৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ২২২০১৬
 
 ২২/১২/২০১৬  Posted by

বাংলাকবিতার চিত্রকল্প জীবনের দূর্বিন
– মাসুদ মুস্তাফিজ

বাংলাকবিতার পাঠ অভিজ্ঞতার ভেতর এক ধরণের ছবি ভেসে ওঠে। আর মুগ্ধতার গভীরে ঘোর ইল্যুশনে দৃশ্যের উপস্থাপনায় মুখোমুখি করে জীবনঘনিষ্ঠ চিত্রের যা কল্পনা ক্ষমতার পারঙ্গপরতার পরিচয়ে আমাদের অর্ন্তরচক্ষুপটের সামনে হাজির হয়। কাব্যের প্রধান শক্তিই হচ্ছে এই চিত্রপট। যেমন  কবিতা ভাবনাপ্রধান তেমনি কল্পনানির্ভরতার দাবিতে চিত্রপ্রধান। কবিতায় কখনো দর্শন আগে নয় এমনিভাবে চিত্রকল্পের রুপটি আসে পরে-মনের আয়নায় ধরা পরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৃশ্যপট যা পাঠক ছবির মতো স্থির করতে পারে। এছাড়া কবিতার সাথে কথা বলতে বিচ্ছিন্নভাবে আলোর লিরিখে এক ঝলকানিতে চমকে দেয়। আসলে চিত্রকল্প জিনিসটাই হচ্ছে মনক্যামেরায় বন্দি দৃশ্য। আমরা যখন কাব্যের জগতে প্রবেশ করি  সেখানে সম্মোহনের গন্ধ ও র্স্পশক স্তরে পাঠক অনুভূতি জাগ্রত করে। আমরা জানি ম্যাটোনমি, পারসোনিপিকেশান আর ইল্যুশনের এক স্তরে চিত্রকল্প স্পিরিচুয়াল পর্যায়ে দৃশ্যময় হয়। মনের নান্দনিক ভাবাবেগ প্রকৃত শিল্পের রুপ সৃষ্টি হয়। তবে কবি কখনো ইমেজিষ্ট নন।

আসলে কবিতায় শব্দের প্রাণ থাকে-এই প্রাণ আমাদের আত্মার সাথে মিশে যায়, কথা বলে। উচ্চতর একটা চিন্তার ভেতর তেরি হয়  এক ধরনের জগৎ যে জগতে আমরা সহসা প্রবেশ করতে পারি না। প্রবেশে একটা ঘোর লাগে যেখান থেকে ভাবনার চমৎকােিত্ব অসম্ভব সুন্দর পটে ভেসে ওঠে সূক্ষ্র সূক্ষ্র বোধের চিত্র । আমরা এই চিত্রপটের সাথে টিভি স্কিনের বা পর্দার একটা সর্ম্পক দেখি।শব্দের সাথে কবিতার- কবিতার সাথে কবির- কবির সাথে পাঠকের। শব্দ সড়িয়ে সড়িয়ে এই কল্পনার সমুদ্রে প্রবেশ করতে হয়। জগৎ আর চেতনার একের মধ্যে অপরের সংযোগে মননে স্থির হয় দৃশ্য তা ধীরে ধীরে উপস্থিত হয় চোখের সামনে।

সাম্প্রতিক বাঙলাকবিতার চিত্রকল্প সময়ের দাবি। সংগীত আর কাব্যচিত্রের রূপ পাঠককে মোহনীয়তা আকর্ষণে ধরে রাখে। সত্যিকার অর্থে কাব্যের অন্তরে যে ভাবনা দিয়ে বাক্য ও শব্দাবলির নান্দনিক সাজ-সজ্জার সৌষ্ঠবে এক চিত্রের নামই চিত্রকল্প। এটা কখনো বক্তব্য কখনো ছবি আবার কখনো কবিতার শরীরে বিন্যাসের ধারাবাহিকতার ভেতর এই চিত্রকল্প পাঠক আবিস্কার করেন। কবিতার শরীরে এই শব্দ আর বাক্যের পরতে পরতে মুন্সিয়ানার বাঙ্ময় অনুভূতিতে নাড়া দেয়- পাঠকের মনে ঝংকার তোলে। ভাষার রূপ চিত্রকল্পে প্রকাশ পায়। একটি কবিতায় নিমার্ণশৈলি ভাষাচিত্রের আশ্রয়ে পাঠকের মনে সার্থক উপজীব্য হয়ে ওঠে।

আধুনিক কবিতায় চিত্রকল্প দু’ধরণের হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ চিত্রকল্পের ব্যবহার করি।

দেখা যায় কবিতার  শরীরের ভেতর চিত্রকল্প লুকিয়ে থাকে- পাঠক উদ্ধার করে পুলকিত হন এক অপার মোহনীয় শক্তি বলে। এই চিত্রকল্পের নাম পরোক্ষ চিত্রকল্প যা গভীর দৃষ্টিভঙ্গিও ভেতর প্রতীয়মান।

(চলবে …)

……………………………….

কবি পরিচিতিঃ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ

মাসুদ মুস্তাফিজ। জন্ম ২২ নভেম্বর ১৯৬৯ খ্রি: বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরের মাধববাটি গ্রামে। স্কুল-কলেজ বিমুখ ছাত্রটি আপাদমস্তক কবি হয়ে ওঠেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে, যুক্ত হয়েছেন সমকালীন কাব্যচিন্তায় এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব কাব্যবাহন। বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু সাহিত্যকাগজ লিটলম্যাগ, প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যপত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিকে লিখে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়েছেন। শিক্ষকতা করেন-  মূলত কবিতা লিখেন, কিন্তু গদ্যচর্চায় তাঁর আগ্রহ প্রবল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল-গবেষণামূলক পত্রিকায় তাঁর গদ্য সাড়া জাগিয়েছে। বর্তমানে তিনি এ প্রজন্মের কবিতার প্রবণতা: বিয়য় ও বিনির্মাণশৈলি নিয়ে কাজ করছেন। গদ্যফর্মের নতুন আঙ্গিকের কাব্য-প্রকরণ আর নিজস্ব স্টাইলের মুক্তভঙ্গিতে সুখহালের জীবনাবলি রচনা করে চলেছেন এবং অন্তরবন্দি হয়েছেন নবনিতা শব্দকলির প্রাণে। প্রিয় শব্দকলি তাঁর আজীবন আরাধ্য। কবির আত্মজ- অনুভব মুস্তাফিজ, নিঝুম মুস্তাফিজ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ

কাব্যগ্রন্থঃ ‘বিষ্টির প্রহর গুনতে গুনতে’ (২০১০); ‘ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি’ (২০১১); ‘কিছু সমুদ্র কিছু বিষণ্ণতা’ (২০১২); ‘জলবাতায়নে রঙঘুড়ি’ (২০১৩); ‘স্বভাবদুর্বৃত্ত বাতাসে কুয়াশার কৃষ্ণতীর্থ’ (২০১৫); ‘মাতালরোদে মেঘে অরণ্য’ (প্রকাশিতব্য ২০১৭, কোলকাতা বইমেলা)।

প্রবন্ধঃ ‘সাহিত্যচিন্তা ও বৈচিত্র্যপাঠ (২০১২)’;  ‘অবমুক্ত বৃত্তায়ন’ (২০১৫)।

সম্পাদনাঃ নাক্ষত্রিক, অগ্নিসেতু।

সম্মাননাঃ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক (২০১২)।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E