৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ২১২০১৬
 
 ২১/১২/২০১৬  Posted by
আফজল আলি

আফজল আলি

আফজল আলির ৪টি কবিতা


মাখনের পুরোনো

মনখারাপ যখন আমাতে স্বাধীন
  তখন অবিশ্বাস থাকে না কিছুই

     সিঁড়ির  ধাপ সংযুক্ত

এসো পাখি আর একটা হই
   ভুলের আরামে বেসরম
প্রথম লাইনেই তো ছিলে মস্তি

ধুয়ে দিচ্ছি , হাতে গোনা রইল নকল
  আর মেশাবোনা সাবধানে ধুলো

   যতটা আসল ফিকে হয়েছে
       ততটা উপরে দক্ষিণ

ভাড়াবাড়িতে লুকিয়ে  ছিল সাপ
কী করব এখন, অবেলায় কাহিল
                পায়ের মাপে ফেরা

দোরগোড়ায় এসে নাটক করো না
খুঁজতে খুঁজতে কোমর অবধি গেছো
আজ তুমি মাখনের  পুরোনো


নাস্তিক

লিখছিলাম তোমাকে কাল সন্ধে থেকেই
তবু জানালায় বাড়তি  গুরুত্ব পাচ্ছে দোয়েল
          আকাশ থেকে মিনারেল ওয়াটার
আর মুঠোফোনে অপূর্ব – –  ঘায়েল

সৃষ্টিতে নাছোড় সুগন্ধ ছড়িয়েছো তিলে

       না না এভাবে বেঁকে  যেও না
প্রতিবার ক্লান্তির শেষে শিরদাঁড়া রেখো
      এ হতবাক নিশ্চিহ্ন দেবে না

তবু বলি, সব বিখ্যাত  গুলিয়ে  দিয়েছো ভিতরে
আমি তৎসম শব্দ ঘুরিয়ে  দিলাম

সতেচন মুখ ফেরার সন্ধান করে
        যদি জানতে                          
তোমার উলবোনা নাকি নাস্তিক ছিল


বেসরম

অনেকদিন বাদ তোমার আঙুলগুলো দেখলাম
স্পর্শ কাকে বলে জানতে দাও নি কখনও

       আজ সূর্য পূর্বদিকে
     ক্ষমতার ঘোরে নির্লিপ্ত
সোজাসুজি ভাষণ দেওয়ার পরিবর্তে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম

        দশটার ট্রেন, বনগাঁ লোকাল
       পিরিত সাধনে নিত্যযাত্রী তুমি
বাকি সব তাচ্ছিল্য ভেবে উড়িয়ে  দিয়েছো

ঘর গেরস্থালি অথবা  ফাইন আর্টস
আরে ওই তো দেখো,
        রোদ তোমার কামনা খাচ্ছে

সিজদা দিয়ে রাত্রে মনের মতো দৃষ্টি
      অর্থশাস্ত্র, সামাজিক নিকেতন
চারপাশে কোথাও তো অসহায় নেই
তবু আমি এত কেন বিনষ্ট  হচ্ছি, বেসরম


একটি মৃত্যুর অনুবাদ

নাকি রাত্রি সমাগত কেবলই শরীরের ছাযা
সম্পূর্ণ ভাবনার পর নেমে আসছিল পথ
        কেউ কোথাও ছিল না

        সন্তর্পণ ডাকছিল জোরে
             আবারও কি সম্ভব
একটি মৃত্যুর থেকে আর একটি দূরত্ব সরিয়ে নেওয়া

তবু তবু তবু ঘন্টাগুলো  – – –
                         ঈষৎ  বেঁকে  গেছে
যাকে পৃথিবী বলে প্ররোচনা দিচ্ছো
তার স্বপ্নে জ্যোৎস্নায় পায়রা এসে বসে

      সেই সমকাল গ্রাহ্য নয়
বেগুনি রশ্মি অতিক্রম করতে হবে তোমাকেও
মুখে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে –  একটি মৃত্যুর অনুবাদ

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E