৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ২৮২০১৬
 
 ২৮/১০/২০১৬  Posted by
কবি আহমেদ শিপলু


কবি আহমেদ শিপলু

আহমেদ শিপলু’র কবিতা

অন্তহীন মায়াচক্র

বিকেলের নরম হলদে রোদ লেগে আছে তার গ্রীবাদেশজুড়ে। উড়ন্ত পাখির চঞ্চলতায় তার আসা যাওয়া। মাথার ভিতরে, চোখের ভিতরে, বুকের ভিতরে, তার অবাধ যাতায়াত। অস্পর্শ মায়ার মতো, ছায়া হয়ে চারিপাশে ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে তারপর দূরে, আরো দূরে…

ফ্রক, স্কুল ইউনিফর্ম ছেড়ে অনভ্যস্ত শাড়ির আঁচল ঠিকঠাক করে যখন তাকালো, তখন সারাদিন সূর্যগ্রহণ, তখন সারারাত চন্দ্রগ্রহণ।  কার মাঝে কে দাঁড়ালে কার যে গ্রহণ লাগে, সে এক রহস্য বটে!

সূর্যের পিছনে ছুটতে গিয়ে দেখলাম দিন স্থির। চাঁদের পিছনে ছুটতে গিয়ে দেখি রাত অনড়। মনে হলো আমি চললেই সব স্থির, আর আমি থামলেই সব কিছু চলমান। এভাবে চলতে চলতে, থামতে থামতে দ্বিধান্বিত, থামবো না চলবো বুঝতে পারি না।

চোখের মধ্যে অনন্ত কালের ঘুম। অধরা স্বপ্ন বুনে ক্লান্ত। ঘুমের মধ্যে কোনো গ্রহণ থাকে না, কেবলি হলদে নরম রোদ্দুর মাখা মুখখানি বিকেলের আকাশ হয়ে ঝুলে থাকে।

বেছে নাও বললেই বেছে নেয়া যায় না


একটা বকুল গাছের নিচে দুজন মানব মানবী।
একটা নির্জন বটবৃক্ষের নিচে বসে একজন ধ্যানী।
একটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে অসংখ্য মানুষ।

এই তিনটি দৃশ্যের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হলো। আর আমি ভাবতে শুরু করলাম। ভাবতে ভাবতে হাঁটতে শুরু করেছি কখন টেরই পেলাম না। একটি নদীর ধারে এসে যখন থেমেছি তখন সূর্যাস্তের বিপরীতে মস্ত বড় চাঁদ। মনে হলো ঠিক এখানেই যদি পৃথিবী স্থির হতো! ব্যাটারি ফুরোলে যেমন থেমে যায় ঘড়ির কাঁটা।


একটা কুকুর পুষতাম ছোট বেলায়। কেউ তাকে মেরে পা ভেঙে দিয়েছিলো। আমাদের বাড়ির উঠোনে ক’দিন নিশ্চল শুয়ে থাকলো। মালসা ভর্তি ভাতের মাড় পড়ে রইলো। আহত অভুক্ত কুকুরের করুণ কান্না থেমে গেল এক ভোরে। প্রবল বৃষ্টির দুপুরে বন্ধু খলিলকে নিয়ে সমাহিত করলাম তাকে। বৃষ্টির জল আর আমার চোখের জল একাকার হলেও সেদিন জেনেছিলাম মানুষের কান্না কুকুরের চেয়ে করুণ নয়।


কৈশোরের শুরুতেই প্রথম ভালো লেগেছিলো প্রথম দেখা ‘দি বুলবুল সার্কাসে’র মিনি ফ্রক পরা ফুটফুটে এক দুরন্ত কিশোরীকে। বিনা টিকিটে লুকিয়ে ঢুকে গেছি কয়েকদিন। দর্শক সেই কিশোরীর ঝুঁকিপূর্ণ কসরত দেখে হাততালি দিতো, আর আমার ভয়ে, দুশ্চিন্তায় হৃৎপিণ্ড লাফাতো। অদ্ভুত ভালোলাগা আর কৌতূহলী চোখে দেখতাম তাকে। মাসব্যাপী চলা সেই সার্কাস প্যান্ডেলের সবাইকেই খুব রহস্যমানব মনে হতো। ভালো লাগতো তাদের হাতি আর সজারুকেও। মায়া হতো দুজন জোকারের জন্য। অনেক পরে জেনেছি, অনেক কিছুর মতো সেই মেয়েটিরও নাম জানি না।


বেছে নাও বললেই তা বেছে নেয়া যায় না।
জগতের সব কিছুই বেছে নেয়ার জন্য নয়।

তুমি রূপজান হলে আমি মেহের আলী


[তোমার জন্যে হেঁটেছি কত না সকাল সন্ধ্যা বেলা
তুমিতো কেবলি আমারে দিয়েছো অবজ্ঞা অবহেলা,
এই হৃদয়ের ব্যথা কখনোই জানতে পারোনি তুমি
তুমিই যে ছিলে আমার আকাশ তুমিই স্বর্গভূমি।]


ভালোবাসতাম, বেসেছি, বাসি। এই বলে বলে গলে যাওনি তুমি, গলাতে পারিনি আমিও। মানুষের মন কী চায়,  জানে না নাগরিক যুগল। মেহের আলী জানে, তার চাই জিয়ল মাছের ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা ভাতের ঘ্রাণ!  কোলে তার নতুন শিশু, নতুন স্বপ্ন। বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে টের পায়, ভালোবাসতে ভাত কাপড় ছাড়া লাগে না আর কিছু।


পূর্ণিমার আলোয় চিক-চিক করে নদীর জল। জাল ফেলে বসে থাকে মেহের আলী। জোয়ার আসে ভাটা যায়, ঋতু বদলায়। সিডর আইলা নার্গিস তাড়া করে স্বপ্নের ভিতরে, প্রতি বছর ভেসে যায় ঘরদোর সাজানো সংসার। মেহের আলীরা তবু ঘুরে দাঁড়ায়।


তোমার ভালোবাসায় অপূর্ণতা। মেহের আলীর বউ রূপজান বলে ভাতের কথা, ভাতের সাথে দুটো কাঁচামরিচ আর লবণ। এটুকুই চাহিদা। তোমার লিস্টিতে টমেটো সস, ক্যাপসিক্যাম, পেস্তাবাদাম, আলুবোখারা। মেহের আলীর মগজে চাল ডাল আর তেল নুনের ফর্দ। তুমি বিউটি পার্লার থেকে সেজে-গুঁজে আয়নায় দেখো মুখ, রূপজান কাজল পরে লজ্জায় রাঙা! দুরুদুরু তার বুক!


[তোমার দুঃখ তুমিই গড়ছো
আমার দুঃখ আমি
রূপজান জানে দুখ কারে কয়
আর জানে তার স্বামী।]

ফ্রেমবন্দি কোলাহল

ফ্রেমবন্দি কোলাহল। ফ্রেমবন্দি সময়। ফ্রেমের মধ্যে বন্দি ঘড়ির কাঁটা ও ক্যালেন্ডার। বন্দিত্বের অসহায়ত্ব জানে বাঘবন্দি খেলোয়াড় আর ঘোড়ার চালে আটকে যাওয়া দাবাড়ু।

আসামি পরিবহনে প্রিজন ভ্যানের জানালায় কতগুলো মানুষের হাত। স্কুল ভ্যানের ভিতরে কুঁচকে থাকা আগামী প্রজন্ম। ফুলের মত শিশুরা বারান্দার গ্রিলে অসহায় ঝুলে, যেন চিড়িয়াখানায় বেবুন, বানর, শিম্পাঞ্জি।

নদীর ধারে গুণটানা মাল­ার বন্দিত্ব বুঝবে না কেউ। জেলে নৌকার মাঝি, লঞ্চের সারেঙ, রেলের ড্রাইভার, টিভিস্ক্রিনের সংবাদ পাঠিকার বন্দিত্বের সংবাদ ছাপা হবে না কোথাও।

নয়টা পাঁচটা অফিস ফেরত মানুষেরা, বাসস্টপের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সময়ের ফ্রেমে বন্দি মানুষগুলো, তাকিয়ে দেখে বিশাল বিজ্ঞাপনচিত্রে বন্দি পণ্যতারকার হাসি।

মুক্তবাজারের যুগে কেবল মানুষেরাই বন্দি ক্রমাগত।

তুমি আসছো না

শহরে বর্ষণ হলে ল্যাম্পপোস্টগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে একা।

ভাবনার গভীরে দুঃখ গলে গলে পড়ে, শহুরে চোখ ধরা দেয় না। আলো অন্ধকার, দুই প্রতিপক্ষ, দুই প্রতিবেশী। পরস্পর নির্ভরতায় পৃথিবী প্রদক্ষিণরত। মানুষ জানে না তোমাকে ছাড়া কতটা অসম্পূর্ণতায় কাটে দিন।

পরস্পর বিচ্ছিন্ন আমরা, একটা আপেলের অর্ধেক খেয়ে সেই সুদূর মেসোপটেমিয়া থেকে সিন্ধুর হরপ্পায় হেঁটেছি হাজার বছর। কেবল তোমাকেই খুঁজেছি প্রিয়তমা! তবু তুমি আসোনি।

সঙ্গীতের ভাষা বোঝা হলো না আজও। বৃষ্টির বিকেল দেখা হলোনা, দেখা হয়নি জ্যোৎøাময় রাত আর সুকোমল সূর্যোদয়। কবিতার সবটুকু বুঝবো বলে বসে আছি তোমার অপেক্ষায় প্রিয়তমা!

নৌকার অপর প্রান্তের শূন্য গলুইয়ে বসে আছে জোড়া শালিক। অসম্পূর্ণ আমি সম্পূর্ণ হবো তোমার স্পর্শে। বৈঠা হাতে পাড়ি দেবো ভয়াল বৈতরণী। প্রিয়তমা, তবু তুমি আসছো না!

মেহের আলী নিখোঁজ

ঝড়ে উড়ায়া নিছে ঘর! ভাসায়া নিছে মাঠের ফসল! সবার নাও ফেরে মেহের আলী ফেরে না। মেহের আলী নিখোঁজ। নদীর ঘাটে বইস্যা রূপজান কান্দে আর বিলাপ করে। ত্রাণের আশায় দৌড়ঝাঁপ করে, স্বজনহারা, ভিটাহারা নিঃস্ব মানুষেরা।

প্রতি বছর তুফান, প্রতি বছর বন্যা। রূপজান আবার ঘর বান্ধে। একমাত্র পোলাডারে মানুষ করবার চায়। পোলা উঠানে দৌড়ায়, খ্যালে, মেহের আলীর ছায়া যেনো চারিপাশে ঘোরে! রূপজান নদীর ঘাটে একলা। দূরে পালতোলা নাও, ঢেউয়ের মাথায় উঁকি মারে! রূপজানের বুকে ধড়ফড়ানি! বেলা ডুবে সন্ধ্যা হয়। মেহের আলী ফেরে না।

রূপজান গোবর দিয়া উঠান ল্যাপে। ঘরের চালে ত্রাণের টিন। পোলাডা বড় হইতে থাকে। ঘুমের মইধ্যে খোয়াবে আসে মেহের আলী! পোলাডারে কোলে নিয়া চুমু খায়। রূপজান অভিমানে গোস্যা করে। হাত বাড়ায় মেহের আলী। বাহিরে শিয়াল ডাকে। কাঁচা ঘুম ভাঙা রূপজানের কান্নার বিলাপ রাত্রির গভীরতা
বাড়ায়।

চিত্রনাট্যে রূপজান


মাথার ভিতরে প্রাচীন চাষাবাদ। মাথার ভিতরে মারিজুয়ানার ঘোর। মাথার ভিতরে গোপন প্রেমের হাতছানি। পা পিছলে পড়ে যাবার ভয়! শাখানদী বয়ে চলে প্রশাখায়। হেঁটে চলা নদীর পার। সম্ভাবনাহীন স্বপ্ন বুননের ঝোপঝাড়!  মাথার ভিতরে ক্ষোভ! মাথার ভিতরে ওত পেতে থাকা রাক্ষসী! গিলে খেতে চায় সাজানো বাগান।


যে দিকে গেছে নদীর স্রোত, সেই দিকে থাকে বঙ্গোপসাগর। ঢেউখেলানো আতঙ্ক! সাঁইসাঁই বাতাসের গতিবেগের মানে বোঝে রূপজান। ঝড়ের কবলে নিখোঁজ মেহের আলীর ব্যাটা তোরাব আলী জলে নাও ভাসায়। রূপজানের বুক কাঁপে! ঢাকার খবরে আগমনী তুফানের পূর্বাভাস। যাইসনারে তোরাব আলী! যাইস না বাজান!


মাথার ভিতরে মেহের আলী। মাথার ভিতরে বঙ্গোপসাগর, ঢেউয়ের মাথায় কালবোশেখি! রূপজানের সংসার। নতুন গল্পের প­ট। নতুন প্রডিউসার! চিত্রনাট্যে ফুটে ওঠে রূপজানের সংসার, দর্শক দেখে শ্যামপুর বিজ্ঞাপন। সাবানের রূপচর্চা। বিজ্ঞাপনের ভিড়ে রূপজানের দুঃখ পৌঁছে না দর্শক হৃদয়ে।

খাঁচা

১.
ঘর ছেড়ে যেতে চায় কৃতদাসী মন। ঘুঘু ডাকা ভোরে একদিন বলে চল যাই, পথ-ই পৃথিবীর দীর্ঘতম সংসার। যাপনের সবই থাকে সেখানে। খোঁজ মেলে না তার, যার জন্য ভার হয়ে থাকে শরতের বিকেল। সাইবেরিয়ার পাখির মতো উষ্ণতা সন্ধানে পাড়ি দেই পথ। কোন সুদূরে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত…

২.
পাখিরা গৃহহীন নয়। তবুও মানুষের দয়া হয়। কাপ্তান বাজার, কাঁটাবন থেকে কিনে আনে খাঁচাশুদ্ধ পাখি। সুরম্য বাড়ির বারান্দায় ঝুলানো খাঁচায় সকাল বিকেল কিচিরমিচির! ডানা ঝাপটানোর ব্যর্থ প্রয়াস। সঙ্গীত পিপাসী মানুষেরা শুনতে পায় না বন্দি পাখিদের ক্রন্দন। টিকটিকির ডাক শুনে ঠিকঠিক বুঝে নিতে চাওয়া মানুষেরা বোঝে না পাখির ভাষা।

৩.
দশটা পাঁচটার খাঁচায় পড়ে থাকে কমলার কোষ। বিকেলের নরম রোদ্দুরে পাখিমন উড়ে চলে বনে-বাদাড়ে। রাস্তায় ঘোরে কৃষ্ণ! বংশীওয়ালার সুরে মাতাল লোকাল বাসের যাত্রি। এমন গভীর সুর কলিজায় মারে টান! বাঁশিওয়ালার পিছে নিঃশব্দে  হাটে কেউ। খাঁচার ভিতর আদর, খাঁচার ভিতর সংসার, খাঁচার মধ্যে আনচান করে জীবনের কলতান।

ফেরা

[যেখানে এখনো সকাল হলেই রাখালেরা যায় মাঠে
যেখানে এখনো লাজুক বধূর ঘোমটা দৃশ্য ঘাটে।

সেখানে আমার বোকা গ্রাম খানি সেইখানেতেই বাড়ি
শহরের প্রেম দিয়েছে ভুলায়ে তাইতো দিয়েছো আড়ি।

সন্ধ্যা সেখানে ঝিঁঝিঁদের ডাকে শেয়ালের ডাকে রাত্রি
মোরগের ডাকে ভোর হলে আসে উদিত আলোর যাত্রি।]

কথা ছিলো সিঁদুররাঙা ঢাকাই শাড়ি আর শাঁখারি বাজারের শাঁখা কিনে ফিরে যাবো একদিন। স্নো-পাউডার লিপস্টিক আরো গোপন সদাই কেনা হলে ফিরে যাবো, বাড়ি ফিরে যাবো। অচেনা লোকের শহর ছেড়ে যাবো চেনা লোকেদের ভিড়ে। সেই যে ছেড়েছি গ্রাম! ফেরা হয়নি কতকাল। শহরবাসী আমি আজ, দাঁড়ি চুলে সফেদ উঁকিঝুঁকি। আজকাল খুব ভিতর থেকে কেউ মনে করিয়ে দেয়, ডাকে হাতছানি দিয়ে। আহ্! জিয়লমাছ আর নোনা ইলিশের ঘ্রাণ! আউস চালের মুড়ি! খেজুর রসের ক্ষীর! পাটিসাপটা পিঠা! আহ্! বাড়ি যাবো, বাড়ি। বাড়ি যেতে চাই।

যেখানে অপেক্ষা করে আছে বুড়ো বট গাছ। অপেক্ষা করে থাকে নৌকার মাঝি, প্রেমিকা, ডুবসাঁতারের দিঘি, শূন্য সুনসান দুপুরের ঘাট, জলমগ্ন হিজলের ডাল, শৈশবের স্মৃতির মৌনতা নিয়ে একলা তালগাছ, দোয়েলের শিস, ডাহুকের ডাক।

আমাকে ডাকছে মেঘ। পুব দিগন্ত কালো হয়ে ধেয়ে আসা মেঘ। শ্রাবণের ঝরঝর, আশ্বিনের প্রবল ঝড়োবৃষ্টি, অঘ্রাণের শান্ত— সকাল আমাকে ডাকছে। ঘাসের ডগায় শীতল জলের স্পর্শ আমায় ডাকছে। বহুকাল রুগ্ন আমি, চিকিৎসা দেবে আমায়। ডাকছে থানকুনি পাতা, সবুজ ঘাসের রস, জাতিবেলের শরবত, কাগজিলেবুর ঘ্রাণ।

আমাকে ডাকছে অবিরাম একটি মাঠ। অজস্র স্মৃতির বিকেল ঘুমিয়ে আছে যেখানে। আমাকে ডাকছে কোষা নৌকার গলুইয়ে অপেক্ষমাণ প্রিয় বৈঠা, মাছ ধরার পলো, জাল, বড়শি আর ছিপ। আমাকে ডাকছে কেঁচো বল­া আর লাল পিঁপড়ের দল।

খুব ভেতর থেকে গোপনে কেউ ডাকছে। দুটি চঞ্চল চোখ। হরিণি নয়না একজোড়া চোখ আমাকে ডাকছে।

সোনালি বিকেলের স্বপ্ন

অনেক জলস্নান, অনেক বাষ্প মেঘ হয়ে ঝরে পড়া শেষে, এই জল রৌদ্রময় বাষ্পীয় খোল ভেঙে যাবে একদিন। রৌদ্রম্লানায়মান প্রহরে জীবনের ক্ষয় দেখে, ঝড় জলোচ্ছ্বাস আর সূর্যস্নানে নিষেধাজ্ঞা জেনে মানুষেরা শুধরে নিতে চাইবে এই সব।

বৃক্ষ নিধন শেষে হাইরাইজ প্রতিযোগিতায় জিতে যাওয়ার প্রশা্ন্তি কেড়ে নেবে নীল বেগুনি রশ্মি। জলের উচ্চতায় উঠে যেতে হবে উপকুলবাসিকে, সরে যেতে হবে দ্বীপ হতে দ্বীপান্তরে।

ডাহুকী ডাকে সুনসান দুপুরে পৃথিবীর ক্লান্তি মুছে যাবে না। মৃতবৃক্ষের বুকে মানুষের নিশ্চিন্ত ঘুম কেড়ে নেবে বজ্রের ডাক। একদিন উত্তরপ্রজন্ম এইসব দেখে পূর্বপু্রুষের প্রতি ছুড়ে দেবে ঘৃণা! বরফ যুগের জন্য প্রার্থনায় রত মানুষেরা প্রতিদিন তালিকা করবে ঝুঁকিপূর্ণ হাইরাজ ভবনের।

তখনও জীবনানন্দের কবিতায় ‘কাঁঠাল পাতা ঝরিতেছে’ কোন এক সন্ধ্যায় ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে শুয়ে থাকে ঢেউ গুনে ক্লান্ত যাযাবর। শালিকের হলুদ ঠ্যাং তেমনি আছে তখনও। মাটির পৃথিবীতে পোড়ামাটির চাষাবাদে বৃক্ষ উজাড়। সভ্যতার উঠোনজুড়ে পরিত্যক্ত তৈজসপত্তর, সরঞ্জামাদি। সোনালি বিকেলের মাঠে ফিরে যাবার বাসনায় একদিন মানুষেরা ঘুরে দাঁড়াবে নিশ্চয়।

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E