৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
জানু ০৩২০১৭
 
 ০৩/০১/২০১৭  Posted by
 বিদ্যুৎ ভৌমিক

বিদ্যুৎ ভৌমিক

বিদ্যুৎ ভৌমিকের একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে


নিষ্কৃতি

আমার নিষ্কৃতি নেই সোজা হ’য়ে দাঁড়াবার দু’হাতে অস্পষ্ট ঘাম; শরীরে রক্তের রাস্তা আঁকা-বাঁকা অচেনা রাগের তাপে নির্ঘুম অস্থির বহুদিন, — প্রতিদিন অবেলায় সড়ক পেরিয়ে এলোমেলো হাওয়ায় মহিষ-মহিষ ধুলো চোখের ভেতর প্রাণ করে লুঠ! প্রতিদিন উত্তর দিকে যেতে যেতে মনকে দেখাই এক হাজার স্বপ্ন মৃত্যুর মতো সহজ নীরবতার! আমার নিষ্কৃতি নেই; থাকলেও সম্পূর্ণ আবেগ নিয়ে নিজেকে ঠকাই দু’বেলা! এই মধ্যরাতে পাশে এসে চুপ করে বসে থাকে আমার এককালের অভাগা ছায়া, সেখানে পোশাক থাকে না ঠিক-ঠাক; অদ্ভুত নগ্ন নীরব — এইখানে কবিতার বিশ্রী আইন আমাকে ঘিরে রাখে অনাত্মীয় অন্ধকারে!!


চোখ বন্ধ সত্য

হঠাৎ কিছু কিছু কথার মধ্যে যে-যে শব্দ কবিতার রাত-দিন বদলে দিতে পারে; আমি এদের বক্ষ্মনাদ বলি কি-ভাবে? যখন তিনি চলেন; কাব্যি তখন বলে না কথা! যখন স্তব হবার কথা চলে; ধারাভাষ্য দেবে ঈশ্বর জটিল তত্ত্ব নিয়ে সাপ-লুডো খেলার জন্য আলাপ পাতা-বিছানায় বসে বসে স্তব-গান করবে বিধায়ক বিধি, —সেই থেকে শুরু মৃত্যুর পথে পথে ঘোরা আমি-তো প্রাণ দেব, মৃতের পরিবারের ভেতর দিয়ে কবিতার রাত-দিন নষ্ট চাঁদের দিকে নজর দেব যখন-তখন! সব শেষে বিষ হব!!


বৃষ্টিপাতের গল্প

তুই কিন্তু যখন-তখন আসবি না, তাহলে মনে হবে এটুকুই ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পিছিয়ে চলে যাবি অদ্ভুত চাঁদ-প্রহরে নির্ঘুম হয়েছে আমার এককালের স্বপ্ন ধুলো নগ্ন বৈভব! যে চোখ দেখেছে আকাশ সে চোখ বলেনি কোনো কথা, — পাথর স্তব্ধ আমি অতলান্তে এই ঈঙ্গিত আমি-কি লুকিয়ে রাখেছি? বৃষ্টিপাতের মধ্যে তুই এতটাই ভিজেছিস শরীরটা যেন নদী – নদী মনে হচ্ছে! কাল থেকে শুরু করে অনেকটা সময় ধরে তোকে নিয়ে ভেসেছি জ্যোৎস্নায়; একবার চুম্বন দে, আমি মরি তোর খেয়ালে, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোডের অথৈ বর্ষণে!!


অমৃতলোক ও বন্যপ্রেম

শেষ পর্যন্ত কথাচোখ খুলে হাসুন, — দেখবেন নদীতে জলচৌকি নিয়ে জলপরী স্নান করতে নেমেছে! এই অমোঘ আকর্ষণ নীল আকাশের মালিক হবে বলে তথাকথিত ভাবনার খোরাক খুঁজে চলে আজ থেকে একশ বছর আগে এই দিনে আমি আমার সমস্ত দোষের কথা বলে গেছি নতুন পৃষ্ঠায়; হৃৎপিণ্ড থেকে টুসটুসে আঁধার নির্বাক চলচ্চিত্রে অভিনয় করবে বলে চিহ্নিত করেছে আমাকে! মন খারাপের দিনে তুমি কি নগণ্য হতে পারবে? শেষ পর্যন্ত এই পাতাটির কাছে নিবেদিত হবে আমার জন্মের ইতিহাস! কবিতার সাথে দীর্ঘদিন সহবাস এবং তার মধ্যে অন্যতম কিছু কিছু দোষ, যা দিয়ে রচিত হবে যৌন রাতের গদ্য! তুমি তাকিয়ে দেখবে মৃত্যুটা এইভাবেই ফুরিয়ে গেছে কালবেলায় অমৃতলোকে!


ধ্রুপদী কবিতা

ব্যক্তিগত রাস্তায় অবেলায় সূর্য এলে টেলিফোন মিস্ত্রির হাইড্রেন ভাসিয়ে পেচ্ছাপ করা আর বিড়ির ধোঁওয়ায় অফুরন্ত বাতাসের কপোট সঙ্গ দেখি, —রাস্তার মধ্যে চোখ দিয়ে প্রতিদিন ছুঁই দুপুরের সহজ নীরবতা! প্রতিদিন দুপুর সোয়া একটাতে ছায়াকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি সেদিন পথ ভুলে গিয়ে তালা বন্ধ সদর হৃদয়ের কাছে একান্তে দাঁড়িয়ে আমার আমির সবটুকু নগ্নতা একসাথে হাহাকার করতে দেখলাম! এই  হাত দেখে মায়া হয়; এই রেখাগুলো কবে থেকে এই রেখাগুলো কবে থেকে এক জায়গায় স্থির! সেজন্য অবুঝ পায়ের প্রতিটা চিহ্ন স্মৃতিমন খুলে সারাদিন ধরে হাসুন!!

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E