৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৪২০১৬
 
 ০৪/১২/২০১৬  Posted by
শ্যামলী সেনগুপ্ত

শ্যামলী সেনগুপ্ত

কবি পরিচিতি
শ্যামলী সেনগুপ্ত। জন্মস্থান: ওড়িষার কটক শহরে, ১৪ই অক্টোবর ১৯৬০। বিজ্ঞানের স্নাতক। প্রথম লেখা ওড়িয়া ভাষায়। ১৯৮২ থেকে ২০০২ পর্যন্ত বিরতির পর আবার নতুন করে শুরু–গণতান্ত্রিক লেখক-শিল্পী সংঘের সংস্পর্শে এসে। ভালোবাসেন লোকগান লোকজন লোকগাথা। ভালোবাসেন যে কোন দেশের ক্ল্যাসিক ছবি দেখতে; পছন্দ করেন ভালো নাটক দেখতে। পেশায় গৃহশিক্ষিকা  –কবিতা যাপন–শিলিগুড়ি গণতান্ত্রিক লেখক-শিল্পী সংঘের মুখপত্র ‘সংবর্তিকা’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখেন।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ঘুঘুসই পর্যটন (২০১২); পতত্রী ও প্রাণপুরুষ (২০১৫)।

কবিতা-ভাবনা: কবিতা আমার কাছে রক্তকরবীর নন্দিনী।

শ্যামলী সেনগুপ্ত -এর কবিতাগুচ্ছ:


ঝাঁঝরি

আমার জানালায় যেটুকু আকাশ
তার ওপারে
শ্রাবণ চোখে
দাঁড়িয়ে থাকেন
আমার বাবা*** ***
অশ্রুজল ধুয়েদেয়
আমার ক্লান্তি
ধুলো আর বিষণ্ণতা আমি শুদ্ধ হতে থাকি
ক্রমশঃ*****
জল ঝরাতে ঝরাতে
বাবা ঝাঁঝরি হয়ে যান
স্নানঘরের অথবা
মালঞ্চের*** *** ***


প্রশ্নবাচক

ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছি তোকে
একটু একটু করে এঁকে দিয়েছি
চোখ ঠোঁট আরো আরো যাবতীয়
সুতোয় গেঁথেছি হাত-পা
কুনকের মাপে বোধ ও চেতনা

ক্রমশ প্রশ্নচিহ্ন তুই
গায়ে-গতরে বেড়ে ওঠা প্রশ্নবাচক—
হাত বুলিয়ে দিই প্রশ্নের গায়ে

তোকে ভালোবাসি বলেই


নদীটির নাম গ্রে

গ্রে রঙের নদীর জলে
একটা আস্ত মেঘ ভেঙেপড়ে
চলকেযায় জল
আর    পড়ন্তবেলার আশ্বাস


পড়শি

এই তো পেতেছি পিঁড়ে, পাদ্যর্ঘ্য
আঙনের ধার ঘেঁসে আলিম্পনরেখা
এসো।
পাশাপাশি বাস ও বসত
বিনিময় সু-সম্ভাষণে
হয়তো থেকেযাবে
দু-চারটি মতের অমিল
তবুও তো পাশাপাশি কাছাকাছি
যাপন পর্যায়ে —
নান্দীমুখ    আমরা পড়শি


জলখেলা

তোমাকে দেখবো বলে জলের লাবণ্য ভাঙিপায়ের পাতায়
ভাঙা ঢেউয়ে ঊনকোটি ছায়া
বালির অতলে খোঁজে জলজ স্ফটিক
নদী তখন অন্তরঙ্গ হয়।

দু’প্রহর
আড়মোড়া ভাঙে
বেলা পড়ে, পড়ে থাকে  নৌকো মাঝি দাঁড়
অবেলার আবছায়া সুখরতিসার

দহন-তৃষিত বেলা
ছুঁয়েথাকে জল
ডুবেযায় শঙ্খশুক্তি
চক্রাসনে ভেসেথাকে   অষ্ট-শতদল


বান

সবটুকু নৈশব্দ্য পেরিয়ে
তুমি আছড়ে পড়ো আমার ঘাটে
চরাচর জুড়ে বান ডাকুক
আর    আমরা ডুবতে থাকি
ক্রমশ**
ক্রমশ**


আছি হে বিন্দুতে আছি

সবটুকু উত্তল ও অবতল
মায়াবী আলোয় বিচ্ছুরিত হতে হতে
পৌঁছেযায় গ্রীনরুমে।
সেখানে রূপশিল্পীর ষড়যন্ত্র চলছে
মুখোশের  সাথে**
মুখ থেকে মানুষের আতিশয্যটুকু ঝেড়ে ফেলে
মঞ্চ-দখলের জন্য
নেমেপড়ে কলাকুশলী***
প্রেক্ষাগৃহে তখন আপতনবিন্দুগুলি
দুলতে থাকে পয়ার ছন্দে।


এসপেরান্তো

এ এক অদ্ভূত সময়
এখন ভাষা মানেই
রক্ত আর বারুদ
ঠোঁট নড়লেই ঘৃণা ও জিহাদ
তবু, সুহৃদ যারা
এসপেরান্তোর ভিত গড়ে
এখনও সুস্পষ্ট বলে ওঠে
তুই আমার ভাই


চাঁদমারি

পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে
নিশানা লাগাতেই
পড়েগেলাম পাথরের ওপরে—-
ওখানে শ্যাওলার বিছানা
নিচে ঠাকুর্দার সমাধি
বিস্ফারিত চোখের সামনে
শকুনের ওড়াউড়ি
সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে বাবা-মা
সপ্তর্ষি-মন্ডল আর অরুন্ধতীর নির্লিপ্ত মুখ

ট্রিগারে চাপ দেওয়ার আগেই
শ্যাওলা ছড়িয়ে গেল
আমার শরীরে

১০
মধ্যাহ্নে অবগাহন

নীল তোরঙ্গের ডালা খুললেই
বেরিয়েপড়ে হলুদ পালকে মোড়া
ঋতুমতী দুপুর
তখন লেজের আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছো
অশোককানন আর সাবেকীয়ানা
ভীমপলশ্রীতে দাবানল বুনেছো নৈমিষারণ্যে
সেই দহন ছড়িয়েযাচ্ছে  সেতারে
মিজরাবের ছোঁয়ায় টুকরো টুকরো মীড়
চক্রাকার স্রোত তুলছে ঋতুজলে

এবার অবগাহন*** *** ***

১১
ফেরা

ডাক দিয়েছে মাটিলেপা দাওয়া
জল-মাটির গন্ধে আমিও ভাসালাম ডিঙা
জল কেটে কেটে চলেছি গর্ভকোষের দিকে
নিকোনো  উঠোনে এখনও এক্কাদোক্কার ছক
শুধু মুছেগেছে সেই ঘরটি
যেখানে আঁকাআছে দু’পায়ের পাতা

এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আর কতকাল!
ওই তো উনোনের ধোঁয়া
ভেসে আসছে দুধপুলির ঘ্রাণ
ভেজা শাড়িতে ছপ ছপ শব্দ তুলে
স্নান সেরে ফিরছে কেউ
ওই তো বটফলের গা বেয়ে গড়িয়ে পড়লো ভোরের শিশির
‘টুপ্’!

এবার আমিও ডিঙায় বেঁধেছি পাল

১২
মনখারাপের বিকেল

বসেআছি নেবুকাডনেজারের ঝুলন্ত উদ্যানে
হ্যামকে দোল খাচ্ছি
দক্ষিণ সাগর থেকে উজিয়ে আসা বৃষ্টি
ধুয়েদিচ্ছে ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদ
জানালায় শুকোচ্ছে হলুদ সায়া
গোলাপি রাতপোশাক
বার্বিডলের অন্তর্বাস***
দক্ষিণসাগরের নোনাজল
আমার চিবুক গড়িয়ে  নেমেযাচ্ছে
রেনপাইপের দিকে

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E