৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জুলা ০৯২০১৭
 
 ০৯/০৭/২০১৭  Posted by

এহসান হায়দার-এর কবিতা :


বরষা মঙ্গল

গতর কোচর ভরে পড়ছে বরষা, হায় বরষাতি
দিলের ভেতর ফুলছে ইচ্ছের ডানাঅলা হাতি
দরদর দিনভর ঝরে যায় ঘাম যেন ঝরঝর
তখন ভেসে ওঠে মুখ তোর কোকিলের স্বর

হঠাৎ মুখের কাছে আনন্দ হিল্লোলে
পরশির বেলায় সবুজ বৃক্ষ ফুল দোলে
বেগবতী বর্ষা তখন তুমি নেমে আসো
সলজ পৃথিবীতে নরম নদীতে ভাসো

জ্যৈষ্ঠমধু ছুঁয়ে যায় ভ্রমরের মনে মনে
হলুদ ডানাওয়ালা পাখি নামো ততক্ষণে
গেওয়া শিরিষ নিশিন্দার ছায়ার বনে
ফিরিছে বর্ষা এবার যেন ভরা যৌবনে।
——


বহুদূর

সরে যাচ্ছে মাটি
ইঁদুরশিকার এখন বেড়ালের কম্ম নয়

পা পা করে স্নেহ সরছে
একফালি রোদ ভিজে গেছে জ্যোৎস্নাসহ

দেহের চামড়া ফেটে ফেটে বেরুচ্ছে সবুজ রক্ত
কেবল পিঁপড়েগুলো-
হেঁটে হেঁটে পার হচ্ছে সীমান্ত

অথচ, সমুখে রয়েছে বসন্তী পোনামাছ
চা বাগানে কেটে যাবে আরও কিছু রাত

বহুদূরবর্তী একটা গ্রাম সহজ হয়ে আসছে…
———


দোয়েলপাখি

দোয়েলপাখি
কালো পালকের যেন সখ
উড়ে এসে বসে আছ!

ছোট্ট পায়ের কি রূপ- ভোরের হাওয়ায় দুলছে
ঠোঁটে এক চিরন্তন অসুখ- দোয়েল পাখির ডানা
একজীবনে ডেকে ডেকে- চলেছ বাংলাদেশ।
————–


এক ফোঁটা বৃষ্টি

ধুলো ঝড়ের পরে বৃষ্টি
একটা চিরকালের স্ব-ভাব

এই যেমন রোদের পেছনে
ছায়াগুলো ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত
রোদ একবারও বোঝে না।

আর স্নেহময় রোদ কখনও নদী বোঝে না
নাহলে তো বৃষ্টি নামতো- স্মৃতি মেদুর বৃষ্টি

ঢেঁকির নোটের ভেতর বেনাফুল ধান তার
বেদনা থেকে বের করে চিড়ের সৌন্দর্য

নকশিকাঁথার রূপ লুকিয়ে রয় যেন সুঁইয়ের ফোঁড়ে-
যতোবার দিলরুবা প্রজাপতি ওড়ায়

যেন রোদ সরে যায়- নামে বৃষ্টির ফোঁটা, বৃষ্টি
বৃষ্টি আমার ভালো লাগে- বৃষ্টির ফোঁটার মতো।

 

——-


ভেজাজলের গেঁওয়ার মতোন

ভেজাজলের গেওয়ার মতোন রূপশালী গন্ধ বাজারে
কৃষকের ক্ষেত বাড়ে সরল আহ্বানের সুরে আহারে
তৃণ খোঁজা পাখীর ঠোঁটে দৃশ্যত ঘু্র্নায় চোখের শায়ের
ভেসে ভেসে গাঙ্গিনীর মাঝি কুলে তাহার আপন নায়ের
কতো কান্নার আহার সে যে…

বেসাতি যতো পৃথিবীর নিয়ে চলো মহা প্লাবনের দিন
হায়, সে নূরের পিঠে হেঁকে হেঁকে
পিঁপীলিকার দল গেল বেঁকে বেঁকে
যেনো, কোনো ফেরেশতার এবাদত
প্রকৃতির বুকে বুকে সেদিন নামে রাত
হায়, তবু জ্যোৎস্না কুড়ালো কে? কে কুড়ালো সে ঋণ?

আমাদের দেখা হয়নিকো বহুকাল, বহুদূর দেশ
কৃষকের ধ্যান যেনো- দিলরুবার চোখের আবেশ
ভেজাজলের মতোন, ফুল ও বৃক্ষের রূপের ক্লেশ
হায়, গেওয়া! হায়, কৃষক- মৃত আত্মা তুমি অশেষ।
——–


আলোর আঘ্রাণ

তোমার দিগন্তরেখা ছুঁয়ে ছুঁয়ে ওই যে দ্যাখো
এসে গ্যাছে বসন্ত আলোর আঘ্রাণ-দিনসব
বিলের সীমানাজুড়ে প্রহরার বখশিস গোনে
কবি সামান্যই বারান্দার মাছি যেমন ফুল

বাড়ীর দক্ষিণের শীত খোলান পেপুলের রং
আর যতো মাছরাঙা ডুব সাঁতারে সুন্দর
অতিঅল্প তার দিক গড়খালীর প্রকৃত রূপ
ঘামের দামে কিনেছে যে পায়ের মল

কষ্টের জানলা খুলে তারাদের দেশে আর
কে যায় স্নিগ্ধবিদ্যার আগুন যদি সই
তবে তো নরম কাদার মতোন কবি তার
সবটুকু কাঠের আগুনের জ্বালে দেবে ঝর্ণার

যেনো সে দূর অনন্ত গ্রাম থেকে দ্যায় সরল
দৃষ্টির গন্ধ থেকে আলোর আঘ্রাণ…
——-


পরি বিষয়ী

অরন্যে তোমার সঙ্গে দেখা হলো— পরিচয় হলো
ছিলে পরি, ডানা ছিঁড়ে মানুষ হয়েছ…
                                    -সাজ্জাদ শরিফ

এই সব দিগন্ত প্রতিবেশ আলোকছটা
হিরক পাখিটার গায় লেগেআছে

ভোরের চোরাবালি সদৃশ মেঘ
তমালের ডালছিঁড়ে আছড়ে পড়ছে
মৃত জ্যোৎস্নার করতলে;

সরিসৃপ প্রেমিক গণ আমাকে ঢোকায়
সবুজ বনে — শৃঙ্খলে, জিহ্বার রঙ লাল
তোমার মুগ্ধ রূপ জলে ভাসে
জ্যোৎস্নায় পরি হয়ে যায়
পরি এখন মানুষ
দিগন্তে দিগন্তে এই খবর রটে গেলে
আমি রাত্রিকালে জোনাক জ্বেলে বসে থাকি
তারারা নেমে আসে উঠোনে
বলে যায় পরি হারা বার দিন…
——-


গত দিনের

ধূসর পাথর তোমার আশ্চর্য নিরবতা,
আমার ব্যাথা বিহঙ্গ
দীর্ঘ অভিমানের শীতকবে শেষ হবে
——–


গোলাপের মৃত্যু

রোদ ওঠে বাগানে
মৃত মাছ নিয়ে আসে আলোউষ্ণতা
ডানায় হয় নাওড়া
ক্রুশ বিদ্ধ রঙ
গোলাপ শঙ্খের কাঁটা
——

১০
বাবার চশমা বিষয়ে

গীর্জার দিনগুলো শৈশব
রাস্তার ওপাশে খড়ের বাড়ি
বাঁশ ঘেরা সবুজ ক্ষেতে দুলছে হেলেঞ্চা
লাউয়ের ডগায় ঝিঁঝিঁ
আমের মুকুল
ভালোবাসে সকলেই। চকোলেট রঙয়ের প্যান্ট
আর স্কুলশার্ট মাঠ জুড়ে বসে থাকতো
একদল শিশু —এই সকল শিশুরাই মাঝরাতে
ডুমুরের পাতা নাড়তো আর পেঁচার
ডানায় হন্যে হয়ে ঘুরতো
দিগন্ত মহাকাশ
এখন তাদের মৌরি ফুলের ঘ্রাণে পেয়েছে
দীর্ঘ রাত্রি পার হয়ে সূর্যের কাছাকাছি
কখনও পৌঁছানো যায় না—তাই হয়তো
আলো রঙ কিছুই বাবা মা জানেনা
সত্যি যদি বাবার চোখে একটা চশমা থাকতো
বাবাকে বলতে হতো না— সবুজ রঙ কী
আর মাকে ও বলতে পারতাম কীভাবে চমকায়
বিদীর্ণ আলো

 

 

এহসান হায়দার-এর কবিতা ভাবনা : এইসব শব্দেরা বেঁচে থাকে আত্মার ভেতরে…

এক.

অনেক সময় তো মাছের ঝাঁকের মত কিংবা বৃষ্টির শব্দের মত- লেখার ঝাঁক মাথায় আসে, কবিতারা কথা বলে ওঠে আমার সাথে। তেমন কবিতার স্রোত কারও হয় কী? আমি মূলত কবিতা লিখি কী- আমি কী কবিতা লিখি? তবে, আমি কী লিখি? কবিতা কি? কবির ভাষা কি কবিতা, না কি দহন, চিন্তা এবং দর্শন? অথবা প্রান্তিক মানুষের হেঁটে চলা মাটির রাস্তার আঁল ধরে ক্ষেতে? কোনো ঘামজীবী, কোনো বিড়িশ্রমিক, কোনো মাছুরের জালজীবন এসবের চিত্র আঁকা কি তবে কবিতা?

আমার প্রানবন্ত কবিতা জীবন- এই একটিও আমার নাহ। আমি লিখি আসলেই লিখি- ঠিক সে মুহুর্তেই লিখি যখন দিলরুবা আমার চোখে ভেসে ওঠে- কানের কাছে বাতাসের মত শূন্য এক প্রতিধ্বনি, ও- হয়ে আসে। আমি আসলে তখন লিখে নিই। লিখে নিই- সমুদ্রের কান্না আর মুক্ত ডানামেলার চেষ্টায় রত আবহমান বাংলার দোয়েলের উড়ে ওঠার মুহুর্ত! আঁকতে থাকি আমার দাদার মাটির কলসির পয়সা লুকোনোর গল্প, লিখি আমার অনার্যতা- নদীঘেঁষা কৈবর্ত জীবন; কেননা, আমি আমার শেকড়ে বেঁচে আছি, বেঁচে আছি দেশভাগের রক্ত নদীর হাজারো গল্পের পর। এখানে রাজনৈতিক জলজ বৃক্ষচর আর নিন্মবর্গের কবিগানের লীলাভূমি; এইসব শব্দরাই তো বাঁচিয়ে রাখে আমাকে।

একবার চা’র দোকানে ছোট্টখাট্টো বেন্চীতে বসে চা খাচ্ছিলাম- তখন কেমন যেন হতে লাগল ভেতরে- এই যে এখানে বুকের ভেতর। শিরশির ক’রে বাতাসে আমি শুনতে পেলাম কথা বলছে ওহ- তারপর হঠাৎ ও’ ফোন করে বলল- এমন একটা কবিতা আজ আসছে যাহ আমায় অনেক আনন্দ দেবে- এখনি লিখে পাঠাও।
আমি চা দোকান থেকে উঠে চলে এলাম আমার ঘরে- লিখতে বসলাম। লেখা হল আমার সেই কবিতা ‘চুম্বনফুল’। কবিতাটার ভাবনা এবং চিন্তা কেমন লাগবে অন্যদের তা জানি নাহ- তবে আমার সকল কবিতাই হল প্রেমের। পরম-প্রকৃতি-ঈশ্বর এর। এর ভেতরেই তো আমার কবিতা-পরি!

আত্মহনন কিংবা জ্যোৎস্নাস্নানের পর…

রাতের স্কুলে উপনিবেশিক ছায়া জ্বলে ওঠে- ‘একরাশ মেঘ ঘুরে ঘুরে ত্রিকোণ হয়’, তবুও ‘তুমি অরূপের ভেতরে কেবলই এক রূপ’ যেন পরমের আরাধক কবি। প্রেমিকার চোখের স্বচ্ছতার ভেতর অপার রহস্য ঘেরা ‘এক কাচ যেন সে- অনন্ত যাওয়া আসা’। এমন ‘আলোসন্দেহ দিন’ এ পরমের সাথেই তো পার করা যায় ‘নীরবতা’, ‘দীর্ঘ অভিমানের শীত’- তবে কেন কুহক রচনা সময় ও স্থানে স্থানে?

শৈশবের রৌদ্রময় দিন, মেঘমালা, নদী, খালপাড়া, হুঁমোখালীর রক্তাক্ত সময় এবং অনতিদূরে নৈঃশব্দ্যের গোলাপবাগান। প্রেমময় সে সময়, আকন্ঠ ডুব যাওয়া পরিপ্রেম। দুঃখত- সিকিসিকি, স্বচ্ছত্ব এই নিয়ে নাগরিক ঘরের জীবন জীর্ণতা, এরই ভেতর ভুবনডাঙ্গার গল্প, চুনকুড়ি নদীর পার শেষে হাঁটতে থাকা, গীর্জার দো-তলা খাটের রাত্রিসব, দাকোপের ভাঙ্গন, শিবসার তোলপাড় করে ওঠা প্রমত্ত ঢেউয়ে ভেসে ওঠে- ‘আমি বলছি- গোলাপ’, অথচ ‘সুনির্মিত বৃক্ষ-অরন্যে’ মাকে জড়িয়ে থাকা ‘বাবা একটা বটপাতা’। শহরের চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা কতটুকুই দিতে পারে প্রশান্তি? প্রশ্নটা রয়েই যায়;

দুই.

কবিতারা ভিড় করে তখন! তুমি, আমি তখন যেন তরতাজা কবিতা হয়ে ঘুরিফিরি। খুব ছোট্ট বেলাকার নিখুঁত মুহুর্ত যখন মনে হয় তখনও এমন হয়; পিঁপড়া আর কাদা দু’টো যেমন দু-ধরনের ঠিক তেমনি এঁদের মিলও রয়েছে। কবিতার যাপনে কাদা আর পিঁপড়া এসে মেশে।
খুব ছোটবেলাকার অদ্ভূত পোড়া দুপুর আমার ব্যাক্তিক কবিতার সময় ও রূঢ়তাকে ক’রে সরল আর মুখ্যত তখন আমার কবিতা নান্দনিকতায় চমকে দিতে শুরু করে- আঁলের ওপারে বসা বক এবং পাখিসকলের মতো। যখন অষ্টক আর বৈশাখের ছন্দ ফেরে মনে কিংবা নবান্নে মেতে ওঠে কৃষানীর পেটানো মেটে রঙের রূপ তখনও আমি কবিতার সরল রূপ দেখি- যা ওই প্রেরণা দেয় আমায় মহৎ কোনো কবিতা লিখতে। হয়তো তা আসন্ন কোনো সঙ্কটে হবে, নয়তো কোনো প্রচন্ড আনন্দে লেখা হবে- অদ্ভূত ক্ষত বিক্ষত প্রিয় জন্মভূমির সৌন্দর্যে তখন থাকবো বিভোর যেমনটা আমি পরিসোনার চোখে এবং জলজ মায়ার শরীরে দেখি, এই তো আমার কবিতার দেবী- কবিতার রথ!

এইরকম শব্দের পসরা সাজাতে অনেকেই চায়- যা কবিতার মতো কিন্তু কবিতা নয়, কেবল তৈরি করে ধুম্রের তাতে পাঠক ধন্দে পড়ে অর্থের গোড়ায় গন্ডগোল বাঁধে। আমি অমনটি চাইনি, প্রার্থনা কবিতা হোক- আমার প্রতিযাপনের শিরার ভেতর রক্ত কনিকার চলাচলে, হতে পারে তা প্রান্তিক মানুষের কথার পাহাড়ে ঠাঁসা আর প্রেমের বুননে ঘেঁষা শরীরি- এসবেই তো কবিতা। এক অসময়ের কথা, সময়ের কথা- অত্যাশ্চর্য বাক্য আর জরুরি সহজ শব্দে লেখা, যেখানে মানুষ ও শিল্পরূপের মুখোমুখি বসবাস। চৈতন্যময় এক মাটির হাড়ির চোলাইয়ে ডোবা ভোর, যেন গন্ধ ভেসে আসে সদ্য ফোটা ফুল সে কবিতার!

দৃশ্যের ভেতর দৃশ্য এক…
যেন দৃশ্যের ভেতর দৃশ্য লুকিয়ে রয় প্রতিটি মহৎ কবিতা এবং কবিতার শিশু। প্রতি মুহুর্তে আমার কাছে কবিতার দু’টি বিশিষ্টতা বা লক্ষণ চোখে পড়ে- ১. দ্যোতনাময় কবিতা ২. ভাবাক্রান্ত দর্শন নির্ভর কবিতা। এক্ষেত্রে ছন্দময়তা মুখ্য নয়। মুখ্য হলো কবিতার ভাষা নির্মান ও চিন্তা। একটা সময় পর্যন্ত ছন্দ দ্যোতনায় পাঠক আবেগাপ্লুত হলেও এই আধুনিক বাংলা কবিতার যুগে ছন্দের বোধকরি দরকার হয় না- একটা কবিতা হয়ে ওঠার জন্য। বরং একটা প্রকৃত কবিতার ক্ষেত্রে জোরালো বিষয়টি যা- তা হলো, ভাষা এবং চিন্তা(দর্শন)! এবার কবিতাটি গদ্যে হোক বা কেউ ছন্দে লিখুক তার কোনো ব্যাপার এখানে কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। অন্তত যারা ছন্দে লেখেন সে ছন্দের বাইরেও যে কিছু থাকে একটা ইস্পিরিচ্যুয়াল ছন্দ তা ওই কবির ভাবনা থেকেই আসে- আমার নিজের কবিতায় তা আমি বিশ্বাস করি। বেদনাহত কোনো পাখির ডানায় ছন্দ আছে, ছন্দ আছে বৃক্ষের পাতায় পাতায় আমি সে ছন্দকেই গদ্যে রূপান্তর করি, প্রকাশ করি। আর কবিতাকে ছন্দে লিখে কখনও স্বস্তিবোধ হয় কি? আমার কাছে কোনো স্বস্তি নেই। তবে ছন্দ, মাত্রা জানাটাও জরুরি মনে করি- তবে কি না একটা ভালো কবিতার স্রষ্টা রূপে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করা যায়।

অন্যদিকে- নিজের ভাষা নির্মানের জন্য তৎপরতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একজন কবির জন্য তা আমার কাছে একান্ত ভাবনা।
আমি মনে করি- আমার যাত্রা সে দিকেই রয়েছে। আলোর যাত্রীর মতো- একজন কবি সব সময় এই যাত্রা অব্যাহত রাখেন- আমিও রেখেছি। কেননা, আমার ভূমির গল্প, আমার বেদনার গল্প, আমার বেড়ে ওঠা শিবসা চরের গল্প, আমার মিশনারীর ছেলেবেলা এবং আমার আনন্দের গল্পটি আমার কবিতায় প্রকাশ করা আমার জরুরি; আর এর মধ্য দিয়েই তো আমার কবিতার দৃশ্যের যাত্রা হবে- হবে ত্রিকোণ দহনমালার দৃশ্যময়তার কবিতা যাপন।

 

কবি পরিচিতি

এহসান হায়দার

এহসান হায়দার

এহসান হায়দার। জন্ম : ৩০ মার্চ ১৯৮৪ সাল। পৈত্রিক নিবাস খুলনা। লেখার আগ্রহের বিষয় কবিতা, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য। সম্পাদনা করেন শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘রূপকথা’।

প্রকাশিত গ্রন্থ : আলোর আঘ্রাণ(কবিতা) ২০১৬, লাল পাহাড়ের রহস্য (শিশু-কিশোর গল্প) ২০১৭, বোবাই (শিশু-কিশোর গল্প) ২০১৭।

 

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E