যভাষী হয়ে ওঠে…

নাক

বরাবরের জন্য এক হাতে জীবন ও অন্য হাতে মৃত শামিয়ানা ধরে আছি। ভিতরের আওয়াজ বাইরে হাফ ছেড়ে বেরিয়ে আসে, লজ্জা পাই! গাছের খুব কাছে গিয়ে বলি, আমায় গ্রহণ কর; এই যে ক্লোরোফিল ঘেরা নিয়তির সংসারে! ওরাও সরে যায়, বাকি পাতাদের ছেড়ে যাওয়া নিয়ে মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে। তখনও ওই রাস্তায় বাতাসের সংকট ছিল, অসাড় হওয়া ঘুমের অপেক্ষায়…

চোখ

সব’চে স্বচ্ছ এবং বিপদগামী ট্রেনটি যত গতিবেগে যায়, তার কাছে আতিথেয়তা গ্রহণ করে কালো উদ্ভিদ। শাখাপ্রশাখায় স্মৃতি ঝুলিয়ে ঝাপসা আলোয় ঘুরে বেড়ায়…কখনও খুলির মূল্য ভুলে নেমে পড়ে অবিকল চোখে| শেষ হয়ে যাওয়া একটা সম্পর্কেরও রেশ থাকে। পাহাড়ের নিচে গড়িয়ে পড়া জল এর মানে বোঝে…

কান

“মরমে পশিল” বলে, যে হ্যাংলামি চলতে থাকে, সেখানে সার্জারি হলেও প্রকাশ্যে নয়। নয়া ছাউনিতে কর্ণের ভূমিকা আজও প্রাসঙ্গিক! বিস্তারিত বলতে পারবে হেলেন। সে জানে দৃষ্টির চতুরতার সঙ্গে বৈষ্নব কবিরা হ্যালোজেন ব্যবহারে উৎসাহী ছিলেন। সাঁই যদিও বলেছেন অন্যকথা! গাছেদের বন্ধুত্বে তাই; শব্দ অচল…

মন

এক প্যাসিফিক হৃদপিণ্ড গুড়িয়ে নিয়ে কাঠের সঞ্চয় করছি। আজকাল নিউরো সায়েন্স অনেক এগিয়েছে।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় একটু অবাস্তব উপস্থিতি রেখে তোমাকে কেন্দ্রিয় চরিত্র করে তোলে! পড়তে পড়তে হয়ে ওঠো সামগ্রী…খুঁজে নিচ্ছ ফাঁকফোকর। তোমার মধ্যে বেজে উঠছে সময়ের প্রতিক্রিয়া। তুমি অবশ এবং শিরাহীন ভাবে ত্যাগ করছ, ইহজগৎ…যেভাবে মন ফিরে যায়; সারবস্তুহীন বুড়ো জ্যোৎস্নার কোলে…

 বিশ্বজিৎ দাস

বিশ্বজিৎ দাস

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E