৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৩২০১৭
 
 ০৩/০১/২০১৭  Posted by
শাশ্বতী সান্যাল

শাশ্বতী সান্যাল

কয়েক মুহূর্ত মৃত্যুকাল
– শাশ্বতী সান্যাল


ভালোবেসে তারা রোজ আমার জলের গ্লাসে আর্সেনিক মিশিয়ে দিয়েছে। আমিও ভালোবেসেই গেলাসের নীল অবশেষ এযাবৎ সন্দেহ করিনি। উর্ধপাতন সূত্র তারা জানতো না, তাই সবকিছু দ্রব ভেবেছিল। এই নীল রঙ চেনা, যেরকম চেনা আততায়ীদের হাতের আঙুল। মধ্যমায় জ্বলজ্বলে নীল স্যাফায়ারচিহ্ন, তার জন্য ভাড়া করা বোয়ালের পেট এখন কোথায় পাব এই শেষরাতে হেঁতালের লাঠি ক্রমে সরু হয়ে গেছে।


এই জল উগরে দিলাম। এই দুধ। এই রক্ত। এই ভালোবাসা। তেলহলুদের দাগ, এয়োতির শেষ চিহ্ন, লক্ষ্মীর পাঁচালির পাতা… চালপড়া খাইয়েছ, যাতে গিলে নেওয়া সংসার আবার নিটোল বের করে নিতে পারো এই তলপেট থেকে…

শরীরে আঘাত নেই। শিরোনামে নেই। আজ মৃত্যু হলে, কাল ময়নাতদন্তে কিছু প্রকাশ পাবে না। বারো ঘন্টা খাদ্যনালী সন্দেহাতীত ফাঁকা ছিল…

প্রতিটি চালের জন্য ধন্যবাদ তোমাকে ঘাতক। প্রতিটি ওয়াকে আমি তোমারই করুণা মনে করে  উগরে দিয়েছি ঘর, পর্দার রঙ, সোফাসেট, এমনকি আধফোটা আকাঙ্ক্ষার ভ্রূণও। এসো, একে একে খুঁটে নাও…


আমিও এমন বোকা, ছুরি কাঁচি ধার দেওয়া সেই যে চাকাটা, খুব কাছে গেলে যার ছিটকে আসে তরল আগুন, তার গায়ে মানতের ঢিল বেঁধে রাখি। স্বামী-সংসার-পুত্র,  দুএকটা ফোসকার দাগ, প্রতিবেশীদের কাছে যাকে ঢেকে রাখতে চেয়ে গরমেও জামা দীর্ঘ হয়… এই তো সুখের ঘর। ড্যাম্প লাগা, অল্প স্যাঁতস্যাঁতে

আমিও এমন বোকা, গতিবিধি জানিনা রোদের। উপযুক্ত আলোতেও চোখ বেঁধে দিলে রাত নামে। কিছুই দেখিনা, শুধু দেখবার ভান করে যাই। তরল আগুনে ছিঁড়ে যায় স্নায়ু, মাংস, চামড়া, অভিজ্ঞানলিপি। তবু সেই রক্তদাগে আবার নতুন করে চেপে ধরি হাঙরের দাঁত। গলার ভীষণ কাছে ধাতব শব্দ নেমে এলে ফিসফাস দ্রুত হয়:
‘ফিরে এস চাকা’।


শ্মশান বলতে ওই একবারই… সন্তপ্ত আত্মীয় নয়, বরং কিছুটা লোভী কুকুরের মতো, খইয়ের আস্বাদ চিনে নদীর ঘাটের কাছে চলে আসা কোনো একসময়। কেমন বিচ্ছেদগন্ধ লেগে থাকে এইসব জলে। ভাঙা মালসা, পোড়া ছাই, স্বপ্নের দেহ

এদেশে চুল্লি নেই… পাশাপাশি আড়াআড়ি কাঠ দিয়ে সাজানো বিছানা। কে যেন অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠলো কারো প্রিয়নাম, কিংবা শকুন কাঁদলো- বুঝতে পারিনি। জ্বলন্ত পাটকাঠি হাঁমুখে প্রবেশ করলে মনে পড়েছিল কিছু ডাকনাম আজীবন বড় তেষ্টা নিয়ে বেঁচে থাকে

নিজের শবের সামনে দাঁড়ালে যেমন বোঝা যায়, শ্মশানে সবাই ‘বডি’, নামটাম নিষ্প্রয়োজন

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E