৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২৭২০১৬
 
 ২৭/১০/২০১৬  Posted by
কবি প্রাণজি বসাক

কবি প্রাণজি বসাক

প্রাণজি বসাক -এর কবিতা


রোদের বহর

গ্রিলের ফাটক সামান্য খুলে ভেতরে ডাকলে
পায়ে পায়ে রোদ্দুর ঘুরঘুর করছে
রোদ বলছে বেলার কথা বয়সের কথা
ছায়া আর নৈঃশব্দ্যের সখ্যতার কথাও বাদ যায় না

বিনা- চিনি-চায়ের সাথে এলো প্লেটভর্তি নামকিন
বিয়ের বয়স ছয় ইতিমধ্যে এক মেয়ে এক ছেলে
নিত্যদিনের সাংসারিক রুটিন মুখস্ত
দিনশেষে ছাদে উঠে হাওয়াবদলের সংলাপ লোনাঠোঁটে

গমক্ষেতের আলে আশৈশব শিশির নেমেছিল
সবুজ ওড়নায় অফুরান দিনগুলি এই তো বুকে ছিল

গ্রিলের ফাটক সামান্য খুলে ভেতরে আসছে রোদের বহর


পাকা ধানে মই

পাকা ধানে মই দিতে হবে – বলে রাধামোহন ছুটলেন
মাঠের দিকে। মাঠের উপান্তে বিলের জলে নামলেন।
বিলের সুশীতল জলে ডুব মারলেন একের পর এক।
উঠলেন
দাঁড়ালেন বিলের পাড়ে
তাকালেন মাঠের দিকে
দেখলেন
ধান কই – সারামাঠ জুড়ে নাড়া উচিয়ে আছে
আর মাঠের মধ্যিখানে একখান ঠেঙা মই
আকাশের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

রাধামোহন অতঃপর পা বাড়ালেন…


শিথিল আঁটসাঁট

কেউ একজন আছে প্রতিনিয়ত কাছে ডাকে – আয়
মনে হয় এই বুঝি সুতো আলগা হয়ে
উড়ে যাবে গ্যাস-বেলুন
সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে
প্রতিমুহূর্তে বলয়াবর্তে গূঢ় ডাক অহরহ কানে বাজে
মাঝরাতে কেউ একজন কাছে আসে
তার একহাতে কিয়দংশ চাঁদ
অন্যহাতে পৃথিবীর মায়াময় ফাঁদ

থোকা থোকা কুয়াশা আর ক্ষীণ গোঙানি শব্দ
মাঝখান থেকে সরিয়ে দেয় নীরবতা
ওঁত পেতে থাকা কালো অন্ধকার
জাপটে ধরে জীর্ণ ভালোবাসা
সুতো আলগা হয় – শিথিল আঁটসাঁট


কলম খসে পড়ে

যতটা যাবার কথা ততটা না গিয়ে ফিরে আসি
থিতু হবার প্রয়োজন অথচ চঞ্চল পথঘাট
তোমার পরামর্শ করতলে রেখে নাইতে নামি

ডুব দিয়ে দেখি জলের গভীরে মগ্ন গভীরতা
কতটা ডুবিয়ে রাখতে পারে সময়কে
যেসব নির্ঘণ্ট ঝুটঝামেলা তোলা ছিল এতোদিন
সেসবই আজ মিটে গেল জলবৎ তরলং
সইসবুত সাক্ষ্য দেবার জন্য ছায়া এসে দাঁড়ায়
তাকে বসতে দিতেই রোদ সরে গেল পেছনপায়

কিন্তু তুমি – তুমি সেই যে ছুঁয়ে আছ শুদ্ধ
অখণ্ড ভূমণ্ডল তার বৃত্তান্ত লিখতে বসলে
কলমটি খসে পড়ে…


মানুষ

এই যে কালুসরাই কবরিস্তানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি
গেটে তালা মারা
অথচ দেখতে পাচ্ছি – ভেতরে নিমগাছতলায় বুড়ো রবীন্দ্র গুহ
মাটি খুঁড়ছেন…  দশ আঙুলে ছড়াচ্ছেন হাহাকার
আমার চেল্লাচেল্লি গোড় করছেন না
তিনি একনাগাড়ে ততক্ষণ কবরের মাটি তছনছ করলেন
যতক্ষণ না দীপংকর এসে তার দু’হাতের দশদশটি আঙুলের
নখগুলো উপড়ে নিল
রক্ত ঝরছে দিগ্বিদিক
লাগাতার রক্তক্ষরণ দেখে তালতাল অন্ধকার ঢুকে পড়েছে
আমরা কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছি না –
আমাদের পাণ্ডুলিপি ফাইনাল প্রুফ হাড়মাংস মাটিকাদায় একাকার
রবীন্দ্র গুহ হাত-পা ছুঁড়ে হাঁকছেন… মানুষ কোথায়… মানুষ


মানুষেরা

হজখাস ডিয়ারপার্ক ছাগলবাগান নয় কেন ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা বেড়াতে
এলো। অন্তহীন গাছপালা লেপ্টে আচগে বিপন্ন আকাশটুকুর গায়।
সেসব গাছপালাদের মাথা চুঁয়েচুঁয়ে ফুটিফাটা জোছনা নেমে আসে রাতে।
কোনো ক্যুরিয়ার আসে না শকুন্তলার নামে। কেয়ারটেকার সতেজ
ভাঙা ডালপালা রেখে যায় নিয়মমত। হরিণবাগান নাকি ছাগলবাগান
বোঝে না হরিণেরা। আর বোঝে না বলেই প্রতিবাদী কোনোভাষা
হতে পারে কিনা ওদের জানা নেই।

এ বাগান আসলে বাগান নয়… খোঁয়াড়
মানুষেরা খোঁয়াড়ে ঘাস চিবোতে আসে সকাল সন্ধ্যা

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E