৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৫২০১৭
 
 ০৫/০১/২০১৭  Posted by

কবি পরিচিত

আশরাফ জুয়েল

আশরাফ জুয়েল

আশরাফ জুয়েল। রাষ্ট্রের খাতায়- মোঃ আশরাফুল হক। পেশা- লেখক এবং চিকিৎসক। জন্ম- ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৮।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ
১। যুদ্ধ ছাড়া শুদ্ধতা অসম্ভব- ২০১৪ (কাব্যগ্রন্থ)
২। অতীতা, দুঃখরা পাখি হয়ে গেল- ২০১৫(কাব্যগ্রন্থ)
৩। অনুজ্জ্বল চোখের রাত – ২০১৬ (কাব্যগ্রন্থ)

আশরাফ জুয়েল -এর কবিতা ভাবনা

সময়ের দেওয়ালে দেওয়ালে অসতর্কতা ছড়ানো- রুদ্ধ দরজার বিপরীতে চাপা কান্নার কোলাজ মাথা ঠুকরে মরে প্রতিনিয়ত, বর্তমানের চিৎকারে ক্রান্তিকালের অভব্য মুখোশ সময়ের কপিকলে পিষ্ট হয়; জানা- অজানাতে। অনুভূতি হারিয়ে যায় অনভিজ্ঞতার অতলে, অন্ধকারের প্রতিবিম্বে নিজেরা নিজেদেরকেই দেখি- ইচ্ছাকৃতে বা অনিচ্ছায়। যাতনার প্রদাহে হাজার হাজার আলোকবর্ষ বিশ্ব-বেদনার গহ্বরে হারিয়ে যায় অবচেতনের সাথে আপোষ করে- দিনলিপি ঘষে ঘষে সময় কখনও অতীত জাবর কাটে অথবা ঘুমের ভান- চিন্তার কালচিত্রে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে প্রাচীন পৃথিবীর মুখ। অনুভব এসব কথায় সায় দেয় না। বিচ্ছিন্ন ভাবনার ভূমিতে সে আবাদ করে যায় জীর্ণ বিষণ্ণতার, নৈ:শব্দের বলিরেখার- মাঝে মাঝে লাবণ্যময় আশা-পথে মশাল জ্বেলে রেখে যায়। এই মশাল বহনের দায় স্বেচ্ছাকৃতে ঘাড়ে তুলে নেয় একদল উদযাপন মুখী মানুষ- টানাপোড়নের তোয়াক্কা না করেই- অসঙ্গতিকে দু’হাতে তালু বন্দী করে এঁকে যায় সমাজ-মন-জীবনের চিত্রকল্পগুলোকে। বিশ্ব ভ্রাতার কেউ না হয়েও- এঁরা কেউ কবি- কেউ লেখক। আমিও সেই সমুদ-দলের একটি বিন্দুমাত্র।

আশরাফ জুয়েল -এর কবিতা


পুকুরের গায়ে জ্বর

সন্ধ্যা বাতি অন্ধকারকে পড়াতে বসাচ্ছে, অক্ষরগুলো ঢুকে যাচ্ছে চোখের পেটে! পেট ফুটে বের হচ্ছে মাছের পোনা! পুকুরটা সদর দরজায় দাঁড়াতেই সাঁতার শিক্ষার প্রশিক্ষণ!মাছগুলোর গায়ে কাঁটা, শারীরিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা! সমাপ্তি রেখা টানতেই পুকুরের গায়ে জ্বর, পুড়তে পুড়তে পুকুরটা মানচিত্র! মাছগুলো ততদিনে উড়ছে, সন্ধ্যা বাতি জলে হাঁটছে! পুকুর থৈ-থৈ অক্ষরে! অন্ধকার নিমগ্ন গভীর থেকে গভীরে! মাছগুলো ঠা-ঠা রোদ্দুরে, কাঁটাগুলো বেঁচে গেছে!


নীলাম্বরী গনতন্ত্রমনা হও

একটু গনতন্ত্রমনা হও, গভীরে যাও, জিজ্ঞেস করো? কে বেশী জুড়ে আছে তোমায়? আমার বিশ্বাসে আমি অনড়! নিরপেক্ষ হতে দোষ কি! আমি নিশ্চিত বিজয়ী কে?


ভীষণ একটা ছবি আঁকছি

ভীষণ একটা ছবি আঁকছি বছর বারো ধরে। জল রং নয়, তুলির আঁচড় নয়, আদরের স্পর্শে। বিজন ছায়ার দীর্ঘশ্বাস, একাকীত্ব অস্থিরতা, সুস্পষ্ট কান্না, মধ্য রাতের চুল, বুকের মাতম, পায়ের প্রাচীন নূপুর, ললাটের শিহরন, নিয়মিত অসুখ, অসমাপ্ত জরায়ু  শরীরের তীব্র গন্ধ সব এঁকেছি। আটকে আছি ভ্রূ-পল্লবে- আবছা হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে ফেলছি।

আমি এক অন্ধ আঁকিয়ে !


সুডৌল সুগন্ধি

দু’তালুতে সাপ- স্রোত, তুলসী ডাল উড়ন্ত বিষ নিয়ে অপেক্ষায়। কবিতার চোখ বেঁধে রাখতে পারবে? দৃষ্টিহীন হয়েও যে সুডৌল সুগন্ধি কেড়ে নিয়েছ সমস্ত মনোযোগ, একদিন তা বৃষ্টি হয়ে ঝরবে এই মাঠে-
ভয় পেয়ো না, বিমুখ করবো না।


সম্পূরক

সম্পর্কের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হল বেশ, জানি সম্পর্ক তোর কোথায় কোথায় হাত রেখেছিল! সম্পূরক প্রেমিকের তালিকা ছেঁটে মানিব্যাগে ঢুকিয়ে রাখ।
বর্তমানের প্রেম হল ক্যাপিটালিজমের উজ্জ্বল নমুনা- সবকিছু চেটেপুটে শেয়ার মার্কেটে ছাড়, দেউলিয়া বানাও
ব্যাস তুমিই ক্যাপিটালিস্ট-


কি যে বিস্ময়

সমুদ্র বিহারে সঙ্গী হইয়ো না- চালাক জলের গহিন জঙ্গলে ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে তলোয়ার মাছের ঝাঁক, সমুদ্রচারী হলদে দাঁতের সাহসী নাবিক পণ করেছে পাটাতনে ফেলবে না পা।
তরল কাঁইয়ের মধ্যে ঢু? নাকি পোকা মাকড়ের শুশ্রূষা?
পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত আপেল বাগান এটা। এবার গম ফলেছে ঢের। এখানে সর্বাধিক বন্দী বিনিময় হয়। ত্রস্ত তড়িৎ গতি আণুবীক্ষণিক কণার ঝিমুনি ট্রেন কুয়াশা ঠেলে এগুচ্ছে পৃথিবীর বাইরে আলাদা মানচিত্রের তালাশে।
কি যে বিস্ময়-


লোমকূপে প্রবল উষ্ণতা

তবে কি এবারও আসন্ন পরিযায়ী ফিকে হয়ে যাবে, স্মৃতির খোলস আঁকড়ে পড়ে থাকবে চিতল মারী বিল। শরৎ বৈষম্যে কে দাঁড়ায়? বুকের পশমে ঢুকে পড়েছে শীত- ধোঁয়ার বাজারে বেপরোয়া সন্ধ্যা সমকালীন ইশারায়, পেখম সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধাচরণ করে অবরুদ্ধ মরসুম।
লোমকূপে প্রবল উষ্ণতা, তুমি কি আবার যাবে?


ছায়াটিকে মানুষ হয়ে যেতে হয়

দৃশ্যহীন মোড়ে প্রতিদিন ছায়ার সঙ্গে দ্বিধাহীন মৃত্যুটির দেখা হয়ে যায়। এ প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষী থাকে কয়েকটি নিয়মিত ঘেউ ঘেউ। তিন চারটে বিস্ময়কর ফোঁড়া প্রায় একই সময়ে দাঁড়িয়ে থাকে ল্যাম্পপোস্টের পটেনশিয়াল সূত্রে, বিছানায় চুমু খায় অন্ধ তীরন্দাজ,  চুমু খেয়ে যায় চশমা রোদ্দুর, পৃথিবী এখনও গোলাকার?

এসবে সায় নেই ছায়াটির, যে প্রতিদিন মৃত্যুর কাছ থেকে ধার করে দশ পনের ধাপ অথবা কয়েকটি বাবু-ই পাখির কিচির মিচির।
ধার মেটাতে না পারায় ছায়াটিকে একদিন মানুষ হয়ে যেতে হয়। আসলে আজ অব্ধি বিজ্ঞান এগিয়েছে মোটে কয়েক মিলিমিটার।


ক্ষত

ওকে মোড়াও, ওকে পোড়াও। ওর নোংরা ক্ষত আমাদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ করে দিচ্ছে। ও গণতন্ত্র-

১০
মহাসমারোষ

মিছিল ফেরত ঠোঁটে যে সব ঘি আশ্রিত ভাত দেখা যায়, তাদের খুব পরিচিত মনে হয়। আমিও একদিন মহাসমারোষ ডাকবো। তালিকানূযায়ী প্রত্যেকটি চাল মিলিয়ে নেব সেদিন।

১১
ছোট কবিতা

১)
ভোটের রঙিন ভাত খাবে বলে হায়;
মিছিল বিহারে কেউ শুধু শুধু যায়,
ক্ষুধার বাগানে ওড়ে তৃণ ভোজী মুখ—
টাকার গরাদ ভরা রাশি রাশি সুখ।

২)
তোমার আঁধার সুপ্ত ঠোঁটে
আগুন রাতের বলি রেখা-
ছাতিম ফুলের গন্ধে ফোটে;

শোকের বোতাম চেনে সুঁই…!

৩)
নিভাঁজ মেয়াদে ওরা পথ ভোলা পাখি-
মেধাবী আগুনে জ্বলে ঝাঁক ঝাঁক খাকি।
করুণানিধান তুমি, ভয় কেন হয়?
ভাতের জীবাণু ভোট নিয়ে আসে জয়।

৪)
হরিণ মুখের ছাপে ছাপে;
মায়াবী হাওয়া দূর খোঁজে-
আহত আদর ধাপে ধাপে;
তোমার বুকেই সুখ খোঁজে-

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E