৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ৩০২০১৬
 
 ৩০/১২/২০১৬  Posted by

ট্রোগনের গান: কবিতার দেহে গানের অন্তর
– আনিফ রুবেদ

গৌরাঙ্গ মোহান্ত

গৌরাঙ্গ মোহান্ত

কবিতা এক অদৃশ্য কিন্তু বেশ কার্যকর সীমাহীন সুতো। এতে সবকিছু বাঁধা পড়ে নিপাট, নিপুণ। সবকিছুর ভেতর কবিতা আছে অনেকটা সফটওয়্যারের মত। শুধু কবিতা নয়, সব শিল্পের জন্য এ কথা খাটে। কবি গৌরাঙ্গ মোহান্তের প্রথম ফ্ল্যাপে অনেকটা এমন বক্তব্যই ফুটে উঠেছে। কোনো কিছুর ভেতর শিল্পসফটওয়্যার না থাকলে সেটা কখনোই চিত্তাকর্ষক হয় না। ‘সার্ভার অদৃশ্য হলে’ কবিতাতেও এ বক্তব্যকে সমর্থন করে একটা মৃদু সুর বেজে ওঠে-
‘সার্ভার অদৃশ্য হলে হাহাকার বেড়ে ওঠে…
সার্ভারের জন্য বিমর্ষ, প্রতীক্ষা করি।’

কবি গৌরাঙ্গ মোহান্তের কাব্যগ্রন্থ ‘ট্রোগনের গান’ পড়লাম। ট্রোগনের গান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে শুনলাম গানের সুর।
 
ট্রোগন এক জাতের পাখি। এ পাখি আমি কখনো দেখিনি। দেখিনি কি? দেখেছি কি? এর উত্তর খুব কঠিন। ট্রোগনের স্থির চিত্র দেখেছি, অস্থির চিত্রও দেখেছি। এসব স্টিল চিত্র বা ভিডিও কি সেই পাখিকে দেখা নয়? কিন্তু সত্যিকার অর্থেই কি দেখা? তবে কি বলব?  – জীবন্ত পাখি দেখিনি। হ্যাঁ, ভিডিওতে আমি জীবন্ত পাখিই দেখেছি, সে পাখি মৃত ছিল না। তবে? যাহোক।

ট্রোগন এক জাতের পাখি এবং গান করে খুব মধুর সুরে। আমি কখনো শুনিনি। শুনিনি কি? শুনেছি কি? আবার সেই একই প্রশ্ন, একই উত্তর। যাহোক।

আমি ধরে নিলাম আমি দেখিনি এবং দেখেছি। শুনিনি এবং শুনেছি।

স্বীকার করার সময় এলো – এ পাখির নামটাই কখনো জানতাম না আমি। ট্রোগন যে সুন্দর করে গান গায় তাও জানতাম না। ‘ট্রোগনের গান’ আমার হাতে আসার পর মনে করেছিলাম হয়তো গ্রীক মিথ বা এমন ধরনের কোনো মিথ থেকে নেওয়া কোনো দেব বা দেবীর নাম। ট্রোগন শব্দটিকে নিয়ে কয়েকদিন ঘাঁটাঘাটি করে বুঝতে পারলাম – এটা কোনো দেবদেবীর নাম নয়। একটা পাখির নাম, যে পাখি অতি সুন্দর গান করতে পারে। জানতে গিয়ে আরো জানলাম – ট্রোগন সুন্দর এবং সুন্দর করে গান করতে পারলেও গায়ক পাখি নয়। আরো জানলাম কোকিলও গায়ক পাখি নয়। বিজ্ঞানীগণ বলছেন – ‘এদের ভয়েস বক্স নেই। ভয়েস বক্স আছে কাকের। কাক গায়ক পাখি।’ বেশ জটিল অবস্থা।

শিল্পীর কাজ এখানেই। বিজ্ঞানের থেকে, বিজ্ঞানীর থেকে শিল্প, শিল্পী সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকে। এমনই এক শিল্পী – গৌরাঙ্গ মহান্ত। তিনি আমাদের কবিতার মধ্যে দিয়ে খুব সুন্দর করে, সুন্দর পাখি ট্রোগনের, সুন্দর গান শুনিয়েছেন। ভয়েস বক্স না থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা না স্বীকার করুক, আমার স্বীকার করতে আর কোনো অস্বস্তি নেই।

শিল্পের কাজ আনন্দ দেয়া। এটা কোনোভাবেই অপ্রয়োজন নয়। বিরাট প্রয়োজন। আনন্দ ছাড়া করা কোনো কাজই কাজ নয়। ওটা একটা দায় মাত্র – দায়সারা মাত্র। যে কাজ আনন্দের মধ্যে দিয়ে করা হয় তাই সুন্দর হয়ে ওঠে, নিপুণ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সমস্ত নিপুণতার মধ্যে একজন শিল্পীর হাতের ছোঁয়া আছে। এবং সেটা একটা শিল্প।

সুন্দর-মনোহর পাখি ট্রোগনের ৩৭টি গান এখানে আছে। সবকটা গান কয়েকবার করে আস্বাদন করলাম।

গ্রন্থের প্রথম গান বা কবিতা ‘পানকৌড়িবোধ’। এ পানকৌড়িবোধ অনেকটা লালনের চাতকবোধের মত। লালন বলেন – ‘মীনরূপে সাঁই করছেন বিরাজ’। গৌরাঙ্গের মাছ হয়তো সেই মাছই নয়। কিন্তু এক অর্থে সকল মাছ আসলে একই। হতে পারে পরমেশ্বর বা সামান্য কোনো পার্থিবও চাওয়া। যাই হোক না কেন, সেটা পাবার বা দেখার বা অনুভব করার জন্য প্রয়োজন চাতকস্বভাব বা পানকৌড়িবোধ। প্রয়োজন অসীম আগ্রহ আর একাগ্রতার। কাব্যে, কবি বলছেন –

“পানকৌড়িবোধ নিয়ে নিমজ্জিত থাকি; একটি মাছের উজ্জ্বলতার পাশে
দেখি জলজ রাজ্যপাট। দেখার জন্য নিমজ্জন অত্যাবশ্যক ভাবি।”
[পানকৌড়িবোধ]

‘মাছ’ বহুবার এসেছে ট্রোগনের গানের মধ্যে –
‘ইভাসকুলার লেক থেকে মাছ উঠে আসবে বলে আমি হিমার্ত প্রভাত থেকে বসে থাকি ধবল বার্চের নিচে।’
[মাছের সৌন্দর্যছায়া]

আবার একই কবিতায় আছে –

‘…মাছেরা জলবক্ষে সাঁতার দিয়ে যায়। আমি অজস্র মাছের ভেতর অনন্ত সৌন্দর্যের ছায়া দেখি; রক্তের উজ্জ্বলতার জন্য ছায়াকে জরুরি বলে চিনি।’

‘আবার কুয়াশা কিংবা ব্রিজ’ কবিতায় আছে –
‘মাছের নীরব আনন্দ অদৃষ্ট জলধারাকে পরিশ্রুত করে কিনা, আমি জানি না।’

মরমিয়া সাধন ধারাতে মাছ যেভাবে পরম সত্তার প্রতীক হিসেবে আসে, ব্যাখ্যাত হয়, প্রায় একই ধরনের পরম সত্তাই গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতার মরমে ধরা পড়েছে। মরমিয়া স্বভাব বা স্বভাবের কথা আছে আরো কয়েকটি বাক্যে। যেমন –

‘প্রাপ্তি চেতনাবাউলকে পূর্ণতার চেয়ে শূন্যতার দিকেই নিয়ত করে চালনা।’
[অন্ধকার ও ট্রোগনের গান]

আবার –
‘তোমার আগুন আমার সত্তাকাল গ্রাস করে – আমি মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠি।’
[ফ্লাওয়ার ডোম]

মরমিয়ারা অবশ্যই তার মরমের সত্তার সাথে এভাবে মিশে গিয়েই চিরঞ্জীব হয়ে উঠতে চান।

একজন শিক্ষক একবার ইংলিস বর্ণ ড হাত দিয়ে সামান্য কায়দা করে লেখেন (কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা বা আমার কম্পিউটার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার জন্য সেই বিশেষ কায়দার লেখা এখানে দেখানো গেল না, তবে বোদ্ধাগণ বুঝে ফেলবেন বলে আমার বিশ্বাস)। তারপর চারজন ছাত্রকে চারদিক থেকে দেখতে বলেন আর জিজ্ঞাসা করেন – এটা কি লেখা আছে? একজন বলল – এটা ডব্লিউ (ড)। তার উল্টো দিকে থাকা ছাত্রটি বলল – এটা এম (গ)। এক পাশে থাকা ছাত্র বলল – এটা ই (ঊ)। তার বিপরীত পাশে থাকা ছাত্রটি বলল – এখানে থ্রি (৩) লেখা আছে। এটি একটি গল্প এবং খুবই সীমাবদ্ধ।

কিন্তু কবিতার ব্যাপারটা আরো ব্যাপক আর বিস্তৃত – নতুন ভাবনা দানে, নতুন দিক উন্মোচনে। মাত্র চারজন বা আটজন বা বারোজনে সীমিত নয়। এটা পাঠকের সংখ্যার সমানুপাতিক। সুতরাং একটা কবিতা পাঠ করে একজনে যা ভাবছে, অন্যজনে তা নাও ভাবতে পারেন।

গণিতবিদগণ গণিত নিয়ে চমৎকার সব কথা বলেন। কেউ বলছেন সবকিছুর ভেতরেই সন্দেহাতীতভাবে গণিত এবং গাণিতিকতা কাজ করছে। জগতের সমস্তকিছুই সংখ্যাতত্ত্বের বিন্যাসে বিন্যাসিত। সবকিছুকেই গণিত দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তখন অন্য গণিতবিদ প্রশ্ন তোলেন – ২ এর সাথে ২ যোগ করলে কত হয়। তখন চট করে উত্তর করেন তিনি – চার। তখন প্রশ্নকারী গণিতবিদ আবার প্রশ্ন তোলেন – ২ ফোটা জল আর ২ ফোটা জল যোগ করলে, কয় ফোটা জল হয়? তখন উত্তরকারীকে চুপ থাকতে হয় বা অহেতুক তর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়।

‘সংখ্যাপদ্ম’ একটি চমৎকার কবিতা। এ কবিতা উপর্যুক্ত দুজনকেই চমৎকারভাবে ধারণ করে আছে। কবি বলছেন –
‘সংখ্যাচরিত্র মনস্তাত্বিক, কোথাও এদের সম্পূর্ণ প্রতিফলন নেই; না শিশিরে, না অপরাজিতায়।’

সকল জিনিসেরই দুটো করে রূপ থাকে। বাইরের রূপ আর ভেতরের রূপ। কবিতার ক্ষেত্রেও তাই। বাইরের রূপটাকে যদি আমরা ব্যঞ্জন ধরি তবে ভেতরের রূপটা লবণ। বাইরের রূপটা যদি পায়েস ধরি তবে ভেতরের রূপটা চিনি। খুব চমৎকার রসগোল্লা কিন্তু এতে একটুও চিনি নেই তবে খেতে কেমন হবে? যদি চিনির পরিমান মাপ মত না হয় তবে খেতে কেমন হবে? কবিতার বা যেকোনো শিল্পের ব্যাপারটাও তাই। এর ভেতর দার্শনিকতা থাকতে হয়, যাতে করে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্বাদ পেতে পারে পাঠক। কবি গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতার ভেতরে দার্শনিকতা আছে বেশ পরিমিতরূপে। এই পরিমিতি কবিতাকে ভারি করে তোলে না, একেবারে হাল্কা করে তোলে না। কবিতা করে তোলে।

‘কর্তিত ঘাসের শরীর শোনায় নবজন্ম উপাখ্যান।’
[কার্ল প্লেস পার্ক]
সমস্ত ক্ষয়ের ভেতরেও জীবনের জয়ের একটা আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে পংক্তিটিতে।

‘আবির্ভাবের চেয়ে প্রস্থান নিশ্চিত…’
[অন্ধকার ও ট্রোগনের গান]

আবার একই কবিতা আছে –
‘পৃথিবী কি বৈপরীত্যের আধার? জীবন-সূর্য ও মৃত্যু-তুষার নির্বিরোধ কি? আনন্দ আছে বলে কি অশ্রুপাত? নির্লিপ্ত যিনি তাকে কেনো কাঁদতে হয়?’

আবার এ কবিতাতেই আছে –
‘জীবিতের জন্য জীবন এবং মৃত্যু – দু-ই মনোভারের কারণ’

‘কবির কোনো বন্ধু নেই।’
[ব্যক্তিগত সুতো]

এসব পঙক্তিতে মানব জনমের নিদারুণ কিছু বিষয় ফুটে উঠেছে। যা সকল পাঠকের মনেই এক ধরনের অনুভূতি দান করবে যা অশরীরী কিন্তু সরাসরি। জীবনকে যে মানুষের হৃদয় যেভাবে চিন্তা করে তেমনভাবেই তার কাছে দাঁড় করে দেয়। যেকোনো কবির জন্যই এটা একটা বড় ক্ষমতা।

কবিতার শরীরে বেশি বেশি বিদেশি শব্দের ব্যবহার অনেকেই পছন্দ করেন না। আমার ক্ষেত্রেও ঐ একই অবস্থা। কিন্তু কোনো ভাবনা প্রকাশ বা চিত্র প্রকাশের জন্য সেই বিদেশি শব্দের প্রয়োগ যদি অপরিহার্য হয়, প্রয়োগটা যদি কবিতার শরীরের সাথে যুতমত মানিয়ে যায়, যদি মনে না হয় যে, শব্দগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে, তবে সেটা মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই।

বিদেশি শব্দের প্রয়োগ বিষয়ে কথাগুলো বলার কারণ, গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতায় প্রচুর বিদেশি – বিশেষ করে ইংরেজি – শব্দের ব্যবহার আছে। শব্দগুলোর প্রয়োগ কেমন হয়েছে সে সিদ্ধান্তে যাবার আগে চট করে কিছু শব্দ দেখে নেওয়া যেতে পারে। ‘স্কাইট্রেন’ ‘টুইটার’ ‘রেইনবো ব্রিজ’ ‘সার্ভার’ ‘সেলফোন’ ‘ফ্লোরটাইলস’ ‘আইপ্যাড’ ‘ওয়্যারড্রোব’ ‘অর্কিড’ ‘রাডার-এরিয়েল’ ‘মেটামরফসিস’ ‘ফ্যাব ল্যাব’ ‘ক্রিস্টাল’ ‘ভাইবার’ ‘ইলেকট্রন’ প্রভৃতি। এরকম আরো অনেক শব্দ আছে। শব্দগুলো দেখে নেবার পর এবার বিচারের পালা আসতে পারে। এসব শব্দের প্রয়োগ সার্থক হয়েছে কি? এগুলোর পরিবর্তে অন্য কোনো বাংলা শব্দ বা পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা যেতো কি?

এসব প্রশ্নের উত্তরের আগে গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতার আরো কিছু বিষয় তুলে ধরা উচিত বলে মনে হচ্ছে। এগুলো হলো – প্রেক্ষাপট, কবিতার বিষয় এবং সময়।

কবিতার প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে দেখতে পাই, গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতায় আন্তর্জাতিকতা আছে। কবিতার ভেতর অবলীলায় উঠে এসেছে ইভাসকুলার লেক, টোকিও বে, কোরীয় পাহাড় থেকে সুরমা, পাড়ার ছোট জলাশয়টি, ঢিবিটি পর্যন্ত। স্কাইট্রেন থেকে জলঘুড়ি। যে কবিতা বা কবিতাগুচ্ছ এতকিছু ধারণ করে তাতে বিদেশি শব্দের ব্যবহার না হয়ে পারে না।

কবিতার বিষয়ের দিকে তাকালে দেখা যায় – এখানে মানুষ মুখ্য হয়ে এসেছে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম – খুব দূরে – বিন্দুসম দেখা যায় এমন দূরে – একটা মানুষ আছে, সে ধীরে ধীরে আমাদের দিকে আসছে বা আমরাই তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সে আর একটু বড় হয়ে উঠছে… আরো একটু… আরো একটু… আরো একটু…। একসময় পূর্ণ মানুষ তার পূর্ণ রেখা-বাঁক নিয়ে দাঁড়াল আমাদের সামনে। গৌরাঙ্গের মানুষ দর্শন কৌশল এবং দর্শানোর কৌশল অনেক এমন। বাইরের রূপ থেকে ভেতরে, একেবারে ভেতরের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিতে চান। মানুষের জ্বলন্ত সত্তা আর বরফ শীতল সত্তার ভেতর নিয়ে যান। সুতরাং এখানে গ্রিক মিথের ‘অর্ফিয়াস’ থেকে শুরু করে ‘ট্রেনের হুইসেল’ পর্যন্ত এসে হাজির হয়। মর্মে বেজে ওঠে।

সময় যেকোনো মানুষের জন্য এবং মানুষ সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের জন্য একটা বিরাট ফ্যাক্টর। এক দেশের মানুষের সাথে আর একদেশের মানুষের মিশ্রণ হচ্ছে অহরহ। এ প্রভাব ভাষা এবং সংস্কৃতির ওপর অবশ্যই অবশ্যই প্রভাব ফেলছে এবং ফেলবে।‘টুইটার’ ‘ভাইবার’ ‘আইপ্যাড’ ‘সার্ভার’ ‘সেলফোন’ ছাড়া সকল দেশের মানুষ অচলপ্রায়। এগুলোর বাংলাকরণ করা, না করা প্রায় সমান। যদিও কবিকে ‘বাতানুকুল’ শব্দ প্রয়োগ করতে দেখা গেছে জলঘুড়ি কবিতাতে। কিন্তু আমরা খুব ভালো করেই জানি ‘এয়ারকন্ডিশন’ শব্দটি ব্যবহৃত শব্দের চেয়েও বেশি ব্যবহৃত এবং সহজবোধায়ক। সুতরাং গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতাতে যেসব ইংরেজি শব্দ এসেছে সেগুলো প্রয়োগ বেমানান বলে মনে হয় না।

আরো দুটি শব্দ কবিতাতে ব্যবহৃত হয়েছে যা বেশ চমকপ্রদ। মানুষের সাথে মানুষের, ভাষার সাথে ভাষার, সংস্কৃতির সাথে সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটছে বলে যা বলা হচ্ছিল তার চমৎকার উদাহরণ বলে আমার মনে হয়েছে। ‘শীতফোবিয়া’ এবং ‘স্নো-স্বপ্ন’।

শিল্পের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কোনো মত, কোনো পথ নেই। যেমন নেই এর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। এটা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। এটা অসীমতা। এটা বিশাল স্বাধীনতা।

গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতা পাঠ করে যা যা মনে হলো তা তা বলা হলো শুধু। সমালোচকসুলভ কোনো পাণ্ডিত্য এবং সমালোচনাসূচক কোনো সুর এ রচনাতে নেই। তবে একজন পাঠক হিসেবে এটুকু বলতে পারি ‘ট্রোগনের গান’ পাঠ করে বিফল মনোরথ নিয়ে ফিরতে হবে না। মধুসুর শোনা যাবে ঢের।


আলোচক-কবিঃ

আনিফ রুবেদ

আনিফ রুবেদ

আনিফ রুবেদ। ১৯৮০ সালের ২৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চামাগ্রাম নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ: পৃথিবীর মৃত্যুদণ্ডপত্র (অনন্যা, ২০১১), এসো মহাকালের মাদুরে শুয়ে পড়ি (ঐতিহ্য, ২০১৫)।
গল্পগ্রন্থ: মন ও শরীরের গন্ধ (ঐতিহ্য, ২০১৪)।

পুরস্কার: জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০১২।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E