৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
মার্চ ২০২০১৭
 
 ২০/০৩/২০১৭  Posted by

বিদ্যুৎ ভৌমিকের একগুচ্ছ কবিতা

ক)
রবিঠাকুর ও সব দিনের রোদ্দুর

কিছু একটা স্বপ্ন দেখার পর ছদ্মবেশ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন
আমার এতোকালের রবীন্দ্রনাথ ! ঈশ্বর যে ভাবে স্থির চোখে
তাকিয়ে থাকেন, তিনি অতি প্রাচীন ইঙ্গিতে আমাকে বোঝান
ছন্দমিলের অঙ্ক !
এসব স্বপ্ন প্রায় প্রতিদিনই দেখতে হয়;
শ্রাবণের ধারার মতো কিম্বা আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে “— এসব
আমাকে অহর্নিশ হৃদ পোশাকের অতলান্তে নাড়ায়-চাড়ায়,
দিনাবসানে জ্যোৎস্না ছড়ায় অন্তর্গত লয়~প্রলয়ে
এই ভাবেই চলছে সময়
চলেছে অদৃশ্যে মনে-মনে কথা
অথচ রবিঠাকুর; কবিতার নির্জনতা শুধুই কি তুমি নেবে
একক ইচ্ছাকৃত !!

খ)
নিশিকন্যা এবং প্রেম-সুন্দরী

শেষ স্তবকের কাছে কী-যে চাবার আছে
মহিষ-মহিষ মেঘের মধ্যে কাঙালের চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে
চোখচুপ আমি, —
এরপরেতে মনের কোণে ফাগুন ধুলো সমুদ্রনীল
এসব নিয়ে সাত-সতেরো স্মরণযোগ্য চিন্তা পাখি গান জুড়েছ ,
এভাবেই প্রতিদিন সহজ সত্যে আখোলা হই
এভাবেই একা একা অতলে ডুবি; বেশ ভালো লাগে  !
নিশিকন্যার কাছে দু’হাত পেতে দিতেই
প্রেম যেন জীবন ভিক্ষা চেয়ে নেয় অচিরেই ****
কোথাকার মহান প্রলয়ে যৌবন এসে হঠাৎ-ই বলে;
এসো, শরীর দেব!
সব বয়সের ভারে মন খারাপের অতীত থেকে একটা কবিতা
আমার সাথে গোপনে গোপনে কথা বলে! তাপে নির্ভয়ে ****

গ)
কবিতাকথা ও দর্পণ

এক ছত্র কবিতায় তুরুপের তাস উল্টে গৃহকোণের পিঁপড়েরা
নির্লিপ্ত কামড়ে অঙ্ক পথে হাঁটার ইচ্ছা ত্যাগ করলে;
আমিও সেই ধারাভাষ্যের বিপরীতে চলে এলাম !
কঠিন এক উচ্চারণ; সে যেন আমারই তপোবন ঘেঁটে চলে, —
কদিনের ব্রক্ষ্মনাদে নির্ঘুম রাত হঠাৎ আত্মবীজ লুকায়
বহুবিধ বালিশের নিচে।
আজ সারাদিন চুপ হয়ে আছি
রূপ নাচনের ছন্দ পোড়া গন্ধ আসে বৃষ্টি~বৃষ্টি মেঘলা দিনে
সেই কারণেই এই চোখেতে আমার আমি প্রতিবিম্বহীন,
এটা কার্যত-ই নীরবতায় আকাশ এঁকেছে আয়নার ঝুপ নদীতে!
কবিতাকথা শিশির জলে গলতে – গলতে আচম্বিতে
জানিয়ে গেল; আজ সারারাত শুধু কবিতার সাথে
একান্তে সহবাস হবে!!

ঘ )
ধ্রুপদী কবিতাপট

নতুন দরজায় তালা না দিলে খুব একটা স্তব্ধতার কথা কে-বলবে, –
ঘুম-ঘুম অযান্ত্রিক মন লুকিয়ে পড়েছে কোন এক কারণে; সেটা
এই হাত থেকে খসে পড়ে হৃদয়তান্ত্রিক মহা-সমুদ্রে *****
অতলান্তে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটা কলঙ্কিত কঙ্কাল
স্তব্ধ অথচ ভেতর শুদ্ধু নগ্ন-নগ্ন ব্যঞ্জনা, — কুপ্রভাবে রুষ্ট হতেই
ভেতর থেকে হাজারটা চোখ মন কামড়ে বলে উঠেছিল;
কবিতারা কিছুদিন ধরে ভা-লো নেই !
হঠাৎ কিভাবে আকাশটা মথার মধ্যে ভেঙে পড়ল ***
কী যেন এক শব্দ শুনে সেই দরজায় তালা ভাঙলাম ! এমনি **

ঙ)
রোদ্দুর মন এবং অন্য শরীর

তুই একদিন মধুমাসে শ্রাবণ স্তব্ধতায় এলে আমি একা হয়ে যাই
সেই রোদ্দুর পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে আদিগন্ত দহন জ্বরে, —
শেষ স্তবকের জগৎ যেন ভিন্ন সুরে কথা বলে !
আজকে আমি আঁকছি বসে আমি আমার একার শরীর,
তবুও কেন মিথ্যা মিথ্যা সব মনে হয় !
এসব কথা ভেতর জুড়ে আদ্যোপান্ত ভিজিয়ে তোলে নগ্নস্নানে,
কি ভাবে এই সময়-রেখার মধ্যে চলা মৃত্যু ঠেলে;
সেই কারণেই এই আমাকে দর্পণে তাই লুকিয়ে রাখি
নির্জনতা অন্য শরীর, হয়তো কিছু ভ্রান্ত বাতাস
তবুও যেন আড়াল থেকে লুকিয়ে হাসে ভা-লো-বা-সা !!

 

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক

বিদ্যুৎ ভৌমিক। জন্ম ১৯৬৪ সন, ১৬ – ই জুন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হুগলি জেলা তারই একটি ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরে। পিতা ঈঁশ্বর পীযূষ কান্তি ভৌমিক। মাতা শ্রীমতি ছায়ারানী ভৌমিক। ঠিকানাঃ ছায়ানীড়, ৬৫ /১৭, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোড, শ্রীরামপুর, হুগলি, পোস্টঃ— মল্লিকপাড়া,  ভারতবর্ষ, পশ্চিমবঙ্গ, সূচক ৭১২২০৩।  তিনি এ পর্যন্ত দশ হাজারের অধিক কবিতা রচনা করেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ  ১) কথা না রাখার কথা; ২) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলো (আনন্দময়ী); ৩) নির্বাচিত কবিতা (পত্রাবলী প্রকাশনী); এবং ৪) নীল কলম ও একান্নটা চুমু (ই-বুক কাব্যগ্রন্থ – ছোটকবিতা.কম ই-প্রকাশন, বাংলাদেশ)।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E