৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১১২০১৬
 
 ১১/১১/২০১৬  Posted by
মেঘ অদিতি

মেঘ অদিতি

পরিচিতি
মেঘ অদিতি। জন্ম- ৪ মে, ১৯৭০, জামালপুর। পেশা- গ্রাফিক ডিজাইনার। নেশা- লেখালেখি।

প্রকাশিত বই :
১। জলডুমুরের ঘুম- ডিসেম্বর ২০১১- কবিতা – সাম্প্রতিক প্রকাশন ; ২। অস্পষ্ট আলোর ঘোড়া- ফেব্রুআরি ২০১৩-গল্প- আগুনমুখা প্রকাশন ; ৩। ও অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি-  ফেব্রুয়ারি ২০১৪- কবিতা- সাম্প্রতিক প্রকাশনী ; ৪। সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ- গদ্যগল্প সংকলন- জুন ২০১৫ ঐহিক, কলকাতা ; ৫। প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত – কবিতা- ফেব্রুয়ারি ২০১৬- অনুপ্রাণন

মেঘ অদিতি’র কবিতা-ভাবনা

মেঘ বলছি…
অগ্রজরা দুয়ো দেবেন না প্লিজ। বলছিলাম, কবিতা ভাবনা নিয়ে ২০১৬ -তে এ আমার চতুর্থ লেখা। ইচ্ছে করে ঘনঘন কবিতা বিষয়ক ভাবনা লিখতে মোটে আমি বসিনি। কিন্তু হালে কবিতা চাইলে তার সাথে কবিতা ভাবনা চাইবার এই যে চল হয়েছে এতে আমার কিচ্ছুটি করার নেই।

আগেরবার বলেছিলাম, চলি ফিরি আকাশ দেখি, আমার কোনো গন্তব্য নেই। এবার বলতে চাই- আজ্ঞে কবিতারও কোনো গন্তব্য নেই এবং কবিতা বা আমি আমাদের আছে নিরঙ্কুশ এক ভ্রমণ। কখনও আমি যা এঁকে উঠতে পারি না তা শব্দ দিয়ে সাজাই। এক অর্থে সে আমার পেইন্টিং। যা কিছু আমার অনুভূতিতে ধরা পড়ে তাই আমি লিখি। কবিতা ঐশী কি না সে নিয়ে আমার বক্তব্য নেই তবে আমার সাথে যা মাঝেমাঝে ঘটে,  কখনও ঘুমের মধ্যে, হাঁটা চলার মধ্যে অথবা নিখাদ আড্ডার ভেতর থেকে যে উঠে আসে এক আধটা পঙক্তি। দু’জনে মুখোমুখি বসে থাকি। কখনও তা শব্দে বন্দী করে আর তখন এমনটা চোখে পড়ে, লিখতে চাইলাম যা আর যা লিখলাম তা সম্পূর্ণ আলাদা। তবে আবারও বলতে চাই যা কিছু আমার মৃতপ্রায় অনুভূতিকে টেনে দাঁড় করিয়ে দেয় এক বিপন্ন খাদের কিনারে তা আমি শব্দে শব্দে একটা আকার দিই। আমার যাবতীয় স্ট্রেস রিলিফের একমাত্র মাধ্যম সে, একে আপনারা কবিতা বললে কবিতা না বললে ট্র্যাশ…

মেঘ অদিতি’র কবিতা


সিকোয়েন্স

তোমার আশ্চর্য চোখ নিরর্থ রোদের দিকে সরে অনাস্থায় বাঁক খেয়ে যায়।
শীৎকারে ঢুকে পড়ে বিচ্ছেদের গ্লানি। সূদীর্ঘ টানেল পথে রাত বাড়ে
দূরে কার দুলে ওঠে ছায়া..

এরপর কিছু নেই..
থেকে থেকে ড্রপ খায় লাল বল, টানেল ছায়া আর তোমার আশ্চর্য চোখ..


আছে চাঁদ

ঘুম লিখতেই ছোট হয়ে এলো আকাশ
মৃদু স্বরে ডাক এলো ভেসে
রেশটুকু তার ফিরতি ডাকে না ফুরোতেই
শীত নামলো দূরের কুয়াশায় মিহি
তৈরি হচ্ছে নরম রোদ, গরম জামাকাপড়
নেপথলের গন্ধ মেখে লিখে ফেলছি
সূর্যাস্তে জমিয়ে রাখা সুবর্ণরেখার গান

অথচ আমাদের ঘর আজো নেই
জলের অতলে শুধু আছে এক চাঁদ


যুদ্ধ বা পলায়ন

বিকেল ছোঁয়ানো অনভ্যাস
মনেস্টারিতে তোমাকেও দেখতে পেতাম
দুপুর ভাঙতে ভাঙতে কলহ বাড়লে
তুমি হতে শান্তিদূত, পায়ে পায়ে সন্ধিপথ

এখন দ্বিধাহীন
আঙুলের চাপে চিনেবাদাম ভাঙো
কাগজ উড়িয়ে আমিও কীবোর্ড আঁকি
অক্ষমতা লিখতে গিয়ে অবাক-
দেখি, স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে. যুদ্ধ বা পলায়ন…


গেলে উড়ে

পড়ে আছি একা
এই নাভিকুণ্ডল
এই স্পর্শহীনতা
এ সবই এক অসুখ
যার গন্ধ ভুলে গেলে মাছগুলো
ছায়ার এক্যুরিয়মে ভাসে

দেরাজ খুলে তবু
যেই বেরুলো অক্টোবর
তুমি ভুলের দিকেই গেলে উড়ে..


ডাকবাক্স

উড়ে আসছে হৈমন্তিক বিষণ্ণতা
একটা সরলরেখার কাছে
মন ও সোনামন,
চকখড়িতে লিখে রাখো জলের ঢেউ
বাতাসের নুন তাকে ডেকে আনবে কাছে

এই যে সিরামিকে লেখা এত ভ্রম
এত যে ভ্রমণকাল  এ সমস্তই অর্থহীন
দাম্পত্যের গায়ে যেমন
গ্যারান্টি শব্দ ধোপে টেকে না আর
দূরত্বে চিঠি আদান প্রদানও হয় না বহুকাল..


কনফেশন

সন্ন্যাস নেবার আগে
কনফেশন নির্যাস মেখে দেখেছি
মগ্নতায় ব্যাঘাত ঘটে না খুব
শুধু ভাসমান কথা থেকে সরে যায় কেউ
স্তব্ধ মগজ
আমি কাউকে ছুঁতে পারি না…
ইশারা-মাত্র অভিমান খুলে যায় জেনেও
মিলিয়ে গেল এক স্ফুলিঙ্গ…
সেই থেকে ভাষা ভুলে বসে আছি অন্ধকারে


সময়-১

ভ্রমণ অলীক নয়
দেখো তার উড্ডীন ডানায়
পত্ররাশি উড়ে যায়
আজ কোন অগ্নির কাছে
কেন্দ্রের বিস্ফার দেখে কারা যেন
রাতের পেখম খুলে
রক্তবর্ণে আঁকে বর্ণমালা ভোর
প্রতিরোধ
ভেঙে ফেলে ওরা কারা?
আদিগন্ত এমনই টানের হাওয়া, মনে পড়ে-
একদিন চক্রাকারে, ঘিরেছিল কোমলআগুন


ঝাঁপতাল

যৌথ চাদরের ঢাল
ওখানে মুখ রেখেছে
চৌকো আলোয় মাতরিয়শকা
এক, দুই, তিন… অসংখ্য টুকরো কাঁচ
তুলে নিতে ভাবি
তুমি যদি বলো নিরাময়ের কথা
আমি কিন্তু ইশারা করছি অসুখহীনতার দিকে
শতাধিক ক্ষত নিয়ে সতর্কতায়
অদৃশ্যে বিভক্ত হতে হতে ভাবছি
এবার শিখে নেবো ঝাঁপতাল

একটা সেতু অন্তত জেগে থাক
এই মধ্যরাতে…


গুঞ্জন

এবার গুঞ্জন তোলো নওল বাতাস
মৃদুস্বরে হোক একবার টুং
ভেঙে ফেলা যাক পুরোনো থার্মোমিটার

সন্ধের ঘ্রাণ মেখে গুল্মলতার মুখবন্ধে
লিখে যাব জ্বরতপ্ত নিস্তব্ধতা
নিরুদ্দিষ্টের দিকে কুঁকড়ে থাকার দিনে
আপাতত নাভিপদ্মে এই বুঁদ হয়ে থাকা..

১০
অভিযোজনের পর

রাত শেষ…
বলে তুমি তাকালে পিছনে
ভেসে এল মৃতপ্রায় শেষ আর্তনাদ
অভিযোজনের পর
পথঘাট ছেয়ে গেছে পাতার মর্মরে
দূরে নু’য়ে শুধু এক কাঠের মাস্তুল

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E