৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ২৯২০১৭
 
 ২৯/০৭/২০১৭  Posted by

আমীর আজম খান-এর ৬টি কবিতা


ওমজল

তোমার আলোরেখা হাতছানি সম্ভবে মন রাখি
তা বলে কচুপাতা পারদবিন্দুর তরলতা সইতে পারি না
পাতা ঝরা পথেয় মেলাই দিনলিপি ও ভাবসমগ্র
সবগুলো পোষাকের মধ্যে ঋতুরা যাওয়া-আসা করে
পাল্টাই জলহাওয়ার কামিজ শেমিজ
উল্টাই মন্ত্র তন্ত্র যপধ্যান মোক্ষম নামাবলি
দূর জানালার নকশা উগরানো তোমার ঊর্ধাঙ্গ
জলের ওপর ঝাঁকভর্তি কাচপোকার পায়ে কেটে যায় যন্ত্রণার জালিপথ
যেন মিলিয়ে যেতে থাকে মিহি প্রলয় সূক্ষ্ণ ঢেউ, হাহাকার ওমজল ছলকে রোদন!


পেখম

বিড়ালেরা আচড় কেটে চলে এপাড়া-ওপাড়া গাছের বিন্যাস ভেবে
অচিন গন্ধের টানে আমার ঠোঁটে ঝুলেছে বাতাসখণ্ড
যার সুরযাদু খুবরে তোলে প্যাঁক থেকে শোল টাকি
পেঁয়াজ শর্ষে লঙ্কায় পোড়াভর্তা …খুব হবে দুপুরের সৈকত তপ্ত দারুণ!
অতএব দাঁও মারো লোলুপ জিভ নাব্যতার নদী
পর্দায় কথা কও যে অতীত তাঁতবোনা দীঘল তন্তুর
রঙচঙে চোঙায় ফুঁকে যাওয়া গান, দেহাতির সাধপুরাণ
শূন্য বাহিত মই আমাকে চেনায় এপাড়া-ওপাড়ার জলছাপ
সেইসব গোধূলি আবাস স্যাঁতসেতে স্মৃতি পেখম ময়ুরীর


গেহভার

সবুজগুচ্ছ ছোলার চটচটে অম্লে পায়ের পাতার জ্বলুনি
এভাবে বিচ্যুতি ও ত্রুটি গুণতে গুণতে রোজ চলে যাই অপরাহ্নে
রাতে আলো নোভানোর পর আমি ভেঙে পড়ি
দিনের নির্মাণ তুচ্ছ করে খুঁজেও পাই
প্রায় অর্ধ সহস্র হাড়ের ফসফরাসে জ্বলতে থাকা
অনুভবগুলো যেন জোনাকের মেলা
আর সমগ্র পৃথিবী বেষ্টন করে রাখি আমার তন্ত্রীতে কশে!


পথিক

বিকেলটা কথা কওয়া পরিভাষাময় প্রচ্ছদ
হাত নির্ভরতায় সূক্ষ্ন, কণ্ঠ ক্রমেই ডাহুকমন্দ্র
একটা সরলতার ধুলো তৃতীয় নয়ন এড়িয়ে বাজালো বিদায় সিন্থেথাইজার
সবার লহমার বুঝ জানি আমার সারাটি জীবন
ধুলো কাদা রোদ বৃষ্টির কোনো মোড়ক হয় না তাই


বটিকা

বেদনার তলদেশ খুঁড়ে মুক্তো নুড়ি রত্ন ঝনঝন
তাই ঘাম জবজবে দূরত্বের ছায়ায় সমুদ্র সেচি
অর্ধজাগর ভরে এক লুপ্ত শালকাঠ সেও দেয় আশ্বাস গম্ভীর
ঝঞ্ঝা কী চিরদিনের, মুগ্ধতা কী মাতালের বড়দা
চেতনা বিলুপ্তির ডানহাত, খুব তার তম্বি?
বিচ্ছেদ পর মনোভূমি উড়নীতে বাজে সংলাপঝড়
ওড়ে শব্দশর খড়কুটো স্মৃতি ও স্বপ্ন
বহু ব্যবহৃত রুপোলি পর্দায় সওয়ারীর খেয়া
অর্থহীন বলো না, এ যে মনের ভেষজ প্রলেপ
বিক্ষত শালকাঠ বল্কলে শিহর সঙ্গীত
ত্বকের সুস্থতা পরিবাহী।


বিন্তির জন্য এই মন

সারাদিন পায়ে পায়ে ঘোরে নম্রনত প্রত্যাশা আলো
অদৃশ্যলোকের সেই রশ্মি তন্ময় জাগে
সবুজ পাতার ফ্রকে মনে হয় ফুটফুটে শিশু এক
আমার করতলে নাচতে নাচতে টুপ করে ঘুমে ঢলে পড়ে

প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আসে সেই ফল পাকে
আর আমরা বুড়ো হই মিলেমিশে বটপাকুড়ে
স্নায়ু ত্বকে দূর সৌরমণ্ডলী থেকে নেমে আসা অচেনা সংকেত
ফিরবার তাড়া
তাকে আমি অশনী বলবো না
অনাগতের জন্য রেখে যাব প্রাজ্ঞসঙ্গীত উত্থানপতনের স্বরলিপি খাতা
অলঙ্ঘনীয় প্রকৃতির রূপায়ন অবিনাশী তার ডাকনাম
পাতারা সবুজ ফ্রক বদলে হলুদিয়া গান গায়
অজস্র চিত্তের দাবি নিয়ে আমি তাকে ঝরতে দেব না- না না!

 


আমীর আজম খান

আমীর আজম খান

আমীর আজম খান। জন্ম ১২ ডিসেম্বর, উনিশ শ সাতষট্টি সাল। কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুরে। পিতাঃ আব্দুল মজিদ খান, মাতাঃ সুফিয়া খানম। শৈশব-কৈশোরেই প্রকৃতির নানারূপ বর্ণগন্ধ ঋতু পরিবর্তনে ভিন্ন ভিন্ন চিত্রকল্প কবির অনুভূতিতে আলোড়ন তুলে স্মৃতির ভাণ্ডার সমৃদ্ধি করেছে। প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ছোটকাগজ ‘ফুলে ফুলে’। কৈশোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ছোটকাগজে নিয়মিত লেখালেখি ছিল। এ পর্যন্ত পাঁচখানা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম কবিতার বই বিপন্ন বণিকের দীর্ঘশ্বাস ২০০০ সালে। ২০০৬ এ পারিজাত প্রকাশনী থেকে যে কুসুমে জলের ঘ্রাণ, ২০০৯ এ পলল প্রকাশনী থেকে মাছের মুদ্রায় আছি ও ২০১০ এ পারিজাত থেকে স্বপ্ন জলে ব্যবচ্ছেদ, এবং কোলকাতা বইমেলা উপলক্ষে ২০১০ এ সাংস্কৃতির খবর থেকে শেকড়ের স্বপ্ন নীলজল নামে একটি কবিতার বই বেরিয়েছে। ‘উমেদ’ নামে একটি অনিয়মিত সংস্কৃতির কাগজের সম্পাদনা ২০০৪ সাল থেকে। এ পর্যন্ত সাতটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর লালন তিরোভাব বার্ষিক উপলক্ষ্যে মহাকাজে মহাধন্য [লালন ঘরাণার কালজয়ী ফকির মকছেদ আলী সাঁইয়ের জীবন ও কর্মভিত্তিক আলেখ্যগ্রন্থ] প্রকাশের অপেক্ষায়।

‘বাউলিয়া’ লালনধাম প্রাঙ্গণ, ছেঁউড়িয়া, কুষ্টিয়া-৭০০১। মোবাইল: ০১৭১৬৩৩৮৭৭১

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E