৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
নভে ১২২০১৬
 
 ১২/১১/২০১৬  Posted by
পিয়ালী বসু

পিয়ালী বসু

কবি পরিচিতি

পিয়ালী বসু’র জন্ম ১১ই নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতার এক বিশিষ্ট সংস্কৃতি-মনস্ক পরিবারে। বাবা প্রয়াত প্রসূন বসু বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাহিত্য জগতের এক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। পিয়ালীর পড়াশোনা প্রথমে পাঠভবন ও পরে বাংলা সাহিত্য নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম প্রকাশিত বই ‘ফেলুদা কুইজ ‘ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে, প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স, প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছটি ।

২০১২ সালে প্রখ্যাত এক কবি বন্ধুর সাথে ১০০ টাকা বাজীর বিনিময়ে কবিতা লেখা শুরু — এরই মধ্যে তাঁর কবিতার ফ্যান ফলোয়ারের সংখ্যা প্রচুর, … সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘কথা কাব্যের চক্রবাক’ নামে চারজন কবির একটি আন্তরজাল কাব্য সংকলন, পিয়ালীও তাঁদের মধ্যে একজন। নিয়মিত ধারাবাহিক উপন্যাস লিখছেন ‘অন্যদেশ’ ইজিনে, এছাড়া কবিতা ও প্রবন্ধ লেখেন একাধিক পত্র -পত্রিকায়। অতিথি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন একাধিকবার, করেছেন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ’ও।  পেশায় ডিজাইনার পিয়ালী কর্মসূত্রে ১৬ বছর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে স্থিত।

পিয়ালী বসু’র কবিতা-ভাবনা

আমার কাছে ‘কবিতা’ হল অব্যক্ত ইমোশন, তবে কোনরকম সামাজিক দায় বা নৈতিকতার পরিপ্রেক্ষিতে কবিতা লিখি না আমি, কবিতা আমার কাছে বেঁচে থাকার রসদ, শব্দের নিঃশব্দ আত্মস্নান।

‘বিষাদ’ আমার প্রিয় বিষয়, আমি বিশ্বাস করি বিষাদ একা হলে অবয়ব পায়, আর সেই বিমূর্ত অবয়বই আমার চোখে ‘কবিতা’।

প্রিয় কবি জীবনানন্দের এই কথাটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আমি — “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি” … আর সাম্প্রতিক কালে ফেসবুক দুনিয়ার দৌলতে সবাই কবিতা লিখছেন, কিন্তু তবুও সবাই কবি’ হয়ে উঠছেন না — কবি হতে গেলে দাবী থাকে আরও অনেক কিছুরই, আর সেটি সম্ভবপর হয় শব্দের মধ্যস্থতায় সময়’কে ফ্রিজ করানোয়।

কবিতা লিখি তাই সম্মান করি স্ট্রাগল শব্দটিকে
বাংলার কবি-কুলের নব্বই শতাংশ লবিবাজি ডিঙিয়ে
আমি বিশ্বাস করি কবিদের কোন জেন্ডার হয় না

শব্দকে ডিফোকাস করাতেই কবিতার আসল উত্তরণ বলে মনে করি আমি, বিশ্বাস করি, অলিখিত নৈঃশব্দ্যে স্নান একমাত্র কবিতার মাধ্যমেই সম্ভব।
কবিতাহীন মানুষ আসলে আজানের সুরের মতোই একা … Lonely

পিয়ালী বসু’র কবিতা


ঐহিক

নিভৃতি ছুঁয়ে যাওয়া রাত
স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিবেশে যা হওয়া উচিৎ
তার চেয়ে বাইশ গজ পিছিয়ে … ফেলে আসা সম্পর্কের মলাট ভাঙছি

বোঝার চেষ্টা করছি … আমার দীর্ঘকালীন অনুপস্থিতিতে
স্পর্শের অবয়ব চেঞ্জের আপাত ডাইমেনশন

ফিরে যাচ্ছি আবার আগের দৃশ্যে
তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে স্পর্শ করা কথাগুলি বরং এখানেই বলে নেওয়া যাক
মুহূর্তগত ছায়াসাক্ষী রেখে


উজান মৌনতা

তখন রাত
আকাশের মূর্ধা ছুঁয়ে ভায়োলিনে একটানা বেজে চলছে আইরিশ সুর
মৌন পঙক্তির নির্মাণ কল্পনায় বিচ্ছিন্নতার স্টেটমেন্ট ছুঁয়ে
ব্যথার দোহারে আপাত স্থবিরতায় নিজেকে সেঁকে নিচ্ছি

মৌনতার ছায়া উজানে নির্মিত হচ্ছে এক একটি কোলাজ
অসহায়তা — পলেস্তারা খসে পড়া জীবন থেকে জড়ো হচ্ছে উপাদান
পরিবর্তিত হচ্ছে ধ্বনি — ব্যথার স্নায়ুজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে অ্যাসাইলাম যন্ত্রণা

রাতের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হাঁটতে থাকি …
অদৃশ্যকথনে তখন খোলস ছাড়ার দ্বিমুখী সুখজাগানিয়া অনুভূতি

মৌনতা জানে দীর্ঘশ্বাসের ভীড় পেরিয়ে চলা বিচ্ছিন্ন বিলাসিতার সুখ


শব্দ

শব্দগুলি চিরকালই এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো
ব্যথাতুর এক বিকেলে তোমার কাছেই শিখেছিলাম
শব্দের কোলাজ তৈরি করা
স্তব্ধশ্বাস নিরুচ্চার শব্দ
সময়বিশেষে পরপুরুষের মতই ঋজু এবং কঠোর


প্রকল্প

কর্কটক্রান্তি ছুঁয়ে থাকা সময়
গাণিতিক এ জীবনে মৃত্যু আসে বিভক্তি চিহ্ন মেপে
মুক্তির অসহ্যতা অসহনীয় মনে হয়

বহমানতা নাস্তিকের অধিকার ভেবে
স্পর্শের একান্ত সংলাপচারিতা কে ‘বিরহমান্যতা’র সংজ্ঞা দিয়ে ফেলি
দেউলিয়া উত্তরাধিকারে ঘৃণা জন্মায়
শোকে ও সন্তাপে … অন্ধকার ও অবিচারে বিপ্রতীপ জীবন বেছে নিই


বিসর্জন

আজ বিসর্জন
স্থবির সময়

আর মৃত্তিকা সংলগ্ন জীবন থেকে আজ মুক্তি

পরবাসী এ জীবনের সব রঙ শেষে আজ শুধুই গ্রে

সম্পর্কের অনায়াস মুগ্ধতা ফুরালে যে ভাঁটা
তাকেই আমি ‘বিসর্জন’  বলি


সময়ব্যুহ

দৃশ্যমান আত্মসমর্পণ শেষ
ক্যালেন্ডারের মার্জিন ঘেঁসে সম্পর্কের মৃত পায়রা
আপাত অদৃশ্য বিপন্নতাবোধ … প্রিয়তর প্রজ্ঞা মেপে অকৃত্রিম দূরত্ব রচনা করে

জীবনের গঠন ও রূপান্তর আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে পথ পরিবর্তন করে
ফলত … মুখোশ আর আয়নার মধ্যেকার সূক্ষ্মতর পার্থক্যটি
মগ্ন নিশ্চুপতায় তলিয়ে যায়

ঘিরে রাখা বিবিধ ব্যাখ্যার সীমারেখা পেরিয়ে
স্মৃতির শায়িত সন্ত্রাসে … ঘনায়ময়ান নিদ্রামেদুরতা জায়গা করে নেয়

ভেজা রোদ্দুরের সানুনয় ঘ্রাণ মনে পড়ায় … আজ ১লা নভেম্বর
স্বায়ত্তশাসিত চেতনার কুয়াশা-বরফি জুড়ে ধ্বনিত হয় …

— চিরচেনা অক্লান্ত রোপনের গান —


ডাউনটাউন

শহরে ‘ছোঁয়াচে ভাইরাল জ্বর’
ঈশ্বর আর শয়তানের মধ্যেকার ফারাক অপজাত অপচ্ছায়া মাত্র

বুকে বেঁধা সভ্যতার অনিবার্য মিরাকেল মৃত
‘ব্রথেল’ এ শহরে
এখন বেশ্যাকে কেনার চেয়েও সহজলভ্য দরে মারণ রোগ বিক্রী হয়


অচলিত

বৈশাখী বিকেল
এ সময়ে যাবতীয় তথাকথিতেরা ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প বলে

অক্ষর জড়ো হয়
রাস্তার হ্যালোজেন মেখে উত্তরমালা অনন্ত ভাষ্য হয়ে ওঠে

কথকের একাগ্রতায় মুখোমুখি দাঁড়ায় বেদ সামগান সায়াহ্নের শেষ প্রণতি
শরীরের নিভৃত তিল-গন্ধী দাগ সাংকেতিক বিরহ ব্যঞ্জনা মেপে
বিচ্ছিন্নতাহীন একান্ত ব্যক্তিগত ক্ষয়ের গল্প বলে


ম্যাজিক

আমি ম্যাজিক জানিনা
ভেবেছিলাম তোমায় জানি
কিন্তু সেও তীব্র ভুল বলে প্রমাণিত

আকস্মিক হত্যা বলে কিছুই হয় না
আসলে এ সবই সরে যাওয়ার বাহানা

১০
সামওয়্যার

বেঁচে থাকা প্রতিমুহূর্তের প্রগাঢ় অতলতার মধ্যেও বাস করে অন্তর্দর্শন
বলিরেখা যত স্পষ্ট হয় … ততোটাই একপেশে হতে থাকে
শব্দের একমুখী চোরা প্রবণতা

নিরপেক্ষ জীবনে
নির্ণয়ের আপাত সংকেত … প্রাত্যহিক কথোপকথনে
ছায়াঘেরা আপেক্ষিক ফ্রেম তৈরি করে

তবুও … অসমাপ্ত বাক্যালাপ হেতু বুঝে গোপন আবহাওয়া খোঁজে
বিমুগ্ধ প্রেক্ষক জুড়ে … তখন অবারিত শব্দের পরিযায়ী অন্বয়

And .. a Poem can be lyric, narrative or dramatic
there can be more of words .. and only emotions

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E