৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২৭২০১৬
 
 ২৭/১০/২০১৬  Posted by

কবিতা রহমান -এর কবিতা


মাটির পথ খোঁজে

সময়ের হিসাবে দিনের খাতায় বেদনার অশ্রæগুলো
প্রবাহিত হয় রক্ত নালে
করুন মায়া দৃষ্টি কেড়ে নেয় উড়ন্ত চিল
কুড়ে কুড়ে খায় দেহের মাংশ কুকুরের দল
রক্তাক্ত উঠোনে পুড়ে যাওয়া লাশের গন্ধে
শকুনেরা উড়ে বেড়ায় নীল গগনে
অমৃত দেহগুলোও মৃতের শ্লোগানে ভীড় জমায়

বায়ান্নের রক্ত পথে পেয়েছি ভাষা
আর একাত্তরের সমুদ্রসম লাল জলে অর্জিত স্বাধীন ভূমি – বাংলাদেশ।

এখনো রক্ত ঝড়ে, মানুষ পুড়ে, সাদা কাপনে ঢাকে স্বজনের লাশ
চোখের জলে ভাসে বুকের আঁচল, শব্দহীন কাঁদে বাংলার মাটি
তবে আজো কি স্বাধীনতার খোঁজে আরেকটি রক্ত খেলার অপেক্ষায়
নাকি শ্লোগানের পদধ্বনিতে মুক্তিযুদ্ধের আহবান?


ঈশ্বর ও মন

ঈশ্বরও ঘুরতে যায়
মন ঘরে
অথচ মন ঘুরে ফিরে
অন্য মনে


জন্ম

মাটির দরজা খুলে বেরিয়ে আসা জীবন্ত আলোক
সূর্যহীন পথে কেঁপে ওঠে
দশের অন্ধকারে ফিরে যাবার ভয়ে


জীবন

লাল বর্ণে ঝড়ে পড়া
কড়কড় বৃক্ষপাখা
আগামির পথে হারায়
সবুজতা
পথে-ঘাটে, টোকাই-এর থলে,
কিংবা উনুনে ছাই হয়
বায়ুর টানে
উড়ে নীল গগনে
সঙ্গির পরমতায়, অ্স্তিত্বের খোঁজে॥
ফেলে আসা টিকটিক শব্দ ঘরে
তাই কিছু অরক্ষিত দাগ
দগ্ধ দেহের বেদনায় কাতরে উঠে
অথচ তোমার মৃত্তিকায়
ভিন্ন কৃষকের নবান্ন উৎসব


প্রেম

প্রাপ্তি কিংবা অপ্রাপ্তির হিসেবে নেই
পূর্ণতা আর অপূর্ণতার হিসেবেও না
অতো কিছু বুঝিও না
তোমার ভালোবাসায় মন লুকিয়েছি
দু’জনার পরমতায় জন্ম নেয়া
বৃক্ষহীন ফুলকে বাঁচিয়ে রাখতে
অথচ তোমার পলকে ভাসে
কাক কুকিলের ছায়া ॥


শূন্য ঘরে

সাগর পানিতে মিশে রক্ত। মাখামাখি রৌদ-কুয়াশা। পৌষের ঘরে। দুঃখের সাথে ভাগাভাগি হয় – সময়।
শীতের গন্ধ ছড়ায় চৌপ্রান্তে-
তৈ তৈ, চই চই ছানাগুলোকে ছিটিয়ে দেয়া খাবারের মতো সময়ের ছেদে
তোমার সুখগুলো পড়ে আছে। ক্লান্ত নদে উল্লাসিত মাঝির আরামের স্বর
বেজে ওঠে শান্ত জলে- নীরব পথে।

এখনো দৌড়ে বেড়াই। পাকা পথে। রেইল-লোহায়। সূর্যের মধ্যবেলায়। হলুদ আভায়। সন্ধ্যার কুয়াশায়।
পকেটেই থাকে-কালো স্কিন। ইনবক্সে পড়ে থাকে-পুরাতন মেসেজ।
চোখে জল ধরে। ২ তারিখের ধ্বনি অবিশ্বাস মনে হয়।
লাল মলাটে জমে থাকা ধুলো ভেবে উড়িয়ে দেই। – সময়ের প্রয়োজনে মুছে যাবার অপেক্ষায়।
শীতের কোলে হেমন্তের চোখ ফাঁকি-নিরব লাজুক প্রবেশ – তোমার দেয়া ২ তারিখ।

ভালোবাসার ফুলগুলো দাগ রেখে যায়।
মুক্ত মঞ্চের শ্লোগিত স্বর ক’জনের কর্ণেই বাজে? স্বরে তাল মিলিয়ে ঠোঁট বাঁকানো কিছু মানুষের স্বভাব।

হেঁটে যাই ঐ পথ ধরে। তোমার সুখেরা অশ্রুহীন পাথর হয়ে পড়ে আছে। ছুঁয়ে দেই।
অভিমানী সবুজ পাতাগুলো লজ্জাপতি সাঁজে। তাজা খুনের গন্ধ নাসিকায় ঢুকে।
নরম মাংসের অতৃপ্ত ঘ্রাণে মাতাল হই। খোঁজি অমৃত জল।
শিহরিত লোমের গোড়ায় সুইসম শিশির ফোঁটা – ঝকঝক করে রোদে।
স্মৃতির উঠোনে-পড়ে থাকে অর্থহীন জীবন। বাসর খাটে বিছানো ফুলের মতো। – শূন্য ঘরে।


কাঠপাখি

তোমার কোঠরে অন্ধকার যেনোও এলাম
নিজেকে তোমার আলোয় ভরিয়ে নিতে,
অথচ তুমি অন্য বনের কাঠঠোকরি…
অতিথি পাখির মতো ভালোবাসার রং ছড়িয়ে
দৃশ্যকে পাল্টালে,
অথচ নিজেকেই বদলালে না…!!!


কলাবাদুরের মিছিল

সময়ের চাদরে মুড়িয়ে রাখা কিছু কথার পণ্ডুলিপিকে
উঁইপোকা কেটেছে,
বেশ অবাক হলাম!
কি করে এলো?
ভিআইপি রুমে একান্ত মানুষরাই প্রবেশ করে
তারো মাঝে সিন্ধুকের লুকানো চাবির রহস্য
কারো জানার কথা নয়
তবুও জেনে গেলো কিভাবে?
এটা কোনো অন্তর মানুষের কাজ
না হলে-
এতো যত্নেরর নরম বালিশে লুকিয়ে রাখা
পাণ্ডুলিপির গায়ে দুষ্টপোকাদের পদাচরণ-
কষ্টের নোনা জল – ভিজিয়ে তুলেছে নয়ন
বুঝতে পেরেছি,
কু-আঁখির নজর পড়েছে রুপার ভালোবাসায়
তাই অসময়ে দিনের বাতি নিবিয়ে দেয়ার মিছিলে
কিছু কলাবাদুর উড়তে শুরু করে নীলগগনে…


শীতের দেয়ালে ওম

পৃথিবীকে ঢেকে নেয়া কালো চাদরের মতো
আমাকে আঁড়াল করে নেয় তোমার বাহু
আর আমি-
মায়ের আঁচলে ঘুটিয়ে নেয়া অবুঝের দেহরূপ
পড়ে থাকি রাত্রির বিছানায়

১০
ছায়া

বার বার দৌঁড়ে আসে চোখ
পত্ররুমে,
এই বুঝি তুমি এলে
একুশের মিছিল শেষে

১১
কে কার

ভাগ্যগুলো লুকিয়ে থাকে দেবতার হাতে
সময়ের পালাবদলে মানব হাঁটে
ভাগ্যের দুয়ারে নাকি ভাগ্য ফিরে আসে-
দেবতার মুঠো হাতের স্বাধীনতার খোঁজে ?
স্বপ্ন তো মানুষ দেখে নাকি স্বপ্ন মানুষকে ?
তাহলে ভাগ্য সফল হতো; হৃদয়ের হাটে…

১২
নষ্ট জলের দেহ

নষ্ট জলের অস্তিতে কতো রং মাখা
জন্মপূর্ব অধিকার একক সত্বায়
জন্মের পর শুরু হয় ভাগাভাগি
রং, ঢং, বর্ণ, হাসি, আঁখি, পা,
আরো কতো সব ভাগ করে নেয়
স্বজন-মহাজন আর বন্ধুদের আড্ডা

সময়ের ঢেউ-এ বদলে স্বজনের চোখ
পাড়ার মুখে ফুটে নানা কথ্য সত্য-অসত্য
অবুঝ দেহ গঠনে নষ্ট জলের ছোঁয়া
তবুও রক্তে মিশে থাকে বংশের দাগ
ধর্মের? ধর্মেরও কি থাকে?
নাকি আমার নষ্ট জলের দেহ
নদীসোরতের খড়ে ভাসে বংশের নায় ?

১৩
সময়ের মোচড়ানো স্মৃতিজল

আয়নায় ফুটে উঠা ছবির মতো
তুমি এসো দাঁড়াও
কথা বলি, তুমিও বলো
হাসি, তুমিও হাসো,
ফিরে যাই,
আবার এসে দাঁড়াই
পরদিন, পরদিন, পরদিন,
এভাবেই হেটে যাই; সময়ের হাঁটে
শুধু তার মোচড়ানো স্মৃতিজলে
চোখের আলো ভাসে..

কবি পরিচিতি
কবিতা রহমান। জন্ম তারখিঃ ১৫ অক্টোবর। জন্মসালঃ ১৯৮৮। জন্মস্থানঃ কুমিল্লা।
প্রকাশতি কাব্যগ্রন্থঃ বর্ণের হাট (একক ২০১৬), কবিতার উঠোন ( যৌথ ২০১৫)।
ইমেইলঃ mutshukonna@gmail.com

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E