৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৭২০১৬
 
 ০৭/১২/২০১৬  Posted by
দেবযানী বসু

দেবযানী বসু

কবি পরিচিতি
দেবযানী বসু। জন্মঃ ১৯৬০। পিতাঃ গোবরডাঙ্গা কলেজের অধ্যাপক। মাতাঃ কলকাতা জিপিও’র কর্মি। শিক্ষাঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বাংলা সাহিত্যের, বি.এড.সহ। গৃহবধূ। স্বামীঃ উকিল।

কবিতা লিখতে আসা ২০০৫ সালে। কৃত্তিবাস থেকে প্রথম বই ‘দেবযানীর স্বীকারোক্তি, প্রতিভাস থেকে ‘স্বপ্নিল বর্ণমালা’ সহযাত্রী থেকে ‘তৃতীয়া পৃথিবী’, কবিতা ক্যাম্পাস থেকে ‘আইভরি খাতা’, ‘নোনামিঠে জলচিহ্ন্ִ, ‘রেডিওঅ্যাকটিভ মিনারেল বৃষ্টি’, সুতরাং থেকে  ‘চৌরেখাবতী পিরামিডের অরোরা’। প্রবন্ধ লিখে থাকেন।

দেবযানী বসু’র কবিতাভাবনা

কবিতা আমার এমন দর্পণ যার সঙ্গে দরাদরি করা যায় না। আমার কবিতাভাবনা মানে একেবারে কিছু ব্যক্তিগত প্রকাশ যার সঙ্গে প্রচলিত কবিসমাজের মিল ও বৈসাদৃশ্য দুটোই পাওয়া যাবে। শব্দ এবং ভাষাকে আমার অস্ত্র মনে হয়। বিভিন্ন প্রকার আবেগ হল মশলা। খুব সচেতনভাবে লিখি। সমগ্র নেটবিশ্বরূপ ও বাস্তবজগৎ ক্লীয়ার স্যুপ যেন। মায়া ও মোহ তৈরি হয় প্রাকৃতিক নিয়মে। চোখের ছানি কাটানোর নিয়মে তা কাটিয়েও ফেলি। সাধারণত দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখ্যরীতিতে যেন স্বাতন্ত্র‍্য থাকে– এটুকুই চেষ্টা করি।


নাস্তিক আমি। নিজেকে ম্যাজিক রিয়ালিজম চরিত্র বলে মনে হয় পরিবারে সমাজে। একাকীত্বে অভ্যস্ত। যে চাউনিতে কবিতাকে দেখলাম সেখানে প্রাচ্য প্রতীচ্যর হরেক দর্শনের পরিসর। অ্যান্টি পোয়েট্রি ও ম্যাজিক রিয়ালিজমেরও ভক্ত আমি। কবিতায় রহস্যময়তা অনিবার্যভাবে তাই আসে। কবিতারসিকদের ভালোলাগাটুকুই আমার সম্বল। ভালো না লাগাটাও ভালো মনে নি। এবার ঐ দর্পণে লুকিয়ে পড়ার সময় হল। বিদায়।

দেবযানী বসু’র ছোট কবিতা

পুঁতির মালার নাব্যতা


জমাট পথ
সময় দন্ডী কাটে
ফাটা পাইপের জলে
পুঁতির মালার নাব্যতা


রুটি বানাবার দোকানে দিদি
তার হাতখোলা চমক দ্যাখে খদ্দের
সঙ্গে শখানেক ভিন দেশি প্রাণী


জোড়দাগ ইরেজারে মুছি
পায়ের চিহ্ন কেবলই উপবৃত্ত
এতে দ্রুত ভবিষ্যৎ এগিয়ে আসে


জন্মদিন অনেক ঘটনা চায়
এক রিল ভরা ভারুই পাখির নাচ
এক বোতল সমুদ্রের কান্না


সেলাইকলের জোরকান্না শুনি না
বুড়ি হয়ে এল ষোলর মুচকিহাসি
পাই উমরাওজানের বসন্ত


বিয়ার ধোয়া চুল অথবা কেশ
সহেলিতারার শিষ্টতা…
স্মৃতি ক্রমে সব ফিরে আসা
এইমাত্র ফিরে আসে


লকারে জমানো শব্দের ঋণ
ফুলবৃতিদের বিভিন্ন মোচড়
রূপালি আসনের উদারতা
বয়স্কদের মুনরেকার যাত্রা মেট্রোয়


হরিণ শিং দিয়ে আল্পনা দেয়
বনে দাঁড়ি ও অর্কিডের চলে ফারাকচর্চা
হিসেববন্ধন


কেউ থামে বিড়াল পথ কাটলে
বিড়াল আমাদের আমুদে ছায়া ডিঙোয়
বিপদের মনখারাপ

১০
কুকুরের মত দিনে ঘুমায় ঝাড়বাতি
মৃত্যুর মহড়া দিতে দিতে জীবন বিক্রি
প্রেম চালাতে হয়   গাড়িও

১১
ভালো মানুষের দেখা পেতে লাইন উৎসাহী
ব্যাংক অফ রিভার টু পাড়ার ব্যাংক
আমরা মজায় মজানো কাঁঠাল

১২
গাড়লের হাঁচিকাশিতে কুয়াশা ঘরে
পা বেয়ে ধীরে ওঠে জুতো
জামায় লেগেছে জানলার অতিরিক্ত পাল্লা

১৩
কি পেলে জীবনের শেষে
আঁতেল বেল ফেটে উনুন দাউদাউ
সেল্ফিতোলা কবিতায় আরাম

১৪
বাচ্চাপনার সুদ ও আসল
গলাচুরি পুকুরচুরি দুটোই ম’রে ভেসে ওঠে

১৫
পড়শীর গাঁটে গাঁটে বঁড়শি
নিজের খরচ নোংরা গেন্জি জানে
কবির হ্রস্বস্বর আপ্লুত হি হি

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E