৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ০৯২০১৬
 
 ০৯/১১/২০১৬  Posted by
অয়ন ঘোষ

অয়ন ঘোষ

কবি পরিচিতি

অয়ন ঘোষ। জন্ম হুগলী জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে, সাল ১৯৭৮, ১৩ই আগস্ট। লেখাপড়া – ইংরাজি সাহিত্যে এম এ এবং এম ফিল।
বর্তমানে একটি কলেজে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শুরু। বাংলা ও ইংরাজি দু’টি ভাষাতেই লেখালখি করেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে বা হচ্ছে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ “বহু চাঁদ পরে”। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য সম্প্রতি পেয়েছেন “আত্মদ্রোহ সাহিত্যকৃতি সম্মান”।

সম্পাদনাঃ “জলরং” নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা।

অয়ন ঘোষ -এর কবিতাভাবনা

সাহিত্য আমাদের জীবন বোধের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। যে কোন ভাষাতেই সাহিত্যের প্রথম প্রকাশ হিসাবে এসেছে কবিতা কারণ জীবনের ছন্দ কোথাও প্রথম কবিতার ছন্দ হিসাবেই মূর্ত হয়েছিল আমাদের প্রাণের উৎসবে। আর আমরা তার ছন্দের সাথেই বেঁধে নিয়েছি আমাদের চলার পথ। প্রাণকে খোঁজার তাগিদে আর জীবনকে বোঝার অবসরে কবিতা এসে দাঁড়িয়েছে আমার দুয়ারে, তার বিমূর্ততায় প্রকাশ পেয়েছে আমার মূর্ত জীবন। কবিতাই ভালবাসতে শিখিয়েছে জীবনকে। কবিতাকে ছুঁয়েই বলতে চেয়েছি – “যতবার হাত রাখি শরীরে তোমার / ভালোবাসা হয়ে যাও তুমি”।

অয়ন ঘোষ -এর কবিতা


কত ঋণ রয়ে গেল বাকী

নিজের সাথে কথা শেষ হলে
হেঁটে যাই শব্দের গভীরে,
তুলে আনি প্রাচীন অক্ষর লিপি।
ঈশ্বর মুখ ফিরিয়ে নিলেও
বিশ্বাস রেখেছি জল বাতাসায়।
লক্ষ বছর আগে সূর্যের কাছ থেকে
নেওয়া আলোর ঋণ, রয়ে গেল বাকী
ভাসানের বেলায়।


মুখোশ

আমি কোন নিয়ম ভাঙিনি
হিসাব রাখিনি
তাই হেরে যাওয়া আমার
অভ্যাস হয়ে গেছে
বোকারা স্মৃতি নিয়ে বাঁচে
অন্ধকার রাজপথে মোমবাতি
মিছিল হাঁটলে
ঘুমন্ত জেব্রা ক্রসিং-এর
শিরায় শিরায় আদিম আফ্রিকার
বন্যতা
নতশির আমি তখন
প্রাণপনে মুখোশ সামলাচ্ছি।


ফেরা

ফুটপাতে থেমে থাকা গল্পটা
শেষ করতে তোমার কাছে ফিরছি।
স্মৃতির অন্ধকারে সম্পর্কের ভাসান  …
তারপর আছে আলেয়া আর গাঙচিল
আভিমানী আলো এসে পড়ে পশ্চিমের বারান্দায়-
গাঙের জলে ভেসে যায় বেহুলার মান্দাস,
মোহনার কাছাকাছি এলে
স্তব্ধতার ঘুম ভেঙ্গে শুনি বীজের জন্ম কথা।


প্রিয় অন্ধকারের মুখোমুখি

কিছুটা সকাল ভাঁজ করে রাখা আছে
পুরনো শার্টের বুক পকেটে।
সারি সারি বোতামে
সকালের নরম আলোর সোহাগ,
রুমালের ভাঁজে ভাঁজে লেখা এক
অনন্ত জীবনের কথা।
বাতাসে বুকে মেঘের দহন লিপি,
নির্জন বাসে নেই হিসাবের দায়।
একসাথে বাঁচার কোন ভূগোল হয় না
নিস্পলক অপেক্ষাই শুধু জানে
কতগুলো শ্রাবণ পেরলে প্রেমিক হওয়া যায়।
কিছু বৃথা যায় না, এ জীবনে –
জলশিরীষের ডালে ডালে সন্ধ্যা নামলে
আমি সারা রাত চাঁদ লিখি
প্রিয় আঁধারের বুকে।


প্রসঙ্গ ঈশ্বর ও একটি প্রত্যাশা

শীতের বিলম্বিত রাত বাড়ছে
দামোদরের শরীরে, দিশাহীন মনস্তাপ
আমার তৃষ্ণার্ত চৈত্র দিনে
ভুল করেও পা রাখেনি কোন শ্রাবণ-সন্ধ্যা।
আমাদের যাপন থেকে
অনেক দূরে, সময়ের বাঁকে দাড়িয়ে
বিপন্ন ঈশ্বর মনুষ্য নাম জপছে!

অস্তিত্বের সঙ্কট তীব্র হলে
গুটিপোকা হয়ে যাব
রেশম স্বপ্ন বুনতে বুনতে
সময় পেরিয়ে ফিরিয়ে আনব
মসলিন সকাল
বিষাদের সাদা পালে তখন
আম মুকুলের গন্ধ লিখবে
মুগ্ধ বৈশাখ।


সমুদ্র দর্শন

মানুষ চেনার জন্য ঠিক
কতটা আলোর প্রয়োজন, তা
আজও বুঝিনি।
এই পথচলা একদিন থেমে যাবে
থামতে থামতে, মিশে যাবে
অচেনা কুয়াশার হিমে।
বাতিঘর সব নৌকাকে
গন্ত্যব দিতে পারেনি,
ঘাসে ঢাকা প্রাচীন হাড়ের উত্তাপ
বাড়ছে নিরক্ষীয় জলস্তর,
বিশ্বাস নিয়ে ফিরে এলেও
পথ দেখানোর আলোটুকু
চুরি গেছে নদী বাঁকে।
সব জীবনেরই একটা পাড়ভাঙা
সমুদ্রের প্রয়োজন আছে
সূর্যাস্ত দেখার জন্য…

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E