৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৩২০১৭
 
 ০৩/০১/২০১৭  Posted by
বিশ্বাস রঞ্জনা

বিশ্বাস রঞ্জনা

বিশ্বাস রঞ্জনা’র একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


সত্তায় গোলাপের ক্ষুধা

খনন করা হয়ে গেছে সময়, দুঃখগুলো ছেলে ভুলানো নীল ছড়া। ভাওতা ছেড়ে কোদালটা  দোল খায় কোদালের ছায়ায়। শূন্যতা মাথার ভিতর চেপে ধরে কে যেন ডাকতে থাকে- ‘এসো, অন্ধকার ঘরে এবং মোমবাতি হাতে হাঁটতে থাকো প্যারা মানব’।’ খনন করা হয়ে গেছে কবর।  কফিনে নির্বিকার চোখ, সত্ত্বায় গোলাপের ক্ষুধা। সে দাবী করে মনোযোগ, উত্তরের হাওয়া, দাবী করে পাতা ঝরার যোগ্য নিবেদন। যারা চিৎকার করছে, কাঁদছে তাদের জন্য কেবল পেরেকের অপেক্ষা। আমাকে তো সিদ্ধান্ত নিতেই হয় কেননা মৃত্যু এক অদ্ভুদ বৃক্ষ যার ডালে ডালে ঝুলে আছে পৃথিবী, মানুষ আর ইভের আপেল।


একান্তর নয় সম্পর্ক

পুরাণের আহ্লাদী সময় জাদুঘরে রেখে আমরা হেঁটে যাই গলিপখ। সিঁড়ির ওপর পরে আছে চশমা। গিলোটিনে নিহত দিন, রাতগুলো কুণ্ডুলীপাকানো। ছায়ার সাথে সীলগালা হয়ে আছে সময়, বীরাঙ্গনার দীর্ঘশ্বাস পাথুরে নক্ষত্র। দেয়ালে দেয়ালে সেমিটিকবোধের গভীর শেকড়, চোখের কোলে লতিয়ে উঠেছে আরব্যরাতের ভোর। চর্যাপদের আয়না  ইতিহাসের ডেক্সের ওপর, আয়না থেকে খসে যায় কাহ্নপা’র মুখ। আমরা হেঁটে যাই পড়শির বাড়ির দিকে, একান্তর নয় সম্পর্ক– পড়শি উচ্চারণ করে নিজের নাম।


একাকীত্ব একশ এক লাল গন্ধম

জোড়া শালিকের একাকীত্বপর নীল হয়ে গেছে চাঁদ, কাঠঠোকরার কী আসে যায় যদি ঠোঁটের স্পর্শে বেপথু হয় বেদনার্ত গাছ। আপেল থেকে একাকীত্ব পর্যন্ত ভাঙ্গতে থাকে যমুনা, রাধার ছায়ায় জলের কলস ভাঙ্গতে থাকে কদমের ডাল। আমার চারিদিকে ঝড়, একা হয়ে বসে আছি মুখোমুখি আমার ভিতর,  একাকীত্ব একশ এক লাল গন্ধম। দূরে গীর্জার ঘন্টায় বাজতে থাকে রাত। আমি পথ হারিয়েছি আর তুমি কড়া নাড়বে দরজায়, স্বস্তিহীন সারা রাত, দরজাটা খোলাই ছিল।


আয়না, আমি ও সে

সম্পর্ক অরক্ষিত আয়না যেখানে নিজের মুখ দেখি,  মোকাবেলা করি দ্বন্দ্ব ও ভাঁজ পড়ে যাওয়া সাত রাতের ঘুম। আত্মরক্ষা জানি না, আঘাতে পাথরখন্ডের যে অনুরাগ সে তার থেকে আলাদা অহম। সে এড়িয়ে যায় সব,  ভেঙ্গে য়ায় আয়না, ভাঙ্গতে থাকে– আর আমিও বিচ্ছিন্ন হতে হতে ঘনিষ্ট হই তোমার ছায়ার সাথে। লাল মোরগ ডেকে ওঠার আগে তোমার ছায়াও যখন অস্বীকার করবে পরিচয় আমি তখন তোমার স্পন্দনে সুরক্ষিত আমার থেকে আলাদা।


নৈর্ব্যক্তিক

ওদের চেয়ে মহান কে আছে? মৃতেরা ছেড়ে দিয়ে যায় সব– ত্রিভূজ পৃথিবীর গল্প; ঘুমপাড়ানি গানের ওম, রাতের বিপুল আকাশ। ওার ছেড়ে দিয়ে যায় সময়ের চাকতিতে ভাঙ্গতে থাকা ভোর, পছন্দের নীল  আর অন্যরকম যা কিছু। আমরাও ভুলতে থাকি শোক, মুমূর্ষু পাতার দীর্ঘশ্বাস। আমরা গাই বাণী বিবর্জিত গান। ওরা ছেড়ে দিয়ে যায় সব।
ঠোঁটে লাগা ঠোঁট আমিও ছেড়ে দেব, তুমি ভালো থেকো মধুকুপি ঘাসের ঘ্রাণ ও ঘাসফড়িং।


আত্মক্ষয়ী স্বাক্ষরের লাল গোলাপ

আমাকে তো মরতেই হতো, স্থগিত স্বপ্নের যাত্রা পথ জানা নেই। অহল্যার জন্য কাঁদছে আলকেমি,  আমি বিস্মৃত হই য়ুক্তাক্ষর ও হোমারের পাথর চোখ। বাইবেলের প্রথম পাতায় লিখেছিলাম তার জন্মের তারিখ। খ্রিস্টের কাছে সমর্পিত  প্রেসক্রিপশনে দগদগে আগুন, আত্মক্ষয়ী স্বাক্ষরের লাল গোলাপ। এখন যদি মরতে হয় তবে বাধিত হবে পৃথিবী, বাধিত হব আমি নিজেও। সে যে আমাকে ভালোবাসে না তা যে কারোই কাম্য হতে পারে। কেননা বুদ্ধ ও আম্রপালির দূরত্ব দৃষ্টির বৃত্তে বাঁধা একটি আপেল।


ডান দিকে তোমার ভেতর আমার মৃত্যু

যা কিছু ফেলে যাও সব অঙ্গার ও আগুন, বুক কাঁপানো সুদূর পাথর। পাথরে বেগুনী আকাশ, ঝিঁঝিপোকার পা ও স্পৃহা। কিছুতেই আগাতে পারি না, পারি না ফিরে যেতে। রাত থেকে রাত অবধি খুঁজতে থাকি হাত আর দৌড়াতে দৌড়াতে ধাক্কা খাই নিজের সাথে, কিছুতেই এগোতে পারছি না। তোমার উদ্দেশ্যে  বাইবেলের তোস্ত্রগুলো যতই নিবেদন করি, প্রার্থনাগুলো ডুবে যায়,পুড়ে যায়। আমার ফেরা হয়না, আমার বাম দিকে তুমি, ডানদিকে তোমার ভেতর আমার মৃত্যু।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E