৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪
ডিসে ০৯২০১৬
 
 ০৯/১২/২০১৬  Posted by
কবি অভিজিৎ পাল

কবি অভিজিৎ পাল

অভিজিৎ পাল -এর একগুচ্ছ কবিতা টানাগদ্যে

পুনর্মিলন – ১

ধুলো জমা শৈশবের উপর হাত বোলাই। জেগে ওঠে আমার আনন্দময় রঙের দিনগুলি। আশ্রমিক দিনের সঙ্গে মিশে থাকা আকাদেমিক যাপনের বাইরে অলেখা ডায়েরীর পাতা হাসতে থাকে ক্যানভাসের উপর। আমি আবেগ মেখে দেখি। বারে বারে বাঁধ ভেঙে নেমে আসছে ঘনঘোর উচ্ছ্বাস। একদল প্রাণবন্ত যুবক দাপিয়ে চলি উত্তর কলকাতায়। মহাকাব্যিক আভিজাত্যের সঙ্গে মহামায়া হাসেন। প্রাণশক্তি গেঁথে দেন মধ্যমা নাড়ীপথে। আমরা আলোর গন্ধে ভরে উঠি মানসযাপনের পথে পথে…

পুনর্মিলন – ২

চেনাপথের পাঁচালি আর দেবীযাপন একপাত্রে রাখলে মহার্ঘ্য সেজে ওঠে আমার জীবনের বর্ণমালায়। মিশন থেকে নেমে আসে স্বপ্নদূত। আমরা বাগবাজারের গঙ্গায় বসে স্নেহ সাজাই। আমার দেবীযাপন এখনও অজস্র যশস্বী একাকীত্বের কোনো এক অজানা রঙ মাখে সারাবেলায়। পার্থর থেকে নিচ্ছি আনন্দমঞ্জরী, অরিত্রর থেকে চঞ্চলতা, সুকান্ত দিচ্ছে অজস্র হাসিমুখগুচ্ছ, শৌণক সাজাচ্ছে অপার উচ্ছ্বাস। অনেক দিন পর একটা সংঘবদ্ধ ভালো সময় জমাট বাঁধছে। আমি আট বছর আগের স্মৃতিকে আবার জারিত করছি স্মৃতিরসে স্নাত হতে হতে…

পুনর্মিলন – ৩

মধুর খেলার আগেই বললাম, পেয়েছি। অনেক যুগের চেনামুখ দেখে অচেনার গাম্ভীর্য মুছে গেল পলকে। উত্তাল হয়ে উঠল চারপাশের নাগরিক আনন্দগান। আমি আমার শরীরের ক্লোরোফিল মেলে ধরলাম আকাশের কাছে। আকাশ গাইল প্রণবগাথা। এক গভীর ঢেউ ডুবিয়ে নিচ্ছে আলোর উদাত্ত ক্যানভাসে। আমার যাপনের সমস্ত যুগ্মব্যঞ্জন একদিন বাঁচার মতো করে বাঁচতে চেয়েছিল বহুকল্প ধরে। স্রোত বইছে সেই ক্লেদহীন সখ্যরসের। রবীন্দ্র গান বেজে উঠছে এখন কাছে কোথাও। পারস্পরিক জীবনের পাঠ নিতে নিতে আমরাও শিখে গেছি অনেক কথা চুপ করে গোপন রাখতে হয়…

পুনর্মিলন – ৪

মৃত্যুর মুখ থেকে হাসিমুখে ফিরে আসি পরমপুরুষের হাত ছুঁয়ে। দেবীযাপনের সুরম্য নান্দিপাঠ ভালোবাসার রঙে সাজিয়ে নিতে থাকি মনের গোচরে। বেলুড়ের মাতৃমন্দিরে স্থিতধী হয়ে যাচ্ছি বনস্পতির মতো। আমার নাভিপদ্মে জেগে উঠছে অতিমানবীয় শিকড়। গেঁথে যাচ্ছে পার্থিব ছায়াচিত্রে। ঊর্ধ্বমণ্ডলে তুলে ধরছি আমার কল্পলতা। আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করেছি পরমপদকমল। আধ্যাত্মিক সুরামৃত জমছে আমার আধারে। মিলনোৎসবের স্নিগ্ধ আত্মচেতনায় আমার বড় আমি ছোট আমির সমস্ত হিসেব আজ একাকার হয়ে গেছে। শ্রীরামকৃষ্ণ হাসছেন দক্ষিণদুয়ারী পদ্মাসনে বসে…

পুনর্মিলন – ৫

মহাভারতের আদি চেতনায় বুঝে নিচ্ছি যাপনের আনন্দমঞ্জরী কখনও আমায় বুদ্ধের সমগোত্রীয় করতে পারে না। আমি স্বার্থপরের মতো আত্মকেন্দ্র স্থাপনে এখনও বিশ্বাসী নই। কালো মানুষগুলোকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে আমি মহার্ঘ্য হতে চাই। শুদ্ধ হতে চাই। দৈবের মিলনমত্ত প্রত্যাশা করি একদিন সব ক্ষুধার্তের মুখে ফুটে উঠবে ভাতের গন্ধ। অন্নপূর্ণার নবমাহাত্ম্য সেজে উঠবে কলকাতার অলিগলির ফুটপাতে। কাছেই কোথাও জমে উঠবে ভালোবাসতে শেখার নান্দিপাঠ। উৎসব দিনের আলোতে এখনও আমার দুর্গা সম্পূর্ণ জাগতে শেখেনি। দেবীত্বের প্রাণপ্রতিষ্ঠার মন্ত্র কর্মকুশলে এঁকে নিচ্ছি ক্যানভাসে…

পুনর্মিলন – ৬

আজ আমার আর কোনো স্থানু পটভূমি নেই। আমার কোনো কাহিনিবিন্যাসের নির্মিতি নেই। নেই জীবনযাপনের ছন্দ। এক কল্পভূমি সময়ের হিসেব বেঁধে রেখেছি হাতের মুঠোয়। কাটিয়েছি একাকীত্বের কোনো এক অজানা সতর্ক হিতৈষীবার্তা। চেনাদৃশ্য পুঞ্জিভূত হয়েছে দূরে কোথাও। সেখানে আমার প্রয়োজন আর অপ্রয়োজনের ভাগশেষ এক অঙ্কে মিলে যায়। সরে আসছি খানিক পরে পরে। পা মেলাতে গিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। ছবিগুলো সরে যাচ্ছে অপার শূন্যতায়। আমি পুনর্মিলনের ইচ্ছে নিয়ে নিজের চারিদিকে পাঁচিল গেঁথে তুলছি। আকাশ ছুঁয়ে তাকিয়ে আছে একটা শঙ্খচিল…

Loadingপ্রিয় তালিকায় রাখুন!
E