৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
সেপ্টে ৩০২০১৭
 
 ৩০/০৯/২০১৭  Posted by

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়-এর কবিতাভাবনা

শব্দের গর্ভগৃহে একবিন্দু প্রাণের স্পন্দন

শব্দের সঙ্গম থেকে যেভাবে কবিতা হয় আমি তার গর্ভমাস দেখি। আমি কি কবিতা লিখি আদৌ? শুধু শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে একটা বাড়ি গড়ে তুলি। আমার নিজস্ব ভাবনার আবাসভূমি। ছোটবেলায় ধুলোবালি নিয়ে যে খেলাটা শুরু করেছিলাম এখন শব্দ দিয়ে তার অনুশীলন চালিয়ে যাই। ঠিক যেরকম বাড়ি বানাতে চাই তা হয়ে ওঠে না। বারবার ভাঙি, গড়ি। বাড়ি বানাতে গেলে যে ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল লাগে প্রযুক্তি লাগে আমি তার কিছুই জানিনা। পাকা রাজমিস্ত্রিও নই। কিন্তু স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি বলেই থেমে যেতে ভয় পাই। কাটাকুটি আর সংশোধন প্রক্রিয়ার ভেতর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি। নান্দনিক ধ্বনি প্রতিধ্বনির ভেতর বাড়ি বানাই। দেখি জ্যামিতিক কারুকৃতির শর্তহীন ওঠানামা।
বাড়ি বানানোর স্থাপত্যও সবার একরকম নয়। বাবুই পাখি যে কৌশলে তার স্বপ্ননীড় রচনা করে কাক সেভাবে করেনা। কোকিল আবার শূন্যের ভেতরেই গড়ে নেয় নিজস্ব বসতি। অসীমের অনুসন্ধান তার স্বপ্নপিপাসায়। কবিমাত্রেই ব্যক্তি। ফলে তার নির্মাণকুশলতায় নিজস্ব চিন্তার ছাপ থাকেই। আলোড়িত সত্তায় থাকে সময়ের চিহ্ন। সমাজ এবং রীতির কাছে আশ্রিত অথচ সামগ্রিকতা থেকে নিজস্ব চলার পথ খননের শ্রম।

ভাবনার কি কোন রেখাপথ হয়? কত বিচিত্র দিকে ছড়িয়ে যায় এলোমেলো বিন্যাস। কীভাবে এই বিচিত্র কুহক লিপিবদ্ধ করা যায়। খেলাটা খেলতে খেলতেই কেমন নেশা হয়ে যায়। অদ্ভুত নেশা। শব্দ আর নিশব্দের গতিপথ তখন মিলে যায় এক আশ্চর্য বিন্দুতে। আমি সেই বিন্দুটির ভেতর আলো জ্বলে উঠতে দেখি। অল্পক্ষণ। হ্যাঁ, অল্পক্ষণই। মনে হয় এরকম আলো থাকে শব্দের ভেতর। এত ঐশ্বর্য। বিন্দুটিকে যদি কবিতা বলে ডাকি, খুব কি ভুল হবে কিছু? আমি জানিনা। কিন্তু এরকমই মনে হয় আমার। ভাবনাগুলো আসে যায়। ধরা দেয় না। দেখা দেয় না। এক অনন্ত সীমারেখার ওপার থেকে অদৃশ্য হাতছানি টের পাই শুধু। কম বয়সে সেই কলেজবেলায় এক একটি মেয়ের চোখে মুখে এক আশ্চর্য ভাষার নির্মাণ দেখতাম। নির্বাক ইশারার ভেতর হাজার মাইল শব্দপথ। কিছুই বলছে না অথচ কথা ফুরোয় না। অথচ সামান্য এক মিলিসেকেন্ডের এক সংকেত। যা ফুরিয়ে গেছে অথচ অনুরণন রয়ে যাচ্ছে রাইজোম্যাটিক স্ট্রাকচারের ভেতর। অপ্রকল্পিত অপরূপের আড়ালে। এক অদ্ভুত নিবিষ্টতায় তাদের এক একটি মুখ মনে হত কবিতার মতো। এ পৃথিবী একবারই পায় তাকে পায় নাকও আর।
আকাশবারান্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাত্রির নীরবতা কী অলৌকিক ভাষায় ধ্বনিময় হয়ে যায়। এই প্রয়াস কি ধরাবাঁধা কোন রূপরেখায় চিত্রিত হবে? উপাসনাময় নাস্তিকতার অক্ষরচিহ্নে? যদি এরকম কেউ বলে যা দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন– “দ্রুত আকাশের নীচে কুবাতাস ঠেলছে / বালি উড়ে যক্ষ্মা খাওয়া আলো / ঢেঁকিপাড়ে -পাড়ে শতকোটি ছেঁড়া বুক।” তখন অন্ধকারের ভেতর ঢেঁকিতে পার দেওয়ার এক রুঢ় শব্দ ভেসে ওঠে নীরব চরাচরে।
খাতা কলম অথবা কম্পিউটার কি বোর্ড এ কবিতা থাকে না। শব্দ দিয়ে সাদা পাতার উপর লাইন সাজিয়ে যা লেখা হয় তা অক্ষরের রেখাচিত্র। কবিতা হল বিদ্যুৎঝলকের ক্ষণিক ভিস্যুয়াল স্টিমুলেশন। তারপর আবার যে কে সেই। এরপর যা থাকে তা রেসোন্যান্স অফ থট।
একগুচ্ছ শব্দ নয়। শব্দের ভেতর যে অনিকেত সাড়া রয়েছে তার মধ্যে সর্বব্যাপিতার সন্ধান তা তন্ময় করে দেয় আমাদের মগ্ন চৈতন্য। নিজের ভেতর নিজেকেই খুঁজি তখন। খুঁজি পরিশ্রান্ত ভ্রান্তির পথ থেকে ইপ্সিত চলমানতার দিকে। সমস্ত কবিতার চরিত্র এক নয়, উচ্চারণ এক নয় কিন্তু প্রসব যন্ত্রনা এক। দেখা অদেখা জীবনের মাঝে যে অস্পষ্ট ভ্রমণপথ কুড়িয়ে ঝুলিতে ভরছি তার হিরন্ময় দেওয়ালে লবনাক্ত দাগ। এর উপর ক্রমিক অস্ত্রোপচারের উল্লাস। এই রহস্যময় রূপজগত থেকে অরূপের দরজায় করাঘাত করতে করতে দরজা খুলে ফেলা হবে তারই অনন্ত অপেক্ষার নাম কবিতা। যদি এভাবে বলি তাহলে কি বোঝাতে পারব কিছু। মানবিক পৃথিবীর সাথে প্রাকৃতিক ইমপালশনের যে বিশ্বজনীন বোধ তাকে নিজের ভেতর প্রতিস্থাপিত করে নির্জনের সমারোহে এক মুক্ত দুনিয়ার সন্ধান। আরও সহজ করে বললে যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানেই ফিরে যাই যদি। হ্যাঁ, খেলা। শৈশবের খেলা। ধুলোর বাড়ি বানানোর খেলা। বাড়িটাই হয়ে ওঠে পৃথিবী।

“হামাগুড়ি দিয়ে উঠে আসছে নদী
মাটি খাচ্ছে পাথর খাচ্ছে
বৃক্ষের শিকড় শুষে পান করছে পাতার গান
নখ দিয়ে কাটছে ছিঁড়ছে হাবা জ্যোৎস্নার হাসি”

মরা বালির দিকে চেয়ে আমার মেয়ে সেদিন বলছিল – দেখো বাবা, এখনও নদীর জন্ম হয়নি। আমার মনে হয়েছিল উত্তপ্ত বালির সিথান থেকে যেখানে নদী চুয়ালেও জল মিলে না। সে যেন বালি খুঁড়ে খুঁড়ে গভীর তলদেশ থেকে নিয়ে এল একটি কবিতা ।আমি নদীর ভেতর আলো জ্বলে উঠতে দেখেছিলাম। আলোর ভেতর দিয়ে ঝর ঝর করে জল নেমে আসছে বৃষ্টির মায়ায়। এরকম বাস্তবে হয় না। কিন্তু মনের ভেতর কোন এক গোপন অলিন্দে ঠিক এরকমই হয়। মেঘমল্লার গাইলে বৃষ্টি যেভাবে নেমে সুরসরণিতে। ঠিক সেভাবেই থিম্যাটিক চিন্তাপথে তার রেখাকৃত ভাবনার বিন্যাস বদলে যায়। এক নতুন কিছু দেখার আকাঙ্ক্ষায় প্রস্তুত হয়ে ওঠে অপটিক নার্ভ।
শব্দের ঘরবাড়ি। বিভিন্নভাবে তাকে সাজাই। ডেকোরেশন অফ ভার্স।
অন্ধকার ঘরের ভেতর একবিন্দু প্রাণের স্পন্দন। আমার কবিতা মুহুর্ত। এর জন্য আমার অপেক্ষা আজীবন।

 

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়-এর কবিতা


শব্দের নীল বৃষ্টি

স্তব্ধতা টুকরো হচ্ছে

ভগ্নাংশ হতে হতে মিলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে
তোমাকেই ছুঁয়ে দেখি অনন্তের কিনারায় গিয়ে
কোন অতলের দিকে তোমার দুয়ার?

ফিরে দেখি আজ
সন্ধ্যা ফুরিয়ে আসার আগে
কুয়াশায় ভরে নিচ্ছি শব্দের নীলবৃষ্টি

মহাশূন্যের তীরে আমরা দুজন

মায়াশিকলে বাঁধা আছে আমাদের কবিতাবান্ধব হাত
টের পাই আজ।


অবান্ধব

সাঁকো পার হয়ে গেছে বয়সন্ধিকাল
আঙুল ছুঁইয়ে তুমি কাছে আনলে খেলাঘর

তোমার নামের পাশে ট্রেনের জানালা
তোমার নামের পাশে যুবতি বয়স

আলোর ফোয়ারা,
বন্ধু হতে লোভ হয় খুঁজে চলি
পয়মন্ত হাতের ইশারা

একটি বাড়ির পাশে আরও একটি বাড়ি

দেওয়ালে অজস্র কথা জড়তায়, লাজুক অক্ষরে।


রুমালের পা

তার কোন আইসোটোপ নেই
টোপর নেই, টপ টপ ঘাম ঝরছে গালে
টুপ টুপ … বিরতিহীন
ঘাম দেখলেই
পা বাড়িয়ে দিচ্ছে রুমাল
রুখু গায়ে অদ্ভুত বিকালবেলা
বমি করছে ঝিঙেফুল আলো।
আয়োজিত করুণা থেকে কণামাত্র দাও
মেরুদণ্ড ভাঙতে ভাঙতে
মুছে দেব পা এবং পুঁজ রক্ত।


পরিবৃত্ত

কিছু ক্ষত, তাকে ঘিরে ভনভন মাছি
তৃপ্তির আস্বাদ ঠোঁটে
দিব্যলোকে উড়ে যায়, ফরফর শব্দে
কাতরায় নিটোল ডানার দাগ

এইসব মাছি
ক্ষমতার বদরক্ত চাটে
ক্রমশ দালালের দাঁতের নিচে পচা খাবারের
মতো গলে যায়
একদিন

তবু বৃত্ত বড় হয়, বড় হয়
চুপসে যায় বেলুন, ফেটে যায় হাওয়ার তাণ্ডবে


একটি স্বচ্ছ স্বপ্ন এবং সিন্ডিকেট থাবা

কতখানি দূরে সরে গেলে তুমি নীরব হয়ে যেতে পারো?
পায়ের নীচে আবর্জনা জমছে
মাথার উপর নীল রঙের আকাশ
চুরি করে নিচ্ছে সিন্ডিকেট হাত।

তোমার প্রতিটি অক্ষর নিয়ন্ত্রিত
তোমার গলার কাছে আটকে আছে
চীৎকার ও বমি

তুমি উগরে দিতে গিয়েও দু পা পিছিয়ে যাচ্ছো।
ধুলোকালি মাখা ঘুমের ভেতর থেকে রুমালে মুছে
একটা স্বচ্ছ স্বপ্ন তুলে আনার চেষ্টা করছো বারবার
ঠিক তখনই এগিয়ে আসছে কিছু হাত তোমার গলার কাছে

কতদূর যাবে তুমি নীরবতার দিকে?


ভাষাপথ

পাতার উপর দেখো আঙুলের ছাপ

হাহাকার লিখে গেছে কেউ

এই পারে ধুলোমাটি ঐ পারে ভেজা পথঘাট
গভীর ঘুমের মধ্যে সরে যাচ্ছে ব্যক্তিগত ছলনার কলা

আহুত শুষ্কতার বিরুদ্ধে প্রসাধনী লুকিয়েছে কেউ

এই যে শব্দে শব্দে গড়ে ওঠে লাবন্যের পথ।


তন্দ্রার পোশাক

জাগরণ ভেঙে কেউ উড়িয়েছে তন্ত্রার পোশাক
মগ্নতায় দেখি তার বালিয়াড়ি
নিজের জ্বলন্ত মোম পাতায় পাতায় লিখি
ভস্মমাখা স্নানচিহ্ন, ওম।

মুঠোভর্তি বেড়ে ওঠে ঘুম
আবছা লোভ ঝাঁঝালো স্বভাবে
জানলায় দাঁড়িয়েছে চোখ …।
আকাশে রুয়েছে কেউ জ্যোৎস্নার বীজ
ভেসে ভেসে নির্জন নেমে আসে চোখের আয়তে।


আহ্নিক গতি

চরকা ঘোরে

আহ্নিক গতির মতো নিয়মমাফিক

বুড়ির বয়স বাড়ে, শিথিল হাতের ঘামে
থেমে গেছে সুতোর বাঁধন, চাঁদপানা মুখ

করিডরে পরিজন রাখেনি পায়ের ছবি একা
পরি পরি মুখ
কবেই ছ্যাঁতরে গেছে

কলঙ্কের দাগগুলি অজীর্ণ সুঠাম


হরতাল

প্রসূতিসদনের গায়ে “হরতাল” লিখে
চলে গেছে অন্ধকারে কোন এক দমবন্ধ হাত
বৃষ্টির বাক্স খুলে দীর্ঘনিঃশ্বাস
ঝরছে ঝরে যাচ্ছে

মেঘ নেই মেঘের কৌটো খুলে
এলোমেলো হাওয়া
বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ
আর বৃষ্টিহীন মেঘের কৌশল ।

১০
স্রোতের উজান

খুব প্রিয় ছিল খেলার নাব্যতা
জল ঢেলে বানিয়েছে একান্নশরীর
তন্তু খুলে একপাশে রেখে পরজন্মে
দাবীহীন ধার
শব্দের খোলস ভেঙে মিটিয়েছে

এখানে ওখানে জল থই থই
মধ্যে চর, পলি।

২)
কবিতার ডানা থেকে জল ঝরে বর্ষার ঝিরি ঝিরি ডাক
শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ
স্রোতের উজান, ভাসি সেতুহীন

একা

১১
বয়ঃসন্ধি

বেল বাজাতে বাজাতে চলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধি
সাইকেল দাঁড়িয়ে আছে দূরে

তার গায়ে বাতাস ও বসন্ত
শরীরে উত্তাপ নিয়ে বসে থাকা তীর্থের কাক
ডেকে উঠলেই আবহাওয়া বদলে যায়।

হোমাগ্নি জ্বলে।

ধুয়ো এবং অস্পষ্টতা নিয়ে ধাতব আকাশ।
নতুন পিয়ানো বাজে
ধুয়োর কুণ্ডলীর নীচে ঢাকা পড়ে চাঁদ।
সন্দিগ্ধ নয়নতারা ফোটে।

ভেঙেচুরে যাওয়া আলাপন থেকে গল্প বেরিয়ে আসে, ডানার প্লাবন।

১২
বৃদ্ধাবাস

স্নেহের অক্ষর কুঁড়েঘরে দেওয়ালে দেওয়ালে
অপটু হাতের ছাপ
ঘরের বাইরে চাঁদ
দরজা জুড়ে একলা কপাট স্তব্ধ

পূবের জানলা খুললে ছবি আসে
ছবিগুলি যায়
আবার দরজা বন্ধ

বুকের ভেতর ভেজা ঘাম
বৃষ্টি আসে
বৃষ্টি থেমে যায়

ওরা কেউ কালেভদ্রে ডেকে ওঠে– মা

১৩
দূরবীনের আলো

এই ঘাস পাতার সংসার জুড়ে
তোমার পায়ের দাগ নাগালে ছিল
ঝুলে থাকা ডাল

বারান্দার পাশে রোদ শুয়ে থাকত সারাটা দুপুর
কথা ও আড্ডা আজ চিত্রময়, দীর্ঘ ব্যাকুলতা
দ্রুতগামী লিফট ধুলোর গন্ধ দ্রুত মুছে দেয়

এখানে বৃষ্টি নেই, ভাঙা চোখে দূরবীনের আলো।

১৪
দাগ

যে বৃত্ত আঁকার কথা
বারবার অর্থহীন পেন্সিলের দাগে
ফুরিয়ে যাচ্ছে পথ

কেবল একটা বিন্দু
চারপাশে রাস্তা আঁকতে গিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে সে নিজেই ……

১৫
যাদুচিত্র

পুড়িয়েছ, বিনাশের চিহ্ন এঁকে অতিদ্রুত
হেঁটে যাও, বিপন্ন বেলায় নীল আবছায়া, তার আবেষ্টনী
কেবলই লম্বা হয়, দীর্ঘ সেই ছায়া বিবর্ধনে
প্রান্তিক পথের সুলুক কিম্বা দেহাতী কৌশল ফুটে ওঠে চিত্রিত অক্ষর।

এই মগ্ন অনুক্ষণে
থামো, আর যদি পারো, বিপন্ন হাতের বন্ধুতা
নির্বাক স্বরলিপি হোক,

এই যাদু চিত্রের পাদদেশে আশ্চর্য অলীক মোহ
জীবনের স্ফুলিঙ্গ
দেখো, এই অনিবার্য মশালের ছায়া।

 


বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়। জন্ম– ৬ জানুয়ারি ১৯৭২। বাবা– মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, মা– গীতা গঙ্গোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই লেখেলেখি শুরু। প্রথমে নাটক দিয়ে। মণিহারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে পড়তেই প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর লেখা ছড়া এবং কবিতা। ছোটদের জন্য ছড়া লেখার মধ্য দিয়েই সাহিত্য জীবনের শুরু হলেও পরে কবিতা, গল্প, অনুগল্প, প্রবন্ধ এবং উপন্যাসেও নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনে কর্মরত।

প্রকাশিত গ্রন্থ

কবিতা

সুসংবাদ কিনতে যাব (প্রতিভাস, ২০১৩)
আঁধারে অঘ্রাণ (অক্সিজেন, ২০১৬)
হাইফেন বসানো বারান্দা (পাঠক, ২০১৬)
বিভ্রম রঙের মেঘ (কবিতাডিহি, ২০১৬)
অপেক্ষা খরচ করি (কবিতাডিহি, ২০১৭)
দূরত্বের প্রতিধ্বনি (অক্সিজেন, ২০১৭)

গল্প

প্রান্তিক জানালা ও অন্যান্য গল্প (পাঠক, ২০১৫)
মাটির মহক (প্রস্তুয়মান)

ছড়া

রাঙা মাথায় চিরুনি (সঞ্চিতা, ২০১৬ )

উপন্যাস

আক্রান্ত বৃষ্টিদিন ( একুশ শতক, ২০১৭ )
নিসর্গের আলোবাড়ি (প্রস্তুয়মান )
অনুগল্প
… এবং অস্পৃশ্য হাত (কেতকী, ২০১৭ )

 

পুরস্কার এবং সম্মাননা

১ অণুপত্রী সাহিত্য সম্মান (২০১৩) সিউড়ি, বীরভূম
২ শ্রেষ্ঠ অণু কবিতা পুরস্কার, পূর্বাশা এখন (২০১৪) কার্তিক বসু স্ট্রিট, কলকাতা -৯
৩ শ্রেষ্ঠ কবিতা পুরস্কার, কফিহাউস (২০১৫) নীলমনি মিত্র রো, কলকাতা – ২
৪ বর্ষসেরা সাহিত্য সম্মান (২০১৬), খড়গপুর মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ
৫ জিরাফ পুরস্কার (২০১৬) মানভুম লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র, চেলিয়ামা, পুরুলিয়া
৬ মন্দাক্রান্তা পুরস্কার (২০১৭) এর জন্য বিবেচিত হয়েছে আক্রান্ত বৃষ্টিদিন উপন্যাস

এছাড়া ছোটদের দুষ্টু পত্রিকার সম্মাননা, নিতুরিয়া এবং কাশিপুর ব্লক বইমেলা কমিটির সম্মাননা, পুরুলিয়া জেলা বইমেলা কমিটির সম্মাননা, সি টি এন টি ভির বিশেষ সম্মাননা ইত্যাদি।

 

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E