৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৫২০১৭
 
 ০৫/০১/২০১৭  Posted by

অরবিন্দ বর্মনের একগুচ্ছ কবিতা


ডাহুক ও হুক

আহ্ প্রাক্তন জানালা
আহা রবিবারের ফুলস্কেপ প্রেম
দোল দোল বিকেল গড়িয়ে
একজন মেয়ে জেরক্স হয়ে যাচ্ছে

দাগপেন্সিল নেই
কালি ও কলম ভিজে
চন্দনগাছ
জানালার মুখ দ্যাখে
হাওয়াবদল

মেয়েটি এহন মানত রাখে
একটা ডাহুক তাঁর বুকে হুক লাগাক


জলগুঁড়ো

এযাবৎ জিয়ন কাঠির কোনো বংশ ছিল না
নয়নতারার চুমুলুঠ
বোতামঘরে অশ্রু রাখতে
একটা ওয়েবসাইট
যেখানে সকাল নিচ্ছে
আমি তার সুঁতো
ডায়েরি পাতায় কিছুটা বারান্দা দিতেই
হাতের তালুতে জলগুঁড়ো লিখছি


হাসিনা

এখানে হাসিনা দুহাতে হাসি ভরে নেয়
সূর্যস্নাত বাড়িটায় আজও ফ্যামিলিপ্ল্যান
বেনোপিসির কলস শরীর ও মোহবীজ পুঁতে রাখা যায়
আবীর মনের ভিতর ঠিক এইখানে কয়েকটা সিঁড়ি
শূন্য ছুঁয়ে শূন্য বেরিয়ে যাচ্ছে
যতখানি ডানা ধুঁয়ে পাখির অহংকার
আমলকী পাতায় ঢেউগুলো সব লেখা ওই


পাখি হতে পারো

পাখি থেকে আমার ঘর
আকাশের তল ঘেঁষে
ঐ যে আমি ফরোয়ার্ড হচ্ছে চাল-ধোয়া জলে
ফুল বাgun সবই তোমার জন্যে নদী
পাখি হতে পারো কই
অথবা মাঁগুর মাছের শ্বাসনালী ছিঁড়ে
এইখানে সর্বনাম সবাইকে ডেকে আনে

তোমার ভ্রুণে আমারও মা লেগে আছে
শিকড়ের মতন মাটির দুধে


সরীসৃপ

তার ছেঁড়া সকাল পেয়েছে
দুপুর লিড করছি লোহালক্করের বিছানায়
এমন মেহদি পাতার ফুল
অথবা
গোলাপের লাল শুষে ভিজে যায় হিমোগ্লোবিন
সহজ পেনসিল বরাবর
বলের ব্যাসার্ধে গুঁড়ো গুঁড়ো বরফ জ্বেলে
আমরা এখনও সরীসৃপ হতে পারি


পাগলের কবিতা

চুক্তি করে চাকতি পাওয়া কবিতার হাত
শৈবাল শ্যাওলা করতে বলছে

লম্বা হচ্ছে পদাবলীর ছায়াবৃত্ত
মুষলধারে অমাবস্যা নামে

চঞ্চুতে আলোর কোরক ভিজে
ঠিকানাবিহীন ১টা ত্রিভুজ দোল খায়

রাস্তার সরলীকরণে ফারাক রাখে
আমার ফিরে আসা নস্ট্যালজিয়া

জল ফুটে ফুটে ধ্বনিস্ফটিক
ব্যক্তিগত কিছু দেরিদার

শরীরে মেঘ করে আসে
কলমি শাকের বহুবাচনীকতা

গাছেরা হাত পা ঝাড়তে ঝাড়তে
পৃথিবীর সিন্ট্যাক্স-এ লিখছি আমি নীরব বালিকা


প্রেমের কবিতা

ভাতশাক ঢেঁকুর ভেঁপু হয়ে ওঠে
জয়শীলা ভবনের গলিটাকে এখনও শীতকাল ভাবি
অথচ তোমার কাছে এলেই
পৃথিবীর সমস্ত উষ্ণতা আমার বুকপকেটে জড়ো হয়

বুকের ছালে তোমার আদুরে অনুরণন
স্তনরেখা বরাবর একটা ব্লাউজপাঠ
ব্লাউজের ভিতর লুফে নিচ্ছে হৃদয় আমার সোহাগশর্বরী

এবার বসন্তে ব্যাকুল হল নাড়াচাড়া
একরাশ ঘনশ্বাসফুল গায়ে মাখে হরবোলা পাখি
ঠোঁটের হাসিতে লিখে রাখি আমাদের পাখিজীবন


হলদে হাসির টুকরোগুলো

হলদে হাসির টুকরোগুলো
পাখি ডানায় বাতিল ঘোষিত হলে
গোত্র থেকে গোমাংসের বিষাদ নেমে আসে
প্রস্তুতিহীন রেসিপির মুখোমুখি হই
একটা কাটাকুটি ঠিকানা লিখে গেল
মুখফেরত শব্দে
জিভ পিছলে যাচ্ছে
ঠোঁটের সংযমহীন ধরে
একটা হিমেলশহর
ও তার মুখ হাঁ করে আছে
কুয়াশার চর্বি জুড়ে হলদে হাসির টুকরোগুলো ফিনকি দিতেই
পাখির ডানা দৃশ্যত আকাশ হয়ে গ্যাছে


রোদভাঙ্গা দুপুরের চাঁদ

হিসেব কষতে কষতে বিকেল ফুরিয়ে যায়
বিনিদের বাড়ি অব্দি আমার চলাচল
খেলনাগাড়ির মতো ভেঙ্গে পড়ে
কিছুটা সাংসারিক
বলাকার মুখে সেদ্ধ হয় মুরগির মাংস আর রুটি

অচেনা কোনো চাঁদ লুকিয়ে থাকে
রোদভাঙ্গা দুপুরে

১০
রোদের পালক

অন্ধকারে উঠোন ধুঁয়ে দিচ্ছে চান্দ্রমাস
হাত পা ছড়িয়ে ঈশ্বর নেমে এলেন
আমার বুকে
আমি নরম ক্লিক রাখি ঈশ্বরীয় ঋতুস্রাব
ও অন্ধকার
অথবা কোনো তুমুল চুমু প্রস্তাব

তারপর ভাবি রোদের পালক ও এক ঈশ্বর

১১
আজকাল পরশুর প্রেম

গোল গোল একটা কম্পাস আঁকা হলে
আমার বিন্দু থেকে রিং-টোন বেজে ওঠছে

আজকাল পরশুর প্রেমে চিতল চাঁদ থাকে না
লেবুতলার আকাশ থাকে
থাকে ডেটল ডেটলের গন্ধ

সন্ধ্যের বাতাসে পুড়ে যাচ্ছি একটা দীর্ঘশ্বাস বরাবর
হেনরির আজ বাড়ি ফেরা হল না

১২
কবিকুঠুরি

ক্রসচেক মারফত সিমলার কোনো জঙ্গল উঠে এসেছে আমার বুকে
আমি নো-ফ্রিলস জংলি হলাম
আমি গাছে গাছে তিরন্দাজির মত ইমেল ছুড়েছি বলে
একদিন আমার হাতেই ফরেস্ট সিরিজের কবিতা লিখা হল

ফার্নিচারে বাঁধাই করানো বাবলা রঙের হাসি আমাদের গাইডলাইন
ওয়ার্কিং টেবিলে বসে শিউলি মুখার্জি সানপ্রটেকশানের কথা ভাবছিলেন
পৃথিবীর ছন্দ লয় এখন আরও দ্রুত বলতে বলতে
ডিস্কো মেশিনের মত কোনো এক সকাল ভেঙ্গে তুমিও বলেছিলে আমি কবি

জোছনা মার্কা ছেলেটার বুকের লোমে বহুত রহস্য জমে গ্যাছে
যেকোনো মুহুর্তেই নদীর সেঁলাই ছিঁড়ে যেতে পারে বলে
আমরা নদীপ্লটে ভাকরা-নাঙ্গাল এঁকে নিলাম
আর সমস্ত শব্দের জরিমানা সুপারিশ হল কবিকুঠুরিতে

১৩
বিষয়ক চুমু

অহেতুকের নাক উঁচু
কেউ আঘাত দেবার আগে বোরোলিন বীমা চাই

চুম্বনের পর ঠোঁটে যে রক্ত লেগে থাকে
তার বিজ্ঞানসম্মত নাম আলপিন দিয়ে বোনা

ফুলেরাও মশকরা জানে
যখন প্রজাপতি সঙ্গম আসে

১৪
সমীপেষু এবং আগে

আরাধ্য দেবীর মতই গুম হয়ে আছ
যেন গরম রোদের সমাধিস্থল ছুঁয়ে
আঙ্গুলের ফাঁকে ছিঁড়ে যাচ্ছে গাছরং
আমি অতলান্তিক শিহরণ গুছিয়ে রাখছি
সেপটিপিন গেঁথে গেঁথে
অথচ চোখ তোমার লাল হয়ে আসে
কচ্ছপের নোনা অভিমান
সামান্য থেকে বিশেষ ঘোষণা
আসন্ন পাঠক সমাবেশে
পরবর্তী কবিতা হল – ‘সমীপেষু’

১৫
সরষেপ্রেম

অলিগলি পোশাক খুলছি
তাড়াহুড়োয় বোতাম ভিজে যাচ্ছে
বিকেলের ভাঁজে সমুহ লিখতে বসে
মেঘের চাঁদরে নেমে আসে কবিতার শিশু
মেঘচিঠি—বৃষ্টি –বীতরাগ
এবং সরষেপ্রেম

১৬
কবিতাঘর

একজোড়া তুমুল মধ্যবিত্ত আকাশ
ক্রমশ শতাংশ হোল-এ নিভে আসছে
নিভে আসছে যাবতীয় ইন্টারসেকশান

দশমিক হতে হতে বিনির বুকে শব্দযোনি এবং
কাঁটাপুকুরের নাঁভি থেকে তুলে আনছি মৃদু জিন

খেজুরে প্রেমের পর একরাশ ভারী আন্দোলন
নিথর দুপুরে ইতিকথা এসব দূরত্বে
চোখের ভাঁজে ছমছম নামে কবিতাঘর

আপাতত গ্রামীন চোখ
তরল আশঙ্খায় নেটওয়ার্কের হাই তুলছে

১৭
পুনরাধুনিক কুড়োতে কুড়োতে

সকসক করে বর্ণমালা উঠে আসে গাছে গাছে
আস্তাকুঁড়ে বিন্দু থেকে বৃত্তজনিত এঁকে নিচ্ছি
বিকেলের সাউন্ড সিস্টেমেটিক হলে শ্রীমতী জোনাই
একবাটি হ্রস্ব-ই দীর্ঘ- ঈ তুলে রাখছো

ছাপোষা অন্ধকার ধরে ধরে
আমি ১ঘর হলাম
১দলা রোদ্দুর তোমার গালে পড়তে
খুলে পড়ছে মিস ইউনিভার্স
এভাবেই ফোঁটা ফোঁটা প্রেম লুকিয়ে থাকে চোখের পাতায়
তবু ঝিরঝির করে আমার বিশ্ব্ররূপ হল
অবিরল অনাদি শব্দচাষে
আমি এখন মৌমাছিভ্রমণে পুনরাধুনিক কুড়োচ্ছি
আর সাবলীল হচ্ছেন অনুপম

 

অরবিন্দ বর্মন

অরবিন্দ বর্মন

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E