৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৪২০১৬
 
 ০৪/১২/২০১৬  Posted by
আফজল আলি

আফজল আলি

সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় চিত্রকেল্পর ব্যবহার
– আফজল আলী

ইমেজ বা চিত্রকল্প কবিতার অন্যতম উপাদান কিন্তু তা কবিতার বহিরঙ্গের বিষয় নয়। ইমেজ হচ্ছে কবিতার অন্তর্গত বিষয়। Imagery is the name given to elements in a poem that spark off the senses. এটা শুধু ছবি নয়। পাঠকের পাঁচ ইন্দ্রিয়কে জড়িয়ে রাখে কবির কবিতা দ্বারা। কবির যে sense experience তা ভাষায় প্রকাশিত। কবিতায় কবির উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কখনও সংহতি,  কখনও ব্যাপ্তি ও বৈচিত্র্য দানের প্রযোজনেই চিত্রকল্পের জন্ম। এখানে মনে রাখা প্রযোজন চিত্রকল্প বিচ্ছিন্ন ভাবে কবিতা নয় বটে কিন্তু কবিতার উপাদেয় উপকরণ। ইমেজ হচ্ছে ইন্দ্রিয়বেদ্য অনুভূতির প্রকাশ। তবে ইমেজ কেবল সাধারণ চিত্র বা ছবি নয়। ইমেজ হচ্ছে আমাদের ইন্দ্রিয় চেতনার দৃষ্টি, স্পর্শ ঘ্রাণ স্বাদ ইত্যাদির উদ্বোধক। ইমেজ একধরনের চিত্রোপমা। সম্ভবত এ কারণেই চিত্রোপমা কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন – উপমাই কবিত্ব। ইমেজে অন্যান্য অলংকারও পরস্পরিত হয়ে থাকে। কবিতায় কবির শ্রবণগ্রাহ্য অভিজ্ঞতাকে ও বক্তব্যকে দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপদানের প্রযোজনে ইমেজ বা চিত্রকল্পের ব্যবহার অপরিহার্য। ইমেজের ফলেই কবিতার অনুভূতিগুচ্ছ ভিসুয়াল সামগ্রীর উপাদেয় উপকরণ হয়ে ওঠে। সে কারণেই বাংলা কবিতায় ইমেজের ব্যবহার এখন পৌনঃপুনিক।

জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা প্রবলভাবে লক্ষ করি –

*
হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে
শুধু শিশিরের জল
অঘ্রাণের নদীটির শ্বাসে। হিম হয়ে আসে
বাঁশপাতা মরা ঘাস – আকাশের তারা
বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা

*
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য –

*
এই কথা বলেছিল তারে
চাঁদ ডুবে গেলে অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে –

পোস্টমডার্ন কবিতায় চিত্রকল্প হয়ে গেছে ভঙ্গুর। কারণ বাস্তব থেকে প্রতিনিয়ত এত বেশি সংকেত এত দ্রুত আসছে, আছড়ে পড়ছে কবির মাথায় যা কোনো একটাকে স্থায়িত্ব দিতে পারছে না। দৃশ্যপট পাল্টে পাল্টে যাওয়ার ফলে ইন্দ্রিয়ানুভূতির এলাকায় ঘটেছে নিরন্তর ভাঙচুর এলোমেলো। আধুনিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও পোস্টমডার্ন কবি প্রভাত চৌধুরীর মধ্যে ভাষা ও রচনায় ফারাক হয়ে যাচ্ছে। মডার্ন কবি ছিলেন সমানুপাতিক ভারসাম্যে, তাদের মাথায় থাকত সরল বার্তাপ্রণালী সমন্বিত সরল কোড। পোস্টমডার্ন কবিকে নিজের মস্তিষ্কে নথিভুক্ত করতে হচ্ছে অমন হাজার হাজার কোড।

মডার্ন কবিদের কাছে ঘোরাফেরা করত অর্থের ঝোঁক  ( meaning )। সব কিছুর মধ্যে একপ্রকার মানে বা অর্থ খোঁজার প্রবণতা। তাই চিত্রকল্পের মাধ্যমে কবি কিছু একটা বোঝাতে চাইতেন। পোস্ট মডার্ন কবিরা সেই অর্থের খোঁজটাকেই অস্বীকার করলেন  ফলে চিত্রকল্পের ব্যবহার পরিবর্তন হতে লাগল।

এখন কবিতায় কবি খুব সরাসরি কথা বলছেন। ‘মতো’ তত্ত্বকে প্রায় বাতিলের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। কারণ এই জগতে কেউ কারো মতো নয়। প্রত্যেকে স্ব স্ব তার নিজের মতো। তাই জীবনানন্দের’ ‘মতো’ ব্যবহারের সাম্রাজ্য এখন আর নেই। তাই বলে কবিতায় যে চিত্রকল্প ব্যবহার হচ্ছে না তা নয়। কিন্তু তার ভাষা ও বিন্যাস পাল্টে গেছে।

প্রকৃতপক্ষে, কবিতা সৃষ্টি হয় nothingness থেকে। Theory of nothingness means it involves not particularly but everything. কবিতা লেখার প্রাক্ মুহূর্তে কবি নিমজ্জিত হন একপ্রকার জ্ঞান শূন্য অবস্থার মধ্যে, তিনি কিছুই জানেন না কী লিখবেন,  কেমন লেখা হবে,  না জানেন তার ভাষা ও বাক্যরূপ। কেবল এক ইন্দ্রজালিক ঘাও তাকে ধাবিত করে,  এক শব্দ টেনে আনে অন্য শব্দকে। কবিতা সৃষ্টির সেই বিশেষ মুহূর্তটি হয়ে ওঠে a state of nothingness. কবি যেদিকে ইচ্ছা যেতে পারেন – বিষয় থেকে বিষয়হীনে, এলোমেলো।

তাই কবির সামনে যা ঘটছে কবি সরাসরি তুলে আনছেন। কোনও প্রকার ভনিতা করছেন না। নিটোল আবিষ্কারের নেশায় কবি ধাওয়া করছেন স্বপ্ন ও দেখার বিন্যাস।  প্রকৃতপক্ষে দেখাই হয়ে উঠছে কবিতা তা বাস্তব হোক অতিবাস্তব হোক বা অবাস্তব বা magic reality  জাদুবাস্তববা। কবি যা ভাবছেন তাই লিখছেন। কল্পনার প্রতিচ্ছবিগুলো সরাসরি নামিয়ে আনছেন ভাষায়। যেমন – – জলের কার্নিশে বসে অতিশয় পয়মাল করছি – – এটি একটি চিত্রকল্প কিন্তু দেখলে মনে হবে কবি নিজেই এর মধ্যে নিবিষ্ট।

আসলে চিত্রকল্প ও কবিতা এমন পরস্পরের মধ্যে উপস্থাপিত হয়ে থাকে যে চিত্রকল্পকে আলাদা করা যায় না কবিতা থেকে। কবিতা বিন্যস্ত হতে থাকে চিত্রকল্প নির্ভর করে যেখানে শব্দ ও ভাষার জায়মানতা যেন তার অন্তরের স্পন্দনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কবি চিত্রকল্পের আশ্রয় নেন কারণ তাঁর পক্ষে সোজা হয় তাঁর ভাবকল্প চিন্তা স্ফূরণ উত্থান অবনতি, হৃদয়ের আবেগ, কম্পন, মস্তিষ্কের জারণ, ইন্দ্রিযের অনুভব, স্পর্শযোগ, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট, বহুরৈখিকতা,  রাইজোমেটিক চরিত্র,  parallel thinking,  হতাশা হাহাকার প্রতিশোধস্পৃহা দংশন ইত্যাদি যাবতীয় এবং অযাবতীয়, আছে নাই, যা হতে পারে,  যা হতে পারে না, সমস্ত সম্ভাবনা এবং দূর নৈকট্যের সামঞ্জস্য ও অসামঞ্জস্য,  সব দিকচিহ্ন এলোমেলো করা এবং একটি অবয়ব ও অবয়বহীনতা — এত সবকে ভাষায়িত করা।

কবি নিরন্তর খোঁজেন, আর এই খোঁজের মধ্যে নিঃশব্দে চলতে থাকে বিবর্তন। চিন্তার বিবর্তন,  শব্দ প্রযোগ ও ব্যবহারের বিবর্তন। তাই চিত্রকল্পও বিবর্তিত হচ্ছে। এলিয়ট জীবনানন্দ দাশ এবং পরবর্তী সময় যে প্রখর চিত্রকল্পের প্রয়োগে কবিতা মুখোরিত হয়েছে তার ধারা আজ বিবর্তিত। কবিতার ভাষা ভাষা পাল্টে পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথে সব কিছুই পাল্টাচ্ছে।

কবি কামাল হোসেনের কবিতার অংশ – –

“আপন সহচরের কানের পাশে মুখ রেখে
অনেক ক্ষণ কথা বলে যাচ্ছিলেন বিচক্ষণ মানুষটি
চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা,  মাথায় সামনের দিকে অনেকখানি টাক
তীক্ষ্ণ নাকের নীচে মোটা ধূসর গোঁফ
মুখের সামনে নিজের হাতের প্রতিরোধ
– – –    – –  –     – –    – –
– –  –    –  –   –    –     –  –  
বোঝা যাচ্ছে,  খুবই গোপন কথা,
হয়তো ষড়যন্ত্র কারো ভিটে উচ্ছেদ হবে কিংবা লাশভরা কফিন”

কবিতাটিতে কবি সরাসরি তুলে এনেছেন যা তিনি দেখছেন এবং দেখার বাইরে যা অনুভব করছেন। কবিতাটিতে কোথাও কোনও ভান বা ছল নেই,  নেই তুলনা বা compare করার ঝোঁক। কিন্তু কবিতাটি আসলে একটি ছবি। বাস্তবে উপস্থিত ছবি কবির চোখে reflect হয়ে কবিতায় রূপ পেল। কিন্তু পাঠক যদি দেখেন শব্দের ব্যবহারে কীভাবে পাল্টে গেছে চিত্রকল্প।

কবি প্রভাত চৌধুরীর একটি কবিতার অংশ  আলোচনা করতে পারি – –

“ইচ্ছা এবং অনিচ্ছার ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে একটা কোশ্চেনমার্ক
আমরা যতই হম্বিতম্বি করি , প্রত্যেকেরই জানা আছে নিজ নিজ ডোরবেলের শব্দ
কাজেই দরজা খোলার আগে দেখে নেওয়া উচিত পেলমেটের ঠিক কতটা উপরে নাৎসিবাদের লিফলেট সাজানো আছে”

ভালো করে লক্ষ করে দেখুন পরিবর্তিত ভাষা এবং পরিবর্তিত চিত্রকল্প। কবিতাটিতে সমস্তটাই একটি চিত্রকল্প এবং চিত্রকল্পের সাথে কবি মিশিয়ে দিচ্ছেন নিজের সামনে ঘটে যাওয়া সংক্রমণ। যা ঘটছে না বাস্তবে কিন্তু কবির চোখে। দেখুন এলিয়ট বা জীবনানন্দের চিত্রকল্প ব্যবহারের চেয়ে কত ফারাক। মনে হচ্ছে যেন আপনা থেকেই ভেঙে যেতে চাইছে। কোনও স্টাম্প লাগানো ছবি নয়।

আর একটি কবিতা দেখুন – –
“আমার রক্ত আমাকে পশ্চিমদিক শেখাচ্ছিল
এবং আমিও তা মেনে নিচ্ছিলাম
এখন আমার ঘামের রং সাদা
– –  –    –  –   –     – –
–  –   –   –   –   –   –  –
ভালো করে জড়িয়ে দাও, শেষটা আমাকেই করতে হবে
মনে পড়ছে না ঠিক কত দামে আবেগ কিনে ছিলাম”

দেখার তীব্রতায় কবিতা কোথায় উঠেছে। শব্দ তার জড়তা,  আবেগমথিত ও যাবতীয় দোলাচল কাটিয়ে ঝরঝরে স্মার্ট প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। এখানে চিত্রকল্পের প্রয়োগ ঠিক সেভাবে নেই যেভাবে কবি মানসলোকে ছবি আঁকেন। এখানে আছে ঘটমানের রূপ যা কবি দেখতে পান এবং সত্যিই ঘটছে।

সময়ের সাথে সাথে আধুনিক যুগ থেকে উত্তর আধুনিক যুগ এসেছে বিশ্ব ব্যবস্থার বিভিন্ন অবস্থানের প্রেক্ষিতে। কবিতাও সেই মর্মে পাল্টে পাল্টে যাচ্ছে। আধুনিক কবিদের ভাষা আর উত্তর আধুনিক কবিরা ব্যবহার করছেন না। ভাষা বলতে শব্দের প্রযোগ; নতুন ভাষা,  নতুন শব্দ কিন্তু সেভাবে সৃষ্টি হচ্ছে না,  হওয়াটাও অত সোজা নয়। কিন্তু যা লক্ষ করা যাচ্ছে কবিতার সরলীকরণ। কবিতা ক্রমশ সহজ হয়ে উঠতে চাইছে। সাধু শব্দের প্রযোগ থেকে কবিতা সরে এসে এক্কেবারে চলিত শব্দে কথ্য শব্দে ঢুকে পড়ছে কবিতায়। বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে বিষয়বস্তুহীন। ঠিক সেভাবেই চিত্রকল্পের ভাষারূপ পাল্টে যাচ্ছে ।

যেমন কবি বীরেন মুখার্জীর একটি কবিতার অংশ :

“চোখের পাতায় আছড়ে পড়ছে নীল জল, নীল বুদ্বুদ, ঝিমঝিম ভেঙে যাচ্ছে মস্তিষ্কের নিউরন,
কুয়াশা পরিখা হেঁটে যাচ্ছে ক্রমশ সেলুলয়েডে
– –    –  –   –  –   – – – – –  – –
– –  –    –    –    –    –   –   – –
লাবণ্যময় সাদা নার্সের স্পর্শ,  দ্যুতিময় কোলাহল
আমার অস্তিত্বে ভুলের জয়োল্লাস
সময় ভেসে যাচ্ছে অভিজাত ক্লিনিকের শ্বেত শুভ্র কৌতূহলে
        মৃত্যুর কাছাকাছি একদিন”

মৃত্যুর অনুভবকে সাজিয়ে তুলতে কী দারুণ চিত্রকল্প এঁকেছেন কবি যেখানে শরীরের সাথে অভিজাত ক্লিনিকের এক অন্যমনস্কভাবে গড়িয়ে যাওয়ার রূপরেখা যেন সামনে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু আর শরীর ঘনিষ্ঠ হচ্ছে সেদিকে।

কবি কুমার চক্রবর্তীর কবিতার অংশ :

“মানুষ যেভাবে ভাবে,  সেইভাবে ভেবে ভেবে বালিহাঁসগুলো উড়ে যায়। সন্ধ্যাতারা কে পিছনে ফেলে দূরে উড়ে যায় তারা – – বালিহাঁসেরা

আমি ওড়াউড়ি নিয়ে ভাবি, আর নিভৃত ওড়ার মৃদু অভীপ্সাগুলোকে গোপন করে”

মানুষের চলমান ভাবনার সাথে চলে এসেছে বালিহাঁসের উড়ে যাওয়ার ছবি যে ছবি কবির একান্ত ব্যক্তিগত মানসপটে। এখানে বালিহাঁস ও কবির মন চিত্রকল্পে জুড়েছে।

কবি গৌরাঙ্গ মোহান্ত’র কবিতা :

“পানকৌড়িবোধ নিয়ে নিমজ্জিত থাকি
একটি মাছের উজ্জ্বলতার পাশে দেখি জলজ রাজ্যপাঠ
আমরা কৃষ্ণ তা পানকৌড়ির ঐশ্বর্যে রঞ্জিত।
আমার প্রার্থনার ভিতর মাছের অলৌকিক পুচ্ছের অবিকল্প বিকিরণ”

কবি পিয়াস মজিদের কবিতা :

“গন্ধ বণিকের মহল্লা ছেড়ে তুমি বারবার ঢুকে পড়ছো বাদাম বাগানে
খুলবে যেন রহস্যের রেশমি গিঁট”

কবি পিয়ালি বসুর কবিতায় : –

“নিভৃতি ছুঁয়ে যাওয়া রাত
স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিবেশে যা হওয়া উচিত
তার চেয়ে বাইশগজ পিছিয়ে – – ফেলে আসা সম্পর্কের মলাট ভাঙছি”

উপরের কবিতাগুলোয় পাঠক দেখতে পাবেন চিত্রকল্প কীভাবে পরিবর্তিতভাবে প্রত্যেকের স্বতন্ত্রতা নিয়ে ভাস্বর। মনের ও ভাবের অন্ধকারের এক আলো রূপ।

এছাড়া শক্তিশালী কবি পাবলো শাহী, হাসান রোবায়েত, আহমেদ শিপলু, খালেদ রাহী, গিরীশ গৈরিক, কোয়েলী ঘোষ – এঁদের কবিতায় দেখতে পাওয়া যায় চিত্রকল্পের বহুমুখী ব্যবহার। প্রত্যেকেই উজ্জ্বল।

আমরা অনেকেই হয়তো পোস্টমডার্ন বা উত্তর আধুনিক শব্দটিকে অস্বীকার করতে পারি বা করছি আমাদের দৃষ্টির ও চিন্তাশক্তির ও মেনে নেওয়ার ক্ষমতার দোলাচল হেতু। কিন্তু কবিতা আপন নিয়মে, নিজস্ব তাগিদে পাল্টে যাচ্ছে; চিত্রকল্পও ঠিক কবিতার সাথে সম্পৃক্ত হতে হতে অন্যরূপ অন্য ভঙ্গিমায় গড়িয়ে চলেছে কারণ ইমেজকে কবিতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা বা আলাদা করা যায় না। চিত্রকল্প ঠিক অলংকার নয়, কবিতার প্রাণ ও শৈলির অন্যতম যোগ। যেমন দেখার তারতম্যে কবিতার প্রকার ভেদ হয়, তেমনই কবিতা নিজেও বিভিন্নতায় বিশ্বাসী আস্হাশীল। তাই কবিতা বিভিন্ন রকমের। তেমনি চিত্রকল্প। অদেখার,  অকল্পনার স্তর যতই উন্মোচন হবে, ততই চিত্রকল্প পাল্টাবে। তাই বলে আগে যা সৃষ্টি হয়েছে তা বাতিল নয়। সব কিছুকে নিয়ে এক এবং সংযোজনে সংশোধনে সমৃদ্ধ এবং একটি চলমান প্রসেস যার শেষ নাই।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E