৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
মার্চ ০৮২০১৭
 
 ০৮/০৩/২০১৭  Posted by
উদয় শংকর দুর্জয়

উদয় শংকর দুর্জয়

উদয় শংকর দুর্জয়-এর একগুচ্ছ কবিতা


জলেশ্বরীর গল্পকার
(সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদিত)

অন্তর্বাস খুলতেই ম্যানহাটনের আকাশ দৃশ্যত জানলায়, কল্পনিশি পর স্পর্শ ছুঁয়ে
যায় অন্তঃশিলা। বৃন্তের সোনালি অক্ষরে জেগে থাকা অনুভূতির নির্মলা মেঘ শুয়ে
থাকে। আর পশ্চিমের করুণ হিম-মৌসুম ভুলে যেতে যেতে উলের বেহালা বাদকের
নাম; পাঠ কর খেলারাম খেলে যা অথবা মার্জিনে মন্তব্য লাগুক টান হৃত কলমের

নির্বাসিতা, জলেশ্বরীর গল্পগুলো পড়তে পড়তে সেরে নিতে চায় অন্য এক আলিঙ্গন
পরানের গহীন ভিতর অচেনা আলোর জন্য রাজার সুন্দরী লেখে নিষিদ্ধ লোবান
এক শীত বিকেল পেরুলেই তুমি লিখে ছিলে অগ্নি ও জলের কবিতা; তুমি অনির্বাণ
বেজান শহরের জন্য কোরাস ধরি, রক্তগোলাপ কাননে কাননে তোমারি অনুসন্ধান

18/12/2016
11.23 pm
92A High Street London


আনমনা রোদ্দুর ভেজায় হৃতমহল   

বাদামী এনভেলাপ খুলতেই উড়ে যায় গুচ্ছ গোলাপ; টুপটাপ লাজুক শব্দগুলো লুকোতেই পশ্চিমে ওঠে মেঘের দেয়াল। তখন জানালায় নেমেছে ঘনঘটা, আঁচলের আড়ালে রোদনসূত্র গুছিয়ে নিয়ে এক ঝাঁক বিহগ ঠিকানা ভুলে উড়ে যায়। মোহনচূড়ার পিঞ্জরে লেখা গিরিখাদের পাণ্ডুলিপি পড়তে পড়তে অশ্রুপাতের রং বদলায়। বালিকা তখনো খণ্ড খণ্ড মেঘপুঞ্জের মাঝে দৃষ্টি ফ্যালে; প্রত্যাশিত আলোক বিন্দু দেখাবে বৈকুণ্ঠের দুয়োর।

সব ভাঙা স্যুটকেস, জামার বোতাম, স্কুল ইউনিফর্মের ছেঁড়া হাতা, পিতলের মেডেল গোছাতে গোছাতে অভাগিনী, শুকিয়ে ফ্যালে অদৃশ্য সজল প্রপাত। ফিরে যায় লিখিত দলিলে, যেখানে কালির স্বাক্ষরে ঘটেছিল শুধুই দেহ বদল। তবু বদলে যায়নি মনের অভিধানে লেখা যত সুখ-যাতনার ত্রিলিপি। পুরুষতান্ত্রিক নীতির কাছে হেরেছে মূল্যবোধের সবক’টি অনুরাগ; চুর চুর হয়ে গ্যাছে ছান্দসিক ইচ্ছে যত।

একদিন দখিন হাওয়ায় সরে যায় বুকের কাপড়; হু হু করে ঢুকে পড়ে কোনো ইংলিশ হ্রদের বৈকালিক ঐকতান। উদ্বেলিত ঢেউ, আঁধার চৌচির ক’রে এসে দাঁড়ায় অন্দরচিত্তে। কবিয়াল যেন ঠিক ঠিক অস্পৃশ্য অবয়ব।  যেদিন বেডরুমের সব ধুলো সরিয়ে একদল প্রজাপতি ঘরময় ওড়ে, সেই থেকে রুপুর সব অজানা সৈকত হঠাৎ শ্রাবণে ড্যাফোডিল আর পুরুষ জিনিয়ার বাগান হয়ে ওঠে। আনমনা রোদ্দুর ভিজিয়ে দিয়ে যায়, পড়ে থাকা হৃতমহলের ঝিমানো বাতিগুলো।

17/02/2017
11.40pm
214 Shaftesbury Avenue, London


ঘাতক-ডায়রির সূচিপত্র জেনেও

[আবু বকর আল সামারই এর শিরচ্ছেদের চিত্র দেখে]

এভাবে মৃত্যুর জন্য ওরা প্রস্তুত হচ্ছে প্রতিদিন, নজওয়ানরা
এভাবে বুকপৃষ্ঠায় লিখে রেখে ঠিকানার অস্ফুট শব্দগুলো, ওরা
নেমেছে প্রতিহত বুটের আওয়াজ তুলে। প্রিয়জন আর স্বজন যারা হারিয়েছে,
একটি নিস্তব্ধ(বুলেট বিহীন) রাত্রির জন্য আবু বকররা বুকের হিমালয় উঁচু করে দাঁড়িয়েছে
একমুঠো ইরাকীয় মাটির ঋণ শোধিতে ওরা জেনে গ্যাছে ঘাতক-ডায়রির সূচিপত্র

শিয়া, মিলিশিয়া, কুর্দি নেই লেখা ওদের দেহের কোনো কণিকায়, তবু ওদের অস্তিত্বেই
পড়েছে কোপের সমারোহ। কোথাও ইয়েজিদি কোথাও আহমেদিয়া আবার ধর্মহীন বস্তিতেই
চলছে অগ্নিসূত্রের গ্রহণকাল। বন্দিত্বের দেয়ালে কেউ কেউ লিখে যাচ্ছে যৌনদাসত্বের স্বাক্ষর
সমীকরণের চোরাবালিতে ছুড়ে ফেলে, ওরা লুটে নিচ্ছে আত্মার সতীত্ব আর কৈশোরের সম্ভ্রম

শান্তির বাণী শোনাতে
ওরা নেমেছে দুর্বার বেগে, লিখেছে নিশানময় আদিসমগ্র, তর্জনে গর্জনে পড়েছে ফেটে
রাকা, আলেপ্পো, মসুল… ভুমিগ্রহজুড়ে রক্তাক্ত ধুলো। টাইগ্রিসের অঞ্চলজুড়ে
সিলভার আলোয় জ্বলছে ধর্ষক আর খুনির তরবারি, হেরে যাচ্ছে শক্তি আর সামর্থ্যের অস্থিমূল
নীলাভ আকাশ পরে নিয়েছে কালো-ধোঁয়ার রাত্রিদিন।
প্রতিদিন, ক্রন্দিত নিঃশ্বাস জ’মে, ভ’রে গ্যাছে তাহাজালো মুরাদ, লেইলাদের বসতবাড়ি
তবু সেই ঘাতকের জন্য প্রার্থনায় জমে চোখের জল, ফরিয়াদে মাথা ঠুকি, ক’রে দেই সম্প্রীতির আড়ি

22/02/2017
8.02 pm
214 Shaftesbury Avenue
London


নিমগ্নতায় ইস্টিমারের অন্তরিপা গীত  

তোমাকে দেখার পর এক অবিরাম সোনালি মেঘ নেমেছে  সমুদ্রালয়ে।
তামাটে তানপুরায় বেজেছে হাওয়াই বাঁশি। ভেজাভোর আলোকরাশি ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহমন্দিরে। তারপর থেকে দিকভোলা হরিণ বালক ইচ্ছে করেই ভুলে যায় ফেরার ঠিকানা।

তোমাকে দেখার পর ক্লাক্টন সীর সব মধ্যরাতের বাতিরা নেমেছে
বালুর সংসারে। আঁজলা ভরা এক শীতল-শুভ্রতা পান করতেই
কলরোল বেজে উঠেছে নির্জন রথে। সেই দেখার পর চৈতন্যের ভেতর
আলোর জোনাক ছুটেছে গ্রহপুঞ্জের মতো।

বিষাদসূত্রে বাঁধা যত দগ্ধ ঋতুর গান, সব যেন মুছে ফেলেছে উইলোদের বেলান্তের ছায়া। উড়াল পর্বত থেকে কাস্পিয়ান সমুদ্রে ঝরে পড়া নিশ্চুপ বিরহ থেকে রাগিণী শিখেছে উন্মাদনার স্বরলিপি। অম্বলা নদীর বুকে দাঁড়িয়ে ওয়াটারমিল খুঁজেছে
রুপুর হাতে জড়ানো অদৃশ্য মায়ার প্রপাত।

তোমাকে দেখার পর থেকে তুষার ওমে মুছে গ্যাছে ডী-নদীর নিঃসঙ্গ অস্থিরতা। সোয়ানের ডানায় জলবায়ু ফেলেছে সবুজ চিহ্ন; শিমুল তুলর মতো উড়ছে সফেদ ঢেউ শৈতিকা ভূ-গ্রহে।

তোমাকে দেখার পর
লণ্ডভণ্ড করা টিসুনামি, ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক ফিরে গ্যাছে, ব্যাকওয়ার্ড দৃশ্যের মতো।
ঠিকঠাক পত্রারাণ্যে নেমেছে আনন্দআলো। কার্জন পার্কে গাইছে নিমগ্নতায় ডুবে থাকা ইস্টিমারের অন্তরিপা গীত।

15/02/2017
6.32pm
214 Shaftesbury Avenue, London


সেই সব রাত্রিদিন

নদী-প্রবাহের বিবর্তন স্মৃতিতে, ফেলে যাওয়া পায়ের চিহ্ন ধরে হেঁটে গেলে গিরি খাদের অধিবিহ্বল শোক সংসার। পত্রচ্যুত ধ্বনি অবলম্বন করে একদল অতিথি জিরাফ হরিদ্রাভ আলোয় দ্যাখে রঙের সমীকরণ। কোমল শিলাচূর্ণের ধ্রুপদী লহরী, ছুঁতে গিয়ে জলের দেহ, ফিরে যায় সজ্জায়। ফেলে আসা সেইসব মৃত্যুসংগীত, সেইসব ক্রন্দিত দুপুর গ্রহণকালে পাঠ করে অনিঃশেষ সংজ্ঞা বিভেদের

এক বিসুখের মহাকাল পেরিয়ে আসতে চাওয়া; তবু মৃত্যুমিছিল কিছুতেই ফুরোতে চায় না। ধূসর গৃহনদী স্নেহবিয়োগের আচ্ছন্নতা কাটিয়ে হতে চায় শ্যামল সন্ন্যাস। রাশি রাশি পরাজিত ছায়ারা মুছে ফেলে ঘাত, তুমুল পায়ে দাঁড়ায় আরেকবার। এই অরণ্য, এই অনিরুদ্ধ বিকেলের মায়াময় স্নান জোছনা ফেলে যদি একবার শিখে ন্যায় ধনুর্বাণ-উপপাদ্য। সব ক্রুদ্ধস্রোত শপথের পালে রোষ-নিঃশ্বাস রেখে জন্ম নেবে যুবতীনদী

অগ্নিগর্ভের বুকে জেগে ওঠা চিত্রকল্প থেকে, পাললিক-নদী ফের ছবি আঁকে সংবেদন নিরালার। অপ্রকাশিত সে আত্মজীবনীর পত্র-পল্লব-মুকুলে, গভীর সমুদ্রদেশের সাঁজোয়া যান লিখে রাখে বাঁচবার উপকরণ। পুনর্জন্ম পর্ব শেষ হলে সন্ন্যাসদশা পূর্ণ করে ফিরে আসে লোকারণ্যে। অরুণরাঙা দিন আসে উড়ে, বিভাজিত চুক্তির জ্যোতির্বলয় থেকে ভেসে আসে মন্ত্রমুগ্ধ ঐকতান। এক সোনালি কেতন ছোঁয় উচ্ছল সমীরণ

৩১/ ০১/২০১৭
05.30 pm
214 Shaftesbury Avenue, London

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E