৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২২২০১৬
 
 ২২/১০/২০১৬  Posted by
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

কবি দেবাশিস মুখোপাধ্যায় -এর “উৎসবের পরে লেখা”

সকালবেলা বিধবা বুড়ির থানে
আমায় শীত ধরিয়ে
দাড়ি কামানো মুখের সূর্যকে এনে দেয় পড়ে থাকা বাঁশের শরীরে
ইতস্তত পড়ে থাকা দড়ি
কখন রাতের মস্তি শেষে নেতানো যৌনকর্মী

ভেজা শিউলি তুলে নিয়ে গেলে
অনাবৃত হলুদ ঘাসের শরীর
বাড়িতে বাড়িতে সুখের অসুখের
কথায়
কথামৃতের আশ্রয়ে নয়
স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে বাড়ন্ত ভীড়
যাওয়া আর আসার ব্যস্ততায়

নজর নজরানা পায়
ট্যুইশন ফেরত কিশোরী সাইকেল হাসি ছুঁড়ে পার হয়
সব ব্যারিকেড আপস প্রহরে ….

এভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে ভেবে নিতে হয়
কতোজনের পিছনে দাঁড়িয়ে
তোমাকে গন্তব্যে পৌঁছোতে হবে
সমস্ত খরচের পর একটা মাসের শেষ হাতে থাকে
আর সেই সিনেমার নাম
কখনোই অন্তহীন নয়
আসলে সামনে সমস্যা এলে
পিছনে হাঁটার অভ্যাস এখনও
দাঁড়িয়ে টের পাওয়া যায় চোখ কতটা সক্রিয়
কে চুলের খোঁপা ঠিক করে নিচ্ছে
কে রিং ছুঁড়ছে সিগারেটের
কার ব্রা বেরিয়ে গেছে কাঁধের মধ্যদেশে
সন্তানের বায়নায় বিন্দু বিন্দু ঘামে মিশেছে কেশ
কার কপালে আঁকা তৃতীয় নয়ন
টিঁকিয়ে রেখেছে উৎসব
আঙুলের যন্ত্রণায় বোঝা যায়
এখনো দাঁড়িয়ে
ভিখিরির মুদ্রা খুঁজে যাচ্ছি খুচরো সমস্যার দিনে ……

অসুখ বিকেল এলে তুই একলা
সমুদ্রের ঝিনুক বালক খুঁজিস
শরীরে ঢেউ নিলে আঁশগন্ধ ওঠে
চেয়ে দেখা চোখে অন্ধকার নামে
বালিতে লেখা নাম  ডুবে গেলে
তুই ডাকিস ফিসফিস শঙ্খে মুখ দিতে
তোর বাড়ি এখন পঞ্চমীর চাঁদ
লক্ষ্মীর সরার নীচে ধান দুব্বো আলপনার আঁক
কতো ভোগের আয়োজন ছেড়ে
তুই শুধু একা সমুদ্র শাসনে
মৈনাক জাগানোর স্বেচ্ছাচারিতায়
নিজস্বী তুলে হেসে উঠিস পরকিয়া প্রহরে ……

এতো শীতলতা এসে গেছে
শীত আসার আগেই
চা বাগান এখানে নেই জেনেও
মৃত্যু ছবি চোখ দেখছে না বলেও
কৃষকের বিষ খাওয়া নজরে আসছে না বুঝেও
শ্মশানে মাংস নিয়ে দাঁতে ছিঁড়ছি
আর শান দিচ্ছি চাপাতিতে
আর দেখেও দেখছি না ঈশ্বর আল্লা গড শয়তান খুনি আর ধ্বংসকারী হয়ে যাচ্ছে এই মেলোড্রামায়

বদল কিছুই হয় না
অভিনেতা পোশাক আর মেক আপ বদল করে কখনো রাম কখনো রাবণ
আমাদের যাত্রা মাঠের গ্রীণরুম
এতোটা সক্রিয় যে আমরাই ক্রমশ নিস্তেজ আর নিষ্ক্রিয়
শীত আগুনে গা সেঁকে নিতে হবে সেটাও ভেবে নিতে পারছি না ….

স্টেশনের গায়ে অসংখ্য কাকের বিকেল
বলে যাচ্ছে কিভাবে আমরা অন্ধকারগামী
ট্রেনকে প্রশ্রয় দিচ্ছি জান্তে বা অজান্তেই
যে হিজড়েরাও হেসে তালি দিয়ে
উঠছে

হোটেলের নাম দীনবন্ধু হলেও
ভিখিরিরাও জানে পয়সা দিলেই
ভাত জোটে
বাসের কন্ডাকটার সন্ধ্যার যাত্রী
তুলে হারিয়ে যায় এক চক থেকে
আরেক চকে
আলোর ঘুমিয়ে পড়া তাকে স্পর্শ
করে না
অন্ধকার ফেরিওয়ালার এতোটাই মোহ

ঈশ্বর শব্দটি ইদানিং এতো স্বরহীন
যে চিটফান্ডে সব হারাদের আর্তনাদে
সে ক্রমশ জল তার মুকুট সমেত …….

চাদরের ভাঁজে রোদের আরাম
সুবাহের সুর বাজায়
শীত ধুয়ে তুমি উষ্ণ চা
আর কিছুটা রামপ্রসাদী

ভ্রমণের ভিতরে সবুজের মায়াচোখ
আর ঘুঘুরা ঘুরছে আনন্দ ডানায়
ফুলের পোশাক ছুঁয়ে শালীনতার ভিতরে জমে থেকে
পুকুরে ছায়া পড়ে কেবলে দোলা
মাছরাঙার রঙের মোহে মৌরলা

চশমা ছাড়াই পড়া যায়
অক্ষর ক্ষেতের গভীর থেকে উঠে আসে বাতাসের দীর্ঘশ্বাস
সকালের শরীর খারাপ সেরে উঠতে গিয়ে দেখে মেঘ জমেছে
আকাশ ফিরে পাচ্ছে না কিছুতেই
হারানো দিনের অভ্যাস ……

অলস চারপাশের আকাশ
প্রতিবেশী মেয়েটির জানালা বন্ধ
অনেকদিন
পৃথিবীর সঙ্গে দীর্ঘ আড়ি করে সে
আড়ালে
ইদানিং ধূপের গন্ধ আর বরফের
প্রতি বিরাগ
সুরমা আঁকতে ব্যর্থ সংগীতেও

সেইসব ওষধি গাছেদের খবর
কালো হয়ে যাওয়া রাস্তার শরীরে নেই
পাখিদের মৃতদেহ পোড়ানোর পর সংরক্ষিত ছাই
মাঝে মাঝে ডানা পায় মাঝরাতের হাওয়ায়
ঘুমের ভিতর এক অস্পষ্ট গোঙানি নীরবতার তার কেটে যায়

ব্রাহ্মমুহূর্তের কাছে ঈশ্বর পিছন ফিরে চলে যাচ্ছেন
আর তার ফেলে যাওয়া রক্তবমিতে ছড়িয়ে যাচ্ছে  আরো আরো রক্তবীজ …….

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E