৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুন ১৩২০১৭
 
 ১৩/০৬/২০১৭  Posted by

বারীন ঘোষাল-এর একগুচ্ছ ছোট কবিতা ও কিছু প্রশ্নোত্তর

১। কবিতা দিনদিন ছোট হয়ে আসছে কেন? দীর্ঘ কবিতা সৃষ্টি ও চর্চা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণ কী? দীর্ঘ কবিতা সৃষ্টির দম-দূর্বলতা-ই কি ছোট কবিতা বেশি বেশি লেখার কারণ? নাকি, ছোট কবিতা’র বিশেষ শক্তি এর অনিবার্যতা? কী সেই শক্তি?

বারীন ঘোষাল : ফেসবুকে টাইম আর স্পেস কমে যাওয়াতেই কবিতা আয়তনে ছোট হয়ে যাচ্ছে। আর দীর্ঘ কবিতা বলে কিছু হয় না। যে কবিতার আবেদন আর আবেশ দীর্ঘ সময় যাবৎ বিরাজ করে তা-ই দীর্ঘ কবিতা।

২। এক লাইনেও কবিতা হয়, আবার সহস্র চরণেও। আকারে-অবয়বে দীর্ঘ বা ছোট হলেই কি একটি কবিতা দীর্ঘ কবিতা বা ছোট কবিতা হয়? ছোট কবিতা ও দীর্ঘ কবিতার বিশেষত্ব কী?

বারীন ঘোষাল : ওপরে বললাম।

৩। ক) ছোট কবিতা’র গঠন-কাঠামো কেমন হওয়া উচিত মনে করেন?

বারীন ঘোষাল : ছোট কবিতার গঠন-কাঠামো কেমন হওয়া উচিত এ ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই।

খ) ছোট কবিতা পাঠে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায় কি?

বারীন ঘোষাল : ছোট কবিতা পাঠে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায়।

গ) ছোট কবিতায় কি মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা পাওয়া সম্ভব?

বারীন ঘোষাল : ছোট কবিতায় মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা পাওয়া সম্ভব নয়।

৪। ক) আপনার লেখালেখি ও পাঠে ছোট কবিতা কীভাবে চর্চিত হয়েছে? খ) আপনার একগুচ্ছ (৫-১০টি) ছোট কবিতা পড়তে চাই।

বারীন ঘোষাল : আমি বেশির ভাগ ছোট কবিতাই লিখেছি। তার থেকে কিছু কবিতা দেচ্ছি এখানে।

বর্ফানি বাবা

বরফের মনে বরফ পড়ছে

তখন সাদা কালোর যুগ

পোড়া মন

এসব কথার কথায় খুব রোমাঞ্চ হবে যা ক্যামেরা পারেনি

    ং

         ং

কত কাল ধরে নির্জন মানুষের কানে উদ্বাস্তু গুঞ্জন

তাদের গুম্ফা

তাদের বর্ফানি বাবা

যেদিন তোমাতে আমাতে আলোতমা আলতামাশা আলতামিরা আলকায়দা খেলা চলছিল

আর তোমাকে বলছিলাম বনসবুজের তৃণ নয়

মধুকুপি ঘাস আমাকে দেখিও সোনা

কাচ ভেঙ্গে যাবার পরেও গেলাসের জলে নামছিল একটা দানারং-এর সবুজ

পরিচ্ছদে কলম গোঁজা আর কোটরে চোখ

বন্যা আর অবন্যার দেশে এরকম দখল নিচ্ছো ওগো ধোঁয়াময়

     

                   ———–

ফেরারি ইয়ার

ঘাসের গান

      জলের গান

            কলগানরা সবাই কোথায় গেল

কান নিয়ে কোন পাখি

জলসারোল-এর রায়বেঁশে পদ্যখানি শো দিয়েছে খেলায়

কবিতাটির কোন নকল জিনোম ছিল না তো

কোন মেঘ অন্য মেঘে

           অন্য বিবিদের বাদশায়

পদ্যখানি চাল-বিরহীর আর বাড়ে না

মেঘের কাটিং কেটে ঘুড়ি

              ঘুড়ি পেরিয়ে তারা

তারা তিমিরের আপসিন ওই সুতো

                                      খিঁচ পাগ্‌লে

অনেক ফুটো

            ছাদটা ছপ্পর হয়েছে অ্যাদ্দিনে

জল পড়ে          তারা ওঠে

দিন রাত্তির দূরত্ব কেটে যায় ফেরারিয়ারে

তার ক্যামেরা প্যান করেছে চোখে

চোখ কী সব দেখছে        আলোফুল

এত ভাল তারকার চুলো নাকারো

ডাকবন্দী হয়ে বসা মন রে মুন

                        কার্নিশে কার নিশ

সহকথা না থেকে যায় না এই প্রেমে যে

বন্যার দিনে বন্যা

                  অন্যায়ে অন্যায় আসবেই

ছায়া ছলছল করবে

আড়িও পাতবে সঙ্গমে

আজ ঘাস গাইছে    গাই ঘাসছে    আমাদের স্ত্রীমায়ানো বাড়িতে

ঝরণা ঝরে রে-তে মরনা মরে রে হোক তাহলে

                                 ————

গুরাশ

রোদ দূরে       দূরে

ছায়াটিরও ছায়া খান খান

তার নিচে ছায়ানট খুলে দিচ্ছে কেউ ঝর্নার

সাজানো বয়সে রুদালির গান পাচ্ছে যাদের

কথায় দোয়ানো মরণনুমা যাদের অশেষ

                                     নাও গুণ

                  তামাম তারিফ প’ড়ে বয়ে যায়

মুলুক খোলা            দুটো ঘর   

আমার তোমার মধ্যে যাতায়াত করছে একটা হরাইজন্টাল ছিটকিনি

শব্দে তারই শিহরণ

ঐ তার বন্দে মাতরম বিছানা

গুরাশ গুরাশ কেন          চোখে চোখ

চোখে নিব ঢালা নিবের চেক

এত চেকনাকা রোদদের রোদের পথ থেমে আছে

এখানে আমার রোদ পায় খুব

তখন পাশে দাঁড়িয়ে খুব ছায়ালাম

               ———

হেমলক

ফেরোমন হরমোন হাড়ের নন্দন

সব নিয়ে ক্যানভাসে

ডিজিটালে

মনে মনে

সা  রে  গা  মা  গী

শিখানো আগুন নাখুঁত হয়ে যায় না

কলম করা কথা

এমন কলঙ্কেলে লিহান

গাছের মাথায় যে শিকড় ভাবনা ছিল বর্ষাতি হয়ে

গন্ধ রোচে এমন বাদামী কক-এর ডাক না

এমন উড়ু উরু রোম মোম বাতি হয়ে যায়

সব তুমি রিবানাও খুঁত খুলে

কিমিয়ান তুমি

যে কাকে হেম কাকে হেমলক

বর্ষায় কে বারুদ জমায় না

              লিখেও ভেজামোজায় হাসলো

               ——-

বিছানা

আমার গোপন কথাই কত বদলে গেছে

আর মাটির কথা

সেই যে মাটিত শুতাম শুতাম করিতাম 

এখন একটু ওপরে শুই বেবি

চোখে চোখ ফুটলে একটু আবেগ মিশিয়ে গুলে খাই                                                                                     

বৃষ্টিভেজা ভাবনায় যোযোনি গন্ধে ছাদিম সোঁদা তাদের

কাগজের নৌকা গলিয়ে যাচ্ছে সেনা ব্রিজে

বোতাম

হুক     মার্চের লাইন

মানুষের কোঁচকা ফল সারিয়ে তুলছে তারা

পিঠেরা 

                                                                                                                     

পিঠের দিনে

শীতের দিনে

জ্যোতিষীর বৌ ঋতু পেরিয়ে যায় আরামে                                                                                               

যখন আমার ল্যাবের জামা আগুনে দিলাম

নিজেই জুতো পালিশ করলাম

আমার জন্য খানিক দাঁড়ালো লিঙ্গ

সফর সেরে চাঁদের আস্তাবলে

ফিসিফিস করল লোডশেডিং

          আর সারা গায়ে সুইচ আঙুল সুইচ

                     ——–

এফ আই আর

                                                                          

ভেতরের মানুষটা বেরিয়ে আসতেই

            আবার ফাঁপামানুষ হয়ে পড়ল সে

হোর্ডিং-এ কাট-আউটে কেউ মানলো না

একটু ফিসফাস

একটু ক্রিসমাস

            টগর ফোটা বৃদ্ধাশ্রম ঋতুবন্ধে পড়েছে

সুরের বেতারগুলো যে ভাবে গিটারে

যেভাবে স্টেজে দাঁড়িয়ে গলায় গিটার ঝুলিয়ে জ্যামিং চলছে

সবটাই এফ আই আর-এ তোলা

অমলজানের ওপরটায়

গহরজানের তলায়

সং-এ সাংলায় হাপরের শব্দে চাদর মোড়া রোদ

অন্ধকারের পাপড়ি খেলায় আমি আর স্নো মাখি না গো

জানালার আকাশ না আকাশের জানালা নিয়ে

উপাসনা আর প্রবালদ্বীপের ক্যামেরা নিয়ে তর্ক

‘টং’ হলেই বাচ্চারা গুরে দেখছে ফাঁপামানুষটাকে

                  ———–

কুমারী পদ্য

কুমারী পদ্য থেকেই একদিন ছায়া তুলে বেরিয়ে এল পদ্ম

তাকে আমরা কমল বললাম

অক্ষর রক্ষা করে তাকে

                      খেলতে খেলতে কলম করে

বাঁশিটাকে উল্টো করে বাজায়

কাম খোলা ধেনুরা মেঘ চড়ায় পৃথিবীর কাশে                                                                                                   

পদ্যের কুমারী থাকা কত স্কুলপাঠ্য কঠিন

তাকে আর মেঘদূত পড়াতে হল না

রিংটোন কার্সার ডিস্কো নিয়ে পল্লীর বাইরে যায় সে

তার খালি জায়গাটায় বাতাস ভরে হু-হু করে

যেমন রেলগাড়ি শব্দটাই চলতো কু-ক’রে

চূড়োয় বিজন

            বিজনে টোস্ট

                        টোস্টের গ্লাস তোলা ফোলা

গেলাসে ধরে না এত

বন্যার জল উল্টে আকাশে বৃষ্টি ওঠে খুব

                    ————               


বারীন ঘোষাল

বারীন ঘোষাল

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E