৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
অক্টো ০৮২০১৭
 
 ০৮/১০/২০১৭  Posted by

অরুণাভ চট্টোপাধ্যায়-এর কবি পরিচিতি, কবিতাভাবনা ও কবিতা

কবিতা ভাবনাঃ কবিতা একটা জীবন সংগ্রাম, একটা ক্যারল… সংকীর্তণ। কবিতা বেঁচে থাকার রসদ – তা সে কবিতা লেখাই হোক বা কবিতা পাঠই হোক। এই যে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার… কবিতাও সেরকমই এক স্বতঃস্ফুর্ত ভাবনার প্রতিফলন। এক একটা বিশেষ বিশেষ মুহুর্তে এক এক রকমের ভাবনার প্রতিচ্ছবির কোলাজ – যেন কবিতার দেহ সৌষ্ঠব রচনা করে। তা সে হতেই পারে কারোও কাছে কবিতা… কারো কাছে শুধুই বাঁধভাঙা নিছক এক লিখিত অনুভূতি। হয়তো কোনও লেখা কখনও কারোও কাছে কবিতা, কখনও বা শুধুই ফিলিংস – যা আটকে রাখা অনুচিত। ঠিক একটা সুন্দর অর্গাজম, একটা অদ্ভুত নৈসর্গিক দৃশ্য বর্নন… হতেই পারে সেটা ব্যাকরণ বোধ ছাড়া। ঠিক খানিকটা আফ্রিকার কোনও আদিম উপজাতির দ্রিমি দ্রিমি বাদ্যে ঈশ্বর বন্দনা অথবা কয়লা খনির কুলি-মজুরের দিন শেষের সংকীর্তণ। এ এক অমোঘ ঈশ্বর সন্ধান যার কোনও মাপকাঠি হয় না, যার কোনও ক্ষয় নেই – শুধু নববোধ, আনন্দের জয়যাত্রা। আমার কাছে কবিতা সেই অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আর আমার কাছে কবিতার মানে হলো স্রেফ হারিয়ে যাওয়া সব কিছু থেকে – একেবারে নিভৃত যাপন। সত্যি বলতে জীবন কখনোই আমার জন্য সহজ ছিল না … এখনও নেই। সব সময় একটা না একটা লড়াই, একটা না একটা ভাঙ্গনের মুখোমুখি হতে হয়েছে ব্যক্তিগত জীবনে। অন্যের কোনও সাপোর্ট পাইনি কখনও, উল্টে প্রকাশ্যে – নিভৃতে বিরোধিতা। যদিও তাতে বিচলিত হইনি কোনও দিনই, বরং খানিকটা আশীর্বাদ হিসেবেই কাজ করে এসেছে এসব। আসলে কবি হিসেবে খ্যাতি বা গ্রহণযোগ্যতা থেকেও বহুদূরে থেকেছি হয়তো থাকতে চেয়েছি বলেই। কারণ আমি সত্যিই কবি এবং কবিতার নিভৃত যাপনে বিশ্বাসী – যেখানে শুধু শান্তির খোঁজ মেলে। কবিতা আমাকে শান্তি ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনা আর আমি শব্দগুচ্ছ নিয়ে খেলা করে শুধু আনন্দের খোঁজ করে চলি। এ এক অদ্ভুত ঈশ্বর বন্দনা ছাড়া আর কিছুই নয় আমার কাছে।

কোজাগরী ও মৃত আলফাজনামা


জানলা দিয়ে উঁকি মারছে ভিজে শালিকের জোড়
খুঁটে খাওয়া দানায় পার হয়ে যাচ্ছে একলা একটা রাত
আর মৃত আলফাজ একটা একটা কোরাস লিখে রেখে যাচ্ছে।
বাক্সবন্দী বিকেল যেদিন ঝড়ের পুর্বাভাস দিয়েছিল –
নাম দিয়েছিলাম আত্মজা;
তারপর নাইটগাউন পরে যখন শব্দরা পথ দেখাল
হিপ্নোটাইসড হয়ে…
রক্তিম উত্তাপে ডুব দিলাম স্ট্রবেরী বাগানে।
এখন ভেজা রাস্তায় শুধুই বৃষ্টি প্রবণতা দেখি
আর নেশাতুর চোখে তুই…
অলকানন্দা।


আমাদের যুদ্ধের কোনো সহজ ইকোয়েশন ছিল না, তাই
আঙুলে আজও পালকের মতো জড়িয়ে আছে
আমার প্রথম ক্রাশ। তারপর এক থেকে ইনফিনিটিতে রেস…
শহরের হেল্পলাইন গুলো মনোরোগী অ্যাটেন্ড করে ক্লান্ত
হালকা বরফের চাদরে লবণাক্ত ফেনার নীলাভ উচ্ছ্বাস
বয়ান দিয়ে যাচ্ছে একটা অদৃশ্য ফারাকের
অকৃত্রিম দূরত্বে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে কোলকাতা স্কাইলাইন।
তোমার বিশ্বাসের উল্টোদিকে চাইনিজ চেকার আর
খুচরো চাট নিয়ে বসে আছি
বাড়িতে কাঁচা আমপোড়ার শরবৎ নিয়ে মা জানতোও না,
আমি স্পেশাল কোচিং বা এক্সট্রা ক্লাস না,
তোমার জন্য ফিরতে দেরী করতাম।
বিশ্বাসের সবসময় একটা প্রবলতম ব্যতিক্রম থাকে
যেদিকে চায়ের দোকানে লাইন দিয়েও প্রাপ্য চুমুক মেলে না
যেদিকে মাথার উপর ব্যর্থ হয়ে ঘুরে চলেছে তিনটে ব্লেড
যেদিকে সুষুন্মা না, তোমার অতল গহ্বরের শাসন চলে
আর আমি ডুব দেই তোমার রূপসাগরে
এখনও জোয়ার চলছে
যদিও জলের সামনে দাঁড়ালে বিশ্বাসের দুইমুখ এক হয়ে যায়
তবে অবিশ্বাসী দুটো শরীর এক হবে কী?
এ শূন্যতা ইনফাইনাইট লুপে খেলা করে শুধু
ফুরাচ্ছে না… কারণ আমাদের শূন্যতার কোনো শাখা নেই
যদিও কাল রাতে কেউ কড়া নেড়ে
বসন্তের আগমন বার্তা দিয়ে গেল
চারটে হাত এক হবে বলে
মন্ত্র ছুঁয়ে শপথ নিয়েছিল যারা
শুধু পূর্ণতা প্রাপ্তির… মোক্ষ লাভের আশায়..
দিন শেষে তাদের আকাশেও
শূন্যতা চাঁদ হয়ে শীতল একাকীত্ব ছড়াচ্ছে।
এই তো জীবন…
আজ সকালে সময় নিয়েছে ছুটি
এখন আর প্রাণহানি তাড়া করে না
বোমারু শব্দরা এখন শুধু লাইন অফ কন্ট্রোলে
দাবার ছকে আজ পররাষ্ট্র নীতি নেই
অনাবিল ধূসর রাজা একা পড়ে আছে
সময়ের স্টেনসিলে কি লিখে যাবো
মরুভূমির মতো দিশাহীন এ মন
নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সময়ের কাছে জবাবদিহি
এবার একটু বিশ্রাম চাই।


কিছুক্ষণ আগেই একপশলা বৃষ্টির ফোটায়
যে স্বেচ্ছামৃত্যুরা আকাশ থেকে ঝরে পড়ল
তারা কি জানতো রাতের নিয়নে
রেডলাইট খুঁজে নেবে অস্তিত্বের আর্থিক সামঞ্জস্যতা?
সীমান্তের কাঁটাতারে যে ফুল না ফুটেই ঝরে যায়
তারাও কী জানে সৌহার্দ্যের সজীবতা?
বুড়িগঙ্গা আজও অপেক্ষা করে আছে একটা মিলনের
হয়তো মৃত আলফাজ হয়ে কখনও প্রতিরোধ ভেঙে এক হবো!
খোলসে মাছের হাড়ে বয়ান দিয়ে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধি
ঋতুচক্রে পৌনপুনিক স্খলনে ঘুরেফিরে আসে ঋতুবতী নারী
এই দুরন্ত রোলারকোস্টারে প্রতিটি খেলাই শেষমেশ
নৈশব্দে মিশে মৃত আলফাজ হয়ে কড়া নেড়ে যায়।
এখন নীরবতা পালনের সময়।।


কিছুক্ষণ আগেই একপশলা বৃষ্টির ফোটায়
যে স্বেচ্ছামৃত্যুরা আকাশ থেকে ঝরে পড়ল
তারা কি জানতো রাতের নিয়নে
রেডলাইট খুঁজে নেবে অস্তিত্বের আর্থিক সামঞ্জস্যতা?
সীমান্তের কাঁটাতারে যে ফুল না ফুটেই ঝরে যায়
তারাও কী জানে সৌহার্দ্যের সজীবতা?
বুড়িগঙ্গা আজও অপেক্ষা করে আছে একটা মিলনের
হয়তো মৃত আলফাজ হয়ে কখনও প্রতিরোধ ভেঙে এক হবো!
খোলসে মাছের হাড়ে বয়ান দিয়ে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধি
ঋতুচক্রে পৌনপুনিক স্খলনে ঘুরেফিরে আসে ঋতুবতী নারী
এই দুরন্ত রোলারকোস্টারে প্রতিটি খেলাই শেষমেশ
নৈশব্দে মিশে মৃত আলফাজ হয়ে কড়া নেড়ে যায়।
এখন নীরবতা পালনের সময়।।


হলদে পাঞ্জাবীটার বুকপকেটে একটা গোলাপের পাপড়ি
প্রতিদিন নিয়ম করে একাকীত্বের পাঠ নিচ্ছে…
ভেন্টিলেটারে এখন শুধু মাকড়সাদের সহবাস আর
চার দেওয়ালের অলস বিকেলে জমাট বাঁধছে বেগুনী ক্ষোভ।
পকেটের ভাঁজে দুমড়ে যাওয়া ছোট নেভিকাটের গায়ে
এখন আর জড়তা বলে কোনও চিহ্ন নেই,
শুধু একটা ডিসক্লেইমার পুড়ে যাওয়া ছাই আর
তোমাকে ইনফিনিটিতে বিলীন হতে দেখা!
পথের দাবীদাওয়া লুটিয়ে পড়তে দেখছি পথেই
এখন আর নেই কোনও শেকল ভাঙার গান,
ব্যথাতুর স্মৃতিরা সময়ের পাতা উল্টায় শুধু আর
মন খারাপের বর্ষা এসে ঢেকে দেয় সাধের টেকনোপলিস।
এভাবেই নতুন সম্পর্করা বড় হয় দু আঙুলের ফাঁকে।


ভাঙতে থাকে পুরনো টেরাকোটার মিথ
কত যে বিষন্ন রাত কেটে গেল
পুরনো গ্র্যাণ্ড ফাদার ক্লকটাও হিসাব রাখেনি আর।
ফেলে আসা অতীতের গায়ে লেগে থাকা ধুলোঝড়ের চিহ্নরা আজও
ছেড়া পাণ্ডুলিপিতে আঙুলের ছাপ নেবে বলে পিটিশন ফাইল করে।
আজানের সময় ধুপধুনো জ্বালিয়ে বসে আছি শুধু
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টিদানাকে দেখছি তসবি হয়ে যেতে,
আর খুব রাত হলে ওলোট পালট হাওয়ায়
প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় আনুবিসের।
ধ্বংসের মাঝেও শুরু হয়ে যায় বন্দেগী।


একটা অলস দুপুরের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
বদলে দিয়ে যাচ্ছে বিটলস্ এর সুর।
এখানে ভোরের আলোর সাথে ভালোবাসা ব্যস্তানুপাতিক,
ঠিক যেমনটা, সারাদিন শেষে পাখিদের সংসার যাপন।
বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একরাশ বাদামী ব্যস্ততা
আমাকে – তোমাকে সায়নাইডের ঘুম দিয়ে যাচ্ছে।
গত দু’দিন বৃষ্টি হয়নি এখানে
হারিয়ে যাচ্ছে সোঁদা মাটির গন্ধ।
একটা সদ্যজাত গ্রহে তোমাকে অভ্যর্থনা জানাবো ভেবেও
আয়োজন করে উঠতে পারি না।
রোজনামচায় ঝালমুড়ির বিকেল আর
দীর্ঘতর হতে থাকা চ্যাট হিস্ট্রি।
দুটো শহরের কাছে আসার গল্প…


বিষণ্ণ ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ যবনিকা পতন হলে
জোনাকিরা দল বেঁধে রাত পাহাড়ায় শহর চষে বেড়ায়।
এদিকে জীবনের পাতায় হালখাতা না হলেও
কোজাগরী চাঁদ কুলুঙ্গিতে নতুন পৃথিবী সাজাতে চায়।
মোহনায় দাঁড়িয়ে নাবিকের অপেক্ষায় থেকেও
দিগন্তরেখায় আর আকাশ ছোঁয়া হয় না।
জ্যামিতিক প্রেম স্কোয়ার ফুটের ছোট্ট দুনিয়াদারির
নিঃসঙ্গ দিন যাপনে অভ্যস্থ হতে থাকে অবিরত।
এখন শুধুই আকাশে সেপিয়া রঙের বিকেল এঁকে চলি
আর নোঙরের আঁচরে ক্ষত বিক্ষত হতে থাকে
তোমায় ছুঁতে চাওয়ার স্বপ্ন।
রাত বাড়লে…
দেরাজের ভিতর জমতে থাকে লেফাফার দীর্ঘশ্বাস।


সোনাঝুরির ভিতর থেকে জেগে উঠছে রোজনামচার বায়োপিক
পাতা ঝরা হাওয়ায় শুধুই মাদলের সুর
অ্যালজেব্রিক ইকুয়েশন এ তোমাকে ছুঁতে চেয়ে
নিঃসঙ্গ হয়ে আছি কয়েক যুগ।
এদিকে
ডিলিটেড সিন থেকে তোমার জন্য কেউ আবার হাতছানি দিলে
নিঃসঙ্গতা জন্ম দেয় আদিগন্ত সাভানা ঘাসের ঝোপ।
মাসাইমারার হিংস্রতায় তোমাকে এটুকুই চিনেছি,
যেখানে স্বপ্নের আর এক নাম স্যারিডন।
কোজাগরীর আশ্রয়ে,
নিরুদ্দেশ হওয়ার আগে এটাই আমার শেষ জবানবন্দী।

১০
এই যে ক্রমাগত পিছনে ফেলে যাচ্ছি বিষন্ন স্কাইলাইন
কাটিয়ে যাচ্ছি একটার পর একটা একাকীত্বের ট্রাফিক সিগন্যাল,
এখানে শুধু পুরনো স্মৃতির প্রতি শহরের দায়বদ্ধতা।
এখন ভোরের আকাশেও ঘুম আসে না,
আর টুপ করে বৃষ্টির মতো অবিশ্বাস ঝরে পরলে
আমি আজও শরশয্যার কথা ভাবি।
নিরুদ্দেশ হতে চাইলেও, হতে পারি না
রাত বাড়তে থাকে – ফিকে হতে থাকে ব্যস্ত টাইমলাইন,
ইনসমনিয়ায় জমতে থাকে প্রতিষেধকের নাভিশ্বাস।
বিয়াসের চোরা স্রোতে এভাবেই কেটে যায় মেহফিল।

১১
কাল বিকেলের পাওয়ার ন্যাপের হঠাৎ দেখা স্বপ্নে
ক্যান্ডি ক্রাশ খেলতে খেলতে হারিয়ে গেল যে মেয়েটি
তাকে কী কথা বলার ছিল … কী যেন ভুলে গেলাম,
খুঁজতে থাকি সারারাত অ্যামাজনের গভীর অরন্যের মানসে।
ইচ্ছেডানায় ডুব দেই কঙ্গোর অববাহিকায়,
নাহ্‌, এ যেন ভবানিচক’এর পরিচিত গ্রাম্য মেরিন ড্রাইভ
এখানে হারিয়ে যাওয়া যায় – নিঃসঙ্গতার ঝাউবন থেকে
তোমার গুরুপল্লীর চার দেওয়ালের ভিতর।
কোজাগরী,
এ রোদ্দুরে আমৃত্যু স্নান করা যায়… পূর্ণতা আসে।

১২
কোজাগরীর কাছে অজান্তেই ঘুম চেয়ে নেয় মৃত আলফাজ,
শীতঘুম যেন পথ দেখিয়ে যায় অজ্ঞাতবাসের বিকেল ।
লড়াই এর পর গভীর এক ক্ষত রেখে সংক্ষিপ্ত প্রবচন
ঠিক যেমনটা আইসিং অন দ্য কেক।
এদিকে একটা একটা করে দিন বদলের ধূসরতায়,
মরচে ধরে যায় রোমান্টিক স্যাক্সোফোনেও ।
দিন শেষে এখন তাদের আকাশেও আর ঘুম নামে না,
বন্ধক থেকে যায় বিষণ্ণ বিকেলের রোজনামচায় ।
শুধু, ক্যালেন্ডার এক একটা পৃষ্ঠা বদলে ফেললেও
বার্দ্ধক্য লুকিয়ে রাখা যায় না ।
হারিয়ে যেতে চাওয়া মনপাহাড়ে ক্লান্ত এক পথিক, যেন
এক অকেলা ইস শহর মে…

১৩
রাত ভোর আবছা নিয়নে ইনসমনিয়ার আকাশ থেকে
বিষাদের টুংটাং মনোটোন জীবনচরিত লিখে যায়।
তোমাকে পার্ক স্ট্রিটের জৌলুসে বিকিয়ে যাওয়া দেখতে থাকা
আর শহরকে ম্যানহাটন ভাবতে ভাবতেই মিনিবাসের মিছিল,
একরাশ কালো ধোঁয়া আর আবর্জনার স্তুপে মুহূর্তরা হারিয়ে যায়।
প্রেম ছিল,
শুধু বুঝতে পারিনি – সান্ধ্য শ্বাসকষ্টে
সায়নাইড নীলে আঁকা বিকেল কড়া নেড়ে যাবে শীতঘুম।
প্রেমে অপ্রেমে এ এক অন্য স্বাধীনতা – যেখানে
ঈশ্বরকে বুঝতে হলে মুখাভিনয় জানতে হয়।
১৪
কাঁচের পৃথিবী ভাঙতে থাকলে
কোজাগরীর কাছে আশ্রয় নেয় আকাঙ্খিত ঘুম।
স্বপ্নে কলম্বাস হই বাবুই এর বাসার খোঁজে
যেন আজন্ম খুঁজে যাচ্ছি ধূসর রঙের অর্কিড।
আগমনী ভুলিয়ে যায় সুখহীনতার দাস্তান
অদ্ভুত শিরার শিহরণ এখন আর আগের মাদকতা আনে না
যা ইদানীং শুধু কোজাগরীর আশ্রয়ে মেলে।
বিষন্নতা বহাল থাকে পরমায়ুর পাশে।

১৫
হে পুরুষজন্ম বহুকাল পরে পবিত্র হোক মন
এইবার ঘরে ফেরার পালা,
পরীদের রাজ্যে কোজাগরী শিউলি সকাল দিয়ে যায় রোজ,
রাত নিঝুম হলে তুমি তাকে চিনে নিও।
চুমুর মধ্যে গনতন্ত্র খুঁজি অবিরাম,
শীতল নির্জনতায় প্রেমের তেজস্ক্রিয় বুদবুদ।
নিকোটিন ঘুম,
পরাবাস্তবে পুনর্জন্ম দাও।
অব্যর্থ আপোষে সুখের গুড়ো…
উলট পুরাণ অথবা ভ্রম সংশোধন!

১৬
কাশের বেলা ফুরোতেই সটান ছিঁড়ে ফেলি
কিছু অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস,
ছাঁচ ভাঙা স্ক্রিবলস এ খুঁজতে থাকি শারদীয়া ভোর।
অনেক পেশগি নিয়ে বসেছিলাম তোমার অপেক্ষায়
তবুও আকাঙ্খিত স্বপ্নকে ছুঁতে পারেনি কবিতা বিকেল,
নীল পাঞ্জাবির বুকে বোর্ডপিনে গাঁথা পুরনো ক্ষতের কোলাজ।
তোমার বোধনের অপেক্ষায় একটা স্ট্রবেরী বিকেল কাটিয়েছি
তবুও অপেক্ষার প্রহর কাটেনা, খোঁজ মেলেনা হারানো আশ্বিনের,
শুধু এই নিয়নের পৃথিবীতে আমার আকাশটা ছোট হতে থাকে।
এভাবেই বাতিল খসড়ায় স্যাণ্ডুইচ প্রেমের গল্প লিখি অলক্ষ্যে
আর মাঝরাতের ‘টু ডু লিস্টে’ ঝড়ের নিয়ম বদলে যায়।

১৭
নিয়ম ভাঙার বয়স পেরিয়ে গেলেও
কাল সারাদিন বৃষ্টি হোক না হোক
তোমার না বলা কথার অপেক্ষায় থাকবো কোজাগরী।
তুমি যতই চিঠি লিখে যাও আকাশগঙ্গায়,
চ্যাট এ যে কথা শেষ না হয়েই থেকে গেল আজ রাতে
সেখানে নগর বাউল হওয়া যায় ভাবনাহীন ঈশ্বর বন্দনায়।
অ্যাডোলেসেন্সে নাভিপদ্মে শীতঘুম দেখি ইদানীং
আঙুলের ফাঁকে হারিয়ে যেতে দেখি বালির মতো সম্পর্কদের
কফিন বন্দি করে রাখি E = mc^2 এর বিষক্রিয়া
তোমার না বলা কথার মধ্যে ঈশ্বর খুঁজি অবিরাম আর
এভাবেই তোমার নাভির চারপাশে গড়ে ওঠে নতুন এক পৃথিবী।
হয়তো পৃথিবীর বিষন্নতম কবিতাটা লিখতে পারি তোমার জন্য
যেখানে কাশের বনে অ্যান্টি অবিচুয়ারি লেখা থাকে।
ইদানীং এইসব সম্পর্কগুলোর মাঝে খুঁজে পাই মিশরীয় ঘ্রাণ
যেখানে আমার ঈশ্বর বন্দনায় লেখা হবে সভ্যতার উপসংহার।
জানি বিশ্বস্ত সাঁকো’রা ভেঙে যাবে একদিন
আর ডিপ্রেশনের সকাল ভিজিয়ে তোমার আগমনী লেখা হবে…
আবার।

১৮
অবশেষে পুজোর বিকেল গুলো ম্লান হয়ে যেতেই
দেবশিশুর আবদারের বিজয়ার চিঠি যেন মন খারাপের সওগাত,
শিরোনামহীন জীবনের হাসনুহানায় চলে আচ্ছে দিনের খোঁজ।
যে কথাটা বলবো ভেবেও শুনতে চেয়েছিলাম,
গতরাতে কোজাগরীর কাছে খুঁজে পাই তার সৃষ্টিতত্ত্ব।
অর্বাচীনের চিঠিতে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পায় জাতিস্মর
চলতে থাকে অসমাপ্ত অধ্যায় থেকে সুখের সন্ধান
যেন বাঁচার কথা ছিল আরও… আরও অনেক ভোর।
এখন আর লোরেম ইপসাম এর আড়ষ্টতায়
কোনও শববাহী শব্দকে সমীহ করি না।
বসন্তের সকালে কম যুক্তাক্ষরেই গ্র্যাণ্ড হোম কামিং
আগামী ভোরেও এমন ভাবেই আবার এসো ‘তুমি’…
If you miss the train I’m on
You will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles

কবি পরিচিতিঃ অরুণাভ চট্টোপাধ্যায়। জন্ম ১৯৮৭ ’র ২৮শে এপ্রিল কোলকাতায়। মানুষ হিসেবে খুব অগোছালো। সাহিত্যের কোনও এলিট ডিগ্রী নেই। পড়াশোনায় আই.টি ইঞ্জিনিয়ার থেকে স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট এর মাস্টার্স। লেখালেখি শুরু স্কুল জীবনে স্কুল ম্যাগাজিন থেকেই। পরে ইন্টার স্কুল ও জোনাল লেভেল এ বেশ কিছু পুরস্কার জোটে। মূল স্রোতে লেখালেখি ২০০৮ থেকে কলেজ জীবনে থাকাকালীন। হয়তো খানিকটা শান্তিনিকেতনে থাকার সুবাদেই। তবে খুব বেশি মাত্রায় প্রভাব ‘একক মাত্রা’র। যদিও সম্পূর্ন গদ্য প্রবন্ধের দ্বিমাসিক পত্রিকা, তবুও একক মাত্রার পাঠক থেকে লিখতে লিখতে সহ সম্পাদনায় আসার জার্নিটা অনেক কিছু শিখিয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতে করতে পশ্চিমবঙ্গের প্রচুর প্রথম সারির পত্রপত্রিকায় লেখালেখি এবং সমসাময়িক বাংলাদেশের কিছু পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়। তারপর হঠাৎ চাকরি ছেড়ে Grasshoppers! তৈরি করা। স্যোসাল মিডিয়ার সাথে প্রথম কোনও ওয়েবসাইট ভিত্তিক লিটল ম্যাগ বিপণনের চিন্তাভাবনা এবং পরবর্তীতে বেশ কিছু লিটল ম্যাগ সহ গাঙচিল, লালমাটির মতো প্রকাশকদের অনলাইন এবং মোবাইল মিডিয়াতে নিয়ে আসা। জুটে যায় ইনিফিনিটি বেঞ্চমার্ক গ্রুপের তরফে সম্মাননা সল্টলেক সেক্টর ফাইভ বইমেলায়। একটা পর্যায়ের পর হঠাৎ বছর দেড়েক কবিতা এবং লেখালেখি থেকে নিরুদ্দেশ এবং একটা সাময়িক বিরতির পর আবার ফিরে আসা। ততদিনে যদিও আড্ডা পত্রিকার সম্পাদনা চলছে। পরবর্তীতে আত্মজা পাবলিশার্স এবং আত্মজা মিডিয়া ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড এর অন্যতম কর্নধার। কিছুদিন আগেই সাহিত্য আকাদেমীর ‘Who’s who of Indian Writers (ISBN:978-81-260-4812-0)’ এ অন্তর্ভুক্তি।

প্রকাশিত বইঃ
১। একলা বৃষ্টি তে (ISBN: 978-93-5126-267-1) ২। পৌলমী (ISBN: 978-93-5126-565-8) ৩। ননসেন্স কবিতাগুচ্ছ (ISBN: 978-81-934549-6-8)

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E